আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকির’ সতর্ক এফবিআই
ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।
ফলে, ম্যাচটিকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এর তথ্য অনুযায়ী, এফবিআই, ফিফা, স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠক করে ম্যাচটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
তাদের মতে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই উদ্বেগের অন্যতম কারণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ) নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ।
১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হলেও দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো বিপরীত।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ম্যাচ চলাকালে বা ম্যাচ শেষে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপে এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে জিতেছিল ইংল্যান্ড এবং ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। ওই ম্যাচেই কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন বিতর্কিত ‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে গোল এবং পরে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত ‘শতাব্দীর সেরা গোল।’
প্রায় ২১ বছর পর আবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এবার ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে থামানো। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে এবারই প্রথম খেলবে ইংলিশরা।
রাজনৈতিক ইতিহাস, তীব্র ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দুই দেশের বিপুল সমর্থকগোষ্ঠীর উপস্থিতি সব মিলিয়ে এই সেমিফাইনালটি কেবল মাঠের লড়াই নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array