খুঁজুন
                               
, ,
           

যে সিদ্ধান্তে থেমে যায় ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ার

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
যে সিদ্ধান্তে থেমে যায় ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ার

বলিউডে অনেক অভিনেত্রীর গল্প শুরু হয় স্বপ্নের মতো—প্রথম ছবিতেই সাফল্য, দর্শকের ভালোবাসা আর একের পর এক বড় ছবির প্রস্তাব। কিন্তু সেই সাফল্যের পথ সবসময় দীর্ঘ হয় না। কখনো কখনো ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সিদ্ধান্তই বদলে দেয় পুরো ক্যারিয়ারের গতিপথ। অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীর জীবনও যেন তেমনই এক গল্প।

সালমান খানের বিপরীতে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে অভিনয় করেই রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন ভাগ্যশ্রী। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি ‘প্রেম-সুমন’ জুটিকে দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই এরপর ভাগ্যশ্রীর সামনে খুলে যায় বলিউডের বড় বড় দরজা।

কিন্তু যে সময় ক্যারিয়ারকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, ঠিক তখনই জীবনের অন্য এক অধ্যায়কে অগ্রাধিকার দেন তিনি। প্রেম, বিয়ে, সংসার ও মাতৃত্বের সিদ্ধান্তে বদলে যায় তার অভিনয়জীবনের গতিপথ।

ছবি>সংগৃহীত

অভিনয়ে আসার পরিকল্পনাই ছিল না

মহারাষ্ট্রের সাংলির পট্টবর্ধন রাজপরিবারে জন্ম ভাগ্যশ্রীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেড়ে উঠেছেন বেশ নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে। অভিনয় যে একদিন তার পেশা হবে, এমন পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। বরং পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছাই ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় হঠাৎ করেই।

টেলিভিশন সিরিয়াল ‘কাচ্ছি ধূপ’-এর মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের শুরু। ২০২৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে ভাগ্যশ্রী জানান, সিরিয়ালের মূল অভিনেত্রী শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার পর পরিচালক-অভিনেতা অমল পালেকর তাকে অভিনয়ের সুযোগ দেন। সেই সুযোগ থেকেই শুরু হয় তার অভিনয়যাত্রা।

‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ বদলে দিল সবকিছু

টেলিভিশনের পর বড় পর্দায় সুযোগ আসে সূরজ বরজাতিয়ার ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে। সালমান খানের বিপরীতে সুমনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন ভাগ্যশ্রী। ছবির প্রেমের গল্প, গান এবং সালমান-ভাগ্যশ্রীর পর্দার রসায়ন তখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ভাগ্যশ্রীও হয়ে ওঠেন বলিউডের আলোচিত নতুন মুখ।

ছবিটির অভাবনীয় সাফল্যের পর তার কাছে একের পর এক বড় ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে। ভাগ্যশ্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বড় পরিসরে নির্মিত কিংবা পরবর্তী সময়ে সফল হওয়া অনেক ছবির প্রস্তাবই প্রথমে তার কাছে এসেছিল।

অর্থাৎ বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য তার সামনে তখন ছিল বিশাল সুযোগ।

ছবি>সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিল প্রেম

কিন্তু ঠিক এই সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তকে সামনে নিয়ে আসেন ভাগ্যশ্রী। স্কুলজীবন থেকেই হিমালয় দাসানির সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হিমালয়কেই বিয়ে করেন ভাগ্যশ্রী।

বিয়ের সময় বয়সও ছিল খুব কম। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র সাফল্যের পর যে সময়ে একজন নতুন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে একের পর এক বড় সুযোগ আসার কথা, ঠিক তখনই তিনি সংসার ও পরিবারের দিকে মনোযোগ দেন।

একের পর এক ছবি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন

ভাগ্যশ্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সেই সময়কার সামাজিক বাস্তবতায় একই সঙ্গে সংসার, সন্তান এবং অভিনয়জীবন সামলানো তার কাছে কঠিন মনে হয়েছিল। ফলে অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়েও তিনি সেগুলো গ্রহণ করেননি। তারকা হওয়ার পরও কেন তিনি নিজেকে বলিউড থেকে সরিয়ে নিলেন—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভাগ্যশ্রী বারবার নিজের পারিবারিক অগ্রাধিকারের কথাই বলেছেন। তার কাছে তখন ক্যারিয়ারের চেয়ে প্রেম, বিয়ে এবং পরিবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আর এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার অভিনয়জীবনের গতি অনেকটাই থামিয়ে দেয়।

ছবি>সংগৃহীত

পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়েও ছিল বিশেষ শর্ত

বিয়ের পর ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পর্দায় অন্য কোনো নায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। এমন দৃশ্য থাকলে তার বিপরীতে স্বামী হিমালয় দাসানিকেই রাখতে হবে। এরপর ‘কাইদ মে হ্যায় বুলবুল’, ‘পায়েল’ এবং ‘ত্যাগী’-এর মতো ছবিতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। কিন্তু এসব ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র মতো সাফল্য পায়নি।

পরে ভাগ্যশ্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, সেই সময় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারে এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা তিনি খুব একটা ভেবে দেখেননি।

‘ফোন থামত না’, তবু পরিবারকেই বেছে নিয়েছিলেন

‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র পর ভাগ্যশ্রীর জনপ্রিয়তা কতটা ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কাজের প্রস্তাবে তার ফোন প্রায় থামতই না।

কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার সময়টাকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখার পরিবর্তে তিনি পরিবারকে সময় দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

দীর্ঘ বিরতির পর যখন আবার দর্শকদের সামনে ফিরতে শুরু করেন, তখনই নাকি তিনি উপলব্ধি করেন—প্রথম ছবির সাফল্য কতটা বড় ছিল এবং সেই সময় তার সামনে কতটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

অভিনয় থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাননি

তবে ভাগ্যশ্রীর গল্প পুরোপুরি বিরতির নয়। দীর্ঘ সময় মূলধারার ছবির বাইরে থাকলেও তিনি অভিনয় থেকে একেবারে সরে যাননি।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন। হিন্দি ছবিতেও ধীরে ধীরে ফিরে আসেন। ‘থালাইভি’-সহ বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে তাকে।

তার সন্তানরাও পরবর্তী সময়ে তাকে আবার অভিনয়ে ফিরতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

২০২৬ সালে রিতেশ দেশমুখের ‘রাজা শিবাজি’ ছবিতে জিজাবাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেও নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি।

ছবি>সংগৃহীত

অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই অনুশোচনা

ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ারের গল্প তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ, পারিবারিক অগ্রাধিকার এবং পেশাগত সম্ভাবনার গল্প। প্রথম ছবিতেই রাতারাতি তারকা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সামনে ছিল অসংখ্য বড় সুযোগ। কিন্তু সেই সময় ক্যারিয়ারের বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভালোবাসা, বিয়ে, সংসার ও মাতৃত্বকে। সময়ের বিচারে সেই সিদ্ধান্ত তার অভিনয়জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে—এ কথা বলাই যায়। তবে ভাগ্যশ্রী নিজে অতীতের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন।

ছবি>সংগৃহীত

বরং তার কাছে জীবনের সেই সময়ের অগ্রাধিকারগুলোই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজপরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে হঠাৎ অভিনয়ে আসা, প্রথম ছবিতেই তুমুল সাফল্য, তারপর প্রেম-বিয়ে-মাতৃত্বের কারণে দীর্ঘ বিরতি—সব মিলিয়ে ভাগ্যশ্রীর বলিউডযাত্রা নিঃসন্দেহে অন্যরকম।

তার ক্যারিয়ার হয়তো অন্য পথে এগোতে পারত। কিন্তু ভাগ্যশ্রী যে পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে তার জীবনের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

কালের আলো/জেএন

চেনা রূপের বাইরে মধুমিতা সরকার, ‘অটবি’তে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
চেনা রূপের বাইরে মধুমিতা সরকার, ‘অটবি’তে নতুন চ্যালেঞ্জ

জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার দীর্ঘদিন ধরে টালিউডে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। সাবলীল অভিনয়, বৈচিত্র্যময় চরিত্র বাছাই এবং পর্দায় নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের কারণে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে টেলিভিশন ও সিনেমায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সামনেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মধুমিতার নতুন সিনেমা ‘অটবি’। ছবিটির প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই নিজের নতুন চরিত্র, অভিনয় নিয়ে ভাবনা এবং ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

ছবি<<সংগৃহীত

‘অটবি’তে মধুমিতাকে দেখা যাবে তার আগের কাজগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন একটি চরিত্রে। চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক দিকই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, একজন পরিচালক তাকে এমন একটি চরিত্রে কল্পনা করেছেন—এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। কারণ একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না তিনি।

নতুন চরিত্রটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এর মনস্তত্ত্ব পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। মধুমিতা জানান, চরিত্রটির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে তার অভিনয়ের ধরন অনেক জায়গাতেই আলাদা রাখতে হয়েছে। কখনো চোখের অভিব্যক্তি এবং মুখের অভিব্যক্তির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অমিল তৈরি করতে হয়েছে। চরিত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী শরীরী ভাষা, চোখের দৃষ্টি ও অভিব্যক্তির ওপরও বিশেষভাবে কাজ করেছেন তিনি।

ছবি<<সংগৃহীত

অভিনেত্রীর মতে, কোনো চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু সংলাপ বলাই যথেষ্ট নয়। চরিত্রটির ভেতরের অনুভূতি ও মানসিক অবস্থাকে শরীরী ভাষা এবং চোখের মাধ্যমে প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ‘অটবি’র ক্ষেত্রে সেই জায়গাটিই তার জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা ছিল।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসময় নিয়মিত প্রচুর কাজ করেছেন মধুমিতা। তবে এখন তুলনামূলকভাবে বেছে কাজ করছেন তিনি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

মধুমিতার কাছে বাবা-মা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে যায় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যের পেছনে ছুটলেই হয় না; পরিবার ও প্রিয়জনদের সময় দেওয়াও প্রয়োজন।

ছবি<<সংগৃহীত

পেশা ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পক্ষপাতী মধুমিতা। অভিনয়কে ভালোবাসলেও ব্যক্তিগত জীবনকে অবহেলা করতে চান না তিনি। তার মতে, একজন মানুষের জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যই সবকিছু নয়। পরিবার, সম্পর্ক এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বা কম্প্যাটিবিলিটিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। দুজন মানুষের মতামত সব বিষয়ে এক হওয়া জরুরি নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মিল থাকা প্রয়োজন বলে তার মত।

ছবি<<সংগৃহীত

প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছরের অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন মধুমিতা। কাজের ব্যস্ততার কারণে কখনো আড়ালে থাকলেও দর্শক তাকে খোঁজেন—এটিই তার কাছে বড় পাওয়া।

তবে শুধু প্রশংসা নয়, নিজের কাজের সমালোচনাও শুনতে চান মধুমিতা। কোনো কাজে ভুল হলে দর্শক যেন তা নিয়ে কথা বলেন এবং সমালোচনা করেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার। কারণ দর্শকের এই প্রতিক্রিয়াই একজন শিল্পীকে নিজের কাজ নিয়ে আরও ভাবতে এবং উন্নতি করতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি।

নতুন সিনেমা ‘অটবি’তে ভিন্ন চরিত্রে মধুমিতার উপস্থিতি তাই তার ক্যারিয়ারে নতুন একটি অভিজ্ঞতা যোগ করতে যাচ্ছে। দর্শক কীভাবে চরিত্রটিকে গ্রহণ করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এই অভিনেত্রী।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ

আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়া

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়া

প্যারিসের আকাশে যখন ফ্যাশনের আলো ঝলমল করবে, আইফেল টাওয়ারের সামনে বসবে বিশ্বের তারকাখচিত এক আয়োজন, তখন সবার নজর আটকে যেতে পারে একটি পরিচিত মুখে। র‌্যাম্পে পা রাখতেই যার উপস্থিতি বদলে দিতে পারে পুরো আয়োজনের আবহ—তিনি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। দীর্ঘদিন পর আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের ঝলক দেখাতে প্রস্তুত বলিউডের এই তারকা।

তবে এবার কোনো সিনেমার চরিত্র হয়ে নয়, বরং প্যারিস ফ্যাশন উইকের আলোচিত ‘লে দেফিলে’ আয়োজনে র‌্যাম্পে হাঁটবেন ঐশ্বরিয়া। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের সামনে প্লাস জফ্রে এলাকায় বসতে যাওয়া এই জমকালো আয়োজনে তার উপস্থিতি ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। লরিয়াল প্যারিসের দীর্ঘদিনের দূত হিসেবে ঐশ্বরিয়ার এই প্রত্যাবর্তনে থাকছে সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস আর ফ্যাশনের এক অনন্য মেলবন্ধন।

আবারও প্যারিসের র‌্যাম্পে ঐশ্বরিয়া

আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই লরিয়াল প্যারিসের সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন বড় ফ্যাশন আয়োজনে এই ব্র্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী।

এবার ‘লে দেফিলে’-এর নবম আসরে আবারও তাকে দেখা যাবে র‌্যাম্পে। ফরাসি প্রসাধনী ব্র্যান্ড লরিয়াল প্যারিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন ঐশ্বরিয়া।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের ঠিক সামনে প্লাস জফ্রে এলাকায় বসবে এই বিশেষ আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তারকা, মডেল ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠবে অনুষ্ঠানটি।

এবারের আয়োজনে বিশেষ বার্তা

এবারের ‘লে দেফিলে’-এর মূল ভাবনা ‘নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করো’। নারীর আত্মবিশ্বাস, বৈচিত্র্য, পারস্পরিক সংহতি এবং অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের আয়োজনে। শুধু পোশাক কিংবা মেকআপের প্রদর্শনী নয়, বরং নারীদের নিজেদের পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরার বার্তাও থাকবে অনুষ্ঠানে। এই ভাবনার সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, তার অংশগ্রহণ শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব সৌন্দর্যবোধের প্রতীক হয়ে উঠবে। নিজের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা অন্যের নির্ধারণ করে দেওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেক নারী যেন নিজের মতো করে তা প্রকাশ করতে পারেন—এমন বার্তাই তুলে ধরবে এবারের আয়োজন।

ঐশ্বরিয়ার লুকে থাকছে নতুন চমক

র‌্যাম্পে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতির পাশাপাশি তার সাজসজ্জা ও মেকআপ নিয়েও থাকবে বাড়তি আগ্রহ। কারণ এবারের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লরিয়াল প্যারিসের নতুন সৌন্দর্যপণ্য। ভারতীয় ত্বকের রঙের কথা মাথায় রেখে বাজারে আসছে নতুন ‘রানওয়ে ম্যাট কালেকশন’। এই সংগ্রহে থাকছে ইনফ্যালিবল ম্যাট রেজিস্ট্যান্স লিকুইড লিপস্টিকের পাঁচটি নতুন গাঢ় রং। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘৪২৩ অডাসিয়াস রেড’। প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার ঠোঁটেও দেখা যাবে এই রং। ফলে র‌্যাম্পে তার পোশাক, মেকআপ ও লুক—সবকিছু নিয়েই ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতীয় দর্শকদের জন্যও থাকছে আয়োজন

প্যারিসের ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে লরিয়াল প্যারিস। অনলাইনে সহযোগী হিসেবে অ্যামাজনের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অফলাইন সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে লাইফস্টাইল স্টোরস। এর মাধ্যমে প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে যে সৌন্দর্যচর্চা ও ট্রেন্ড দেখা যাবে, তার কিছুটা অভিজ্ঞতা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মুম্বাইয়ে হবে বিশেষ সৌন্দর্য কর্মশালা

প্যারিসের আয়োজন শেষ হওয়ার পরও এর রেশ থাকবে ভারতে। আগামী অক্টোবর মাসে মুম্বাইয়ে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ সৌন্দর্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করবে লরিয়াল প্যারিস। এই কর্মশালায় ‘লে দেফিলে’ আয়োজনের পেছনের সৌন্দর্যচর্চা, সাজসজ্জা ও মেকআপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

অর্থাৎ প্যারিসের রানওয়েতে যে সৌন্দর্যধারা ও মেকআপ ট্রেন্ড দেখা যাবে, তার পেছনের গল্পও জানতে পারবেন ভারতীয় সৌন্দর্যপ্রেমীরা।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার প্রত্যাবর্তন

বলিউডের পর্দায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের জনপ্রিয়তা বহু বছরের। অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতেও নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি।

বিশেষ করে লরিয়াল প্যারিসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে তার উপস্থিতি বরাবরই আলোচনার জন্ম দেয়। এবার ‘লে দেফিলে’-এর মঞ্চে তার প্রত্যাবর্তন সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের সামনে যখন বসবে তারকাখচিত এই আয়োজন, তখন র‌্যাম্পে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিই যে দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ফ্যাশনের ঝলমলে মঞ্চে এবার ঐশ্বরিয়া শুধু নিজের সৌন্দর্য দিয়েই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করার বার্তাও তুলে ধরবেন। আর সেই কারণেই প্যারিসের এই রাতটি বলিউডের এই তারকার জন্য হয়ে উঠতে পারে আরও একটি স্মরণীয় আন্তর্জাতিক মুহূর্ত।

কালের আলো/জেএন

নায়ক, গায়ক ও স্টাইল আইকন-বাংলা চলচ্চিত্রে জাফর ইকবালের স্বতন্ত্র অধ্যায়

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
নায়ক, গায়ক ও স্টাইল আইকন-বাংলা চলচ্চিত্রে জাফর ইকবালের স্বতন্ত্র অধ্যায়

গানের মঞ্চে যার পথচলা শুরু, একসময় তিনিই হয়ে উঠেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্টাইলিশ নায়ক। সত্তর ও আশির দশকে তরুণদের কাছে ফ্যাশন, ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়ের এক আলাদা প্রতীক ছিলেন জাফর ইকবাল। গায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর চলচ্চিত্রে এসে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। আজও তার নাম উচ্চারিত হলে ফিরে আসে সেই সময়ের রোমান্টিকতা, স্টাইল আর নায়কোচিত উপস্থিতির স্মৃতি।

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল। সংগীত ছিল তার পারিবারিক ঐতিহ্যেরই অংশ। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ এবং ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ—দুজনই ছিলেন সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। ফলে ছোটবেলা থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি। কৈশোরেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তার।

১৯৬৬ সালে ব্যান্ড দল ‘র‍্যাম্বলিং স্টোন’ গঠনের মধ্য দিয়ে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জাফর ইকবাল। শুধু গান গাওয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, গিটার বাজাতেও ছিলেন দক্ষ। তার সংগীত প্রতিভা নজর কাড়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষেরও। সুরকার আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গে কাজের সূত্রে চলচ্চিত্রের আবহসংগীত তৈরির সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। এভাবেই ধীরে ধীরে গানের জগতের পরিচিত মুখ থেকে চলচ্চিত্রের পর্দার কাছাকাছি চলে আসেন।

তবে চলচ্চিত্রে তার অভিষেকের গল্প আরও বিস্তৃত। মুক্তিযুদ্ধের আগেই রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন জাফর ইকবাল। ১৯৭০ সালে ‘আপন পর’ সিনেমায় প্রধান নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর আবারও নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন।

১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন জাফর ইকবাল। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। তার অভিনয়ের বৈচিত্র্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। কখনো রোমান্টিক তরুণ, কখনো রাগী ও দুরন্ত যুবক, আবার কখনো জীবনযন্ত্রণায় পীড়িত কিংবা হতাশায় বিপথগামী চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।

জাফর ইকবালের অভিনয়ে ছিল নিজস্ব ভঙ্গি। আর পর্দায় তার উপস্থিতিতে ছিল এমন এক আকর্ষণ, যা সে সময়ের তরুণ দর্শকদের সহজেই টেনে নিত। প্রচলিত নায়কোচিত ইমেজের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়ের আলাদা ধরন তৈরি করেছিলেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি গানের সঙ্গেও অটুট ছিল তার সম্পর্ক। চলচ্চিত্রে তার কণ্ঠ ও ঠোঁটে জনপ্রিয় হয়েছে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’, ‘তুমি আমার জীবন’-এর মতো অসংখ্য গান। ফলে জাফর ইকবালের পরিচয় কখনো শুধু নায়ক কিংবা শুধু গায়ক হয়ে থাকেনি। দুই অঙ্গনেই তার ছিল সমান বিচরণ।

সত্তর ও আশির দশকে জাফর ইকবালের পোশাক, চুলের স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও আধুনিক উপস্থিতি তাকে তরুণদের কাছে পরিণত করেছিল স্টাইল আইকনে। সে সময়ের প্রচলিত নায়কোচিত ধারা থেকে কিছুটা আলাদা হয়ে ফ্যাশনেবল ও রুচিশীল একটি ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। পর্দায় তার উপস্থিতি যেমন দর্শকের নজর কাড়ত, তেমনি ব্যক্তিজীবনের স্টাইলও অনুসরণ করতেন অনেক তরুণ।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নায়ক হিসেবে প্রায় ১৫০টি সিনেমায় কাজ করেছেন জাফর ইকবাল। গান দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই পথই শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যায় চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় আলোয়। গায়ক থেকে নায়ক—দুটি ভিন্ন জগতের এই যাত্রাই তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।

আজ তিনি নেই। তবে তার গান, অভিনয় এবং সেই সময়ের ফ্যাশনেবল উপস্থিতি এখনো দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত। গানের মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দা—দুই অঙ্গনেই নিজের স্বাক্ষর রেখে যাওয়া জাফর ইকবাল তাই কেবল একজন নায়ক নন; সত্তর ও আশির দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের নাম।

কালের আলো/এসএ