খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক চক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক চক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার: টিআইবি

রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রসংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, ক্ষমতাসীন জোটের একচ্ছত্র ক্ষমতাচর্চা এবং বিরোধী জোটের দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের প্রবণতা রাষ্ট্রসংস্কারকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রসংস্কার কার্যক্রম ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট জনস্বার্থে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকা পালনের পরিবর্তে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনে ব্যস্ত রয়েছে। রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, তা এখন ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক শক্তির হাতে জিম্মি।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করার অবস্থান সংস্কার কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তাঁর অভিযোগ, যেসব অধ্যাদেশ নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়িয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো আইনে পরিণত করা হয়েছে। অন্যদিকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক কিছু অধ্যাদেশ রহিত বা স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত আইন নিয়েও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংস্কার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ ছাড়া স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও এ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ না থাকার কথা উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়ে মতৈক্য থাকা সত্ত্বেও সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিবৃতিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে নজিরবিহীন ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, রাষ্ট্রসংস্কারের লক্ষ্য অর্জনেও সেই ধরনের সদিচ্ছা, প্রজ্ঞা ও সহযোগিতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানায় টিআইবি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের তাগিদ, স্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি জমি বরাদ্দের সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন সড়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের তাগিদ, স্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি জমি বরাদ্দের সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন সড়ক মন্ত্রী

ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের সমান অধিকার এবং সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ধর্মীয় অধিকার স্বীকারের পাশাপাশি তা বাস্তবে নিশ্চিত করা, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার পরিহার এবং ধর্মীয় উৎসব পালনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা—এসব বিষয় সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। দুর্গাপূজায় নির্বিঘ্ন যাতায়াত, সরকারি সহযোগিতা এবং স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য সরকারি জমির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

  • ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার পরিহার ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান
  • দুর্গাপূজায় যাতায়াত, নিরাপত্তা ও সরকারি সহযোগিতায় গুরুত্ব

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব বিষয়ে বলেছেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিকের সমান অধিকারের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব। ধর্মীয় অধিকার কারও করুণা বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর পুরক বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার পরিহার, উৎসবকালীন নিরাপত্তা এবং স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয়া শুভেচ্ছা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয়া শুভেচ্ছা জানিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সকল ধর্মের মানুষের অধিকার শুধু স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, তা বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন এড়িয়ে সব নাগরিকের জন্য স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান তাঁর বক্তব্যের অন্যতম প্রধান দিক।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার পরিহারের আহ্বান
মন্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার পরিহারের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, ‘ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে, তা কাম্য নয়। ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ হতে হবে স্বাধীন, নিরাপদ ও সকলের জন্য উন্মুক্ত।’

দুর্গাপূজায় নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও নিরাপত্তায় প্রস্তুতি
উৎসবকালীন পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কনিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখার বিষয়গুলো সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রীর বক্তব্যে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতির কথাও উঠে এসেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া উৎসবকালীন মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, সড়কনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা এবং ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণে সরকারি জমির সম্ভাব্যতা যাচাই
নিজ নির্বাচনী এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব। জনগণের ভোট ও আস্থা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমানত। কোনো নাগরিকের যৌক্তিক সমস্যা বা অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তাঁর নজরে এলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এ সময় এলাকায় একটি স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলে উপযুক্ত সরকারি জমি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্থানে সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকলে ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে পূজামণ্ডপ স্থাপন করতে গিয়ে আয়োজকদের যে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, তার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় চর্চার সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান
শেখ রবিউল আলম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

কালের আলো/জেএন/এমকে

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব চুক্তির পথে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব চুক্তির পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো কীভাবে চূড়ান্ত রূপ পাবে, তা যৌথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে দিনের শুরুতে সিরিকিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, ঋণসংক্রান্ত বিষয় এবং আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে।

তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব সবচেয়ে বড় শক্তি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আন্তরিক সমর্থন ও যৌথ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থা দুটির প্রধানরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন এবং জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে আজারবাইজানেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে তাঁর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ছাড়া সিআইসিএ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জেহুন বায়রামভ।

অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির।

বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি