খুঁজুন
                               
, ,
           

চেনা রূপের বাইরে মধুমিতা সরকার, ‘অটবি’তে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
চেনা রূপের বাইরে মধুমিতা সরকার, ‘অটবি’তে নতুন চ্যালেঞ্জ

জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার দীর্ঘদিন ধরে টালিউডে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। সাবলীল অভিনয়, বৈচিত্র্যময় চরিত্র বাছাই এবং পর্দায় নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের কারণে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে টেলিভিশন ও সিনেমায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সামনেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মধুমিতার নতুন সিনেমা ‘অটবি’। ছবিটির প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই নিজের নতুন চরিত্র, অভিনয় নিয়ে ভাবনা এবং ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

ছবি<<সংগৃহীত

‘অটবি’তে মধুমিতাকে দেখা যাবে তার আগের কাজগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন একটি চরিত্রে। চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক দিকই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, একজন পরিচালক তাকে এমন একটি চরিত্রে কল্পনা করেছেন—এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। কারণ একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না তিনি।

নতুন চরিত্রটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এর মনস্তত্ত্ব পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। মধুমিতা জানান, চরিত্রটির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে তার অভিনয়ের ধরন অনেক জায়গাতেই আলাদা রাখতে হয়েছে। কখনো চোখের অভিব্যক্তি এবং মুখের অভিব্যক্তির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অমিল তৈরি করতে হয়েছে। চরিত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী শরীরী ভাষা, চোখের দৃষ্টি ও অভিব্যক্তির ওপরও বিশেষভাবে কাজ করেছেন তিনি।

ছবি<<সংগৃহীত

অভিনেত্রীর মতে, কোনো চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু সংলাপ বলাই যথেষ্ট নয়। চরিত্রটির ভেতরের অনুভূতি ও মানসিক অবস্থাকে শরীরী ভাষা এবং চোখের মাধ্যমে প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ‘অটবি’র ক্ষেত্রে সেই জায়গাটিই তার জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা ছিল।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসময় নিয়মিত প্রচুর কাজ করেছেন মধুমিতা। তবে এখন তুলনামূলকভাবে বেছে কাজ করছেন তিনি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

মধুমিতার কাছে বাবা-মা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে যায় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যের পেছনে ছুটলেই হয় না; পরিবার ও প্রিয়জনদের সময় দেওয়াও প্রয়োজন।

ছবি<<সংগৃহীত

পেশা ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পক্ষপাতী মধুমিতা। অভিনয়কে ভালোবাসলেও ব্যক্তিগত জীবনকে অবহেলা করতে চান না তিনি। তার মতে, একজন মানুষের জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যই সবকিছু নয়। পরিবার, সম্পর্ক এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বা কম্প্যাটিবিলিটিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। দুজন মানুষের মতামত সব বিষয়ে এক হওয়া জরুরি নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মিল থাকা প্রয়োজন বলে তার মত।

ছবি<<সংগৃহীত

প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছরের অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন মধুমিতা। কাজের ব্যস্ততার কারণে কখনো আড়ালে থাকলেও দর্শক তাকে খোঁজেন—এটিই তার কাছে বড় পাওয়া।

তবে শুধু প্রশংসা নয়, নিজের কাজের সমালোচনাও শুনতে চান মধুমিতা। কোনো কাজে ভুল হলে দর্শক যেন তা নিয়ে কথা বলেন এবং সমালোচনা করেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার। কারণ দর্শকের এই প্রতিক্রিয়াই একজন শিল্পীকে নিজের কাজ নিয়ে আরও ভাবতে এবং উন্নতি করতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি।

নতুন সিনেমা ‘অটবি’তে ভিন্ন চরিত্রে মধুমিতার উপস্থিতি তাই তার ক্যারিয়ারে নতুন একটি অভিজ্ঞতা যোগ করতে যাচ্ছে। দর্শক কীভাবে চরিত্রটিকে গ্রহণ করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এই অভিনেত্রী।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ

৪৮ ঘণ্টায় ব্যস্ত সময়, ১৪ কর্মসূচিতে মীর হেলাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৪৮ ঘণ্টায় ব্যস্ত সময়, ১৪ কর্মসূচিতে মীর হেলাল

গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে মোট ৪৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তার কর্মসূচি শুরু হয়। পরে হাটহাজারীর কাটিরহাট বাজারে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন তিনি।

এরপর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় একটি মসজিদের ভবন ও খাগড়াছড়িতে একটি ব্রিজ উদ্বোধন করেন মীর হেলাল। পাশাপাশি জেলা পরিষদের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় অংশ নেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া গিরিপুর শিশুসদন ছাত্রাবাস, বেতছড়ি মুখ খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ, দীঘিনালার একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

পরে কংলাক পাহাড়ে ওঠার নবনির্মিত সিঁড়ি এবং সোলার প্রযুক্তির মাধ্যমে গৃহস্থালি পানি সরবরাহ ও কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধির প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

সবশেষে রাঙামাটির বনরূপায় জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলে অংশ নেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টায় মোট ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সড়কপথে যাতায়াত করেছেন মীর হেলাল। এ সময় তার সড়কযাত্রার মোট দূরত্ব দাঁড়ায় ৪৬০ কিলোমিটার।

কালের আলো/এমএসআইপি 

কারণ না জানিয়েই জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে বহিষ্কার

কাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
কারণ না জানিয়েই জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে বহিষ্কার

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে ঠিক কী ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

তবে আঞ্জুমান ইকরার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে তার বহিষ্কারের কারণ নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘ইকরাকে বহিষ্কার কেন করা হয়েছে, এটা এখনো জানতে পারিনি।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারের ফলে এখন থেকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদেও থাকছেন না আঞ্জুমান ইকরা। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের নির্দিষ্ট ঘটনাটি প্রকাশ্যে না আসায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আঞ্জুমান ইকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এবার সেই নেত্রীকেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

কালের আলো/এসএ

জাককানইবিতে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসনের বাইরে, তিন বছরেও শেষ হয়নি দুই হল

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
জাককানইবিতে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসনের বাইরে, তিন বছরেও শেষ হয়নি দুই হল

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি বাসাভাড়ার পাশাপাশি লোডশেডিং, পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

আবাসন সংকট কমাতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়নি। এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন হল দুটি কবে নাগাদ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাককানইবিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ৮০৫ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৯ জন। বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হলে মোট আসন রয়েছে ২ হাজার ৮৫৮টি।

অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। ছাত্রদের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৪৯৪টি আসন, যা মোট ছাত্রের প্রায় ৩১ দশমিক ০৯ শতাংশ। আর ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৩৬৪টি আসন, যা মোট ছাত্রীর ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান।

ফলে ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে ওঠা মেস ও ভাড়া বাসাই এসব শিক্ষার্থীর প্রধান ভরসা। তবে সেখানেও স্বস্তিতে নেই তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে আসন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বর্ষে উঠেও আবাসিক হলে আসন পান না। এমনকি স্নাতকোত্তর পর্যায়েও অনেককে হলের আসনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন চৌধুরী বলেন, হলে আসন না পাওয়ায় তাকে মেসে থাকতে হচ্ছে। মেসভাড়া, সিলিন্ডার গ্যাস ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর ওপর নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায়ও সমস্যা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আনাস বলেন, আশপাশের বাসাগুলোর সুযোগ-সুবিধার তুলনায় ভাড়া বেশি। এর সঙ্গে লোডশেডিং, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কমাতে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার ৬০০ আসনবিশিষ্ট দুটি ১০ তলা আবাসিক হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। পরে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবন দুটিতে অল্পসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিক সংকটসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে হল দুটির কাজের গতি কমেছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সি এস আই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের হল নির্মাণের কাজ শুরুর বেশ কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট কোয়ার্টার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত জুলাই থেকে কর্মচারীরা সেখানে বসবাস শুরু করেছেন।

তবে কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণ শেষ হয়ে ব্যবহার শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ এখনো চলমান। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মিয়া বলেন, ভবন দুটির অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে বারবার পরিবর্তন ও ফাইল আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া প্রকল্পের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, আবাসন সংকটের বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে। বর্তমানে চারটি হলের পাশাপাশি আরও দুটি হল নির্মাণাধীন। নতুন হল দুটি দ্রুত চালুর বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এগুলো চালু হলে আবাসন সংকট অনেকটাই কমবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, নতুন দুটি হলের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরেই ভবন দুটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসন বরাদ্দ দেওয়ার আশা করছেন তিনি।

উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন দুটি হলে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আসন দেওয়ার প্রশাসনিক আশার মধ্যে সময়ের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন হল দুটি কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে আবাসিক সুবিধার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাড়তি খরচে মেস ও ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের পাশাপাশি লোডশেডিং, পানির সংকট, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ দ্রুত শেষ করে তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। নতুন আবাসিক হলগুলো চালু হলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকার কারণে তাদের যে বাড়তি আর্থিক ও দৈনন্দিন চাপ তৈরি হচ্ছে, সেটিও অনেকটা কমবে।

কালের আলো/এসএ