খুঁজুন
                               
, ,
           

রেসলিং রিংকে বিদায় জানালেন ব্রক লেসনার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
রেসলিং রিংকে বিদায় জানালেন ব্রক লেসনার

পেশাদার রেসলিংয়ের অন্যতম বড় তারকা ব্রক লেসনার অবশেষে রিংকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও সাফল্যের মালিক এই ডব্লিউডব্লিউই কিংবদন্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার জনপ্রিয় ‘দ্য প্যাট ম্যাকাফি শো’-তে উপস্থিত হয়ে ৪৯ বছর বয়সী লেসনার নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, গত শনিবার ডব্লিউডব্লিউই সামারস্লামের মঞ্চে ওবা ফেমির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হেল ইন আ সেল’ ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে লেসনার বলেন, “আমি আজ পুরো বিশ্বকে জানাতে এসেছি যে, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়েছি। শনিবারের রাতটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের ছিল। রেসলিং রিং হোক কিংবা অন্য কোনো লড়াইয়ের মঞ্চ—আমার পথচলা এখানেই শেষ।”

এর আগে চলতি বছরের রেসলম্যানিয়ায় ওবা ফেমির কাছে হারের পর রিংয়ের মাঝখানে নিজের বুট ও গ্লাভস খুলে রেখে চলে যান লেসনার। তখন থেকেই তার অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের শহর মিনিয়াপোলিসে সামারস্লামের ম্যাচ দিয়েই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখলেন ‘দ্য বিস্ট ইনকারনেট’।

রেসলিংয়ের জগতে প্রবেশের আগেই নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন লেসনার। ২০০০ সালে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এনসিএএ ডিভিশন ওয়ান জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। পাশাপাশি দুইবার অল-আমেরিকান সম্মান ও বিগ টেন চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন।

২০০২ সালে ডব্লিউডব্লিউইতে অভিষেকের পর দ্রুতই তারকা বনে যান লেসনার। মাত্র ২৫ বছর বয়সে দ্য রককে হারিয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্ব শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি।

ক্যারিয়ারে ১০টি বিশ্ব শিরোপা ছাড়াও দুটি রয়্যাল রাম্বল জয়, ২০০২ সালের ‘কিং অব দ্য রিং’ এবং ২০১৯ সালের ‘মানি ইন দ্য ব্যাংক’ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তার। তবে ২০১৪ সালের রেসলম্যানিয়ায় দ্য আন্ডারটেকারের ২১ ম্যাচের অপরাজিত ধারার সমাপ্তি ঘটানোকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রিংয়ের বাইরেও সফল ছিলেন লেসনার। ২০০৪ সালে আমেরিকান ফুটবলে এনএফএলের মিনেসোটা ভাইকিংসে সুযোগের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ২০০৭ সালে মিক্সড মার্শাল আর্টসে (এমএমএ) নাম লেখান এবং নিজের চতুর্থ পেশাদার ম্যাচেই র‌্যান্ডি কুতুরকে হারিয়ে ইউএফসি হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১৬ সালে ইউএফসি ২০০ ইভেন্টে মার্ক হান্টের বিপক্ষে সর্বশেষ এমএমএ লড়াইয়ে অংশ নেন তিনি।

বিদায়বেলায় নিজের শিকড়ের কথাও স্মরণ করেন লেসনার। তিনি বলেন, “আমি সাউথ ডাকোটার এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলাম। বড় স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং সেই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করেছি। জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি, তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

ব্রক লেসনারের বিদায়ে শেষ হলো পেশাদার রেসলিংয়ের এক আলোচিত অধ্যায়। শক্তি, আগ্রাসন ও অসাধারণ অ্যাথলেটিক দক্ষতার কারণে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভক্তদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কালের আলো/এসএ

যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: রাষ্ট্রপতি

যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে কোনো ডকুমেন্টারি বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম ভুল যেটা দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। ডকুমেন্টারিতে খালেদা জিয়ার ছবিও নেই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল। এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করাটা বাঞ্ছনীয় নয়।

তিনি বলেন, এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমাদের ভুল হলে সেটি শুধরে দেবেন। আমরা আওয়ামী লীগ হতে পারব না। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক ডকুমেন্টারিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, শহীদদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি এ অভিযোগে প্রতিবাদ জানান শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা।

ডকুমেন্টারি দেখানো শেষ হতে না হতেই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

কালের আলো/এসএকে

দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল।

তবে অতীতে এলএনজি গ্রহণ, গ্যাসে রূপান্তর এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মজুত সক্ষমতা (স্টোরেজ) পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা হয়নি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

এ সময়কে একটি ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমস্যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ভালো কাজ করতে পারলেই জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে, যার মোট আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে। এর আয়তন হবে প্রায় ১৮৭ একর, যা বিদ্যমান দুটি শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তনের প্রায় ছয় গুণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি আখাউড়া-সিলেট রেলপথের কাজ শেষ হওয়ার সময়ই সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নকাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের সামাজিক শক্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই তারুণ্যশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনার শুরুতে মন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ আন্দোলন ব্যাপক গতি লাভ করেছিল, যার ফলে একটি শক্তিশালী সামাজিক জাগরণের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দ্বিতীয়বারের মতো গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জেগে উঠেছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম,

বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মুখস্থ নয়, সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দরকার : ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
মুখস্থ নয়, সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দরকার : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু তথ্য মুখস্থ করানো নয় বরং শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখানো, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান উদ্ভাবনে দক্ষ করে তোলা। প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা ও গণিত) শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারলে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পাশাপাশি প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যাবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করলে একটি দেশ সব সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। কিন্তু স্টেম শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তি বোঝা, তা নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে একটি দেশ প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে পারে। জাপান সেই উদাহরণ তৈরি করেছে, বাংলাদেশও প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই স্টেমভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তুলে একই পথে এগোতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি শেখানোর পাশাপাশি শিশুদের প্রশ্ন করা, সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ৭ কোটির বেশি। কিন্তু দেশের অর্থনীতি এখনও তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বহুমুখী, জ্ঞানভিত্তিক ও উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টেম শিক্ষার শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হবে।

জাপানের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, মেইজি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের প্রতিটি ধাপে জাপান শিক্ষা, প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করে এগিয়েছে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়।

তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় শিখন সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিশুদের সাক্ষরতা, সংখ্যা জ্ঞান ও মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করে তাদের জন্য একটি শক্ত শিক্ষা ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টেম শিক্ষা বাস্তবায়নে সব সময় ব্যয়বহুল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। একটি গাছ লাগানো, স্থানীয় পানির মান পরীক্ষা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ, কাগজ দিয়ে সেতু নির্মাণ কিংবা নিজ এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান খোঁজার মতো কার্যক্রমও কার্যকর স্টেম শিক্ষার অংশ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশে গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও মৌলিক রোবোটিক্স শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্টেম শিক্ষা পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরটেক, অক্টোব্রেইন, আয়োজক, অংশগ্রহণকারী ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে ওসাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধি, শিক্ষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আরটেক ও অক্টোব্রেইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে