খুঁজুন
                               
, ,
           

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই মুক্তিবাহিনীর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই মুক্তিবাহিনীর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। সেই প্রতিরোধই পরবর্তীকালে মুক্তিবাহিনীতে রূপ নেয় এবং সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুবক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন মুক্তিযুদ্ধে পরিণত হয়। তাই ইতিহাসের সত্য হলো, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই মুক্তিবাহিনীর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর রাওয়া হেলমেট হলে ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, কখনোই তার পরিকল্পনা ছিল না সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। তিনি তখন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন, জগন্নাথ কলেজে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান আর্মির কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ মালিকের উৎসাহে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে এডুকেশন কোরে কমিশন পেলেও পরে নিজের আগ্রহে ফাইটিং আর্মে যাওয়ার আবেদন করেন এবং নানা প্রক্রিয়া শেষে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান।

তিনি বলেন, কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান তাকে ডেকে বলেছিলেন, পাসিং আউটের পর তিনি যেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। সেই কথাই তার মনে গেঁথে যায়। অনেকের পরামর্শ ও চাপ উপেক্ষা করে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন। ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে যশোরে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সেই স্মৃতি আজও তার কাছে অমলিন।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, এই রেজিমেন্ট গঠনে মেজর আব্দুল গণির অবদান ছিল অসামান্য। কিন্তু ইতিহাসে তার নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয় না। একইভাবে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের ভূমিকাও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। স্বাধীনতার প্রস্তুতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরে পাকিস্তানে বন্দি হওয়ায় তার অবদান অনেকটাই আড়ালে থেকে গেছে।

মেজর হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন দেশের পাঁচটি ভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিল। তারা কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ না রেখেই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জনগণকে সংগঠিত করে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই পরবর্তীকালে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার আগে রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ২৫ মার্চের গণহত্যার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে যদি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে না তুলত, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এত সহজ হতো না। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে এই রেজিমেন্টই মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি রচনা করে।

স্পিকার বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সাহস জুগিয়েছিল। সেই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হাজার হাজার ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, রিকশাচালক, দোকানদারসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র চার হাজারের মতো। কিন্তু তাদের নেতৃত্বেই প্রায় এক লাখ সদস্যের মুক্তিবাহিনী গড়ে ওঠে এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিচালিত হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইতিহাস রচনায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এই অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ছিল কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, এটি ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী একটি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে পরাজিত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৯০ হাজারের বেশি সেনা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। সেই কারণেই এই রেজিমেন্ট বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি সামরিক ইউনিট নয়, বরং স্বাধীনতার প্রতীক। আজও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের দেখলে তার হৃদয় গর্বে ভরে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু স্থলযুদ্ধ নয়, নৌ ও বিমান অভিযানে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কর্ণফুলী নদীতে লিমপেট মাইন ব্যবহার করে পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করা কিংবা সীমিত সক্ষমতা নিয়ে বিমান হামলা পরিচালনা করা ছিল বাঙালির অদম্য সাহসের অনন্য উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বাঙালি কখনোই দুর্বল জাতি ছিল না।

মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালে মাত্র ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন এবং ইপিআরের বিদ্রোহী সদস্যদের নেতৃত্বেই মুক্তিবাহিনীর সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে এই বাহিনীর সঙ্গে লাখো সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামকে সফল করে তোলে। ইতিহাসের এই সত্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবগাথা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, এটি সমগ্র জাতির ঐতিহ্য। এই ইতিহাস রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী সব সময় জনগণের বাহিনী হিসেবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের

‘সংসদ সদস্যদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত’

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, সংসদ সদস্যদের (এমপি) কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ও সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা নির্ধারণেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নুরুল হক নুর বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকেন, তাদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়।

কিন্তু অনেক এলাকায় সড়কের অবস্থা ভালো নয়। ছোট গাড়িতে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

আবার ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রাডো বা এ ধরনের নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক সংসদ সদস্যের নেই।

তিনি বলেন, একজন এমপি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন।

মেয়াদ শেষে গাড়িটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা থাকা উচিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মৌলিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা, সবমিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। একজন মন্ত্রীর মৌলিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও প্রতিমন্ত্রীর ৯২ হাজার টাকা। কিন্তু এলাকায় গেলে চিকিৎসা সহায়তা, বিয়ে, খেলাধুলার পুরস্কারসহ নানা ধরনের আর্থিক সহায়তার দাবি আসে, যা এই আয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এসব দিতে হলে মন্ত্রীদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা হওয়া উচিত। এতে আবার বেতন বাড়ানোর অভিযোগ উঠতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনায় জনপ্রতিনিধিদের যাদের ব্যক্তিগত বিপুল সম্পদ নেই, তাদের পক্ষে এসব সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন। এতে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ সংগ্রহের প্রলোভন তৈরি হতে পারে।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিও এসেছে। শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, আমার নিজের অ্যাসেসমেন্ট থেকে আমি একটা বক্তব্যে ইন্টারিম গভর্নমেন্টের সময় বলেছিলাম যে, ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত। কেন? আমি দেখলাম যে ন্যূনতম ৮২০০ টাকা ছিল ওই সময়ে। আমরা বলেছি, ধরেন ঢাকার শহরে যারা কায়িক পরিশ্রম করে দিনমজুরের কাজ করে সেও এখন ৬০০-৭০০ টাকা পায়। ওই হিসাবে আমি বলেছিলাম যে ৬০০-৭০০ টাকা করে পাইলেও একটা লোক অ্যাভারেজ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ইনকাম হয়। তাহলে একজন সরকারি সে ছোট পোস্টেই চাকরি করুক কিন্তু মানুষ। গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায়, বাড়ি গেলে মানুষ মনে করে… এই সোসাইটির সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে সে সরকারি চাকরি করে। কাজেই তাকে একটু যদি সামাজিকভাবে চলার মতো একটা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করার মতো বেতনটা না দেওয়া হয়, তাহলে তো অন্য কিছু করা ছাড়া উপায় নাই।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা এজন্য বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন চাই, গণতন্ত্র চাই, আমি যেটা মনে করি সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউ করেছিলেন, তিনি যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ইভেন মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদও করেছিলেন, অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং জনপ্রতিনিধিদেরও। তারপর তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে গেছে।

আজ এ ধরনের… সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন স্কেল, যেটা আমি মনে করি এটা বর্তমান সরকার করবে। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসিত থেকে রাষ্ট্রের বিষয়ে আমি মনে করি পুঙ্খানুপুঙ্খ একটা স্টাডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রত্যাবর্তনের পর ৩০০ ফিটের মাঠে লাখ লাখ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে যেভাবে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, সেটার অনেকগুলো বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সব গুঞ্জনের অবসান, রিয়াল মাদ্রিদেই থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সব গুঞ্জনের অবসান, রিয়াল মাদ্রিদেই থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

আর্সেনালে যোগ দেওয়ার জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় স্প্যানিশ ক্লাবটি জানায়, নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই থাকবেন এই তারকা।

এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, ক্লাব ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। ফলে আগামী ছয় বছরও লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতেই খেলবেন তিনি।

ভিনিসিয়ুসের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি ছিল। এ সময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনাল তাঁকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেই বেঁধে রাখলেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

গত প্রায় ১৮ মাস ধরে চুক্তি নবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে আলোচনা কিছুটা জটিল হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত রিয়ালের নতুন প্রস্তাবে সম্মত হন ভিনিসিয়ুস। এর আগে একাধিকবার তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে নিজের ‘স্বপ্নের ক্লাব’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৮ সালে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর থেকে ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫ ম্যাচে ১২৮ গোল করেছেন তিনি। তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটি লা লিগা এবং একটি কোপা দেল রে শিরোপা।

এদিকে ভিনিসিয়ুসের চুক্তি নবায়নের দিনই দলবদলের বাজারে আরও বড় পদক্ষেপ নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। জার্মান ক্লাব লাইপজিগ থেকে আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মূল্য বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১২ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে এটি রিয়ালের চলতি মৌসুমের ষষ্ঠ সাইনিং। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে টানার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি। তবে এই দৌড়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা।

কালের আলো/এসএ

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপনে সংগঠিত হয়ে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন।

কমিটিকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে ইবির ৪৪ জন শিক্ষকের নাম এসেছে।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই, অভিযোগে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের শনাক্ত, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কমিটি কাজ করবে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম (আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সাদাত হোসেন।

সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফিল হক।

অফিস আদেশে অভিযোগে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বাস্তবতা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে টেলিগ্রামভিত্তিক একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ নেটওয়ার্কের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে সভাপতি এবং ড. মাহবুবর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টেলিগ্রাম গ্রুপটির ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট থেকে ৪০৩ জন শিক্ষকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আরও কয়েকজন সদস্য সাংকেতিক নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মাহবুবর রহমান, কে এম শরফ উদ্দিন, শারমিন সুলতানা, অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সেলিনা নাসরিন, ড. মিজানুর রহমান, নাসিরুল হক, শফিকুল ইসলাম, ড. আজরান আজমী, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, জয়, ড. তহিদুর রহমান, অঞ্জন কুমার রায়, অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, আলতাফ রাসেল, মিনহাজুল হক, ড. আসাদুজ্জামান, আফরোজা সাথী ও অধ্যাপক ড. মাহবুব শুভ।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজন শিক্ষক সাংকেতিক পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য, দুজন উপ-উপাচার্য, দুজন ট্রেজারার এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষকের নাম রয়েছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষক এ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। বরং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, বয়কট বা প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই করা হয়েছে। তাই এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের আদর্শিক অনুসারীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি