ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষর, তদন্তের দাবি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারের ‘রিবুট ফিফা’ প্রচারণায় ১ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
বিশ্বকাপের আগে শুরু হওয়া এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ফিফার পরিচালনা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বড় পরিসরে অভিযোগ উত্থাপন করা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে নতুন করে অভিযোগ জমা দিয়েছে ফেয়ারস্কয়ার। সংগঠনটি অভিযোগটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ইনফান্তিনোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফিফা সভাপতির ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা এবং দায়িত্ব পালনে ঘাটতির প্রমাণ রয়েছে।
অভিযোগে মোট আটটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি এ ঘটনায় ফিফাকে লাল কার্ডটি পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন।
এ ছাড়া ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, ট্রাম্পকে ফিফার শান্তি পুরস্কার দেওয়া এবং ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ ইনফান্তিনোর সম্পৃক্ততার বিষয়ও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ‘আমেরিকাকে মহান করার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে মহান’ করার বিষয়ে ইনফান্তিনোর মন্তব্যকেও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও ফিফার নৈতিকতা কমিটি এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে নতুন অভিযোগটি নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ সদস্যের সমর্থন পেয়েছে।
অন্যদিকে ফিফা অভিযোগগুলোকে সভাপতি ও সংস্থাটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফিফার দাবি, সদস্য ফেডারেশনগুলোর সমর্থন না পাওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ফল অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন না।
এই বিতর্কের মধ্যেই আগামী বছর ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তার পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array