খুঁজুন
                               
, ,
           

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এখন কত, জানালেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এখন কত, জানালেন অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এসময় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্যও জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত সিআইবি ডাটাবেইজে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এর প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমিয়ে আনার আবশ্যকতা রয়েছে, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমিয়ে আনার নিমিত্ত ব্যাংকসমূহের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এরপর বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯ বাস্তবায়ন, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনাপূর্বক হালনাগাদকরণ, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা প্রদান সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, একজন ঋণগ্রহীতা কর্তৃক সমগ্র ব্যাংকিং খাত হতে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য গৃহীতব্য ব্যবস্থাসমূহ কিছু কিছু অন্যান্য খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্যেও আরোপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তকরণ, খেলাপি ঋণগ্রহীতাগণ যাতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বোপরি, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কালের আলো/এসএকে

বৃষ্টিতে ডুবল রাজধানী

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
বৃষ্টিতে ডুবল রাজধানী

টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র‍্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। ভোগান্তি সঙ্গী করেই কেউ হাঁটেন, কেউ রিকশায়, আবার কেউ বাস থেকে পানিতে নেমে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। জলাবদ্ধতায় ধীর হয় যান চলাচল, ব্যাহত হয় নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।নজিরবিহীন জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সড়কে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট।

প্রায় পুরো ঢাকা শহর প্রায় পানিতে তলিয়ে যায়। ধানমন্ডি, জিগাতলা, সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, মতিঝিল, খিলগাঁও, বনানী, খিলক্ষেত, মিরপুর ১০ নম্বর, কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতর পর্যন্ত পানি জমে যায়। ফলে ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর গ্রিনরোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, মণিপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে বের হওয়া নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি ও মোড়ে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় ফুটপাতও পানির নিচে চলে যাওয়ায় পথচারীদের সড়ক দিয়েই চলাচল করতে দেখা যায়।

বৃষ্টির মধ্যেই সকালে বাইরে হওয়া মানুষকে ভিজেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে ছাতা থাকলেও তাতে খুব একটা স্বস্তি মিলেনি।

ছাতা দিয়ে মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ রক্ষা করা গেলেও জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে ভিজে যায় প্যান্ট, জুতা ও কাপড়। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।

সড়কে পানি জমে থাকায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় যানবাহন পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় সৃষ্ট ঢেউয়ে পথচারীদের আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের অনেকেই গাড়ির ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শেওড়াপাড়া শাখা-৩, এর সামনের প্রধান সড়ক ও আশপাশের অলিগলি পানিতে ডুবে যায়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। এই পরিস্থিতিতে সকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করার অনুরোধ জানান। পরে কর্তৃপক্ষ শেওড়াপাড়া শাখা তিন এর সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার সকাল ছয়টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে। দেশের অন্যান্য বিভাগেও এমন বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, পটুয়াখালীতে ১৩২ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৯৮ মিলিমিটার, ফরিদপুর ১০১ মিলিমিটার, আরিচায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টি হলেই পরিবহন চালকদের বাড়তি ভাড়া আদায় এক স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রিকশা ও সিএনজি চালকরা। প্রতিনিয়তই তাদের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা চোখে পড়ে। বৃষ্টি হলে তা যেন আরও বেড়ে যায়। এই নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। মিরপুরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘মিরপুর ২ নম্বর মসজিদ মার্কেট থেকে ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আজকে চাচ্ছে ১০০ টাকা। অবাক হয়ে যাই আমি রিকশাওয়ালাদের কারবার দেখলে। বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক আছে, তাদের যেমন সমস্যা আমাদেরও তেমন সমস্যা। তাই বলে ভাড়া চাওয়ার কোনও মাত্রা থাকবে না! তারা যা ইচ্ছা তাই চাইছে। এই বৃষ্টি-বাদলের দিনে অফিস যেতে এভাবেই অনেক খরচ বেড়ে যায়। যদি সম্ভব হতো তাহলে বেরই হতাম না।’

বৃষ্টিতে শুরু হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে কেবল যাত্রীরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের চালকরাও। অটোরিকশা চালক মো. মজিদ বলেন, ‘রিকশা নিয়ে বের হয়েছি সকালে। ভাবলাম আজকে বৃষ্টি আছে, কিছু টাকা বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু পানিতে ডুবে রিকশাই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যাচ্ছি মেকারের কাছে। আজকে সারাদিনের টাকাটাই মাইর গেল।’

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

রোববার (১২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক শোকবার্তার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এই সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় শাহবাজ শরীফ বলেন, বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট মর্মান্তিক প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।

পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের অবিচল সংহতি ব্যক্ত করছি।

এছাড়া বন্যায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকলের নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয় থেকে দেশের আট বিভাগের কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি