খুঁজুন
                               
, ,
           

কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

যে হাত মাটিতে বীজ ছড়ায়, যে হাত ফসলের শীষে ভবিষ্যৎ খোঁজে—সেই হাতেই এবার উঠবে একটি কার্ড। শুধু পরিচয়ের জন্য নয়, সরকারি সহায়তার দরজা সরাসরি খুলে দিতে। কৃষকের ঘাম আর রাষ্ট্রের সহায়তার মাঝখানে যে দূরত্ব, সেই দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’।

  • আগামীকাল ১ অক্টোবর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন
  • প্রথম ধাপেই এক লাখ ১০ হাজার কৃষক, লক্ষ্য প্রকৃত কৃষককে রাষ্ট্রীয় সহায়তার কেন্দ্রে আনা
  • কিউআর কোডে পরিচয়, ব্যাংকে প্রণোদনা, এক প্ল্যাটফর্মে কৃষকের তথ্য

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একটি কার্ডের যাত্রা শুরু হবে সেখান থেকে, যার পরিধি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রত্যন্ত কৃষি ব্লক পর্যন্ত। প্রথম ধাপে ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখের বেশি কৃষক যুক্ত হচ্ছেন। একই দিনে নির্বাচিত কৃষকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পৌঁছাবে প্রণোদনার অর্থ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন। ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ জন কৃষকের কাছে সরাসরি প্রণোদনার টাকা দেওয়া হবে।’ সচিব জানান, ফেনীর ছয় উপজেলার প্রথম ব্যাচে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচে আরও এক লাখ ২ হাজার ৫২২ জন কৃষকের জন্য কার্ড বিতরণের প্রস্তুতিও শেষ।

একটি কার্ড, পেছনে বিশাল স্বপ্ন
দেখতে ছোট একটি কার্ড। কিন্তু এর ভেতরে রাখা হচ্ছে কৃষকের বড় একটি পরিচয়। কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার তথ্য—ধীরে ধীরে সবকিছুকে একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কাছে শুধু ‘একজন কৃষক’ হিসেবে নয়, প্রত্যেক কৃষকের আলাদা একটি তথ্যভিত্তিক পরিচয় থাকবে। কোথায় কত কৃষক, কার জমি কত, কে কোন ফসল ফলান, কে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আর কাগজের স্তূপে হাতড়াতে হবে না।

প্রণোদনা যাবে কৃষকের হাত ঘুরে জমিতে
প্রাথমিকভাবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই টাকা শুধু হাতে পৌঁছালেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। নির্ধারিত সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কেনার জন্যই অর্থটি ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ কৃষকের হাতে যাওয়া টাকা আবার ফিরে যাবে জমিতে—বীজে, সারে, ফসলে। কৃষকের ঘামে যে উৎপাদন, সেই উৎপাদনের পেছনেই সরকারি সহায়তাকে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা থাকছে। এক লাখ কৃষককে এই হারে প্রণোদনা দিতে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে ২৫ কোটি টাকা।

কিউআর কোডে খুলবে কৃষকের পরিচয়
কার্ডের গায়ে থাকবে কিউআর কোড। একবার স্ক্যান করলেই উঠে আসবে নিবন্ধিত কৃষকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য। প্রযুক্তির এই ছোট্ট সংযোজনটি বড় একটি কাজ করতে পারে। একই কৃষক একাধিকবার সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকেছে কি না কিংবা কোনো কৃষক আগে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব যাচাই সহজ হবে।

নির্ধারিত কৃষি উপকরণের দোকানেও বসানো হচ্ছে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন। কার্ড দেখিয়ে কৃষক নির্ধারিত উপকরণ কিনতে পারবেন। ফলে প্রণোদনা দেওয়ার পর অর্থের গতিপথও নজরে রাখার সুযোগ থাকবে।

ব্যাংকের পথ পেরিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছে
কৃষকের ব্যাংক হিসাবও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রণোদনার অর্থ লেনদেনে যুক্ত হয়েছে সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। ইতোমধ্যে এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ পৌঁছাবে সরাসরি কৃষকের হিসাবে। মাঝখানের অনাবশ্যক স্তর কমবে, অর্থের হিসাবও থাকবে স্পষ্ট।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে প্রকৃত কৃষক? কৃষক কার্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি যেমন সঠিক তথ্য, সবচেয়ে বড় পরীক্ষাও সেখানেই। জমির পরিমাণকে প্রাথমিক ভিত্তি ধরে কৃষক শনাক্ত করা হচ্ছে। পাঁচ শতাংশের কম জমির মালিককে ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতাংশকে প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ১৪৯ শতাংশ জমির মালিককে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের কৃষি বাস্তবতা শুধু জমির দলিলে আটকে নেই। বর্গাচাষি আছেন, ভাগচাষি আছেন, অন্যের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো মানুষ আছেন। তাই কার্ডের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম তোলা এবং সেই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখাই হবে কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

এক লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ
ফুলগাজীর প্রথম আয়োজনটি আসলে একটি দীর্ঘ যাত্রার শুরু। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আর পাঁচ বছরের মধ্যে ৬৪ জেলার ৫০৩ উপজেলা ও ১৮ হাজার ১৮০ কৃষি ব্লকের প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ আজকের এক লাখ কৃষক আগামী দিনের বিশাল কৃষক ডেটাবেসের প্রথম সারির অংশ।

বদলাবে সহায়তার ভাষা
একজন কৃষকের জমি থেকে ব্যাংক হিসাব—সব তথ্য যখন একটি ব্যবস্থায় থাকবে, তখন কৃষি সহায়তার চেহারাও বদলাতে পারে। কৃষিঋণ, কৃষিবীমা, সেচ, সার-বীজ, কৃষিযন্ত্র কিংবা দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা—সবকিছুই আরও নির্দিষ্ট কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সব কৃষকই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

ফুলগাজীতে আজ ১ অক্টোবর তাই শুধু একটি কার্ড বিতরণের দিন নয়। মাটির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও সরাসরি করার একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। একটি কার্ড হয়তো ছোট। কিন্তু সেই কার্ডে লেখা থাকবে কৃষকের পরিচয়, জমির হিসাব, প্রাপ্য সহায়তা আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। মাটির মানুষের হাতে সেই কার্ড পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে কৃষিকে তথ্যের শক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার নতুন যাত্রা।

কালের আলো/আরআই/এমকে

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিকলীর শতাধিক সৌরবাতি

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিকলীর শতাধিক সৌরবাতি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা অধিকাংশ সৌরবিদ্যুতের ল্যাম্পপোস্ট অকেজো হয়ে পড়েছে। কোথাও বাতি নেই, কোথাও উধাও সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি। আবার কোথাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও চুরির কারণে সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ও রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় কয়েক ধাপে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব সৌরল্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাওরাঞ্চলের সড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধা দেওয়াই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌরল্যাম্প স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের তিন বছরের চুক্তি ছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক বাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও বাতি চুরি হওয়ায় একসময় আলোকিত গ্রামীণ সড়কগুলো আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিকলী-করিমগঞ্জ সড়কে থাকা প্রায় শতাধিক ল্যাম্পপোস্টের একটিও সচল নেই। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাতি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না থাকায় প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা নিকলীর বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কে সৌরল্যাম্প অকেজো থাকায় রাতে চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা।

তবে পুরো উপজেলায় কতটি সৌরচালিত স্ট্রিট ল্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে কতটি অকেজো এবং কতটি থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে। ফলে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট চিত্রও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী তন্ময় সাহা বলেন, সৌরল্যাম্প স্থাপনের পর নিয়মিত মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা থাকলে মানুষ এর সুফল পেত। কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দ্রুত তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।নিকলী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ হেলালী বলেন, নিকলী বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কের অধিকাংশ সৌরল্যাম্প নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা রাতে চলাচল করতে ভয় পান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বাতিগুলো মেরামত করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে ল্যাম্পপোস্টগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা কারিগরি অর্থও বরাদ্দ নেই। তবে বাতিগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতা থেকে শুরু করে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা—দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে হেলিকপ্টারে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে পরিদর্শন করেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিচালন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে।

  • আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ ও জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
  • বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন
এদিন সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। আকাশপথে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিপুল জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায়ও এ বন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মৎস্যসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী, শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ভিড়
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দুর্গম উপকূলীয় জনপদটিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এ সফরের গুরুত্ব কেবল প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

নদীভাঙন, পানির সংকট ও যোগাযোগের দুর্ভোগ
সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপের নলিয়ান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। নদীভাঙন, নিরাপদ পানির অভাব, লবণাক্ততা এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। উপকূলীয় জনপদের টেকসই উন্নয়নে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি। নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সারা বছর চলাচল উপযোগী সড়ক এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবমুখী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

সফর উপলক্ষে জোরদার নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড। সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থানেও ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন
নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে যান। পরে সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরের প্রধান ফটকে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

বন্দর সম্প্রসারণে বাড়তে পারে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহন, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আধুনিক বন্দর গড়ে তোলার জন্য শুধু জেটি বা কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। পণ্য ওঠানামার গতি, জাহাজ চলাচলের সুবিধা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহন, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা
সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে টার্মিনালের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, অনুমোদন, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া প্রকল্পটির চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া যায় না। সুন্দরবনের কাছাকাছি বড় জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বন, নদী, জলজ প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সফরে দক্ষিণাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন নলিয়ানের মানুষের নদীভাঙন, সুপেয় পানি ও যোগাযোগসংকট; অন্যদিকে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

এই দুই ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। সুন্দরবন থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, উপকূলীয় জনজীবন ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর গুরুত্ব সামনে এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন—পরিদর্শনে উঠে আসা সম্ভাবনাগুলো কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান এবং উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে রূপ নেয়।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

 

সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভ্রমণ অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬২টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদিগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটের মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারীদের ওপরও।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীকে যাত্রার সময় পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা এবং টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি, সৌদি আরবে নতুন করে কাজে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, সময়সূচি ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি