খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে জুলাই-আগস্টে বন্যার আশঙ্কা: এফএফডব্লিউসি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
দেশে জুলাই-আগস্টে বন্যার আশঙ্কা: এফএফডব্লিউসি

দেশের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি বলছে, বর্ষার এই সময়টিতে জলবায়ুগত কারণেই বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। একই সঙ্গে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের নদ-নদীতে। সে কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এফএফডব্লিউসি। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিন দিন আগে পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সারদার উদয় রায়হান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। একই সময়ে মেঘনা অববাহিকাতেও বড় ধরনের অবনতির আশঙ্কা নেই।

তবে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে আগামী চার দিনে আবারও তা বাড়তে পারে এবং পঞ্চম দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচে থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে এসব জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের জুলাই-আগস্টেই দেশের সবচেয়ে বড় বন্যাগুলো হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যা দুই মাসের বেশি স্থায়ী হয়ে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটায় এবং প্রায় তিন কোটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে উচ্চপ্রবাহ দেখা দিলে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় এমন পরিস্থিতিই সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ২০২২ ও ২০২৪ সালের বড় বন্যাতেও সম্মিলিতভাবে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা উজানের অতিবৃষ্টিজনিত ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী নভোএয়ার ভিকিউ-৯৩৫ ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিট পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।

ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ওপরে না ওঠায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট আকাশে চক্কর দিয়ে অবশেষে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ছিলেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

হুমায়ুন কবীর বলেন, নভোএয়ারের ‘বিকিউ-৯৩৫’ ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে উড্ডয়নের মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই এটি যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠছিল না।

ক্যাপ্টেন বারবার চেষ্টা করলেও সেটি প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি বিমানটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৪৫ মিনিট আকাশে অবস্থান করার পর বিমানটি নিরাপদে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

তিনি বলেন, আমি বিমান চলাচল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তটি একেবারেই সঠিক ছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। তবে এ সময় বিমানের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের কান্নাকাটি এবং যাত্রীদের উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে।

হুমায়ুন কবীর বলেন, ল্যান্ডিং গিয়ার ওপরে উঠছিল না বলে ক্যাপ্টেনকে অবতরণের আগে কিছু সময় আকাশে থাকতে হয়েছে। তিনি ধীরে ধীরে বিমানের গতি কমিয়ে নিরাপদ অবতরণের প্রস্তুতি নেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদেই অবতরণ করে, আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এ ঘটনার পর পুরোনো উড়োজাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা আরও কঠোর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যে পুরোনো উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে, সেগুলোর ফিটনেস আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। নিয়মিত ও কার্যকর ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এটি শুধু বিমান চলাচল নয়, যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

আমিরের তৃতীয় বিয়ের অতিথি দুই প্রাক্তন স্ত্রী, আরও যারা থাকছেন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
আমিরের তৃতীয় বিয়ের অতিথি দুই প্রাক্তন স্ত্রী, আরও যারা থাকছেন

আর মাত্র কয়েকদিন পরই তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। আগামী ৫ জুলাই প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করবেন তিনি।

তবে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং সীমিত পরিসরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছেন অভিনেতা।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরের মুম্বাইয়ের বাসভবনেই আইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে পরিবার ও বন্ধুদের মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিথি আমন্ত্রিত থাকবেন।

অতিথি তালিকায় রয়েছেন আমিরের দুই সাবেক স্ত্রী, তিন সন্তান এবং তার বোনদের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বলিউড থেকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে নির্মাতা আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার সন্তোষীর।

তবে বলিউডের দুই সুপারস্টার শাহরুখ খান ও সালমান খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অনুষ্ঠান শেষে তারা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে যেতে পারেন।

জানা গেছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা দুপুরের আগেই শেষ হবে। এরপর অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন রাখা হয়েছে। হবু দম্পতি নিজেদের পছন্দের বিভিন্ন খাবার দিয়ে মেনু সাজিয়েছেন। তবে সেই মেনুতে কী কী থাকছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

চলতি বছরের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে গৌরী স্প্র্যাটকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন আমির খান। তখনই তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রায় দুই বছরের সম্পর্কের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জীবনে পা রাখতে যাচ্ছেন এই বলিউড তারকা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাতের মধ্যেই দেশের আট অঞ্চলে বড় ঝড়ের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
রাতের মধ্যেই দেশের আট অঞ্চলে বড় ঝড়ের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এমতাবস্থায় রাতের মধ্যে দেশের আট অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, রাত ১টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।

এদিকে আরেক বুলেটিনে জানানো হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ঘণীভূত হতে পারে। ফলে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে পারে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এ সময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এসএকে