খুঁজুন
                               
, ,
           

শীতের আগাম সবজি বাজারে, দাম শুনে ক্রেতাদের মাথায় হাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
শীতের আগাম সবজি বাজারে, দাম শুনে ক্রেতাদের মাথায় হাত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের আগাম সবজির দেখা মিলতে শুরু করেছে। বাজারে এসেছে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজি। তবে মৌসুমের আগাম এসব সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। টমেটোর দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, আর আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। অধিকাংশ সবজির দামও কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে নেই। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কেবল পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া।

অন্যদিকে, সবজির বাজারে অস্বস্তি থাকলেও মাছ ও মাংসের দামে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। কিছুটা স্বস্তি এসেছে ডিমের বাজারে। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার এমন চিত্র দেখা গেছে।

টমেটো ২০০ টাকা, শিম ১৬০

বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোলের দাম ৮০ টাকা। বেগুন ও কাঁকরোল কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১০০ টাকা। শীতের আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়সও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

তবে আগাম শিমের দাম আরও বেশি। প্রতি কেজি শিম কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকায়। আর টমেটোর দাম মান ও বাজারভেদে কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে প্রতিদিনের রান্নায় এসব সবজি রাখতে গেলেও ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। ফুলকপি পিসপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এ ছাড়া লাউয়ের আকারভেদে প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুমুখি কেজিতে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কম দামে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া

চড়া দামের সবজির ভিড়ে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা দরে। অন্যান্য সবজির সঙ্গে দামের ব্যবধান বেশি হওয়ায় বাজেটের মধ্যে বাজার করতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য এই দুটি সবজি তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে।

সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে কাঁচা মরিচের বাজার। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। তবে অন্যান্য সবজির দাম বেশি থাকায় বাজারের সামগ্রিক খরচ কমছে না বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

চড়া দামে ক্ষোভ ক্রেতাদের

বাজার করতে এসে সবজির দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম বেশি থাকায় সীমিত বাজেটে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। সবজি ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, বাজারে টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি দেশি শসা কিনেছেন ১০০ টাকা কেজি দরে। আর শিম কিনতে হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। টমেটো, শসা ও শিমের মতো পরিচিত সবজি কিনতেই বেশি টাকা খরচ হওয়ায় অন্যান্য বাজারসামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ব্যয় সামলাতে হচ্ছে হিসাব করে।

মুরগির দাম অপরিবর্তিত, ডিমে কমেছে ১০ টাকা

সবজির বাজারে অস্বস্তি থাকলেও মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। আর সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩১০ টাকা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে দাম ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার বাড়ছে। ফলে দাম ঘুরেফিরে ২০০ টাকার আশপাশেই থাকছে। সোনালি মুরগির দামও ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কখনো ১০ টাকা কমছে, আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ছে। সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে। শুক্রবার তিনি সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

এদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আগের তুলনায় প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। চারটি ডিমের দাম ৫০ টাকা।ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তাঁরা।

গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি

গরুর মাংসের দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। ফলে মাছ, মাংস ও মুরগির বাজারে বড় ধরনের দরপতন না থাকলেও আগের সপ্তাহের তুলনায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম—সব মিলিয়ে বাজারের ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ সবজির উচ্চমূল্য দৈনন্দিন বাজার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

মাছের বাজারেও দামে বড় পরিবর্তন নেই

রাজধানীর মাছের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে মাছের ধরন, আকার এবং জীবিত বা মৃত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে দামের পার্থক্য রয়েছে। বাজারভেদেও প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমবেশি হতে পারে।

বাজারে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। রুই ও কাতলা আকারভেদে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুইয়ের দাম কেজিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকির দাম ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

চাষের কই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি দরে। পোয়া মাছের দাম ২৬০ টাকা এবং শোল মাছের দাম ৭০০ টাকা কেজি। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। অন্যদিকে, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আযাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। শুক্রবার সাধারণত মাছের দাম কিছুটা বেশি থাকে বলেও জানান এই বিক্রেতা।

সবজি কেনায় বাড়তি ব্যয়, স্বস্তি সীমিত

বাজারের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসেনি। টমেটো ও শিমের মতো সবজির উচ্চমূল্য যেমন বাজার খরচ বাড়াচ্ছে, তেমনি অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি হওয়ায় বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগও সীমিত।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

মেসির দুই রেকর্ডে হালান্ড-এমবাপ্পের থাবা, কে ভাঙলেন কোন কীর্তি?

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
মেসির দুই রেকর্ডে হালান্ড-এমবাপ্পের থাবা, কে ভাঙলেন কোন কীর্তি?
সময়ের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি এখন নিয়মিত উচ্চারিত হয় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের নাম। গোল করার ধারাবাহিকতা ও রেকর্ড গড়ার ক্ষমতায় নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন এই দুই তারকা। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক রাতেই নতুন ইতিহাস গড়লেন হালান্ড ও এমবাপ্পে। তাঁদের কীর্তিতে পেছনে পড়ে গেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির দুটি রেকর্ড।
৬০ ম্যাচে ৬১ গোল, হালান্ডের অবিশ্বাস্য কীর্তি
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে প্যারিস সাঁ জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। দল ৪-২ গোলে হেরে গেলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

এই দুই গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১। আর এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৬০ ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে দ্রুততম ৬০ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে লিওনেল মেসি ৮০ ম্যাচে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

বয়সের হিসাবেও মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন হালান্ড। ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার। মেসির ক্ষেত্রে বয়সটি ছিল ২৬ বছর ৮৬ দিন। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মেসিকে পেছনে ফেলেছেন হালান্ড।

১০০ ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সী এমবাপ্পে

একই রাতে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এএস রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর শততম উপস্থিতি। আর এই মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

এমবাপ্পের বয়স তখন ২৭ বছর ২৯৮ দিন। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন মেসি, যিনি ২৮ বছর ৮৪ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

শুধু শততম ম্যাচ খেলেই থামেননি এমবাপ্পে। রোমার বিপক্ষে গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের গোলসংখ্যা ৭২-এ নিয়ে গেছেন তিনি। এতে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রাউল গঞ্জালেজকে পেছনে ফেলে এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন ফরাসি তারকা।

রোমার মাঠে রিয়ালের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতটি দলীয়ভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এমবাপ্পের জন্য। রোমার মাঠে একপর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

শেষ আট মিনিটে তিনটি গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রিয়াল। এমবাপ্পের গোলের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের আক্রমণাত্মক ফুটবল ম্যাচটিকে নাটকীয় করে তোলে। ফলে শততম ম্যাচে ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে জয়ও উদ্‌যাপন করতে পেরেছেন ফরাসি তারকা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গোলদাতাদের তালিকায় এমবাপ্পের অগ্রগতি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ৭২। এই গোলসংখ্যা তাঁকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে দিয়েছে। তাঁর পেছনে নেমে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেজ, যাঁর গোলসংখ্যা ৭১।

এ তালিকায় এমবাপ্পের সামনে রয়েছেন আরও চার কিংবদন্তি। শীর্ষে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ১৪১ গোল নিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে মেসি, তাঁর গোল ১২৯টি। এরপর রবার্ট লেভানদোভস্কির ১০৯ এবং করিম বেনজেমার ৯০ গোল।

এমবাপ্পের সামনে এখন লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা। বয়স ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আগামী মৌসুমগুলোতে গোলের এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে হালান্ডের নতুন রেকর্ড

পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন হালান্ড। সিটির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৩৮, যা এসেছে মাত্র ৪১ ম্যাচে।

এর আগে ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোর দখলে। তিনি ৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছিলেন। হালান্ড তুলনামূলক কম ম্যাচেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের রাতেও দলীয়ভাবে হতাশ হতে হয়েছে সিটিকে। নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে যায় তারা। প্রথমার্ধে তিন গোল হজম করার পর বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল সিটি। হালান্ডের জোড়া গোলও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি।

মেসির রেকর্ডে চাপ, নতুন প্রজন্মের উত্থান

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বহু বছর ধরে গোল ও ম্যাচসংক্রান্ত নানা রেকর্ডের মালিক ছিলেন মেসি। কিন্তু হালান্ড ও এমবাপ্পের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে সেই রেকর্ডগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছেন।

হালান্ডের ক্ষেত্রে গোল করার অসাধারণ গতি তাঁকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, এমবাপ্পে অল্প বয়সেই শততম ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের বাইরেও তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে দলকে শিরোপা জেতানো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতায় গোলের রেকর্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতার সাফল্যও নির্ধারণ করবে তাঁদের উত্তরাধিকার।

কালের আলো/এএন/এস এ

 

জামালপুরে চার সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য, আটকে যাচ্ছে জমির দলিল

জামালপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
জামালপুরে চার সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য, আটকে যাচ্ছে জমির দলিল

জামালপুরের সাত উপজেলার মধ্যে চারটিতেই দীর্ঘদিন ধরে নেই স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার। অন্য উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনো রকমে চলছে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রম। ফলে কোথাও সপ্তাহে এক দিন, কোথাও দুই থেকে তিন দিন জমি নিবন্ধনের কাজ হচ্ছে। নির্ধারিত দিনে সেবাগ্রহীতাদের অতিরিক্ত চাপ, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বারবার যাতায়াতের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। জমি নিবন্ধনের পাশাপাশি পুরোনো দলিলের নকল সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতেও সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর, মেলান্দহ, বকশীগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে অন্য তিন উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী বিপিএ গত বছরের ২০ মার্চ বদলি হন। মেলান্দহের সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার বদলি হন গত বছরের ৭ এপ্রিল। ইসলামপুরের আয়েশা সিদ্দীকা ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর এবং বকশীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার চলতি বছরের ৯ জুলাই বদলি হন। এরপর থেকে এসব কার্যালয়ে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নেই। শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করেই চলছে জমি নিবন্ধনসহ অন্যান্য কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একজন কর্মকর্তাকে একাধিক কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় প্রতিটি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষকে নির্দিষ্ট দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কারণে নির্ধারিত দিনে কাজ সম্পন্ন না হলে আবারও অফিসে আসতে হচ্ছে তাঁদের।

কোথাও সপ্তাহে এক দিন, কোথাও পাঁচ দিন নিবন্ধন

জামালপুরের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন সময়সূচিতে। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলায় সপ্তাহে তিন দিন জমি নিবন্ধন করা হয়। মেলান্দহ, ইসলামপুর ও বকশীগঞ্জে সপ্তাহে এক দিন করে এবং মাদারগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জে দুই দিন করে এ কার্যক্রম চলে। তবে সরিষাবাড়ী উপজেলায় সপ্তাহের পাঁচ দিনই জমি নিবন্ধনের কাজ চালু রয়েছে। এই অসম সময়সূচির কারণে নির্দিষ্ট দিনে সেবাগ্রহীতাদের চাপ বেড়ে যায়। জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদন, নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা কিংবা পুরোনো দলিলের নকল সংগ্রহ—প্রতিটি কাজের জন্যই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা একাধিক কার্যালয়ের কাজ সামলাতে গিয়ে চাপে পড়ছেন। এতে সেবার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে—কোন দিন গেলে কাজ হবে, আর কোন দিন ফিরে আসতে হবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

অফিসে গিয়ে ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা

গত মঙ্গলবার জামালপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সেবাগ্রহীতাদের তেমন ভিড় নেই। দলিল লেখকদের অনেককে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। বেশ কিছু চেয়ার-টেবিলও ফাঁকা পড়ে ছিল। সেবা নিতে আসা কয়েকজন কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছিলেন। সেবাগ্রহীতারা জানান, সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েক দিন জমি নিবন্ধনের কাজ হওয়ায় ওই দিনগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মানুষ জমায়েত হন। এতে দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে যাতায়াতের খরচের পাশাপাশি কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। পুরোনো দলিলের নকল সংগ্রহ করতেও এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

টাকা লেনদেন শেষ, তবু জমি নিবন্ধন করতে পারেননি আবদুল করিম

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবদুল করিম জামালপুর শহরের পাথালিয়া এলাকায় এক টুকরো জমি কিনেছেন। গত রোববার জমিটি নিবন্ধন করতে এসে কাগজপত্র গোছানো ও দলিল সম্পাদনের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় তিনি সেদিন নিবন্ধন করতে পারেননি। পরে মঙ্গলবার আবারও অফিসে গিয়ে দেখেন, সাব-রেজিস্ট্রার উপস্থিত নেই। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, জমি কেনাবেচার টাকা লেনদেন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়নি। আবদুল করিম বলেন, স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। টাকা লেনদেন হয়ে যাওয়ার পরও নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

মামলার নকল তুলতে না পেরে বিপাকে সরোয়ার আলম

ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দা সরোয়ার আলমেরও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানা গেছে। মামলার প্রয়োজনে তাঁর ১৯৬৪ সালের একটি দলিলের নকল প্রয়োজন। সে জন্য জামালপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসে তিনি জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রার নেই। ফলে ওই সপ্তাহে নকল সংগ্রহ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। সরোয়ার আলম বলেন, আগামী সপ্তাহে মামলার তারিখ রয়েছে। এর আগে প্রয়োজনীয় নকল সংগ্রহ করে আদালতে জমা দিতে না পারলে তাঁকে আবারও তারিখ নিতে হতে পারে। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই নষ্ট হবে। পুরোনো দলিলের নকল সংগ্রহের মতো জরুরি কাজেও কর্মকর্তার অনুপস্থিতির প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর মতো যাঁদের আদালতের মামলা কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে দলিলের নকল প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে।

দলিল লেখক ও ক্রেতা-বিক্রেতারাও চাপে

জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ছানোয়ার হোসেন ছানো বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় নির্দিষ্ট দিনে জমি নিবন্ধনের কাজ হচ্ছে। এতে দলিল লেখক, নকলনবিশ এবং জমির ক্রেতা-বিক্রেতা—সবাই সমস্যায় পড়ছেন। নির্ধারিত দিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পুরোনো দলিলের নকলসহ অন্যান্য সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। মেলান্দহ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফাহাদুজ্জামান নবীন বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে রেজিস্ট্রি অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে এক দিনে কয়েক দিনের কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা যেমন চাপে পড়ছেন, তেমনি সেবাগ্রহীতারাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মতে, প্রতিটি কার্যালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তা থাকলে সেবার সময়সূচি স্থিতিশীল হবে। এতে কাজের চাপ বণ্টন করা সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার অফিসে যাতায়াত করতে হবে না।

দ্রুত পদায়নের আশ্বাস জেলা রেজিস্ট্রারের

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, জনবলসংকটের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন করা হলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে। তবে কবে নাগাদ এসব পদে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কার্যক্রম চললেও নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, এবার বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ মনির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, এবার বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ মনির

৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পেয়েও নিয়োগের গেজেটে নাম আসেনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের। মৎস্য ক্যাডারে মেধাতালিকায় ২৮তম অবস্থানে থেকেও বাদ পড়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের ফেসবুক পোস্টে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মনির দাবি করেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরও তাঁকে বঞ্চনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাঁদের বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান না এলে রাজধানীর শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

মেধাতালিকায় ২৮তম হয়েও গেজেটে নাম নেই

মনিরুজ্জামান মনির বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ২৮তম।

তবে বুধবার রাতে প্রকাশিত নিয়োগের গেজেটে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাঁকে নিয়োগের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো উত্তর জানেন না বলে জানিয়েছেন মনির। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও হতাশার কথা তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে মনির লেখেন, ‘এই রাষ্ট্র আমার না। চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ধৈর্যের ফল আজ শূন্য।’ বৃদ্ধ বাবার সামনে কীভাবে দাঁড়াবেন, সেই দুশ্চিন্তার কথাও জানান তিনি। মেধাতালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও বাদ পড়ার কারণ জানতে চেয়ে মনির প্রশ্ন তোলেন। পোস্টে তাঁর হতাশা ও মানসিক বিপর্যয়ের প্রকাশ পাওয়া যায়।

‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছি, সেই বৈষম্যেরই শিকার’

ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে মনির অভিযোগ করেন, বৈষম্যহীন আন্দোলনের ভিত্তিতে দাঁড়ানো রাষ্ট্রেই তাঁদের মতো প্রার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভেরিফিকেশনের কথা বলে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৬ জন প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। মনির লেখেন, অবিলম্বে গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন, সেই বৈষম্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।

মনিরুজ্জামান জানান, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরও কেন তাঁকে নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলো, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।

বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন

সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গেজেটে নাম না আসার কারণ জানতে চান মনির। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী প্রার্থীরা বলছেন, সুপারিশপ্রাপ্ত কিছু প্রার্থী পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। কারও কারও কাগজপত্রেও সমস্যা ছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সবকিছু ঠিক থাকার পরও ৫৪ জন প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অভিযোগ ও বাদ পড়ার প্রকৃত কারণের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হলে তাঁদের উদ্বেগের নিরসন হতে পারে।

৪৫তম বিসিএসে ১০৫ জনের নাম গেজেটে নেই

এর আগে বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে। এতে পিএসসির সুপারিশ করা ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জনের নাম নিয়োগের গেজেটে আসেনি। এই তালিকায় কারও ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়া বা কাগজপত্রসংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। তবে সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে বাদ পড়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুপারিশ পাওয়ার পরও গেজেটে নাম না আসায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে যাঁদের কাগজপত্র ও যোগ্যতা ঠিক রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেন প্রার্থীরা

গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সমাধান না এলে ওই দিন রাজধানীর শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এ কর্মসূচির ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অভিযোগের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং তাঁদের বাদ পড়ার কারণ স্পষ্ট করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি