খুঁজুন
                               
, ,
           

আইন আছে, অধিকার আছে—তথ্য কোথায়?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
আইন আছে, অধিকার আছে—তথ্য কোথায়?

তথ্য পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের নাগরিকের আইনগত স্বীকৃত অধিকার। কিন্তু অধিকারটি কাগজে যতটা স্পষ্ট, বাস্তবে তার ব্যবহার ততটাই সীমিত। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়লেও কোথায় আবেদন করতে হবে, কীভাবে তথ্য চাইতে হবে, নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পেলে কোথায় আপিল করতে হবে—এসব মৌলিক বিষয়েই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে আইন আছে, চাহিদাও আছে; কিন্তু দুইয়ের মাঝখানে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ এক ব্যবধান।

  • ১০.৫% জানে আইন, ৮% জানে প্রয়োগ
  • তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ৭২.৪% নাগরিক
  • আবেদন থেকে আপিল—প্রতিটি ধাপেই অজ্ঞতা ও বাধা

বাংলাদেশ তথ্য অধিকার ফোরামের ‘বাংলাদেশ তথ্য অধিকার জরিপ-২০২৬’ সেই ব্যবধানেরই একটি চিত্র তুলে ধরেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

সচেতনতা বাড়ছে, সুযোগ বাড়ছে না
২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্যের প্রয়োজন, আইন সম্পর্কে ধারণা, আইন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।

জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—দেশের ৭২.৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ তাদের নেই। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬৮.৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় বছরে আইন সম্পর্কে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার বাস্তব সুযোগে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে নাগরিক সচেতনতা ২০১৯ সালের ৭.৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১০.৫ শতাংশ হয়েছে। শহরে এই হার ১২.৪ শতাংশ, গ্রামে ৯.৭ শতাংশ। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা প্রায় ১৮.৫ শতাংশ এবং গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ। সংখ্যাগুলো বলছে, নতুন প্রজন্ম ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইনটির পরিচিতি বাড়ছে। কিন্তু পরিচিতি এখনো ব্যাপক নাগরিক ব্যবহারে রূপ নেয়নি।

জানেন আইন, জানেন না পথ
তথ্য অধিকার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই। আইন সম্পর্কে যারা জানেন, তাদের মধ্যেও মাত্র ৮ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত। নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে জানেন মাত্র ৯.৩ শতাংশ।

আপিলের ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি স্পষ্ট। জরিপে ৪৬ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, তথ্য না পেলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আপিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন। মাত্র ১৯.৯ শতাংশ সঠিকভাবে তথ্য কমিশনকে আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে শনাক্ত করতে পেরেছেন।

অর্থাৎ আইনটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হলেও এর ব্যবহারিক কাঠামো নাগরিকের কাছে এখনো যথেষ্ট পরিচিত নয়। ফলে অধিকার থাকা সত্ত্বেও অনেকে প্রথম ধাপেই থেমে যাচ্ছেন।

তথ্য চাইতেও ভয়
শুধু অজ্ঞতাই বাধা নয়; তথ্য চাওয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকির আশঙ্কাও নাগরিকদের পিছিয়ে দিচ্ছে। জরিপে ‘ফিয়ার অব রিটালিয়েশন’ বা প্রতিশোধের ভয়কে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে অনীহা।

বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গভীর। তথ্য পেতে অনেককে মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিতে হচ্ছে, যা তাদের স্বাধীনভাবে অধিকার ব্যবহারের পথে বাড়তি বাধা তৈরি করছে।

তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও প্রস্তুত নয়
তথ্য চাওয়ার অপর প্রান্তে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার প্রশ্ন। জরিপে সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৪৯ শতাংশ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আবার ৬৪ শতাংশ কর্মকর্তা এখনো কোনো তথ্যের আবেদনই পাননি। এর অর্থ, একদিকে নাগরিকের তথ্য চাওয়ার সক্ষমতা সীমিত, অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠানে তথ্য সরবরাহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কাঠামোও পুরোপুরি সক্রিয় নয়। ফলে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন একটি দ্বিমুখী সক্ষমতার সমস্যায় আটকে আছে।

কমিশন অকার্যকর, আটকে ৮৫০ শুনানি
এই সংকটকে আরও জটিল করেছে দীর্ঘ সময় তথ্য কমিশন কার্যকর না থাকা। বর্তমানে ৮৫০-এর বেশি শুনানি আটকে আছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়েছে। নতুন আবেদন ও আপিল নিষ্পত্তিতেও এর প্রভাব পড়েছে। এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, নতুন কমিশন গঠনের পর পুরোনো শুনানিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন আবেদন ও শুনানি নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

তথ্যের যুগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের লড়াই
তথ্য কমিশন বাংলাদেশের সচিব মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, একসময় দেশে তথ্যের সংকট থাকলেও এখন তথ্যের আধিক্য দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার জনজীবন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করছে। তাই এখন প্রয়োজন যাচাই করা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

তবে তথ্যের মান নিশ্চিত করার নামে তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন বক্তারা। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে; কিন্তু এর অজুহাতে তথ্য অধিকার সংকুচিত করা উচিত নয়। ভবিষ্যৎ তথ্য কমিশনকে স্বাধীন ও প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করার সক্ষমতা দিতে হবে।

চাহিদা না বাড়লে আইনও থাকবে সীমিত
২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়েছে। সচেতনতা বেড়েছে, কিন্তু তা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যেখানে নাগরিকের নিয়মিত তথ্যচর্চা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্বচ্ছ হতে বাধ্য করবে।

সুশাসনের জন্য তাই শুধু আইন কার্যকর করাই যথেষ্ট নয়। নাগরিককে জানতে হবে কী তথ্য চাইতে হবে, কোথায় চাইতে হবে এবং না পেলে কীভাবে প্রতিকার চাইতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

শেষ পর্যন্ত তথ্য অধিকার আইনের সাফল্য নির্ভর করবে আইনের অস্তিত্বে নয়, তার ব্যবহারে। নাগরিক যত বেশি তথ্য চাইবে, প্রতিষ্ঠান যত বেশি তথ্য দেবে এবং প্রতিকারব্যবস্থা যত দ্রুত কাজ করবে—ততই কাগজের অধিকার বাস্তব নাগরিক ক্ষমতায় রূপ নেবে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত চান্দিনার কৃষকরা

কুমিল্লা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত চান্দিনার কৃষকরা

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন তারা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন পরিচর্যায়। তবে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর চান্দিনায় ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৪৩ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫৮ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।

উপজেলার এতবারপুর, বাড়েরা, মাইজখার, চিলোড়া, এওয়াজবন্দ ও পূর্ব অম্বরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। টমেটো, শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে জমিতে নেমে পড়ছেন পরিচর্যার কাজে।

কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এ সময় সরবরাহ কম থাকায় চাহিদাও বেশি থাকে। ফলে উৎপাদন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করবে এসব সবজি। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাদের।

বাড়েরা ইউনিয়নের চিলোড়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, এ বছর তিনি ২৫২ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

টমেটোচাষি আবুল খায়ের বলেন, প্রতি শতকে টমেটো উৎপাদনে আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। ফলন ভালো হলে প্রতি শতকের উৎপাদিত ফসল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে। তবে পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণ খুব সামান্য থাকতে পারে।

কেরণখাল ইউনিয়নের পূর্ব অম্বরপুর গ্রামের কৃষক তাজুল গাজী বলেন, ১২০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো। গত বছরের তুলনায় এবার আগেই জমি প্রস্তুত করতে পেরেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

পূর্ব মাইজখার গ্রামের কৃষক শরীফ মোল্লা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আগাম শীতকালীন সবজি দ্রুত বাজারে আসবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ আবাদ বাড়ছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হিলির কৃষকরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হিলির কৃষকরা

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় দিনাজপুরের হিলিতে আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে বাড়তি আয়ের আশায় আলু রোপণ করছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও বীজ, সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে হিলির খট্টামাধবপাড়া এলাকায় আগাম আলুর আবাদ শুরু হয়। আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করেন কৃষকরা। এ সময়ে বাজারে অন্যান্য আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম জাতের আলু ভালো দামে বিক্রির সুযোগ থাকে। তবে গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবার আগেভাগেই জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেছেন তারা।

কৃষকরা জানান, গত বছর ৮০০ টাকায় কেনা আলুবীজের দাম এবার বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি সার, জ্বালানি তেল ও কৃষিশ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বাড়ছে। ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে এবারও লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে আগাম আলু রোপণকে ঘিরে এলাকায় কৃষিশ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারের সুযোগ পাচ্ছেন শ্রমিকরা।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। এ জাতের আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পর্যটনের শহর কক্সবাজারে নিরাপত্তার ঘাটতি, ঝুঁকিতে পর্যটকের জীবন

কক্সবাজার সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
পর্যটনের শহর কক্সবাজারে নিরাপত্তার ঘাটতি, ঝুঁকিতে পর্যটকের জীবন

আগুনে প্রাণহানি, পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, সৈকতে ছিনতাই ও ডুবে মৃত্যু; অনুমোদনহীন স্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর ৮০ থেকে ৯০ লাখ পর্যটক ছুটে আসেন কক্সবাজারে। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, পাহাড় আর নীল জলরাশির আকর্ষণে মুখর থাকে দেশের প্রধান এই পর্যটন গন্তব্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, সৈকতে ডুবে মৃত্যু এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমে দুর্ঘটনার ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনুমোদনহীন স্থাপনা, পর্যাপ্ত উদ্ধারসেবার অভাব এবং নজরদারির দুর্বলতা দূর করা না গেলে পর্যটনশিল্পের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। তিনতলা কাঠের স্থাপনাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ হারান ভেতরে থাকা ১০ জন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা অনুমোদন ছিল না। এর আগে সতর্কতা বা নোটিস দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রিসোর্টের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত হওয়ার পরও সেখানে পর্যটকদের অবস্থানের সুযোগ ছিল কীভাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু পরিদর্শন ও নোটিস নয়, নিয়ম ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকার মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুই শতাধিক স্থাপনা পরিদর্শন ও নোটিস দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও কতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনেছে, কতটির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে এবং কতটিতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রয়োজন।

পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, শহরে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের শোক কাটতে না কাটতেই ১৯ অক্টোবর ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় একই দিনে দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুপুরে অস্ত্রধারীদের তৎপরতায় কয়েকটি যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের কেউ ১ লাখ ২০ হাজার, কেউ দেড় লাখ টাকা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পরে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া মালামাল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি দুজনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তবে দিনের আলোয় এমন ঘটনার কারণে সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজারে ডাকাতির ১৪টি, দস্যুতার ২৩টি এবং চুরির ১৬০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ডাকাতির মামলা ছিল ১৬টি, দস্যুতার ২৫টি এবং চুরির ১৫৭টি। অর্থাৎ ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা কমলেও চুরির মামলা বেড়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার শহরে পর্যটকদের ছিনতাই, হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। অপরিচিত এলাকায় যাতায়াত ও হোটেল খোঁজার জন্য অনেক পর্যটক অটোরিকশা ও টমটমচালকদের ওপর নির্ভর করেন। এই সুযোগে কাউকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যায়। তবে সব ঘটনা থানায় নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণ কঠিন।

সৈকতে ডুবে তিন বছরে ৪০ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত হলেও গোসল করতে নেমে প্রাণ হারাচ্ছেন পর্যটকেরা। প্রবল স্রোত, সমুদ্রের তলদেশের গর্ত, গুপ্তখাল এবং ঢেউয়ের আচরণ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকে বিপদে পড়েন। বিস্তীর্ণ সৈকতের সব এলাকায় সমানভাবে উদ্ধারসেবা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

সি-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের সৈকতের নির্দিষ্ট এলাকায় ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১২ জন, ২০২৫ সালে ২০ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটজন মারা যান। একই সময়ে সমুদ্রে বিপদে পড়া ৪৭৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ডুবে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৭৭ জনকে।

প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মধ্যে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিরাপদে গোসলের জন্য লাইফগার্ডের আওতাভুক্ত এলাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার। সি-সেফের ২৭ জন লাইফগার্ডকর্মী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, বিপদের মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি। কয়েক মিনিটের বিলম্বও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। পর্যটকের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ধারসেবার পরিধি ও জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুমোদনহীন প্যারাসেইলিংয়েও প্রাণহানি

সমুদ্রসৈকতে গোসলের পাশাপাশি প্যারাসেইলিংয়ের মতো বিনোদন কার্যক্রমেও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত ১ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সাগরে পড়ে মারা যান খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই সময়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমোদন ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা অমান্য করে তা চালানোর অভিযোগও ওঠে।

একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং কার্যক্রমে গত ১০ বছরে অন্তত ১৯ জন পর্যটক আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কেউ রশি ছিঁড়ে সাগরে পড়েছেন, কেউ ঝাউবাগানে আটকে পড়েছেন, আবার কেউ বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমানের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার কামালের মতে, এ ধরনের বিনোদন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে পরিচালনা করা জরুরি।

সড়ক ও রেলপথেও উদ্বেগ

পর্যটকের নিরাপত্তা শুধু হোটেল, সৈকত কিংবা বিনোদনকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়; যাতায়াতের পথও নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজার জেলার মহাসড়কে ১০৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ৫০টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যাতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব পর্যটন ব্যবসায়ও পড়ে। ইনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভের পাশের কিছু রিসোর্টে বুকিং কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও শহরের হোটেলগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ার তথ্যও রয়েছে, তবু নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে পড়লে পুরো পর্যটন গন্তব্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমন্বিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, পর্যটনকে নিরাপদ করতে বিচ্ছিন্ন অভিযান কিংবা দুর্ঘটনার পর তদন্ত যথেষ্ট নয়। অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল-রিসোর্টের তালিকা প্রকাশ, অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই, নিয়ম ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে টহল বাড়ানো এবং সৈকতে লাইফগার্ডের পরিধি সম্প্রসারণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ছাড়া শুধু নির্দেশনা দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সামাজিক সংগঠন আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের মতে, পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, হোটেল-মোটেল জোন ও নির্জন সড়কে সিসিটিভি নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে নিরাপত্তাচৌকি এবং সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়মিত যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমে প্রশিক্ষিত কর্মী ও মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

পর্যটকেরা যাতে সহজে জানতে পারেন কোন হোটেল বা রিসোর্ট অনুমোদিত, কোন বিনোদন কার্যক্রম বৈধ এবং কোথায় লাইফগার্ডের সহায়তা পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থাও গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে এসে কোনো পর্যটক যেন প্রাণ হারিয়ে কিংবা আতঙ্কের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। তাই পর্যটকের জীবন রক্ষা, নিরাপদ যাতায়াত, অনুমোদিত স্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত উদ্ধারসেবা চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারলেই কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ টেকসই হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি