খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রথমবারের মতো বিজিবি সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
প্রথমবারের মতো বিজিবি সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে আধা সামরিক এই বাহিনীটি দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে কাজ করে চলেছে দিন-রাত একাকার করেই। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বৈরি সময়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি কোন অবস্থাতেই আগের মতো পিঠ দেখাচ্ছে না। অদম্য সাহস আর গভীর দেশপ্রেমে ঠেকিয়ে দিয়েছে একের পর এক পুশ-ইন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একাধিকবার বিজিবির কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) বিজিবি সদর দপ্তরে স্বশরীরে উপস্থিত হয়েও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় একইসঙ্গে তিনি দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান।

পুশ-ইন প্রসঙ্গে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও বিজিবিকে আরও আধুনিকায়নের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে বেলা ১১টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভাতেও বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম পরিদর্শনে এসেই যেসব বিষয় অবগত হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনে এসে বাহিনীর অপারেশনাল, প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেছেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে
মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবি মানবিক দায়িত্ব পালনের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও সম্প্রসারিত করা হবে। মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।’

পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সাহসিকতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিজিবিতে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পদক প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।’

মোজাফফরের বিচার হবে জেনারেল কোর্ট মার্শালে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই ব্যক্তিকে একই ঘটনায় দুই আইনে আলাদাভাবে বিচার করার সুযোগ নেই। সোমবার (২০ জুলাই) পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মেজর (অব.) মোজাফফর দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে তার বিচার করবে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। সে সময়ের রায় ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মোজাফফর সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে। নতুন করে ফৌজদারি মামলা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও আইনানুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে ভিন্ন দুই আইনে বিচার করা যায় না। প্রয়োজনে সিভিল কোর্টের কোনো বিষয় থাকলে তা আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: খলিলুর রহমান 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: খলিলুর রহমান 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিকসে দাওয়াত না দিয়ে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন‌্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, চেয়ারপাসন অফ বিমসটেক। এই পার্থক্যটা আপনারা বোঝবার চেষ্টা করেন। এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছেন এবং সেই চিঠিটি আমাদের সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমন্ত্রণ একটি আছে, সেটা আমরা দেখব।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নেওয়ার বিষয়ে আজকের আলোচনা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, আমরা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।

আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এছাড়া, ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরেক আমন্ত্রণপত্রে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসএকে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা 

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে সবই ইতিবাচক মনে হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘খুবই ভালো লাগলো। আমরা পাবলিক ফিগার থেকে আরও বেশিদূর এগিয়ে সাক্ষাৎ করেছি, একজন কূটনীতিক হিসেবে নয়। তাহলে এটা মানুষে-মানুষে যোগাযোগের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আমি খুবই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হলো। আর একদম দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনি মনে হয়নি যে প্রথমবার আমি উনার সঙ্গে দেখা করছি। আর তিনি খুবই ভালো, খুবই হাম্বল।’

তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো, খুবই ভালো আলোচনা হলো, খুবই ভালো… লুকিং ফরওয়ার্ড। আমাদের ইনভাইটেশন তো আগে থেকে আছে।  প্রাইম মিনিস্টার অব ইন্ডিয়া লুকিং ফরোয়ার্ড এবং ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দুই নেতা একসঙ্গে বসলে আলোচনা হলে… ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে, ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি না। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলো উইন-উইন সিচুয়েশন। আর আমাদের যা হিস্টরিক্যাল সম্পর্ক আছে, ওইটা তো আপনি বদলাতে পারবে না। আমাদের নেইবারহুড তো বদলাতে পারবেন না। আমি সবসময় বলি যে উই ডোন্ট অনলি শেয়ার দা বর্ডার, শেয়ার ড্রিমস।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমার মনে হচ্ছে আগামী দিন ভালোই হবে। ইস্যুটা সর্ট আউট করতেই হবে দুদিক থেকে। আর আই এম ভেরি কনফিডেন্ট, আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট। আমার খুবই খুবই ভালো লাগছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলো প্রথমবার। আমি দুই নেতার প্রতিই কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি, এমন কোনো ইস্যু নেই যা আমরা বসে সমাধান করতে পারবো না। আর আমার আমার এখানটা আসা… আমার প্রধানমন্ত্রীও আমাকে সবসময় এটা বলেছেন যে সম্পর্ক ভালো থাকা বিশেষ দরকার। নাহলে আমি কেন আসি?

এসময় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিতে ভারতে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হবে হবে, সবই ভালো, ইতিবাচক সবকিছুই হবে।’

কালের আলো/এসএকে

ওখানে মধু আছে, চুষলেই জিহ্বায় মজা লাগে: জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ওখানে মধু আছে, চুষলেই জিহ্বায় মজা লাগে: জামায়াত আমীর

নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেছেন, নিয়োগ বাণিজ্যের জায়গাটাকে অনেকেই মধুর চাক মনে করেন। ওখানে মধু আছে, চুষলেই জিহ্বায় মজা লাগে। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমীর বলেন, বর্তমানে সব জায়গায় চুরি-চামারি ও লুটপাট শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে।

দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না।

কালের আলো/এসএকে