খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করল জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করল জাতিসংঘ

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিক ও শত শত জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল থেকে মাত্র ৭ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল (১৪ কিলোমিটার) দূরে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটির ডান পাশে অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ‘হামলার পর জাহাজটি ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ও তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং জাহাজের ২১ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন’।

এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তেহরানের অনুমতি ছাড়া এই নৌপথ ব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সাথে কোনো আলোচনা বা সমন্বয় ছাড়াই কিছু কর্তৃপক্ষ (ওমান ও জাতিসংঘ) হরমুজ প্রণালি পারাপারের জন্য নতুন রুটের ঘোষণা দিয়েছে। ইরান এই পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে দেখছে।

পৃথকভাবে বর্তমানের হরমুজের নিয়ন্ত্রণবারী ইরানি সংস্থা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ (পিজিএসএ) এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, ‘পিজিএসএ নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে কোনো নৌপথ ব্যবহার করলে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।’

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া ৬০০টি জাহাজ ও সেগুলোতে অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এক বিবৃতিতে ডোমিঙ্গেজ বলেন, সরিয়ে নেওয়ার তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এখনো বহাল রয়েছে কি না, তা পুনরায় নিশ্চিত করতে তিনি পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলে এসেছি, নাবিকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। তাই একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পরবর্তী স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার পরিকল্পনা স্থগিত থাকবে।’

ডোমিঙ্গেজ আরও জানান, বৃহস্পতিবার যে জাহাজটিতে হামলা হয়েছে, সেটি আইএমওর সরিয়ে নেওয়ার কাঠামোর আওতায় চলাচল করছিল না।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানায়, তারা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল ব্যাহত করার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ১৪ দফার প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এই হামলার ফলে সেই শান্তি চুক্তি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান। পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও তিনি পরিচিত একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ হিসেবে। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছাত্রজীবনেই গাছ লাগানোর যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিজের বেতনের একটি অংশ ব্যয় করে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন তিনি। এ পর্যন্ত দেশের ৩০টি জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

গাছ লাগানোকে কেবল ব্যক্তিগত শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি আরিফুর রহমান। রাস্তার দুই পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে তালগাছের সারি, ফুলের বাগান ও সবুজে ঘেরা নানা স্থান। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ছায়া ও উপকার বয়ে আনছে। নওগাঁর বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের সাতপ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে। প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা এসব গাছ এখন বেড়ে উঠে সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি ‘তালপার্ক’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে।

সড়কটির দুই পাশে তালগাছ লাগানোর পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগ। ছাত্রজীবনে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ যেমন সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তেমনি মাঠে কাজ করা কৃষকেরাও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। ডাবরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ লুৎফর রহমান জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্ত করার সময় মাটি ফেলা হয়েছিল। সে সময় আরিফুর রহমান তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন। সেই উদ্যোগের ফল এখন সড়কজুড়ে দৃশ্যমান। লুৎফর রহমানের ভাষ্য, তালগাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের জায়গা হিসেবে কাজে আসছে। ঝড়-বৃষ্টির সময়ও মানুষ এসব গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।

অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোর চিন্তা। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি তালগাছের চারা রোপণ শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁর এই উদ্যোগে যুক্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ। তবে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আরিফুর রহমান শুধু নিজের উদ্যোগে গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; শিক্ষার্থী ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যেও গাছের চারা বিতরণ করেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও সঙ্গে গাছের চারা রাখেন। তাঁর এই অভ্যাসের কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

তালগাছের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করেছেন আরিফুর রহমান। এসব গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা একটি স্থান ‘কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া সান্তাহার রেলস্টেশন, নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিল, পত্নীতলা উপজেলার নদীর পশ্চিম পাশ এবং সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়া চত্বর গড়ে তোলার মাধ্যমেও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ফুলের গাছের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ফলজ ও বনজ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করছেন এই বৃক্ষপ্রেমী। মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করে আসছেন আরিফুর রহমান। তাঁর লক্ষ্য, গাছ লাগানোর কাজকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও করেন তিনি। কারণ, শুধু চারা লাগালেই বনায়নের কাজ শেষ হয় না; গাছের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এ কারণে চারা রোপণের পাশাপাশি গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ স্থানীয় মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করতে পারে। আরিফুর রহমানের উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটেছে। মাতাজি হাটের বাসিন্দা খালিদ হাসান বাবু বলেন, সড়কের দুই পাশে থাকা তালগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি; ফল ও ছায়া দিয়েও স্থানীয়দের উপকার করছে। তাল মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও তাল খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গাছের বিভিন্ন অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

তাঁর মতে, তালগাছের পাশাপাশি অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই উদ্যোগ মহাদেবপুর ছাড়িয়ে বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা পাচ্ছে। গাছের ছায়া, ফল এবং অন্যান্য ব্যবহারিক সুবিধা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কও দৃঢ় করে। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। এ পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরিফুর রহমানের স্বপ্ন, দেশের প্রতিটি জেলায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে সবুজে ভরিয়ে তোলা। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও এগিয়ে আসবে। কারণ, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের নিয়ে শুরু করা বৃক্ষরোপণ আজ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর সড়কের পাশে তালগাছের সারি কিংবা বিভিন্ন স্থানে ফুলের গাছের সমারোহ—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তা। অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের এই উদ্যোগ অন্যদেরও গাছ লাগাতে এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সরকারি সৈকতকে ব্যক্তিগত দাবি রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কক্সবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
সরকারি সৈকতকে ব্যক্তিগত দাবি রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় পরিবেশ সংরক্ষণ, সৈকতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার এবং পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে ইনানী সৈকতে এ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৈকতের অংশবিশেষকে ব্যক্তিগত পরিচয়ে প্রচার করা এবং সেখানে পর্যটন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সৈকতে যাওয়ার জন্য তৈরি দুটি পথ
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।

রিসোর্টটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে। এভাবে সৈকতের একটি অংশকে ব্যক্তিগত হিসেবে উপস্থাপন করায় সেটির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সৈকতটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রেস্তোরাঁ থেকে রিসোর্ট, চলছে বিচ ক্যাম্পিংয়ের অভিযোগ
শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাঁবু স্থাপন করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নথিপত্রের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।

পরিবেশকর্মীদের মামলা করার দাবি
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। পরিবেশকর্মীদের মতে, সৈকত ও বালিয়াড়ি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করলে প্রযোজ্য আইন ও অনুমোদনের শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকতকে কারও ব্যক্তিগত বা ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে প্রচার করার অর্থ ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা হতে পারে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পর্যটকেরা কোনো স্থানের প্রচার দেখে সেখানে গেলে বাস্তবে সেটির প্রবেশাধিকার, ব্যবহার ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সৈকতের মালিকানা বা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার থাকলে তা পর্যটকদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

অনুমোদনহীন স্থাপনা চিহ্নিত করছে কউক
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভ এলাকায় যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে। কউকের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা স্থাপনা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ইনানী সৈকতের আলোচিত অংশে কী ধরনের অনুমোদন রয়েছে এবং সেখানে পরিচালিত কার্যক্রম কোন বিধির আওতায় পড়ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

এক বছরে ৫৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় জরিমানা ও মামলা করা হয়। বিধিলঙ্ঘন দেখা গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। ইনানীর অভিযোগের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও বিধি অনুসরণের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

অনুমোদনের জন্য আবেদন করার দাবি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মাত্র কিছুদিন আগে সেখানে যোগ দিয়েছেন। সৈকতকে ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে প্রচারের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, রিসোর্টের অতিথিদের কেউ কেউ ভিডিওতে সামনের সৈকতকে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাঁদের ব্যাপার। রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সৈকতের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় নজরদারির দাবি
ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশকে ব্যক্তিগত হিসেবে প্রচার এবং সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের পর বিষয়টি পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের অধিকার—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে রয়েছে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে পর্যটকদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা ও অনুমোদনের অবস্থা স্পষ্ট হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সৈকতের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে প্রবেশাধিকার ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পাকা ধানের স্বপ্ন ভেঙে নিচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
পাকা ধানের স্বপ্ন ভেঙে নিচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কারও জমিতে ধানের থোড় এসেছে, কোথাও আবার ধান পাকতে শুরু করেছে। এমন সময়ে একের পর এক আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ফসল রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত দুই দিনে ভাঙনের কবলে পড়ে অন্তত ১০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলি জমি রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমের ফসলের পাশাপাশি বসতভিটা ও আবাদি জমিও হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ফসলের মৌসুমে নদীভাঙনে দিশেহারা কৃষক
ভাঙনকবলিত এলাকার কৃষকদের জন্য চলতি মৌসুমের ধান ছিল পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম ভরসা। জমিতে ধানগাছে থোড় আসার পর ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল বলেন, গত দুই দিনে হঠাৎ নদীভাঙন বেড়েছে। ধানগাছে থোড় আসার মধ্যেই জমি ভাঙতে শুরু করেছে। তাঁর প্রায় দেড় একর জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। জমি নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় উপায় না পেয়ে ধানগাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে জমি বিলীন হতে থাকলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নয়, ভবিষ্যতে চাষাবাদের জমিও হারাতে হবে। এতে তাঁদের দীর্ঘদিনের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

ঋণ করে চাষ, ফসল হারানোর শঙ্কায় পরিবারগুলো
একই এলাকার কৃষক মোসলেম আলী ও শফি নাইয়ার কণ্ঠেও হতাশা। তাঁরা জানান, ঋণ করে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছিলেন। সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এই জমির ফসল বিক্রি করেই তাঁদের সংসারের ব্যয় মেটানোর কথা ছিল।

কিন্তু ধানে থোড় আসার সময় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় তাঁদের সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। এমনকি আগামী বছরের জন্য পরিবারের খাবারের ধান জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। কৃষকদের কাছে এই ক্ষতি শুধু জমি হারানোর নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঋণ পরিশোধ, পরিবারের খাবার এবং পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন।

এক বছরে কয়েক শ একর জমি বিলীন হওয়ার দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, গত এক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কয়েক শ একর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের কারণে শৌলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বসবাস ও কৃষিকাজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চারিপাড়া, বয়াতিপাড়া, শেখের বাজার এবং চর খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বসতি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও জমি ও স্থাপনা হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা তন্ময় হাসান তোতা বলেন, গত এক বছরে তাঁদের প্রায় ৪০ একর আবাদি জমি নদীতে চলে গেছে। সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর ভাষ্য, পাশের চর খেদাইমারী এলাকায় বস্তা ফেলা হলেও সুখেরবাতি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে একের পর এক জমি হারিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা বিপাকে পড়ছেন।

বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএইচএম সাইদুর রহমান জানান, গত দুই দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের ব্যাপক ভাঙন চলছে। ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অল্প কিছু বস্তা ফেললেও সেগুলো নদে চলে যাচ্ছে। ফলে এসব উদ্যোগে ভাঙন কতটা ঠেকানো যাচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর মতে, নদীভাঙন প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নভাবে বস্তা ফেলার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ফসল ঘরে তোলার এই সময়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া গেলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

অর্থসংকটে প্রতিরক্ষা কাজ আটকে আছে
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, অর্থসংকটের কারণে আপাতত চর প্রতিরক্ষায় কাজ করার সুযোগ নেই। মূল নদের তীর রক্ষার কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে তাঁদের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একদিকে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিরোধমূলক কাজের সীমাবদ্ধতার কথা জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জমি ও ফসল রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগের দাবি
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের কৃষকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ফসল ও আবাদি জমি রক্ষা করা। জমি হারালে শুধু একটি মৌসুমের আয় নয়, দীর্ঘমেয়াদে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঋণ করে চাষ করা কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙনের মুখে থাকা আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি