খুঁজুন
                               
, ,
           

কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

যে হাত মাটিতে বীজ ছড়ায়, যে হাত ফসলের শীষে ভবিষ্যৎ খোঁজে—সেই হাতেই এবার উঠবে একটি কার্ড। শুধু পরিচয়ের জন্য নয়, সরকারি সহায়তার দরজা সরাসরি খুলে দিতে। কৃষকের ঘাম আর রাষ্ট্রের সহায়তার মাঝখানে যে দূরত্ব, সেই দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’।

  • আগামীকাল ১ অক্টোবর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন
  • প্রথম ধাপেই এক লাখ ১০ হাজার কৃষক, লক্ষ্য প্রকৃত কৃষককে রাষ্ট্রীয় সহায়তার কেন্দ্রে আনা
  • কিউআর কোডে পরিচয়, ব্যাংকে প্রণোদনা, এক প্ল্যাটফর্মে কৃষকের তথ্য

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একটি কার্ডের যাত্রা শুরু হবে সেখান থেকে, যার পরিধি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রত্যন্ত কৃষি ব্লক পর্যন্ত। প্রথম ধাপে ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখের বেশি কৃষক যুক্ত হচ্ছেন। একই দিনে নির্বাচিত কৃষকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পৌঁছাবে প্রণোদনার অর্থ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন। ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ জন কৃষকের কাছে সরাসরি প্রণোদনার টাকা দেওয়া হবে।’ সচিব জানান, ফেনীর ছয় উপজেলার প্রথম ব্যাচে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচে আরও এক লাখ ২ হাজার ৫২২ জন কৃষকের জন্য কার্ড বিতরণের প্রস্তুতিও শেষ।

একটি কার্ড, পেছনে বিশাল স্বপ্ন
দেখতে ছোট একটি কার্ড। কিন্তু এর ভেতরে রাখা হচ্ছে কৃষকের বড় একটি পরিচয়। কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার তথ্য—ধীরে ধীরে সবকিছুকে একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কাছে শুধু ‘একজন কৃষক’ হিসেবে নয়, প্রত্যেক কৃষকের আলাদা একটি তথ্যভিত্তিক পরিচয় থাকবে। কোথায় কত কৃষক, কার জমি কত, কে কোন ফসল ফলান, কে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আর কাগজের স্তূপে হাতড়াতে হবে না।

প্রণোদনা যাবে কৃষকের হাত ঘুরে জমিতে
প্রাথমিকভাবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই টাকা শুধু হাতে পৌঁছালেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। নির্ধারিত সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কেনার জন্যই অর্থটি ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ কৃষকের হাতে যাওয়া টাকা আবার ফিরে যাবে জমিতে—বীজে, সারে, ফসলে। কৃষকের ঘামে যে উৎপাদন, সেই উৎপাদনের পেছনেই সরকারি সহায়তাকে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা থাকছে। এক লাখ কৃষককে এই হারে প্রণোদনা দিতে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে ২৫ কোটি টাকা।

কিউআর কোডে খুলবে কৃষকের পরিচয়
কার্ডের গায়ে থাকবে কিউআর কোড। একবার স্ক্যান করলেই উঠে আসবে নিবন্ধিত কৃষকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য। প্রযুক্তির এই ছোট্ট সংযোজনটি বড় একটি কাজ করতে পারে। একই কৃষক একাধিকবার সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকেছে কি না কিংবা কোনো কৃষক আগে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব যাচাই সহজ হবে।

নির্ধারিত কৃষি উপকরণের দোকানেও বসানো হচ্ছে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন। কার্ড দেখিয়ে কৃষক নির্ধারিত উপকরণ কিনতে পারবেন। ফলে প্রণোদনা দেওয়ার পর অর্থের গতিপথও নজরে রাখার সুযোগ থাকবে।

ব্যাংকের পথ পেরিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছে
কৃষকের ব্যাংক হিসাবও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রণোদনার অর্থ লেনদেনে যুক্ত হয়েছে সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। ইতোমধ্যে এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ পৌঁছাবে সরাসরি কৃষকের হিসাবে। মাঝখানের অনাবশ্যক স্তর কমবে, অর্থের হিসাবও থাকবে স্পষ্ট।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে প্রকৃত কৃষক? কৃষক কার্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি যেমন সঠিক তথ্য, সবচেয়ে বড় পরীক্ষাও সেখানেই। জমির পরিমাণকে প্রাথমিক ভিত্তি ধরে কৃষক শনাক্ত করা হচ্ছে। পাঁচ শতাংশের কম জমির মালিককে ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতাংশকে প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ১৪৯ শতাংশ জমির মালিককে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের কৃষি বাস্তবতা শুধু জমির দলিলে আটকে নেই। বর্গাচাষি আছেন, ভাগচাষি আছেন, অন্যের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো মানুষ আছেন। তাই কার্ডের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম তোলা এবং সেই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখাই হবে কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

এক লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ
ফুলগাজীর প্রথম আয়োজনটি আসলে একটি দীর্ঘ যাত্রার শুরু। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আর পাঁচ বছরের মধ্যে ৬৪ জেলার ৫০৩ উপজেলা ও ১৮ হাজার ১৮০ কৃষি ব্লকের প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ আজকের এক লাখ কৃষক আগামী দিনের বিশাল কৃষক ডেটাবেসের প্রথম সারির অংশ।

বদলাবে সহায়তার ভাষা
একজন কৃষকের জমি থেকে ব্যাংক হিসাব—সব তথ্য যখন একটি ব্যবস্থায় থাকবে, তখন কৃষি সহায়তার চেহারাও বদলাতে পারে। কৃষিঋণ, কৃষিবীমা, সেচ, সার-বীজ, কৃষিযন্ত্র কিংবা দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা—সবকিছুই আরও নির্দিষ্ট কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সব কৃষকই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

ফুলগাজীতে আজ ১ অক্টোবর তাই শুধু একটি কার্ড বিতরণের দিন নয়। মাটির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও সরাসরি করার একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। একটি কার্ড হয়তো ছোট। কিন্তু সেই কার্ডে লেখা থাকবে কৃষকের পরিচয়, জমির হিসাব, প্রাপ্য সহায়তা আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। মাটির মানুষের হাতে সেই কার্ড পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে কৃষিকে তথ্যের শক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার নতুন যাত্রা।

কালের আলো/আরআই/এমকে

কর্নেলের যৌন নিপীড়ন নিয়ে সরব ফ্লোরেন্স পিউ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
কর্নেলের যৌন নিপীড়ন নিয়ে সরব ফ্লোরেন্স পিউ

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যৌন সহিংসতার মতো ঘটনায় শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও সমানভাবে আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে এমন ঘটনায় নীরব থাকার সংস্কৃতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবরের। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী, যিনি মামলায় ‘জেন ডো’ নামে পরিচিত, অভিযোগ করেছেন—একটি ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠানে তাকে মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণের পর সাতজন পুরুষ যৌন নিপীড়ন করেন। পরে তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।

অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তদন্ত

মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার এবং অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনার সময় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় ঘটনাটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে। তদন্তটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। তবে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইন উল্লেখ করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয়। সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের শাখাটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘পুরুষদেরও সরব হতে হবে’

ঘটনাটি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ফ্লোরেন্স পিউ। তিনি লেখেন, তরুণীর অভিযোগের কথা পড়ে তিনি অস্বস্তি, উদ্বেগ ও ক্ষোভ অনুভব করছেন। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে পুরুষদের আরও সক্রিয়ভাবে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

পিউয়ের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল নীরব দর্শকদের ভূমিকা। তার প্রশ্ন—এমন গুরুতর ঘটনা সম্পর্কে কেউ জানতে পারলে কেন তা ঠেকানোর চেষ্টা করবেন না? তিনি মনে করেন, যৌন সহিংসতার সংস্কৃতি বদলাতে পুরুষদেরও আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অভিনেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, এমন ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, নাকি এর পেছনে আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি থাকে। তার মতে, কেউ যদি সম্ভাব্য নিপীড়ন সম্পর্কে জানেন এবং তা প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে সেই নীরবতার ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়েও কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন পিউ। তার বক্তব্য, যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ভবিষ্যৎ বা সুনামের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি অভিযুক্ত কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করে, তাহলে সেটি ভুক্তভোগীর ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।

পিউ একই সঙ্গে কর্নেলের যেসব শিক্ষার্থী অভিযোগকারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদেরও সমর্থন জানান।

‘নারীর নিরাপত্তা ছাড়া সমতা নয়’

বিবৃতির শেষ দিকে নারী-পুরুষের সমতার সঙ্গে নারীর নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরেন পিউ। তার বক্তব্য, নারীর শরীর, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

নারীরা যেন নিরাপদভাবে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে পারেন এবং যৌন সহিংসতার ভয় ছাড়াই চলাফেরা করতে পারেন—এমন পরিবেশ তৈরিতে পুরুষদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ইনস্টাগ্রাম নিয়ে পিউয়ের প্রশ্ন

কর্নেলকাণ্ড নিয়ে নিজের পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলেন পিউ। তার দাবি, তিনি এবং তার কয়েকজন অনুসারী পোস্টটি দেখতে পারছিলেন না। পরে তিনি জানতে চান, ধর্ষণ নিয়ে কথা বলার কারণে তার পোস্ট কি প্ল্যাটফর্মে সীমিত করা হয়েছে?

পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, পোস্টটি আবার দৃশ্যমান হয়েছে। তবে ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি কেন সাময়িকভাবে সীমিত হয়েছিল, সে বিষয়ে ভিন্ন কোনো কারণ প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।

নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের বিষয়ে এর আগেও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ফ্লোরেন্স পিউ। এবার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এদিকে অভিযোগটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু হওয়ায় ঘটনাটির আইনি দিকও নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

কালের আলো/এসএ

বিমান বাংলাদেশে ২৩৪ পদে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
বিমান বাংলাদেশে ২৩৪ পদে নিয়োগ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ১৩ ক্যাটাগরির পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে মোট ২৩৪ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আবেদন শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টায়।

বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তাই প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে একাধিক পদে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যেসব পদে নিয়োগ

সহকারী ব্যবস্থাপক হ্যাঙ্গার (ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল) পদে ২ জন, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণ (অপারেশনস টেকনিক্যাল) পদে ২ জন, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণ (প্যাসেঞ্জার সেলস/কার্গো সেলস/ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন) পদে ৪ জন, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণ (অ্যারোস্পেস) পদে ৫ জন, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণ (এভিওনিকস) পদে ৪ জন এবং সহকারী ব্যবস্থাপক লাইব্রেরি পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ২৬,৫০০ থেকে ৫৭,৯৫০ টাকা।

এ ছাড়া সিনিয়র লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ১ জন এবং টেকনিক্যাল ওয়ার্কশপ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৫ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১৫,৯০০ থেকে ৩৮,৪০০ টাকা।

গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সবচেয়ে বেশি ১৫৪ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রিন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ২ জন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে ১ জন এবং এয়ারক্রাফট মেকানিক (লাইন অ্যান্ড বেজ মেইনটেন্যান্স) পদে ৫০ জন নেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১২,৫০০ থেকে ৩০,২৩০ টাকা।

অন্যদিকে জুনিয়র ফায়ার সেফটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ১১,০০০ থেকে ২৬,৫৯০ টাকা।

বয়সসীমা

আবেদনকারীর বয়স ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

যেভাবে আবেদন

পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য bbal.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফি

আবেদন ফি পদের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ থেকে ৬ নম্বর পদের জন্য ৬৬৯ টাকা, ৭ ও ৮ নম্বর পদের জন্য ৫৫৮ টাকা, ৯ থেকে ১২ নম্বর পদের জন্য ৩৩৫ টাকা এবং ১৩ নম্বর পদের জন্য ২২৩ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টায়। আবেদন করা যাবে ২০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলার বক্তব্য নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলার বক্তব্য নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলে কেউ বক্তব্য দিলে তার বিচার জনগণই করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলে কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকে, সেটার বিচার জনগণই করবে। এ জাতীয় বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।’

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও তদন্ত চলছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজধানীর মাটিকাটায় জমি দখল ও মামলা প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাটিকাটা ক্যান্টনমেন্ট থানার জমি দখলের ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, গ্রেপ্তার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। আইন অনুযায়ী কোনো এজাহার জমা হলে প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা রেজিস্টার করতে হয়। তা না হলে ভিত্তিহীন অভিযোগও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঢালাওভাবে সরকারকে দোষারোপ করা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যের বিচার জনগণ করবে। বিষয়গুলো নির্মোহভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

মিরপুরে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ করেননি। ফলে সেখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে মনে হয়েছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি