খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অতিথি এবং বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষিত নতুন বিধির আওতায়, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি না থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন না।

এ ছাড়া একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।

গতকাল বৃহস্পতিবার(১৬জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এ নীতি কার্যকর হবে। এর উদ্দেশ্য, ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।

শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ নতুন এ বিধিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করে সমালোচনা করেছে।

এত দিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাদের থাকার ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারও মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া এড়াতে একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ স্নাতক ডিগ্রি শেষ করতে সাধারণত চার বছর লাগে। তবে পিএইচডিসহ উচ্চতর পর্যায়ের অনেক কোর্স শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ের কোর্সে পড়াশোনা করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে ভর্তি হন তারা। এসব কোর্স সম্পন্ন ও গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে সাধারণত বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া গবেষণার জন্য তহবিলের ঘাটতি বা ব্যক্তিগত নানা কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বা ভিসাকে অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তন করতে মাত্র ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সুযোগ ছিল।

অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা) বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। সংস্থাটি নতুন এ নিয়মের সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, ‘নতুন এ নীতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলা একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।’

এ নতুন নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন—এমন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মেক্সিকো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মেক্সিকো

ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে ভবন থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন অনেকে

মেক্সিকোর দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কম্পনটি প্রতিবেশী গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সময় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মেক্সিকোর চিয়াপাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলের কাছে।

ভূমিকম্পের পর মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করে। পরে মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানায়, সমুদ্রের পানির উচ্চতা সীমিত পরিমাণে বাড়তে পারে এবং উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে বহু মানুষ ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।

গুয়াতেমালার কয়েকটি এলাকায় ছোটখাটো ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মূল ভূমিকম্পের পর ৫ থেকে ৬ মাত্রার একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

 

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি হলো তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মাধ্যমে জাতির সামনে যে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে মিলিয়ে একই ভাষায় কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আপন, ঢাকা’র উদ্যোগে মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটু আগে দেখলাম ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছেন। শুনে মনে হয়েছে, পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই একই ভাষায় জনগণের কাছে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় এবং সেই নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। বাংলাদেশের মানুষও তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এ ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁকে এবং তাঁর দলকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা।

মাহাত্মা ভেগাই হালদারও অনুরূপ মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা প্রচার করে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে এবং বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান এখানে হবে না।

তিনি বলেন, যারা একক ধর্ম, একক সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতির নিয়ম, মানবতা ও সভ্যতার বিরোধী।  বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপন, ঢাকার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার।

কালের আলো/এম/এএইচ