খুঁজুন
                               
, ,
           

চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষের জন্মদিন আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষের জন্মদিন আজ

চাঁদে প্রথম পা রাখা মানুষ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং। ১৯৩০ সালের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ওয়াপাকোনেটায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

শৈশব থেকেই আকাশ ও উড়োজাহাজের প্রতি আগ্রহ ছিল আর্মস্ট্রংয়ের। পরবর্তীতে তিনি পাইলট, মহাকাশচারী ও অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী হিসেবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নাসার ঐতিহাসিক অ্যাপোলো-১১ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষের পদচিহ্ন রাখেন নীল আর্মস্ট্রং। চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখার সময় তার বিখ্যাত উক্তি—“মানুষের জন্য এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, মানবজাতির জন্য এক বিশাল লাফ”—আজও ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত।

মহাকাশ গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য আর্মস্ট্রং পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম, কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনারসহ অসংখ্য পুরস্কার।

মহাকাশচারী হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবেও কাজ করেন। পরে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে নীল আর্মস্ট্রং দুইবার বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন জ্যানেট শিয়ারন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যারল হেল্ড নাইট। তার তিন সন্তান ছিল।

২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ৮২ বছর বয়সে হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে মারা যান নীল আর্মস্ট্রং। তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় আটলান্টিক মহাসাগরে।

মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে নীল আর্মস্ট্রংয়ের নাম চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চাঁদের বুকে তার সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মানবজাতির বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতীক।

কালের আলো/এসএ

জুলাই শহীদদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
জুলাই শহীদদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশের প্রত্যেক উপজেলায় জুলাই শহীদদের নামে প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তার নামকরণ করা হবে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদ ও আহত পরিবারের সুযোগ সুধিবা বৃদ্ধির জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজও করছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নগরের পাটগুদাম দুলদুল ক্যাম্পে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মহানগর ছাত্রদল আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিদায়।

পরে শতাধিক হতদরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

কালের আলো/এসএকে

যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: রাষ্ট্রপতি

যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে কোনো ডকুমেন্টারি বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম ভুল যেটা দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। ডকুমেন্টারিতে খালেদা জিয়ার ছবিও নেই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল। এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করাটা বাঞ্ছনীয় নয়।

তিনি বলেন, এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমাদের ভুল হলে সেটি শুধরে দেবেন। আমরা আওয়ামী লীগ হতে পারব না। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক ডকুমেন্টারিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, শহীদদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি এ অভিযোগে প্রতিবাদ জানান শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা।

ডকুমেন্টারি দেখানো শেষ হতে না হতেই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

কালের আলো/এসএকে

দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল।

তবে অতীতে এলএনজি গ্রহণ, গ্যাসে রূপান্তর এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মজুত সক্ষমতা (স্টোরেজ) পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা হয়নি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

এ সময়কে একটি ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমস্যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ভালো কাজ করতে পারলেই জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে, যার মোট আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে। এর আয়তন হবে প্রায় ১৮৭ একর, যা বিদ্যমান দুটি শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তনের প্রায় ছয় গুণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি আখাউড়া-সিলেট রেলপথের কাজ শেষ হওয়ার সময়ই সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নকাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের সামাজিক শক্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই তারুণ্যশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনার শুরুতে মন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ আন্দোলন ব্যাপক গতি লাভ করেছিল, যার ফলে একটি শক্তিশালী সামাজিক জাগরণের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দ্বিতীয়বারের মতো গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জেগে উঠেছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম,

বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি