খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রথমবারের মতো বিজিবি সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
প্রথমবারের মতো বিজিবি সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে আধা সামরিক এই বাহিনীটি দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে কাজ করে চলেছে দিন-রাত একাকার করেই। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বৈরি সময়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি কোন অবস্থাতেই আগের মতো পিঠ দেখাচ্ছে না। অদম্য সাহস আর গভীর দেশপ্রেমে ঠেকিয়ে দিয়েছে একের পর এক পুশ-ইন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একাধিকবার বিজিবির কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) বিজিবি সদর দপ্তরে স্বশরীরে উপস্থিত হয়েও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় একইসঙ্গে তিনি দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান।

পুশ-ইন প্রসঙ্গে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও বিজিবিকে আরও আধুনিকায়নের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে বেলা ১১টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভাতেও বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম পরিদর্শনে এসেই যেসব বিষয় অবগত হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনে এসে বাহিনীর অপারেশনাল, প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেছেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে
মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবি মানবিক দায়িত্ব পালনের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও সম্প্রসারিত করা হবে। মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।’

পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সাহসিকতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিজিবিতে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পদক প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।’

মোজাফফরের বিচার হবে জেনারেল কোর্ট মার্শালে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই ব্যক্তিকে একই ঘটনায় দুই আইনে আলাদাভাবে বিচার করার সুযোগ নেই। সোমবার (২০ জুলাই) পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মেজর (অব.) মোজাফফর দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে তার বিচার করবে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। সে সময়ের রায় ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মোজাফফর সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে। নতুন করে ফৌজদারি মামলা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও আইনানুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে ভিন্ন দুই আইনে বিচার করা যায় না। প্রয়োজনে সিভিল কোর্টের কোনো বিষয় থাকলে তা আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

শিক্ষার্থীকে মারধর: রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার্থীকে মারধর: রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে টিটিইদের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ক্যাম্পাসের চারুকলা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলাম। ট্রেনে খেয়াল করি যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটিই টাকা আদায় করছে, কিন্তু রসিদ দিচ্ছে না। আমি তখন প্রতিবাদ করে টিটিইদের বলি রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু টিকেট ইস্যু না করে টাকা নিচ্ছেন কেন? সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করি।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে পেছন থেকে গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যায় ৬-৭ জন। এরপর আমার ঘাড়ে ও পিঠে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। আমি পড়ে গেলে হয়তো খারাপ কিছু হতো। আমার চশমাও ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।

এদিকে, আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো— অভিযুক্ত অপরাধীকে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে, যেহেতু তিনি ঘুষ গ্রহণ করেছেন, তাই সেই অপরাধে তার প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি স্থায়ী বহিষ্কার এবং রেলে ভ্রমণকারী নাগরিকের ওপর হত্যাচেষ্টার কারণে রেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে, সকল দূরপাল্লার ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে একটা যাত্রাবিরতি দিতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক ভাইকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অন্যায় এবং প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনা হয়েছে দাঁড়িয়েছে। আমরা রেললাইন অবরোধ করেছি। কর্তৃপক্ষ আসবে এবং ঘুষ নেওয়ার দায়ে শাস্তি, মারধরের ক্ষতিপূরণসহ যথাযথ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে রাকসু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অবরোধস্থলে অবস্থান করছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আন্দোলনকে সমর্থন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

ফেসবুক পোস্টে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান লিখেছেন, ‘রেললাইন বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট লোকেরা নিজে আমাদের কাছে এসে এখন এটা  সামলান। কাদের গায়ে হাত দিয়েছেন ঠাহর তো করতে হবে।

পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে রাবির এক শিক্ষার্থী ভাইকে অন্যায়ভাবে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে। নচেৎ রাজশাহীর সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দেখতে চাই।’

তিনি আরও লিখেছেন, এর আগেও জানা অজানা এমন অনেক আচরণ রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে করা হয়েছে। আজকে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে কখনো রেলগুন্ডারা বাঁকা চোখেও যেন না দেখে সে ব্যবস্থা করতে হবে। রাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ এই রেললাইন সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, গতকাল রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট চেকারেরা (টিটিই) প্রচণ্ডভাবে মারধর করেছে। এরই প্রতিবাদে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। যাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোও আমাদের বিবেচ্য বিষয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছি

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কওমী ধারার ৭ দল নিয়ে নতুন জোট

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
কওমী ধারার ৭ দল নিয়ে নতুন জোট

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দল ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত নতুন একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

দলগুলো হলো–জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অপরদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। তারাও নতুন জোটে যাবে বলে জানিয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেছেন, সাতটি ইসলামি দল কওমি ধারার। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক দল রয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতটি দলের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা হলেও দলটি শেষ পর্যন্ত আটটি আসনে এককভাবে নির্বাচন করে।

অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চারটি আসনে সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন ভাগাভাগির বিরোধে জামায়াত জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়া কয়েকটি দলের সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একাংশের দূরত্ব তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক চট্টগ্রামে গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ছিল।

কওমীপন্থী দলগুলোর নেতারা বলছেন, হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসুক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠক হবে। তখন সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।

নতুন জোটের বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘কওমীপন্থী সাতটি দল একত্রে পথ চলতে চায়। এ থেকেই তো বোঝা যায় জোট হতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখনো কিছু হয়নি। আশা করি কীভাবে কী হবে, সাত দল তা আগামী ৩ আগস্ট প্রস্তাব করবে। এরপর বসে নতুন জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এম/এএইচ

৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ