খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইরিন খানের কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইরিন খান ২০২০ সাল থেকে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইরিন খান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে (ইউএনএইচসিআর) ২১ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতে চিফ অব মিশন এবং ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল প্রটেকশনের উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইরিন খান ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি পিস প্রাইজে ভূষিত হন। তিনি দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস গ্রন্থের লেখক। আইরিন খান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার ও হার্ভার্ড ল’ স্কুলে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত এক নোটিশে রোববার (৩০ আগস্ট) তাকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সাবেক সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মো. আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাদ পড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
বাদ পড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে নানা কারণে যেসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন, তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি যারা মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাদের বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

যাচাই-বাছাইয়ে যারা অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন, তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আসছে বিশেষ ভাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আসছে বিশেষ ভাতা

চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দূরত্ব, যাতায়াতের সমস্যা ও যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা। এতে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

দুর্গম ভাতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন কোন এলাকাকে প্রকৃত অর্থে দুর্গম হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কী ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করা হবে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের মতামত ও সুপারিশ লিখিতভাবে সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সংস্কারের বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা স্পষ্ট করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভাগ থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সমন্বিত কর্মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সব কার্যক্রমের চূড়ান্ত গন্তব্য বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ। তাই প্রশাসনিক সংস্কারের সুফল সরাসরি শিশুদের শেখার পরিবেশে দৃশ্যমান হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে। খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

কর্মশালায় রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান।

এ সময় রংপুর বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক, বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি