খুঁজুন
                               
, ,
           

১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শুরু হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন উপলক্ষে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি

উত্তরায় শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
উত্তরায় শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরের পাশে একটি শপিং মলের ছয়তলা ভবনের পাঁচতলায় থাকা একটি রেস্টুরেন্টে আগুন লেগেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা ও বিমানবন্দর ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

গুণগত নিষ্পত্তিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকার আদালতের চিত্র

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
গুণগত নিষ্পত্তিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকার আদালতের চিত্র

মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা নয়, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করাই এখন ঢাকার অধস্তন আদালতে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় অগ্রাধিকার। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রায়ের পরিসংখ্যানে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় আসামিদের সাজা পাওয়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪২ শতাংশে।

আগের দুই সরকারের সময়ে এই হার ছিল ২২ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রতি ১০০ আসামির মধ্যে প্রায় ১৪ জন বেশি সাজা পাচ্ছেন। বিচারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার ‘কোয়ালিটি ডিসপোজাল’ বা গুণগত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে। ঢাকার সিএমএম আদালতের ৪৭ মাসে রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সাক্ষী হাজিরে নতুন উদ্যোগ
বর্তমান সিএমএম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে মামলার গুণগত নিষ্পত্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের যথাযথভাবে আদালতে হাজির করা এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। সাক্ষীদের প্রসেস যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, প্রসেস কার্যকর হচ্ছে কি না—তা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হলে তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে যথাসম্ভব সেদিনই সাক্ষ্যগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব সাক্ষীর মোবাইল নম্বর রয়েছে, তাদের এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তারিখ জানানো হচ্ছে। এক মাস আগে, তিন দিন আগে এবং সাক্ষ্য দেওয়ার আগেও দেওয়া হচ্ছে স্মরণবার্তা। এতে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি এবং সাক্ষ্য রেকর্ডের হার বেড়েছে।

প্রমাণনির্ভর মামলায় দ্রুত নিষ্পত্তি
মামলার গুণগত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে চুরি, মারামারি ও অন্যান্য প্রমাণনির্ভর মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব মামলায় আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে আদালতের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। বিচারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে শুধু মামলার সংখ্যা কমানোর জন্য নিষ্পত্তির পরিবর্তে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষীরা আদালতে হাজির হওয়ায় এবং তাদের সাক্ষ্য রেকর্ড হওয়ায় মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিচারকের সামনে আসছে। ফলে যেসব মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব মামলায় সাজা দেওয়ার সুযোগও বাড়ছে।

সাজা শুধু প্রমাণিতদের
গুণগত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো—একটি মামলায় একাধিক আসামি থাকলেও সবাইকে একসঙ্গে সাজা দেওয়া হচ্ছে না। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, শুধু তাকেই সাজা দেওয়া হচ্ছে। আর পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে দেওয়া হচ্ছে খালাস। আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, সিএমএম আদালতের বিচারকদের মধ্যে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে সাজার হার সবচেয়ে বেশি। তার আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণকে গুরুত্ব দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাজা এবং প্রমাণিত না হলে খালাস দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ২৩ মাসে রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় আসামিদের সাজা পাওয়ার হার ছিল ২২ দশমিক ২১ শতাংশ। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে হার ছিল ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সাজার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪২ শতাংশে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় ২২ শতাংশের কাছাকাছি থাকা সাজার হার ছয় মাসে ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়াকে বিচারসংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সাক্ষ্যগ্রহণে গতি, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রমাণনির্ভর মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে বিচারিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে।

সামনে আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা
সাজার হার বাড়লেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি খালাস পাচ্ছেন। বিচারসংশ্লিষ্টদের মতে, এর বড় কারণ তদন্তের দুর্বলতা, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা এবং সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে ব্যর্থতা।

তবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে সাজার হার আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে মামলার গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে দুর্বল ও ভিত্তিহীন মামলার সংখ্যাও কমে আসবে। সব মিলিয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিদেশে মব করে গণতন্ত্রকামীদের ওপর হামলা সমর্থন করে না সরকার: শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বিদেশে মব করে গণতন্ত্রকামীদের ওপর হামলা সমর্থন করে না সরকার: শামা ওবায়েদ

বিদেশের মাটিতে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের ওপর মব করে হামলা ও নির্যাতন কোনোভাবেই সরকার বা বাংলাদেশের নাগরিকরা সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আওয়ামী লীগ ও এর অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের প্রবাসী কর্মী-সমর্থকরা।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে মব রাজনীতি, মব কালচার ও অকারণে সন্ত্রাস সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি মেলা প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬ এর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন-নির্যাতন হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রাম পর্যন্ত ত্যাগ করেছেন।

অনেককে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়নি, গাছের নিচে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে জেলে থাকতে হয়েছে এবং হাজার হাজার মামলা নিয়ে তাদের ঘুরতে হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে অনেকে খুন ও গুম হয়েছেন। তাদের এবং তাদের পরিবারের কথা আমাদের স্মরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের আজ দেশ গড়ার কাজে ও উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের বিবেকের কাছে দায়ী থাকতে হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া আমাদের উৎপাদনের রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতি, জনসেবা ও গণসেবার রাজনীতি এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার রাজনীতি শিখিয়েছেন। এ আদর্শ প্রত্যেক নেতাকর্মীর মধ্যে নিহিত রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, সেটিও আমাদের স্মরণ করতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদ আবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জাতীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত ও সংকট নিয়ে সংসদে স্বচ্ছভাবে আলোচনা হচ্ছে এবং সারা দেশের মানুষ তা সরাসরি দেখছে। এ স্বচ্ছ সংসদ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের স্মরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের নাম হয়তো আমরা সবাই বলতে পারব না, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে রাখতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে তাদের কাজে লাগাতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসেবা, গণসেবা ও উন্নয়নের রাজনীতি করছেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রথম ক্যাবিনেট সভায় কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড চালু করা হয়েছে। প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য শিগগিরই প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।

গত ১৭ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব খাতকে শূন্য থেকে নতুন করে গড়ে তোলার কঠিন কাজ বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং গত সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সরকার তা মোকাবিলা করছে। সংকটের কারণে জনগণের কষ্ট হচ্ছে-এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যদিও এ দায় বর্তমান সরকারের নয়, তারপরও জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি এমন সরকার নয় যে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কোনো সমস্যার জন্য ১৮ বছর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি সামনে এনে দায় এড়িয়ে যাবে। বর্তমান সরকার প্রত্যেকটি খাতে তৃণমূল থেকে সামাজিক ও মানব উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

রাজনীতিতে অশ্লীলতার প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমাজ ও গণমাধ্যমে যেভাবে অশ্লীল কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে একজন অভিভাবক ও দেশের নাগরিক হিসেবে তিনি উদ্বিগ্ন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ আহত-নিহত হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশে আমরা এমন রাজনীতি দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, সরকারের কোনো নীতি বা কার্যক্রমের সমালোচনা করতে হলে তা করা যাবে। বর্তমানে গণমাধ্যম অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীন। সরকারের সমালোচনা করা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। কিন্তু সমালোচনার নামে অশ্লীলতা, গালাগালি ও অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা ফ্রিডম অব স্পিচে বিশ্বাস করি। তবে এ স্বাধীনতা চর্চার নামে অশ্লীলতা ছড়ানো উচিত নয়, যা ছোট শিশুদেরও মোবাইল ফোনে দেখতে হয়। ভদ্র ভাষায় ও গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়তে চান, তাদের সবাইকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা করবে।

বিদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতার প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের যারা লুকিয়ে বা অবস্থান করছেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বাংলাদেশে বিশ্বাসী এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের ওপর মব করে হামলা ও নির্যাতন করছেন। বিদেশের মাটিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের নাগরিকরা সমর্থন করে না।

তিনি বলেন, মব রাজনীতি, মব কালচার এবং অকারণে সন্ত্রাস সৃষ্টি-কোনোটিই আমরা সমর্থন করি না। দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশে কোনোভাবেই এমন সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।

আলোচনা সভায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকমীরা।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি