খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটায় রাজশাহী  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চতকরা, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গুজব প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী।

সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আবাসন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এ সময় আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০টিরও বেশি সংযুক্ত শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব হলো—

১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন:

সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও উলম্ব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

২. নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপিভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি:

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট ও আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারের জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

৩. মধ্যবিত্তের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু:

মধ্যবিত্ত পরিবারের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বান জানানো হয়। এতে লাখো পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে এবং আবাসন শিল্পেও নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে মত দেয় সংগঠনটি।

৪. নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ:

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে রিহ্যাব বলেছে, করব্যবস্থা বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব, ন্যায়সংগত, ঝামেলামুক্ত এবং পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত লেনদেনমূল্য নিবন্ধনে মানুষ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

৫. জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার:

চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে, এ করের কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ছে।

৬. পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন:

বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দাবি জানানো হয়। এতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমে সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব সব সময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক, এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও ছয় দফা প্রস্তাব শোনেন। তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপক মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসনখাতেরশীর্ষউদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

বার্তায় তিনি বলেন, দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছু গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ করার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে পারে এবং এতে জনভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করছে এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাই আতঙ্ক বা গুজবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

সম্প্রতি স্পেনের ভবিষ্যৎ রানী, ক্রাউন প্রিন্সেস লিওনর, সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার জন্য প্রস্তুত হতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান ও মহাকাশ বাহিনী জুড়ে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের পর, তিনি এখন রাজতন্ত্রের জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা করছেন।

তথ্য ও গণমাধ্যমের এই যুগে, উপরোক্ত সংবাদটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্যসহ প্রচারিত হয়েছে, যা দেশে ও বিদেশের অনেক সামরিক কর্মকর্তা মহলে শেয়ার করা হয়েছে। জানা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আমার অনেক ছাত্রছাত্রী এবং কিছু শিশুও কৌতূহলী ছিল যে, কেন এবং কীভাবে একজন ভবিষ্যৎ রানীর এমন কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলো। আমি “সামরিক কায়দায়” উত্তর দিয়েছিলাম এবং আমার উত্তরের সারমর্ম ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে।

প্রত্যেক সার্বভৌম রাষ্ট্র তার স্বাধীনতা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন রক্ষার জন্য জাতীয় শক্তির বিভিন্ন উপকরণের উপর নির্ভর করে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কূটনৈতিক শক্তি, তথ্যগত শক্তি, সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক শক্তি—সংক্ষেপে ডাইম (DIME)। শীতল যুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে ডাইম (DIME) ধারণাটির উদ্ভব হয়। সামরিক বাহিনী জাতীয় শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়। বিগত দশকগুলোতে, শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্বই রক্ষা করেনি, বরং জাতি গঠন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত তথ্যটি হলো, তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় খেম করণ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্বসূরি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পদাতিক বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মাননা লাভ করে অসাধারণ স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। এই গৌরবময় কীর্তি স্বাধীন বাংলাদেশের আবির্ভাবের অনেক আগেই বাঙালি সৈন্যদের সাহস, শৃঙ্খলা এবং যুদ্ধ করার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল।

জাতীয় সংকটকালে একটি স্থিতিশীলকারী শক্তি
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, জাতীয় অনিশ্চয়তা ও সংকটের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বারবার একটি স্থিতিশীলকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯০-৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০০৭-০৯ এবং ২০২৪-২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদল ও জরুরি অবস্থার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আরও অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নাগরিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
এই সময়গুলোর অনেকগুলোতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সেনাবাহিনী, আইনানুগ কর্তৃত্ব এবং জাতীয় প্রয়োজনে, প্রায়শই স্থিতিশীলতা রক্ষা, জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পালাবদল সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শে অনুপ্রাণিত কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে সামরিক কর্মীদের জন্য কঠিন কাজও সহজ হয়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীর মূল্যবোধ ও আদর্শের ভিত্তি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র বা সরঞ্জামের মধ্যে নিহিত নয়, বরং এর প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শের মধ্যে নিহিত, যা ২০১০-১২ সালে উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে আমার অবদান ছিল । এই মূল্যবোধগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্মান ও গর্ব, সততা ও নিষ্ঠা, আনুগত্য, দেশপ্রেম, বিশ্বাস ও আস্থা, শ্রদ্ধা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগের আগে সেবা এবং সাহস। একইভাবে, সেনাবাহিনীর আদর্শ দেশের প্রতি নিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অঙ্গীকার, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, পেশাগত উৎকর্ষ এবং দেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্য ২০২৪ সালের জুলাই/আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে মূল্য দেয়, যেখানে সৈন্যরা সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে সমর্থন করেছিল, যার জন্য সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, একটি বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।

আমরা “জনগণের সেনাবাহিনী”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথার্থই জনগণের সেনাবাহিনী নামে পরিচিত, কারণ এর শক্তি শুধু এর পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতা থেকেই আসে না, বরং এর সেবায় নিয়োজিত নাগরিকদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন থেকেও আসে। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য জনগণ ও তাদের সেনাবাহিনীর মধ্যকার স্থায়ী অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। তাই মাও জেদুং বলেছেন, “জনগণ ছাড়া সেনাবাহিনী শক্তিশালী হতে পারে না”। এবং একটি পেশাদার সেনাবাহিনী তার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সামাজিক ঋণে দায়বদ্ধ হয়ে ওঠে। সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্রথমে তার সহকর্মী/সহযোদ্ধার (বন্ধু) যত্ন নিতে শেখানো হয়, যারা প্রতীকীভাবে এবং সম্মিলিতভাবে নিজেদের নাগরিক/দেশবাসী/জনগণে পরিণত হয়।

স্প্যানিশ রাজকুমারী লিওনরের বিষয়টি প্রতীকী এবং এটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের জন্য বিশাল শিক্ষা বহন করে। সকল সেনাবাহিনী একই নীতিতে প্রশিক্ষণ নেয়: “কঠোর প্রশিক্ষণ, সহজ যুদ্ধ”। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান অত্যন্ত উঁচু, কারণ ১৯৭৬ সাল থেকে এটি আমাদের বিদ্রোহ দমনে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে, জাতিসংঘে ভূমিকা রেখেছে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) একটি অনন্য এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, কারণ আমার একটি প্রথম বিশ্বের সেনাবাহিনীর এই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। ৮০-এর দশক এবং ৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হতো। পরবর্তীতে, কথিত আছে যে “স্বস্তিদায়ক পরিবেশ”-এর সন্ধানে এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি ছিল বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। গত দশকে সামরিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যান্য কারণগুলো ছিল সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিপজ্জনক ধরনের বাহ্যিক প্রভাব। এখন আমাদের লাগাম আরও শক্ত করার সময় এসেছে, যার মধ্যে বিসিএস অফিসারদের বিএমএ-তে যথাযথ প্রশিক্ষণের জন্য পুনরায় পাঠানোও অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় আরও বহুমাত্রিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পরিশেষে, আমাদের সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, সারা বিশ্বের সৈন্যরা একটি কঠোর কমান্ড শৃঙ্খলের মাধ্যমে কাজ করে এবং সরকারের আইনানুগ কর্তৃত্বের অধীনে, সংবিধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ নির্ধারিত বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য রেখে পরিচালিত হয়। চূড়ান্তভাবে, সেনাবাহিনী সর্বদা একটি বেসামরিক নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়—সাধারণত শাসক দলের প্রধান। গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রভাবিত। একাদশ সংসদে ব্যবসায়ীরা ছিলেন ৬১-৬৩% এবং দ্বাদশ সংসদে তা এখন ৬৫-৭০%। এবং ঐতিহ্যগতভাবে পুঁজিবাদী মডেলে “ব্যবসায়ীরা মুনাফা/অর্থের (দ্বিতীয় ঈশ্বর) উপর মনোযোগ দেয় এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার প্রয়োজন হয়”। এখানে, সৎ নাগরিকরা—সে রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা বা জেন “জি” যেই হোক না কেন—একমাত্র তারাই সেই শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে। আমাদের সকলকেই মানতে হবে যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক সামরিক দক্ষতা অর্জনের মধ্যে, এবং এই বিষয়গুলোই স্পেনের ভবিষ্যৎ তরুণী রানী/সর্বাধিনায়ককে শুধুমাত্র একজন নেতা হয়ে ওঠার জন্য তাঁর মূল্যবান সময় প্রশিক্ষণে ব্যয় করতে বাধ্য করেছিল। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্র এবং/অথবা সংস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, এবং আমরা এ থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। সম্ভবত এটি আমাদের চোখ খুলে দেবে ‘তাদের (স্পেন) এবং আমাদের (বাংলাদেশ)’ মধ্যকার পার্থক্য খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু আমরা ভবিষ্যতের জন্য সবসময় শিখতে পারি—ভবিষ্যতের জন্য শিখুন।

লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।