খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৩৮ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

গ্রস ও বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবের পার্থক্য

গ্রস রিজার্ভের হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত কয়েকটি তহবিলও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব তহবিলের মধ্যে রয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা। এ ছাড়া বিমান কেনার জন্য সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা বৈদেশিক মুদ্রা এবং রপ্তানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের দেওয়া অর্থও এ ধরনের হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব তহবিলের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না।

গ্রস পদ্ধতি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব রিজার্ভ হিসাব পদ্ধতি। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট তহবিলের অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের হিসাব করা হয়। ফলে দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়।

নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ কী

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব গ্রস হিসাব কিংবা আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ—উভয় ক্ষেত্রেই বৈদেশিক মুদ্রার দায় ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে প্রকৃত ও তরল বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ বা এনআইআর (নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ) বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ কিংবা জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবহারযোগ্য অর্থের সক্ষমতা বুঝতে এ সূচক গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারের পরই বাদ? পাকিস্তানে ধারাভাষ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারের পরই বাদ? পাকিস্তানে ধারাভাষ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আঁচ কি এবার ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকক্ষেও পড়েছে? পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার আসন্ন ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেলে ইংল্যান্ডের সাবেক দুই অধিনায়ক মাইকেল আথারটন ও নাসের হুসেইনের নাম না থাকায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সিরিজের জন্য ছয় সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেল ঘোষণা করে পিসিবি। সেখানে পাকিস্তানের সাবেক চার ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিস, আমির সোহেল, বাজিদ খান ও উরুজ মুমতাজের সঙ্গে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার রোশান আবেসিংহে এবং ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মার্ক বুচার। উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকছেন জয়নব আব্বাস।

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্ক
আথারটন ও হুসেইনকে প্যানেলে না রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে গত আগস্টে ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান খানের সাক্ষাৎকার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার লর্ডস টেস্ট চলাকালে স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আথারটন। প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান তাঁদের বাবার কারাবাস এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কারাগারে অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে রেখে ইমরানের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটি ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। ক্রিকেট সম্প্রচারে রাজনৈতিক বিষয় তুলে আনার অভিযোগে স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় বোর্ড। এ নিয়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার হুমকির খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে চাপের মুখেও সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। অন্যদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি সেটি প্রচার করেনি।

ইমরানকে নিয়ে আথারটনের মন্তব্যও আলোচনায়
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে নাসের হুসেইনের সঙ্গে একটি পডকাস্টে কথা বলেন আথারটন। সেখানে ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্র যেন ইমরান খানকে জনপরিসর থেকে প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

এই বিতর্কের প্রায় দুই মাস পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেলে আথারটন ও হুসেইনের অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে সাক্ষাৎকার কিংবা ইমরানকে নিয়ে তাঁদের মন্তব্যের কারণেই দুজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ইমরানের পক্ষে চিঠি দিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়কেরা
ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাগারে তাঁর প্রতি আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। গত আগস্টে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। আথারটন ও হুসেইনও সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফলে ইমরানকে নিয়ে তাঁদের অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের ধারাভাষ্য প্যানেলে তাঁদের অনুপস্থিতি—দুটি বিষয়কে পাশাপাশি রেখে আলোচনা করছেন অনেকে। তবে এ দুটির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু, ফাইনাল ৩১ অক্টোবর
পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হয়েছে ১৮ অক্টোবর। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ২০ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে ধারাভাষ্য শুরু করার কথা ওয়াকার ইউনিসের।

২২ অক্টোবর একই মাঠে খেলবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। লিগ পর্বের শেষ তিন ম্যাচ হবে ২৫, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর। একই মাঠে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।

আথারটন ও হুসেইনকে বাদ দেওয়ার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় বিতর্কের অবসান এখনো হয়নি। তাঁদের অনুপস্থিতি ইমরান খানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানতে পিসিবির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

সান্তোরিনিতে নীল গাউনে সারিকা, ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
সান্তোরিনিতে নীল গাউনে সারিকা, ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা

সমুদ্রের নীল জলরাশি, সাদা বাড়ি আর নীল গম্বুজের মনোরম দৃশ্য—গ্রিসের সান্তোরিনির এমন নৈসর্গিক পরিবেশে নীল গাউনে ধরা দিলেন মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। পরিচিত লুকের বাইরে তাঁর এই ভিন্নধর্মী সাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে সান্তোরিনি থেকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন সারিকা। ছবিগুলোতে কখনো নীল রঙের লম্বা গাউনে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বসে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দেখা যায় তাঁকে।

ছবির পেছনে সাদা বাড়ি, নীল গম্বুজ আর এজিয়ান সাগরের নীল জলরাশি—সব মিলিয়ে সান্তোরিনির চেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে সারিকার সাজও যেন একাকার হয়ে উঠেছে।

এজিয়ানের নীল-সাদায় মুগ্ধতা
ছবিগুলোর ক্যাপশনে সারিকা লিখেছেন, ‘এজিয়ান সাগরের স্বপ্ন যেন সত্যি। যেখানে আভিজাত্যের সঙ্গে মিশেছে এজিয়ানের নীল আর সাদা।’

তাঁর পরনের নীল গাউনের সঙ্গে চারপাশের নীল-সাদা পরিবেশের সামঞ্জস্য ছবিগুলোতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ভ্রমণের মুহূর্তকে নান্দনিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পোশাক ও পোজেও ভিন্নতার ছাপ রেখেছেন এই অভিনেত্রী।

পরিচিত সারিকার অন্যরকম উপস্থিতি
ছোট পর্দা ও মডেলিং—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ সারিকা সাবরিন। বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেও দর্শকের কাছে জায়গা করে নেন তিনি। কাজের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি নিয়মিত ভাগ করে নেন সারিকা। তবে লম্বা গাউনে তাঁর এমন উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী। ফলে নতুন ছবিগুলো ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সান্তোরিনির নীল-সাদা সৌন্দর্যের মাঝে সারিকার নীল গাউনের এই লুক ভ্রমণের ছবিতে যোগ করেছে ভিন্ন আমেজ। পরিচিত অভিনেত্রীকে নতুন সাজে দেখে অনেক অনুসারীর কাছেই ছবিগুলো হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয়।

কালের আলো/এএএন/এসএ

শুরুতে দাপট, মাঝপথে ধস—জিম্বাবুয়ের কাছে অসহায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
শুরুতে দাপট, মাঝপথে ধস—জিম্বাবুয়ের কাছে অসহায় বাংলাদেশ

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। বল হাতে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত শুরু এবং ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুই ইনিংসেই মাঝের ওভারগুলোতে ছন্দ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তাসকিনের তোপে শুরুতেই বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়ে
টসের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৭ ওভারে ২৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় দলটি। ওই সময় তাসকিনের বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট।

তবে শুরুতে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর চতুর্থ উইকেটে বড় জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তাঁদের ব্যাটিংয়ের সামনে মাঝের ওভারগুলোতে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা।

টেলর-আরভিনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে
৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন টেলর ও আরভিন। দুজনই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করে রান তোলার গতি সচল রাখেন। তাঁদের ১৭৬ বলের জুটিতে আসে ১৫০ রান, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

অবশেষে সপ্তম বোলার হিসেবে সাইফ হাসানকে আক্রমণে আনেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। সাইফ পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ৮১ রান করা টেলর। পরের ওভারে ৪ রান করা সিকান্দার রাজাকেও ফিরিয়ে দেন সাইফ।

অন্যদিকে, ১০৬ বলে ৯৩ রান করা আরভিনকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই উইকেটগুলো এলেও ততক্ষণে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শক্ত ভিত পেয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৭১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি।

মাঝের ওভারেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের বোলিং
বাংলাদেশের বোলিংয়ে শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু তাসকিনের প্রথম স্পেলের পর অন্য বোলাররা জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরীফুল ইসলাম নিয়মিত উইকেট এনে দিতে ব্যর্থ হন। স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন ও রিশাদ হোসেনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

বিশেষ করে ওয়ানডেতে মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা রিশাদ হোসেন এদিন ছিলেন বেশ খরুচে। ৯ ওভারে ৬৬ রান দেন তিনি। ফলে শুরুতে জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করেও ইনিংসের মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

তানজিদ-সৌম্যর ঝোড়ো শুরু, এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৬ ওভারে তুলে নেন ৪৭ রান। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করার মতো অবস্থানেই রয়েছে দলটি।

কিন্তু উদ্বোধনী জুটির পরই বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল যাঁদের, তাঁদের কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

তানজিদ আগের বলে জীবন পাওয়ার পর পরের বলেই ক্যাচ তুলে দেন। সৌম্য সরকারও স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন বলের লাইন বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ফলে ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিরোধ গড়ার মতো কেউ ছিলেন না।

শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা, তবু বড় হার
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতার পর শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দুজনের ২৬ বলে ৩৬ রানের জুটি হারের ব্যবধান কিছুটা কমালেও ম্যাচের ফল বদলানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

জিম্বাবুয়ের বোলাররা অসাধারণ কিছু করেছেন, এমন নয়; বরং বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুল শট নির্বাচন ও দায়িত্বহীন উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। শুরুতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও মাঝের ওভারগুলোতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছন্দ হারানোয় শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ফাইনালে উঠতে কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে
ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ২১ অক্টোবর সিরিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। ফাইনালে উঠতে হলে ওই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। পাশাপাশি ফাইনালে যাওয়ার পথ তৈরি করতে অন্যান্য ফল ও রান রেটের সমীকরণও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে।

তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিং কিংবা তানজিদ-সৌম্যর ঝোড়ো শুরুর মতো ইতিবাচক দিক থাকলেও পুরো ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার পুরোনো সমস্যাই আবার সামনে এসেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে সিরিজের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এসএ