খুঁজুন
                               
, ,
           

‘রাউজানের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে’—বক্তার বক্তব্য ভাইরাল

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
‘রাউজানের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে’—বক্তার বক্তব্য ভাইরাল

‘চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে, এরপর অন্য জেলার মানুষ’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সুন্নি ঘরানার বক্তা মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরীর এমন বক্তব্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মানুষ আগে জান্নাতে যাবে। কারণ, তার দাবি অনুযায়ী, রাউজানে ৯০ শতাংশ মানুষ সুন্নি ও ‘আশেকে রাসুল’। এরপর পর্যায়ক্রমে রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার মানুষ জান্নাতে যাবে।

বক্তব্যে আতাউল বারী বলেন, এভাবে পুরো চট্টগ্রামবাসীকে আল্লাহ জান্নাতে দেওয়ার পর অন্য জেলার মানুষ জান্নাতে যাবে। তার ভাষ্য, চট্টগ্রাম ‘সুন্নিয়তের ক্যান্টনমেন্ট’, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ সুন্নি ও ‘আশেকে রাসুল’।

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি হাদিসে বর্ণিত ৭৩ দলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, কেয়ামতের আগে ৭৩টি দল হবে, যার মধ্যে ৭২টি জাহান্নামে যাবে এবং একটি দল জান্নাতে যাবে। ওই দলকে তিনি ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘জান্নাতে যেতে চাইলে সুন্নি হয়ে যান’ এবং নামের আগে ‘সুন্নি’ যুক্ত করার আহ্বান জানান।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বক্তব্যটিকে মনগড়া ও ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার অনেকে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসও করছেন।

মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরী সুন্নি বা রেজভী ধারার স্থানীয় বক্তা ও শায়ের হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে এর আগেও তিনি আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়দের তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পদক্ষেপে ২০০ জনের বড় নিয়োগ, আবেদন ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
পদক্ষেপে ২০০ জনের বড় নিয়োগ, আবেদন ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র তাদের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি (পিএমএফ) বাস্তবায়নের জন্য বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘কমিউনিটি ম্যানেজার-১’ পদে মোট ২০০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

পদের তথ্য ও বেতন

পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ‘কমিউনিটি ম্যানেজার-১’ পদে ২০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি পূর্ণকালীন চাকরি। নির্বাচিতদের পদক্ষেপের বিভিন্ন শাখা কার্যালয়ে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এই পদে মাসিক বেতন ১৫ হাজার থেকে ২৯ হাজার ৯৫৩ টাকা পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আবেদনকারীকে যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। শিক্ষাজীবনের যেকোনো দুটি পাবলিক পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। সিজিপিএর ক্ষেত্রে ৫.০০-এর স্কেলে ন্যূনতম ২.৫০ এবং ৪.০০-এর স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ থাকতে হবে।

প্রার্থীদের বয়স ২৪ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

যেসব দক্ষতা থাকতে হবে

প্রার্থীদের কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিসের কাজ জানা আবশ্যক। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নিজস্ব মোটরসাইকেল থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী জ্বালানি ভাতাও দেওয়া হবে।

নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এই পদে আবেদন না করার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি নারী প্রার্থীদের আবেদন করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

দায়িত্ব কী

নিয়োগপ্রাপ্ত কমিউনিটি ম্যানেজারদের বিভিন্ন এলাকায় জরিপ পরিচালনা, সমিতি গঠন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ছাড়া সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, ঋণ আদায় ও সঞ্চয় সংগ্রহের কাজ করতে হবে।

এর পাশাপাশি লিপ ও রেমিট্যান্স কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সমিতি ও এলাকা বা কমিউনিটি পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনাও দায়িত্বের অংশ।

যেভাবে আবেদন

আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনপত্রের সঙ্গে হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ এবং সব শিক্ষাগত সনদের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হবে। এরপর এসব কাগজপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে career@padakhep.org ঠিকানায় পাঠিয়ে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আবেদন করার শেষ সময় আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত নিয়োগের পর স্টাফ সেভিংস ডিপোজিট ছাড়া পদক্ষেপে অন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত শর্ত ও নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ৪৩ পদে নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ৪৩ পদে নিয়োগ

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে ১৬তম ও ২০তম গ্রেডে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোট ছয়টি পদে ৪৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা।

কোন পদে কত নিয়োগ

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক:
জেলা ক্রীড়া অফিসে এই পদে নয়জন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ১৬তম গ্রেডের। বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

ক্যাশিয়ার:
সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে দুজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এটিও ১৬তম গ্রেডের পদ। বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

ড্রাইভার (গাড়িচালক):
সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে গাড়িচালক পদে দুজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদটি ১৬তম গ্রেডের এবং বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

অফিস সহায়ক:
ক্রীড়া পরিদপ্তর ও জেলা ক্রীড়া অফিসে অফিস সহায়ক পদে ২৬ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ২০তম গ্রেডের। বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।

অফিস সহায়ক:
সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে একই পদে তিনজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এটিও ২০তম গ্রেডের এবং বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।

গ্রাউন্ডসম্যান (অফিস সহায়ক):
সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে গ্রাউন্ডসম্যান পদে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদটি ২০তম গ্রেডের। বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।

মোট ৪৩ পদে নিয়োগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নয়জন, ক্যাশিয়ার পদে দুজন, ড্রাইভার পদে দুজন, ক্রীড়া পরিদপ্তর ও জেলা ক্রীড়া অফিসের অফিস সহায়ক পদে ২৬ জন, সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অফিস সহায়ক পদে তিনজন এবং গ্রাউন্ডসম্যান পদে একজন নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪৩টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

আবেদনের সময়সীমা

আগ্রহী প্রার্থীদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন শুরু হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায়। আবেদন করার শেষ সময় ৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা।

চাকরিপ্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। নিয়োগের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন পদ্ধতি ও অন্যান্য শর্ত বিস্তারিতভাবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

কর্নেলের যৌন নিপীড়ন নিয়ে সরব ফ্লোরেন্স পিউ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
কর্নেলের যৌন নিপীড়ন নিয়ে সরব ফ্লোরেন্স পিউ

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যৌন সহিংসতার মতো ঘটনায় শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও সমানভাবে আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে এমন ঘটনায় নীরব থাকার সংস্কৃতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবরের। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী, যিনি মামলায় ‘জেন ডো’ নামে পরিচিত, অভিযোগ করেছেন—একটি ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠানে তাকে মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণের পর সাতজন পুরুষ যৌন নিপীড়ন করেন। পরে তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।

অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তদন্ত

মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার এবং অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনার সময় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় ঘটনাটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে। তদন্তটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। তবে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইন উল্লেখ করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয়। সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের শাখাটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘পুরুষদেরও সরব হতে হবে’

ঘটনাটি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ফ্লোরেন্স পিউ। তিনি লেখেন, তরুণীর অভিযোগের কথা পড়ে তিনি অস্বস্তি, উদ্বেগ ও ক্ষোভ অনুভব করছেন। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে পুরুষদের আরও সক্রিয়ভাবে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

পিউয়ের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল নীরব দর্শকদের ভূমিকা। তার প্রশ্ন—এমন গুরুতর ঘটনা সম্পর্কে কেউ জানতে পারলে কেন তা ঠেকানোর চেষ্টা করবেন না? তিনি মনে করেন, যৌন সহিংসতার সংস্কৃতি বদলাতে পুরুষদেরও আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অভিনেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, এমন ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, নাকি এর পেছনে আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি থাকে। তার মতে, কেউ যদি সম্ভাব্য নিপীড়ন সম্পর্কে জানেন এবং তা প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে সেই নীরবতার ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়েও কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন পিউ। তার বক্তব্য, যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ভবিষ্যৎ বা সুনামের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি অভিযুক্ত কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করে, তাহলে সেটি ভুক্তভোগীর ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।

পিউ একই সঙ্গে কর্নেলের যেসব শিক্ষার্থী অভিযোগকারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদেরও সমর্থন জানান।

‘নারীর নিরাপত্তা ছাড়া সমতা নয়’

বিবৃতির শেষ দিকে নারী-পুরুষের সমতার সঙ্গে নারীর নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরেন পিউ। তার বক্তব্য, নারীর শরীর, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

নারীরা যেন নিরাপদভাবে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে পারেন এবং যৌন সহিংসতার ভয় ছাড়াই চলাফেরা করতে পারেন—এমন পরিবেশ তৈরিতে পুরুষদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ইনস্টাগ্রাম নিয়ে পিউয়ের প্রশ্ন

কর্নেলকাণ্ড নিয়ে নিজের পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলেন পিউ। তার দাবি, তিনি এবং তার কয়েকজন অনুসারী পোস্টটি দেখতে পারছিলেন না। পরে তিনি জানতে চান, ধর্ষণ নিয়ে কথা বলার কারণে তার পোস্ট কি প্ল্যাটফর্মে সীমিত করা হয়েছে?

পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, পোস্টটি আবার দৃশ্যমান হয়েছে। তবে ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি কেন সাময়িকভাবে সীমিত হয়েছিল, সে বিষয়ে ভিন্ন কোনো কারণ প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।

নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের বিষয়ে এর আগেও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ফ্লোরেন্স পিউ। এবার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এদিকে অভিযোগটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু হওয়ায় ঘটনাটির আইনি দিকও নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

কালের আলো/এসএ