খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দর্শনে ভক্তদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দর্শনে ভক্তদের ঢল

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে মর্ত্যে দেবী দুর্গার আবাহন। ধূপ-ধুনোর সুবাস, সন্ধ্যার প্রদীপের আলো এবং ভক্তদের প্রার্থনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপগুলো। মহাষষ্ঠীর সকালে দেবী ষষ্ঠীর আরাধনা, বোধন ও আমন্ত্রণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার উৎসব। সন্ধ্যায় প্রতিমা উন্মোচনের পর দেবীদর্শনে ভক্তদের ভিড় জমে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে।

দেবীর মুখদর্শন, অঞ্জলি নিবেদন এবং পরিবার-পরিজনের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মন্দিরে সমবেত হন। আলোকসজ্জায় সজ্জিত মণ্ডপ, পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ এবং ঢাক-কাঁসরের সম্মিলিত ধ্বনি শারদীয় উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবীদর্শনে ভক্তদের ঢল

মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দেবীর মুখদর্শনের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মন্দিরে আসেন ভক্তরা। সন্ধ্যারতি, ধূপ-দীপ ও কর্পূরের আলোয় পূজামণ্ডপের পরিবেশ হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ ও আধ্যাত্মিক। প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা করজোড়ে প্রণাম জানান। কেউ অঞ্জলি নিবেদন করেন, কেউ পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। নারী-পুরুষ, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে মন্দির চত্বর পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। শঙ্খনাদ, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে তালে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় ধর্মীয় আবেগ ও আনন্দের আবহ। সন্ধ্যার এই আয়োজন দুর্গোৎসবের ঐতিহ্য ও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক পরিচিত চিত্র তুলে ধরে।

বেলতলায় ষষ্ঠীপূজা ও দেবীর বোধনের আনুষ্ঠানিকতা

এর আগে মহাষষ্ঠীর সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে দেবী ষষ্ঠীর আরাধনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতদের সংকল্প ও মন্ত্রোচ্চারণে সম্পন্ন হয় ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। মন্দির প্রাঙ্গণের বেলতলায় আয়োজন করা হয় বিল্ববৃক্ষ বা বেলগাছ পূজার বিশেষ আচার। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বেলবৃক্ষে দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে তাঁর জাগরণ ও মর্ত্যে আগমনের সূচনা হয়। তাই ষষ্ঠীর পূজায় বেলতলার আচার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পূজার বেদি সাজানো হয় গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকার হলুদ-কমলা মালায়। সেখানে রাখা হয় তাম্রপাত্র, কাঁসার ঘণ্টা, শঙ্খ, পুষ্পাদানি, পঞ্চপল্লব, আম্রপল্লব, আতপ চাল, নারকেল, ঘট ও বিভিন্ন ফুল। দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ফল ও মিষ্টি।

পুরোহিতরা পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে এবং কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে পূজার উপাচার সম্পন্ন করেন। এরপর শঙ্খধ্বনি ও ঢাক-কাঁসরের বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। ভক্তরা হাতে ফুল ও আম্রপল্লব নিয়ে দেবীর কৃপা কামনায় প্রার্থনা করেন।

কৈলাস থেকে মর্ত্যে কন্যারূপে দেবী দুর্গা

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকে বেড়াতে আসেন। এই আগমনকে ঘিরেই প্রতিবছর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় আনন্দ, আবেগ ও উৎসবের প্রত্যাশা। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, অসুরশক্তির কাছে পরাজিত দেবতারা যখন স্বর্গলোক থেকে বিতাড়িত হন, তখন অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে দেবতারা সম্মিলিতভাবে এক মহাশক্তির আবির্ভাব কামনা করেন। দেবতাদের তেজ থেকে আবির্ভূত হন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। সেই বিশ্বাসের ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা হয়ে উঠেছে অশুভের বিনাশ ও শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। এবারের শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং প্রস্থান নৌকায়। দেবীর আগমন ও প্রস্থানের এই প্রতীকী তাৎপর্যকে সামনে রেখে ভক্তরা দেশ, সমাজ ও সব জীবের কল্যাণ কামনা করছেন।

ঢাক-ঢোলের তালে ছয় দিন উৎসবের আমেজ

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলি, সন্ধ্যারতি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি আলোকসজ্জা এবং মানুষের সমাগমে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে মন্দির ও মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। ভক্তদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়া, আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করারও উপলক্ষ। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, কাঁসরের ধ্বনি ও শঙ্খনাদে উৎসবের পরিবেশ বজায় থাকবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

কারিগরি শিক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
কারিগরি শিক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এ উদ্যোগের আওতায় দেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি চালু, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়েনজিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

প্রকাশিত হলো ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’

সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সেখানে বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্টের পাশাপাশি চীনের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র, লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ-চীন সমঝোতায় যেসব উদ্যোগ থাকছে

সম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করতে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেলের আলোকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চালু হতে পারে যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি

বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২+২ ও ৩+১ মডেলে যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন।

চীনে কর্মসংস্থান ও বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

সমঝোতা স্মারকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি ও অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যৌথ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে দেশে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সমঝোতার আওতায় রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।

পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এএন/এসএ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, কোন দিন কোন পরীক্ষা?

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, কোন দিন কোন পরীক্ষা?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। চার দিনব্যাপী পরীক্ষা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার এ সময়সূচি জানানো হয়েছে।

কোন দিন কোন পরীক্ষা

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ২২ ডিসেম্বর প্রাথমিক গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দিন ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে। ফলে এসব পরীক্ষার্থী অন্যদের তুলনায় বাড়তি সময় পাবেন।

যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সময়সূচি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সভার সিদ্ধান্তের ৩ নম্বর ক্রমিকের ‘খ’ ও ‘ঘ’ অনুযায়ী এ সময়সূচি নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার সময় ও বিষয়ভিত্তিক রুটিন ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএন/এসএ

দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় দেশের ৫৩৮ ফায়ার স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় দেশের ৫৩৮ ফায়ার স্টেশন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, অগ্নিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহাপরিচালক জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পূজা চলাকালে সারা দেশে চালু থাকা ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে অগ্নিনিরাপত্তা তদারক করবে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অগ্নিঝুঁকি দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও থাকবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করবেন। ঝুঁকি শনাক্ত হলে তা কমাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের তথ্য এবং সংস্থাটির ১০২ নম্বর হটলাইন প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মহাপরিচালক জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই নন, অস্থায়ী ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও জোন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবেন। এর মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় অগ্নিদুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ সব বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ফলে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক। পূজামণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি রাখবে ফায়ার সার্ভিস। এসব স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় রোড রেসকিউ সরঞ্জাম, অ্যাম্বুলেন্স এবং রাতে প্রয়োজন হলে লাইটিং ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, ‘সচেতনতাই সুরক্ষা।’ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবার সচেতনতা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি