খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢামেককে মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
ঢামেককে মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা হিসেবে নয়, বরং নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান তার চিকিৎসক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, এর কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকে। চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তিই হলো মানবিকতা। অনেক সময় একজন রোগীর জন্য চিকিৎসকের একটু আশ্বস্ত করার বাক্যও ওষুধের মতো কাজ করে।

চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আর কখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা হয়নি উল্লেখ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স রোটেশনে দায়িত্ব পালনের সময় অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি।

আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’, যেখানে প্রতিটি রোগী সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সহমর্মিতা পাবেন।
আগামী ২০ বা ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আজ আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছি।

আমাদের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের পরিচয়ের শিকড় একই-ঢাকা মেডিকেল কলেজ। এখন সময় এসেছে শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্বের বন্ধনেও আবদ্ধ হওয়ার।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো নয়, বরং তার মানুষ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, মূল্যবোধ এবং তার মানুষরা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি জীবন জড়িয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত প্রতিযোগিতার মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কালের আলো/এসআর/এএএন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দল-মতের বিবেচনা করা হবে না। নদীর ভাঙনে মানুষ যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোক, তাদের নিরাপত্তা ও বসতভিটা রক্ষাই সরকারের দায়িত্ব।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে একথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নদীভাঙন একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।

শুধু তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো নয়, নদীর গতিপথ, পানির প্রবাহ ও ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কুড়িগ্রামের নদীভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-স্থায়ী ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা-নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

পরে তিনি চিলমারীর বাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী এবং রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় নদীর ভাঙন, বাঁধের অবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।

এ সময় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিশ্বকাপে মেসি সহ তারকা ফুটবলার-রেফারিদের ওপর হুমকির ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে মেসি সহ তারকা ফুটবলার-রেফারিদের ওপর হুমকির ঝড়

বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ। মাঠের উত্তেজনা, গ্যালারির উন্মাদনা আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা। কিন্তু সেই উৎসবের আড়ালে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তার অনেকটাই এত দিন ছিল অপ্রকাশ্য।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও দলগুলোর ওপর নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির তথ্য। নথিগুলো আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি)–এর নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের নেতৃত্বে আইপিসিসিতে ৪০টির বেশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেছিলেন।

মজার বিষয় হলো, এফবিআই পরে জানিয়েছিল বিশ্বকাপের ৩৯ দিনের আয়োজনে বড় কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেনি। প্রায় ৫ হাজার এফবিআই সদস্য এবং ৫৯টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্কফোর্স নিরাপত্তায় কাজ করেছিল। কিন্তু প্রকাশিত নথি দেখাচ্ছে, বড় কোনো হামলা না ঘটলেও হুমকি ও সন্দেহজনক ঘটনার চাপ ছিল যথেষ্ট।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের আগে ও চলাকালে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া ফুটবলারদের একজন ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

আর্জেন্টিনা–জর্ডান ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আরও দুজনকে নিয়ে হাতে তৈরি বোমা ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির বক্তব্যে মেসিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল।

এরপর আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের আগেও মেসিকে নিয়ে ভয়ংকর হুমকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ব্যবহারকারী স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে হামলার লক্ষ্য বানানোর কথা লেখেন। একই ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের কয়েকটি ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে—এমন ফোনও আসে পুলিশের কাছে। পরে বিস্ফোরক শনাক্তকারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।

বিশ্বের আরেক মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়েছে।

এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি পর্তুগাল দলের হোটেল ও রোনালদোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাঁকে শনাক্ত করে। হিউস্টনে দলটির হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

টরন্টোতেও এক ভক্ত রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে থামিয়ে দেন। পরে ওই ব্যক্তি জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধু রোনালদোর সঙ্গে ছবি তোলা। মায়ামিতেও রোনালদোকে ঘিরে ভক্তদের অতিরিক্ত আগ্রহের ঘটনা ঘটে। এমনকি পর্তুগাল–ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন।

বিশ্বকাপে নিরাপত্তা-ঝুঁকির আরেকটি দিক ছিল খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অনলাইন হুমকি। ম্যাচে ভুল করা বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর কয়েকজন ফুটবলারকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

নরওয়ের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজও পেনাল্টি মিসের পর হুমকির মুখে পড়েন।

ফ্রান্সের লুকাস দিনিয়ে স্পেন–ফ্রান্স ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার পরও অনলাইনে ভয়ংকর হুমকি পান বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের চাপ সামলাতে হয়েছে। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর তাঁকে ঘিরে দেশটিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ধরনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা শুধু স্টেডিয়ামের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে না। অনলাইন বিদ্বেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হুমকি এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে আবেগও কখনো বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়া দলও ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কোচ হং মিয়ং-বো এবং দলের সদস্যদের উদ্দেশে হত্যার হুমকি দেওয়া হলে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বিমানবন্দর পর্যন্ত দলটিকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে যেতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হুমকির মাত্রার দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ পরিচালনার পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব বার্তার বড় অংশই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।

ম্যাচটির ভিএআর কর্মকর্তা উইলি দেলাজোদও হুমকির শিকার হন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে লেতেক্সিয়ার ও দেলাজোদের বাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে এফবিআইয়ের সরকারি মূল্যায়ন ছিল ইতিবাচক। সংস্থাটি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টে কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ দর্শক, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে নিরাপদে রাখতে ব্যাপক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় করা হয়েছিল।

কিন্তু এখন প্রকাশিত এসব নিরাপত্তা-তথ্য দেখাচ্ছে, বড় কোনো হামলা না ঘটার পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে বিশ্বকাপ যতটা ছিল উৎসবের, নিরাপত্তার দিক থেকে তার আড়ালের ছবিটা ছিল অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

তারকা ফুটবলার থেকে রেফারি—কারও কাছেই হুমকি থামেনি। আর এসব ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, কোটি কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্রে থাকা একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের নিরাপত্তা কতটা কঠিন ও জটিল হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ 

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ধস, টেস্টের আগে বাংলাদেশকে সতর্ক করলেন সিমন্স

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ধস, টেস্টের আগে বাংলাদেশকে সতর্ক করলেন সিমন্স

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ফিফটি পেরোতে পেরেছেন শুধু মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস নেই।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রান তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ডারউইনে তৃতীয় দিন শুরু করার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৯ রান। সেখান থেকে মাত্র ১৬ ওভারের মধ্যেই বাকি আট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় দল।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন থম্পসন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই বোলার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ১০ উইকেটের আটটিই তুলে নেন। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

দুই টেস্টের সিরিজ শুরুর ঠিক আগে এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যাটিং দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ শেষে বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

সিমন্স বলেন, প্রস্তুতি ম্যাচে কয়েকটি ইতিবাচক দিক থাকলেও ব্যাট হাতে বাংলাদেশ নিজেদের হতাশ করেছে। বিশেষ করে যেভাবে ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন, সেটি মোটেও সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন তিনি।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন কোচ। তাঁর বিশ্বাস, প্রথম টেস্টের আগে হাতে থাকা তিন দিনে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সিমন্সের ভাষায়, টেস্ট ক্রিকেটে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার জন্য দলের হাতে আরও কয়েকটি দিন রয়েছে। খেলোয়াড়দের ওপর তাঁর আস্থা আছে এবং এই সময়ের মধ্যে তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে পারবেন বলেও আশা করছেন তিনি।

প্রস্তুতি ম্যাচের ফল হতাশাজনক হলেও সেটিকে পেছনে ফেলে টেস্ট সিরিজে মনোযোগ দিতে চান সিমন্স। তাঁর মতে, এটি ছিল হতাশার একটি ম্যাচ, কিন্তু এখন অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে তাকানোর সময়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার ডারউইনে। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, মূল লড়াইয়ের আগে সেটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিরাজের সেঞ্চুরি কিছুটা স্বস্তি দিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ভালো করতে হলে শুধু একজনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দলের টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদেরই এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

কালের আলো/এসএ