যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ, আজ থেকেই কার্যকর
অবশেষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ও ইসরায়েলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, দিনের শুরুতে চরম উত্তেজনার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি সৈন্যরা দক্ষিণ লেবাননের ‘বাফার জোনে’ অবস্থান করবে, যেখানে তারা বর্তমানে একটি বিশাল এলাকা দখল করে রেখেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা করে, তাহলে তারা আবারো যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।’
মূলত, যুদ্ধের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে হামলা অব্যাহত রাখে ইসরায়েল। এর প্রতিবাদে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে আজ শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি প্রতিনিধি দল।
ইরান বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ লেবাননের কাফার তেবনিতের কাছে একটি অভিযান চলাকালে তাদের ট্যাংকে হামলা হলে চারজন সৈন্য নিহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় আরও পাঁচ সেনা আহত হয়েছে। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে নাবাতিয়া শহর ও তার পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করার পর ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array