খুঁজুন
                               
, ,
           

ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

ফেসবুক খুললেই সামনে আসছে একের পর এক রিল। কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য শেষ হতেই মনে হচ্ছে—পরের পর্বে কী হলো? সেই কৌতূহলেই আবার খুঁজে দেখা হচ্ছে পরের ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে এআই-নির্ভর স্বল্পদৈর্ঘ্য ড্রামা ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’। বিশেষ করে নারী দর্শকদের মধ্যে সিরিজটির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রত্যাখ্যাত নারী ও এক ছোট শিশুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ড্রামাটির গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা।

স্বামী তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর কাজের সন্ধানে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে একদিন একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান নোরা। বিজ্ঞাপনে প্রয়োজন একজন স্টেপমাদার। ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে তিনি পৌঁছান বিশাল এক প্রাসাদে।

সেখানেই নোরা জানতে পারেন, বাড়িটির মালিক লুকা একজন মাফিয়া ডন। তার ছোট ছেলে লিওর দেখাশোনার জন্যই একজন নারী খুঁজছেন তিনি।

তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। লিও প্রায় খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ছেড়ে দিয়েছে। নোরার ইন্টারভিউয়ের শর্তও অদ্ভুত—তিনি যদি শিশুটিকে অন্তত এক চামচ খাবার খাওয়াতে পারেন, তাহলেই চাকরি নিশ্চিত।

কিন্তু নোরা এক চামচ নয়, পুরো প্লেট খাবার খাইয়ে দেন লিওকে। শুধু তা-ই নয়, সেদিন রাতে দীর্ঘ সময় পর শিশুটিও শান্তিতে ঘুমায়।

এতেই লুকার নজরে পড়ে যান নোরা। ছেলের জন্য তাকে প্রয়োজনীয় মনে হওয়ায় লুকা নোরাকে বাড়তি টাকা, গাড়ি এবং বেশি বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে দেন বিয়ের প্রস্তাবও।

নোরা অবশ্য শুরুতে রাজি ছিলেন না। তার কাছে বিষয়টি ছিল শুধুই চাকরি। কিন্তু লুকার যুক্তি ছিল, লিওর একজন মায়ের প্রয়োজন। নোরা যেন শুধু শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী না হয়ে তার জীবনে মায়ের জায়গাটিও নিতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত চুক্তির বিয়েতে রাজি হন নোরা।

শুরুতে নোরা ও লুকার সম্পর্ক ছিল প্রয়োজনের। নোরার প্রয়োজন ছিল কাজ, আর লুকার প্রয়োজন ছিল ছেলের জন্য একজন যত্নশীল মানুষ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই হিসাব বদলে যেতে থাকে।

লিও খুব দ্রুত নোরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। তার উপস্থিতিতে শিশুটির আচরণেও পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে নোরাও লিওকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে শুরু করেন।

শিশুটির সঙ্গে নোরার এই সম্পর্কই ধীরে ধীরে তাকে ও লুকাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।

লুকার চরিত্রের আরেকটি দিকও সামনে আসে। বাইরে থেকে তিনি কঠোর ও ভয়ংকর মাফিয়া ডন। কিন্তু ছেলের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন—আবেগপ্রবণ ও দায়িত্বশীল একজন বাবা।

একপর্যায়ে নোরার প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। চুক্তির ভিত্তিতে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসায়।

ড্রামাটিতে শুধু প্রেমের গল্প নয়, নোরার ব্যক্তিগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিজের অবয়বের কারণে স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নোরার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ভেঙে যায়। কিন্তু লিওর জীবনে নিজের প্রয়োজনীয়তা এবং লুকার আচরণ ধীরে ধীরে তাকে নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে।

যে নারীকে একসময় তার স্বামী মূল্যহীন করে দিয়েছিল, সেই নোরাই পরে হয়ে ওঠেন একটি শিশুর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষ এবং একজন মাফিয়া ডনের ভালোবাসার মানুষ।

এই পরিবর্তনের গল্পই সিরিজটিকে শুধু মাফিয়া-রোমান্সের মধ্যে আটকে রাখেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবার, মাতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি।

গল্পে দর্শকদের পরিচিত বেশ কিছু জনপ্রিয় উপাদান একসঙ্গে রয়েছে—মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রেম, শিশু, পারিবারিক আবেগ এবং প্রত্যাখ্যাত নারী থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার গল্প।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-নির্ভর নির্মাণ। ফলে প্রচলিত নাটক বা ওয়েব সিরিজের বাইরে এটি দর্শকদের জন্য তৈরি করছে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।

ছোট ছোট পর্ব ও রিলভিত্তিক উপস্থাপনাও ড্রামাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে। একটি দৃশ্য শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্ব দেখার কৌতূহল দর্শকদের আটকে রাখছে।

অর্থাৎ, গল্পের পাশাপাশি উপস্থাপনার ধরনও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ড্রামাটির জনপ্রিয়তার পেছনে মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, শিশু ও প্রেমের মতো উপাদান থাকলেও নারী দর্শকদের কাছে পুরুষ চরিত্রগুলোর উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের গল্পে পুরুষ চরিত্রগুলো সাধারণত ক্ষমতাবান ও ধনী হওয়ার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল, দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে দেখানো হয়। তারা সঙ্গীর কথা শোনে, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে এবং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।

ফলে আকর্ষণ শুধু অর্থ, ক্ষমতা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যত্ন, সম্মান, সততা ও নিরাপত্তার অনুভূতিও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তাই কোনো নারী দর্শক এমন চরিত্র পছন্দ করলেই যে বাস্তবে একজন মাফিয়া ডন চান, বিষয়টি এমন নয়। বরং কল্পনার এই চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকা কিছু গুণই তাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।

এআই-নির্ভর এসব নাটকের গল্প বাস্তবতার চেয়ে অনেকটাই কল্পনানির্ভর। তবু এর জনপ্রিয়তা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—গল্প যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, দর্শকের কাছে ভালোবাসা, যত্ন, সম্মান ও নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়গুলো এখনো বেশ শক্তিশালী আকর্ষণ তৈরি করে।

কালের আলো/এসএ

বার্সা-রিয়াল মহারণে সম্ভাব্য স্কোর জানাল এআই

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
বার্সা-রিয়াল মহারণে সম্ভাব্য স্কোর জানাল এআই

স্পেনের ফুটবলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আর সেই লড়াই যদি হয় এল ক্ল্যাসিকো, তাহলে সমর্থকদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। রোববার রাতে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই দলের। লা লিগার শিরোপার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে কে জিতবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এবার দুই দলের শক্তি, দুর্বলতা, সাম্প্রতিক ফর্ম ও খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য ফল জানিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।

জয়ের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে বার্সেলোনা
এআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের এল ক্ল্যাসিকোতে বার্সেলোনার জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা বেশি। নিজেদের মাঠে খেলা এবং সমর্থকদের উপস্থিতি কাতালান ক্লাবটির জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি বল দখলে রাখা, আক্রমণ সাজানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করার সামর্থ্যও বার্সেলোনাকে এগিয়ে রাখছে। তবে এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও সতর্ক থাকতে হবে তাদের। কারণ, রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে সামান্য ভুলও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

রিয়ালের বড় ভরসা প্রতি-আক্রমণ
অন্যদিকে, বড় ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞতাকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষের সামান্য ভুল কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং গোলের সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।

বার্সেলোনা যদি অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, তাহলে রক্ষণভাগের পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন রিয়ালের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা। ফলে বল দখলে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও প্রতি-আক্রমণে রিয়াল বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ইয়ামাল-রাফিনহার বিপরীতে এমবাপ্পে
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন লামিন ইয়ামাল ও রাফিনহা। তাঁদের গতি, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে সুযোগ তৈরির দক্ষতা রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বার্সেলোনার রক্ষণভাগের পেছনে ফাঁকা জায়গা পেলে নিজের গতি কাজে লাগিয়ে বিপদ তৈরি করতে পারেন তিনি। তাই এমবাপ্পেকে আটকে রাখার পাশাপাশি রিয়ালের দ্রুত আক্রমণ সামাল দেওয়াও বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞায় দুই দলই চাপে
এল ক্ল্যাসিকোর ফল নির্ধারণে দুই দলের খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনার স্কোয়াডে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদও কিছু খেলোয়াড়কে না পাওয়ার সমস্যায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিউস জুনিয়রের অনুপস্থিতিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে কোনো দলের কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং কোচদের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর। বড় ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কিংবা একটি ভুলই অনেক সময় পুরো ফলাফল বদলে দিতে পারে।

এআইয়ের পূর্বাভাসে ২-১ গোলে জয় বার্সার
দুই দলের শক্তি, দুর্বলতা ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এআইয়ের সম্ভাব্য স্কোরলাইন ধরা হয়েছে বার্সেলোনা ২-১ রিয়াল মাদ্রিদ। অর্থাৎ, পূর্বাভাস অনুযায়ী ম্যাচে জয় পেতে পারে স্বাগতিক বার্সেলোনা। একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদও অন্তত একটি গোল করতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

তবে এটি কেবল তথ্য ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস। ফুটবল ম্যাচের প্রকৃত ফল আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। মাঠের পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, কৌশল এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে জয়ী দল।

পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে বার্সেলোনা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লা লিগায় প্রথম নয়টি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে, ২১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।

এ অবস্থায় এল ক্ল্যাসিকোর ফল দুই দলের শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বার্সেলোনা জয় পেলে শীর্ষস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে। আর রিয়াল জিতলে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে পারবে।

সব মিলিয়ে, ঘরের মাঠের সুবিধা ও সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে বার্সেলোনাকে এগিয়ে রাখছে এআইয়ের বিশ্লেষণ। তবে এল ক্ল্যাসিকোর ইতিহাস বলে, এমন ম্যাচে পরিসংখ্যানের বাইরেও অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে মাঠের লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে সমর্থকদের।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

টেক্সটাইল খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভরতা কমানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
টেক্সটাইল খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভরতা কমানোর আহ্বান

দেশের টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দেশেই তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে এ খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইল খাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ খাতের চাহিদা অনুযায়ী দেশে দক্ষ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

এতে একদিকে দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে। টেক্সটাইল শিক্ষাকে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

দেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদন খরচ, কৃষকদের আগ্রহ এবং উপযুক্ত চাষাবাদব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। টেক্সটাইল শিল্পে বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাট, আনারসের পাতা ও কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণার ওপর জোর দেন।

প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও ব্যবহার নিয়ে গবেষণা বাড়ানো গেলে দেশের কৃষিভিত্তিক সম্পদকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং বাজেট সম্প্রসারণের দাবি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি এবং ঢাকার পূর্বাচলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। উত্থাপিত বিষয়গুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে বুটেক্সের উপাচার্য আগামী মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ডিআইজির বাসায় মাদকের পার্টি, পরিচয় দেখবে না সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
ডিআইজির বাসায় মাদকের পার্টি, পরিচয় দেখবে না সরকার

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮৪ জন আটকের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত ডিআইজিকে ইতিমধ্যে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আইনানুগ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।তিনি বলেন, “এখানে কার কী পরিচয়, সেটা আমরা দেখব না।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর মালিকানাধীন বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটকের ঘটনার পর তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও শুরু করা হবে। তবে বিভাগীয় তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এর আগে গত সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজন চলছিল।

অভিযানে বাড়িটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন নারী। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাড়াটেরা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন।

বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া, সেখানে কীভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়ির ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির বিষয়টি সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের ফলাফল ও আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে জানানো হয়নি। বিভাগীয় কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী মামলার অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি