খুঁজুন
                               
, ,
           

রাঙামাটি থেকে মাসে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে ইউপিডিএফ: সেনা কর্মকর্তা

রাংগামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
রাঙামাটি থেকে মাসে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে ইউপিডিএফ: সেনা কর্মকর্তা

রাঙামাটি জেলা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ প্রতি মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে বলে দাবি করেছেন রাঙামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ইউপিডিএফ পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বললেও সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রাণ কার্যক্রম দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউপিডিএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজিই সংগঠনটির মূল কর্মকাণ্ড। এ বিষয়ে পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইউপিডিএফের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, জনগণকে বিরক্ত না করতে। সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করার প্রয়োজন হবে না; বরং পাহাড়ের জনগণই সংগঠনটির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও বন্যার সময় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে সেনাবাহিনী পাশে ছিল বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, দলীয় সমন্বয় ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাঙামাটি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

এআই যুগে মার্কেটিং নিয়ে বাংলাদেশি মার্কেটারদের সঙ্গে কথা বলবেন ফিলিপ কটলার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
এআই যুগে মার্কেটিং নিয়ে বাংলাদেশি মার্কেটারদের সঙ্গে কথা বলবেন ফিলিপ কটলার

বাংলাদেশের ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার ও মার্কেটারদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় আসছেন আধুনিক মার্কেটিংয়ের জনক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ফিলিপ কটলার। আজ ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় ফেসবুক লাইভে ‘এআই যুগে মার্কেটিং কীভাবে বদলে যাচ্ছে’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি।

আইডিয়েন কনসালটিংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে ফিলিপ কটলারের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মার্ক অনুপম মল্লিক। অনুষ্ঠানে কি-নোট বক্তা হিসেবে থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের অধ্যাপক ওয়াল্ডেমার ফোয়ের্টশ। তিনি ফিলিপ কটলারের সঙ্গে ‘বি২বি ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ বইয়ের সহলেখক।

থাকছে প্যানেল আলোচনা

ফিলিপ কটলারের আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হবে মার্কেটিংয়ে এআই: হাইপ, বাস্তবতা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা শীর্ষক প্যানেল আলোচনা।

এতে দেশের বিভিন্ন খাতের মার্কেটিং ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। প্যানেলে থাকবেন—

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক রেজওয়ানুল হক খান
  • গ্রামীণফোনের হেড অব ব্র্যান্ড মার্কেটিং নাফিস আনোয়ার চৌধুরী
  • প্রথম আলোর জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব মার্কেটিং মো. আজওয়াজ খান
  • এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিরেক্টর (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) বিনয় দাস
  • দ্য ডেইলি স্টারের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাজদিন হাসান
  • এটেক গ্লোবালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শুভাশিস ভৌমিক

প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করবেন স্বপ্নের ডিরেক্টর (মার্কেটিং অ্যান্ড গ্রোথ) মাহাদি ফয়সাল।

নিবন্ধন বিনা মূল্যে

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটির নিবন্ধন সবার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনা মূল্যে। এরই মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

ফিলিপ কটলারের সেশনটি সরাসরি দেখা যাবে মার্ক অনুপম মল্লিকের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। আগ্রহীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন: আইডিয়েন কনসালটিংয়ের ওয়েবসাইটে।

কালের আলো/এসএ

ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ভাড়া ভবনে চলছে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভবনে চলছে ক্লাস, মাঝামাঝি তৃতীয় ভবনে প্রশাসনিক কাজ। প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে ছোট তিনটি ভাড়া ভবনে। ইউএফটিবির এই চিত্র আসলে দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি; অন্যগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নেই। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই কেন একের পর এক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হলো?

ক্যাম্পাসের আগে ক্লাস
এই ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে। তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশেষায়িত ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধিকাংশের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। অর্থাৎ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে থাকার সময় এক দশক পর্যন্ত গড়িয়েছে। কোথাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও ভাড়া বাড়ি, আবার কোথাও একাধিক স্থাপনায় ভাগ হয়ে আছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ হলেও নির্মাণ শেষ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণও শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়-পরিবেশ নেই
শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আট হাজারের কিছু বেশি। অধিকাংশ চলছে মাত্র দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য সরাসরি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নেই। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী পড়ছে, তাদের জন্য সংকটটি স্পষ্ট। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়—গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ, খেলার মাঠ, আবাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার পরিবেশ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি ও এভিয়েশন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ল্যাব ও ব্যবহারিক অবকাঠামো ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পাঁচটির এখনো যাত্রাই হয়নি
মেহেরপুর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন পায় এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুরু হয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রস্তুত না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক যাত্রা থেমে থাকছে না। এতে দ্রুত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

ভাড়ার পেছনে সরকারি অর্থ
অস্থায়ী ক্যাম্পাসের আর্থিক চাপও কম নয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। বছরের পর বছর ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক ভবন পরিচালনা, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বাড়তি ব্যয়। সাময়িক সমাধান তাই দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থের স্থায়ী ব্যয়ে পরিণত হচ্ছে।

কোথাও জমি আছে, ক্যাম্পাস নেই
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ২০২০ সালে আইন পাসের পর ২০২২ সালে উপাচার্য নিয়োগ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গায় এখনো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ভাড়া করা ভবনে। অন্যদিকে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগোলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কয়েকটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। ইউএফটিবিতেও শিক্ষার্থী ৯২৮ জন, শিক্ষক ৪১ জন, কর্মকর্তা ৩৬ এবং কর্মচারী ৫২ জন। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচ পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্থায়ী অবকাঠামোর জন্য ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

দায়ের জায়গা, সমাধানের পথ
এই বাস্তবতা কোনো এক বছরের সিদ্ধান্তের ফল নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আইন, উপাচার্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি—সবই এগিয়েছে; কিন্তু ক্যাম্পাস নির্মাণ পিছিয়ে থেকেছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত এগুলোকে নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে জমি, অর্থায়ন, মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্যও ন্যূনতম একাডেমিক ও গবেষণা অবকাঠামোর বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকা উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা মানে শুধু একটি আইন পাস কিংবা উপাচার্য নিয়োগ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে নিজস্ব শিক্ষাঙ্গন, গবেষণার পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

কালের আলো/এম/এএইচ

৪৭ বছর বয়সে নতুন রেকর্ড ইমরান তাহিরের, অনুপ্রেরণা ১২ বছরের ছেলে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
৪৭ বছর বয়সে নতুন রেকর্ড ইমরান তাহিরের, অনুপ্রেরণা ১২ বছরের ছেলে

ইমরান তাহির তাঁর ছেলেকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ছেলের অনুপ্রেরণাতেই যে এই বয়সেও খেলে যাচ্ছেন, আর সেই খেলতে খেলতেই গড়েছেন নতুন রেকর্ড।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) আজ সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই লেগ স্পিনার।

প্রভিডেন্সে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে নেমে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাহির। পাঁচ উইকেট নেওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৭ বছর ১৬৬ দিন। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

ম্যাচ শেষে তাহির জানিয়েছেন, এই বয়সেও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে যাওয়ার পেছনে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছেলে। ছেলের সঙ্গে একদিন একই দলে খেলবেন—এই স্বপ্ন থেকেই এখনো কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

তবে সেই স্বপ্ন পূরণে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে তাহিরকে। কারণ তাঁর ছেলের বয়স এখন মাত্র ১২ বছর। ফলে আরও কয়েক বছর ক্রিকেট খেলে যেতে পারলে বাবার সঙ্গে ছেলের একই মাঠে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট

সেন্ট লুসিয়ার বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তাহির। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন তিনি দ্বিতীয়।

তাঁর ওপরে আছেন নামিবিয়ার ডেভিড ভিসা। তাঁর পাঁচ উইকেটের সংখ্যা সাতটি। পাঁচবার করে পাঁচ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, লাসিথ মালিঙ্গা, ভুবনেশ্বর কুমার, সাকিব আল হাসান ও রশিদ খান।

টি-টোয়েন্টিতে ৫৮৯ উইকেট

সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাহিরের উইকেট এখন ৫৮৯টি। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকায় তাঁর অবস্থান চতুর্থ।

তাঁর ওপরে আছেন রশিদ খান (৭৩৬), সুনীল নারাইন (৬৫৭) ও ডোয়াইন ব্রাভো (৬৩১)।

টি-টোয়েন্টিতে তাহিরের সবচেয়ে বেশি উইকেট এসেছে সিপিএলে—১৪২টি। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাঁর শিকার ১২ উইকেট।

৪৭ বছর বয়সেও শুধু বল হাতে নয়, নেতৃত্বেও গায়ানাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাহির। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে শেষবার দেখা গেছে সাত বছরেরও বেশি সময় আগে।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তাহির খেলেছেন ২০টি টেস্ট, ১০৭টি ওয়ানডে ও ৩৮টি টি-টোয়েন্টি। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল ওয়ানডে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পরও টি-টোয়েন্টির বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন তাহির। বয়সকে পেছনে ফেলে এবার ৪৭ বছর বয়সে গড়লেন নতুন এক বিশ্বরেকর্ড।

কালের আলো/এসএ