খুঁজুন
                               
, ,
           

‘গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পরিবর্তন’

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
‘গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পরিবর্তন’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রতিটি জুলাই শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, কিংবা যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রাষ্ট্র দাঁড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জুলাই শহীদ দিবস পালন আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এককভাবে বাংলাদেশ গড়ব এই চিন্তায় কখনো নিমজ্জিত নয়। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সবাইকে নিয়েই আমরা দেশ গড়তে চাই।

অমিত আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান কৃতিত্ব কারোর একার নয়, এটি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠন কর্মীদের নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

আরও পড়ুন: জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না: প্রতিমন্ত্রী টুকু

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি ঢলে যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক উদ্ধার প্রক্রিয়া, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, পরবর্তীতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে এক সপ্তাহ যাবৎ কাজ করছি।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেছেন, কেউ কেউ এটাকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করতে চায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সাথে কোনো তুলনা হবে না।

যদিও কোনো অংশে এই ত্যাগের মহিমাও কম নয়। এই ত্যাগ ভোলার মতো নয়। দেশ, বিশ্বকে এই দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জানিয়েছে, ফ্যাসিস্টকে আমরা পছন্দ করি না। নতুন করে যাতে ফ্যাসিস্ট তৈরি না হয় সেজন্য ছাত্র জনতা একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই জুলাই আন্দোলনকে আমাদের লালন ও ধারণ করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার প্রমুখ।

জুলাই শহিদ দিবস আলোচনা সভার শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে।

এছাড়াও খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিমন্ত্রী। এরপর তিনি দীঘিনালা উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সব গুঞ্জনের অবসান, রিয়াল মাদ্রিদেই থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সব গুঞ্জনের অবসান, রিয়াল মাদ্রিদেই থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

আর্সেনালে যোগ দেওয়ার জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় স্প্যানিশ ক্লাবটি জানায়, নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই থাকবেন এই তারকা।

এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, ক্লাব ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। ফলে আগামী ছয় বছরও লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতেই খেলবেন তিনি।

ভিনিসিয়ুসের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি ছিল। এ সময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনাল তাঁকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেই বেঁধে রাখলেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

গত প্রায় ১৮ মাস ধরে চুক্তি নবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে আলোচনা কিছুটা জটিল হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত রিয়ালের নতুন প্রস্তাবে সম্মত হন ভিনিসিয়ুস। এর আগে একাধিকবার তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে নিজের ‘স্বপ্নের ক্লাব’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৮ সালে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর থেকে ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫ ম্যাচে ১২৮ গোল করেছেন তিনি। তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটি লা লিগা এবং একটি কোপা দেল রে শিরোপা।

এদিকে ভিনিসিয়ুসের চুক্তি নবায়নের দিনই দলবদলের বাজারে আরও বড় পদক্ষেপ নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। জার্মান ক্লাব লাইপজিগ থেকে আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মূল্য বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১২ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে এটি রিয়ালের চলতি মৌসুমের ষষ্ঠ সাইনিং। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে টানার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি। তবে এই দৌড়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা।

কালের আলো/এসএ

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপনে সংগঠিত হয়ে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন।

কমিটিকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে ইবির ৪৪ জন শিক্ষকের নাম এসেছে।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই, অভিযোগে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের শনাক্ত, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কমিটি কাজ করবে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম (আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সাদাত হোসেন।

সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফিল হক।

অফিস আদেশে অভিযোগে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বাস্তবতা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে টেলিগ্রামভিত্তিক একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ নেটওয়ার্কের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে সভাপতি এবং ড. মাহবুবর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টেলিগ্রাম গ্রুপটির ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট থেকে ৪০৩ জন শিক্ষকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আরও কয়েকজন সদস্য সাংকেতিক নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মাহবুবর রহমান, কে এম শরফ উদ্দিন, শারমিন সুলতানা, অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সেলিনা নাসরিন, ড. মিজানুর রহমান, নাসিরুল হক, শফিকুল ইসলাম, ড. আজরান আজমী, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, জয়, ড. তহিদুর রহমান, অঞ্জন কুমার রায়, অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, আলতাফ রাসেল, মিনহাজুল হক, ড. আসাদুজ্জামান, আফরোজা সাথী ও অধ্যাপক ড. মাহবুব শুভ।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজন শিক্ষক সাংকেতিক পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য, দুজন উপ-উপাচার্য, দুজন ট্রেজারার এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষকের নাম রয়েছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষক এ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। বরং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, বয়কট বা প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই করা হয়েছে। তাই এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের আদর্শিক অনুসারীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের প্রশাসনকে এখনো পুরোপুরি জনবান্ধব (প্রো-পিপল) হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অফিস-আদালতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনকে আরও সেবামুখী করতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপর জোর দেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা অফিস কিংবা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রায়ই সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন।

তাই প্রশাসনকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত (টপ টু বটম) জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট করতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি দূর করতে বড় কোনো বাজেটের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল ও বেতন গ্রেড উন্নীত করার দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান বাজারদর ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনের আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা জরুরি। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগে আটটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় লুটপাটের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ খুবই সামান্য। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সম্প্রতি সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা আত্মঘাতী। যেকোনো দাবি আদায়ে প্ররোচনায় পা না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং আলোচনার মাধ্যমে দাবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি