খুঁজুন
                               
, ,
           

ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

ফেসবুক খুললেই সামনে আসছে একের পর এক রিল। কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য শেষ হতেই মনে হচ্ছে—পরের পর্বে কী হলো? সেই কৌতূহলেই আবার খুঁজে দেখা হচ্ছে পরের ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে এআই-নির্ভর স্বল্পদৈর্ঘ্য ড্রামা ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’। বিশেষ করে নারী দর্শকদের মধ্যে সিরিজটির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রত্যাখ্যাত নারী ও এক ছোট শিশুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ড্রামাটির গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা।

স্বামী তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর কাজের সন্ধানে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে একদিন একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান নোরা। বিজ্ঞাপনে প্রয়োজন একজন স্টেপমাদার। ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে তিনি পৌঁছান বিশাল এক প্রাসাদে।

সেখানেই নোরা জানতে পারেন, বাড়িটির মালিক লুকা একজন মাফিয়া ডন। তার ছোট ছেলে লিওর দেখাশোনার জন্যই একজন নারী খুঁজছেন তিনি।

তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। লিও প্রায় খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ছেড়ে দিয়েছে। নোরার ইন্টারভিউয়ের শর্তও অদ্ভুত—তিনি যদি শিশুটিকে অন্তত এক চামচ খাবার খাওয়াতে পারেন, তাহলেই চাকরি নিশ্চিত।

কিন্তু নোরা এক চামচ নয়, পুরো প্লেট খাবার খাইয়ে দেন লিওকে। শুধু তা-ই নয়, সেদিন রাতে দীর্ঘ সময় পর শিশুটিও শান্তিতে ঘুমায়।

এতেই লুকার নজরে পড়ে যান নোরা। ছেলের জন্য তাকে প্রয়োজনীয় মনে হওয়ায় লুকা নোরাকে বাড়তি টাকা, গাড়ি এবং বেশি বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে দেন বিয়ের প্রস্তাবও।

নোরা অবশ্য শুরুতে রাজি ছিলেন না। তার কাছে বিষয়টি ছিল শুধুই চাকরি। কিন্তু লুকার যুক্তি ছিল, লিওর একজন মায়ের প্রয়োজন। নোরা যেন শুধু শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী না হয়ে তার জীবনে মায়ের জায়গাটিও নিতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত চুক্তির বিয়েতে রাজি হন নোরা।

শুরুতে নোরা ও লুকার সম্পর্ক ছিল প্রয়োজনের। নোরার প্রয়োজন ছিল কাজ, আর লুকার প্রয়োজন ছিল ছেলের জন্য একজন যত্নশীল মানুষ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই হিসাব বদলে যেতে থাকে।

লিও খুব দ্রুত নোরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। তার উপস্থিতিতে শিশুটির আচরণেও পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে নোরাও লিওকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে শুরু করেন।

শিশুটির সঙ্গে নোরার এই সম্পর্কই ধীরে ধীরে তাকে ও লুকাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।

লুকার চরিত্রের আরেকটি দিকও সামনে আসে। বাইরে থেকে তিনি কঠোর ও ভয়ংকর মাফিয়া ডন। কিন্তু ছেলের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন—আবেগপ্রবণ ও দায়িত্বশীল একজন বাবা।

একপর্যায়ে নোরার প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। চুক্তির ভিত্তিতে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসায়।

ড্রামাটিতে শুধু প্রেমের গল্প নয়, নোরার ব্যক্তিগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিজের অবয়বের কারণে স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নোরার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ভেঙে যায়। কিন্তু লিওর জীবনে নিজের প্রয়োজনীয়তা এবং লুকার আচরণ ধীরে ধীরে তাকে নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে।

যে নারীকে একসময় তার স্বামী মূল্যহীন করে দিয়েছিল, সেই নোরাই পরে হয়ে ওঠেন একটি শিশুর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষ এবং একজন মাফিয়া ডনের ভালোবাসার মানুষ।

এই পরিবর্তনের গল্পই সিরিজটিকে শুধু মাফিয়া-রোমান্সের মধ্যে আটকে রাখেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবার, মাতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি।

গল্পে দর্শকদের পরিচিত বেশ কিছু জনপ্রিয় উপাদান একসঙ্গে রয়েছে—মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রেম, শিশু, পারিবারিক আবেগ এবং প্রত্যাখ্যাত নারী থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার গল্প।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-নির্ভর নির্মাণ। ফলে প্রচলিত নাটক বা ওয়েব সিরিজের বাইরে এটি দর্শকদের জন্য তৈরি করছে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।

ছোট ছোট পর্ব ও রিলভিত্তিক উপস্থাপনাও ড্রামাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে। একটি দৃশ্য শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্ব দেখার কৌতূহল দর্শকদের আটকে রাখছে।

অর্থাৎ, গল্পের পাশাপাশি উপস্থাপনার ধরনও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ড্রামাটির জনপ্রিয়তার পেছনে মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, শিশু ও প্রেমের মতো উপাদান থাকলেও নারী দর্শকদের কাছে পুরুষ চরিত্রগুলোর উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের গল্পে পুরুষ চরিত্রগুলো সাধারণত ক্ষমতাবান ও ধনী হওয়ার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল, দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে দেখানো হয়। তারা সঙ্গীর কথা শোনে, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে এবং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।

ফলে আকর্ষণ শুধু অর্থ, ক্ষমতা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যত্ন, সম্মান, সততা ও নিরাপত্তার অনুভূতিও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তাই কোনো নারী দর্শক এমন চরিত্র পছন্দ করলেই যে বাস্তবে একজন মাফিয়া ডন চান, বিষয়টি এমন নয়। বরং কল্পনার এই চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকা কিছু গুণই তাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।

এআই-নির্ভর এসব নাটকের গল্প বাস্তবতার চেয়ে অনেকটাই কল্পনানির্ভর। তবু এর জনপ্রিয়তা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—গল্প যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, দর্শকের কাছে ভালোবাসা, যত্ন, সম্মান ও নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়গুলো এখনো বেশ শক্তিশালী আকর্ষণ তৈরি করে।

কালের আলো/এসএ

ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে দৃঢ় অঙ্গীকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে দৃঢ় অঙ্গীকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনরায় উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।’ একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অগ্রাধিকারকে আরও স্পষ্ট করেছে।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

  • সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  • সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ—গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা

একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কোন বিকল্প নেই। জনগণের কথা বলা, অনিয়ম তুলে ধরা, রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই স্বাধীনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে সরকার কাজ করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এমন পরিস্কার অবস্থানকে দেশের সাংবাদিকতার বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যম অঙ্গনেও একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ
সাংবাদিকদের পেশাগত ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে সাংবাদিক সমাজের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশা নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও পেশাগত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কল্যাণমূলক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে অসচ্ছল ও সংকটে থাকা সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্যও তা বাস্তব সহায়তা তৈরি করতে পারে।

হলুদ সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ
প্রতিমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধের কথাও বলেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্যের দিকটি সামনে আনে। তিনি বলেছেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।’

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সংবাদ প্রকাশে তথ্যের যথার্থতা, নিরপেক্ষতা, পেশাগত নৈতিকতা ও জনস্বার্থের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনোই দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার সমার্থক নয়। বরং স্বাধীনতা যত বেশি থাকবে, সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও নৈতিকতার চর্চাও তত বেশি শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এতে করে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে পারে।

হাওর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাবনা
এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমি ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই বক্তব্য প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের বাস্তবতাভিত্তিক চিন্তার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘জাতীয় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় শিক্ষানীতির অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা মিলেছে।

শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ শিক্ষার বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে সামনে এনেছে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক না রেখে চরিত্র ও মূল্যবোধ গঠনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে করছেন অনেকেই।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চাইনিজ ও অ্যারাবিক ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

কালের আলো/এম/এএইচ

যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়তে বই পড়ায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়তে বই পড়ায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশ আয়োজিত ‘যৌথ উদ্যোগে বইপড়া কর্মসূচির ১২ বছর’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভালো বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আনন্দময় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।

তরুণ সমাজকে মাদক ও মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়তা করবে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সমাজের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিচারে গতি আনতে ২২ মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
বিচারে গতি আনতে ২২ মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠন

মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে গতি আনতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ট্রাইব্যুনালের জন্য পৃথক স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানাও নির্ধারণ করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীন ন্যূনতম ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাসমূহ বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে।

কোনো মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সে পর্যায় থেকেই বিচারকার্য পরিচালিত হবে। অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল ও অধিক্ষেত্র: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের আওতাধীন থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে- ঢাকা মহানগর-১-এর অধীন পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।

ঢাকা মহানগর-২-এর অধীন কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালী, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।

ঢাকা মহানগর-৩-এর আওতাধীন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।

ঢাকা মহানগর-৪-আওতাধীন উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।

নারায়ণগঞ্জের জন্য ২টি (নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২), চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি (চট্টগ্রাম মহানগর-১, ২ ও ৩) ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরমধ্যে কক্সবাজার-১-এর অধীন টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২-এর আওতাধীন উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা। কক্সবাজার-৩ এর অধীন রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা।

এদিকে কুমিল্লার জন্য ২টি (কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ