খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে বাড়ছে বাল্যবিয়ে, সঙ্গে বাড়ছে বিচ্ছেদও

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহীতে বাড়ছে বাল্যবিয়ে, সঙ্গে বাড়ছে বিচ্ছেদও

রাজশাহীতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের কারণে বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদের ঘটনাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা, সরকারি কমিটিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা এবং এনজিওগুলোর অর্থায়ন কমে যাওয়ায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম অনেকটাই কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ বিয়ের পিঁড়িতে বসছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুর হার ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে ১৮ বছরের আগেই ৬৭ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৫০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৫৬ শতাংশ। আবার ১৫ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে ১৩ শতাংশ শিশুর।

রাজশাহীর চরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। চর মাঝারদিয়ায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিকের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়াকেই অনেক অভিভাবক নিরাপদ মনে করছেন। ফলে শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন থেকে ছিটকে পড়ছে অনেক শিশু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগর এলাকায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সভা, সেমিনার ও প্রচারাভিযান থাকলেও চরাঞ্চলে তেমন কার্যক্রম দেখা যায় না। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকায় আগের মতো উঠান বৈঠক বা প্রচার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে বিভিন্ন উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হতো। এসব কার্যক্রমে খরচ হলেও ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে তার বরাদ্দ নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দর্শনপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য আলাদা কোনো বাজেট নেই। তবে কোথাও বাল্যবিয়ের খবর পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে ২০২৪ সালের আগে রাজশাহী অঞ্চলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অর্ধশতাধিকের বেশি বেসরকারি সংস্থা কাজ করলেও প্রকল্প ও দাতা সংস্থার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় তাদের অনেক কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে।

রাজশাহী ইইউডিএসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক তাসবীর আহমদ খান বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করা হতো। কিন্তু দাতা সংস্থার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এসব প্রকল্প আর আগের মতো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও কমেছে।

উন্নয়নকর্মীদের মতে, শুধু নামমাত্র কমিটি বা সীমিত পরিসরের প্রচার দিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। দরকার স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম, শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা।

ব্লাস্ট রাজশাহীর সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সামিনা বেগম বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে যে সংখ্যা উঠে এসেছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের কারণে সংসারে কলহ ও বিচ্ছেদের ঘটনাও বাড়ছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না। পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলের শিশুদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও নিয়মিত কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিক্ষামন্ত্রী

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি কারিকুলামে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে নিজস্ব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সমমানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার সর্বস্তরে সমতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কার্যকর পাঠদান জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের ৫০ নম্বর ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের জন্য ভর্তির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নুরুল ইসলাম জানান, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুযোগ সীমিত। তাঁদের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম দেশের উচ্চশিক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ায় দুই দিক থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে।

সাধারণত খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মধ্যে প্রতিদিন দুই দফায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অবরোধের কারণে রোববার যাতায়াত বিঘ্নিত হয়। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটকেরা বাঘাইহাটের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। অন্যদিকে, সাজেক থেকে বের হওয়া পর্যটকেরাও মাচালং এলাকায় আটকে যান।

পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বাসের পর বিকেল ৫টার দিকে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আটকে পড়া পর্যটকেরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

অবরোধ প্রত্যাহার হলেও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

স্থানীয় নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান চিফ হুইপ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে দল। এ ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগানো হবে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চায় নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান নুরুল ইসলাম মনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে কাজ করবেন।

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে পার পাবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা না হলেও সরকার সচেতন রয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের সরিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও সরকারের রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি