খুঁজুন
                               
, ,
           

দামি টেবিল, দামি যন্ত্র, প্রশ্নবিদ্ধ বিল—নিউরোসায়েন্স প্রকল্পে কী ঘটেছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
দামি টেবিল, দামি যন্ত্র, প্রশ্নবিদ্ধ বিল—নিউরোসায়েন্স প্রকল্পে কী ঘটেছে?

একটি টেবিলের দাম আড়াই লাখ টাকা, একটি কম্পিউটারের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার। ৪০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর ৪৫০টি হাসপাতাল শয্যা কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ৫০০ শয্যার সম্প্রসারণ প্রকল্পে কেনাকাটার এমন হিসাব ঘিরে উঠেছে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। আসবাব, কম্পিউটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ—বিভিন্ন খাতে অনিয়মের বিবরণ দিয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

  • নিউরোসায়েন্সের ৫০৬ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
  • একটি টেবিল আড়াই লাখ, একটি কম্পিউটার ১ লাখ ৮০ হাজার, ৪০ ভেন্টিলেটরে ১২ কোটি ৮০ লাখ
  • ৪৫০ শয্যায় ১৫ কোটি ৭৫ লাখ; কার্যালয় না থাকলেও আসবাবের বিল, তদন্ত কমিটির কাজ চলছে

অভিযোগপত্রে বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে পণ্য কেনা, প্রকল্পের কার্যালয় না থাকলেও আসবাব ও কম্পিউটার কেনার বিল তৈরি করে অর্থ তুলে নেওয়া, হাসপাতালের রাজস্ব খাতের মালামাল দিয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে আলাদা বিল তোলা এবং পুরোনো নির্মাণসামগ্রী নিয়ম না মেনে বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে। গণপূর্তের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের কেন্দ্রে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শামীম আল মারুফের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। প্রকল্প পরিচালক চিকিৎসক বদরুল আলম ও বাজারদর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক চিকিৎসক জহিরুল হক চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া ৫০৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পে শামীম আল মারুফ হিসাবরক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে কেনাকাটা ও অর্থ লেনদেনে প্রভাব বিস্তার করেন বলে হাসপাতাল সূত্রের দাবি। পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া, বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে পণ্য কেনা এবং গণপূর্তের কাজের বিল ও কমিশন লেনদেনেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১০ মে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে অধিদপ্তর। কমিটির সভাপতি করা হয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হোমিও ও দেশজ চিকিৎসা) চিকিৎসক মো. সবিজুর রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) চিকিৎসক মো. মাহমুদুর রহমান এবং চিকিৎসা কর্মকর্তা (সংযুক্ত প্রশাসন শাখা) চিকিৎসক এরশাদ মিয়া।

আসবাব কেনাকাটায় প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
প্রকল্পে অফিসের আসবাব সরবরাহের চারটি কার্যাদেশ পায় পশ ফার্নিচার অ্যান্ড ইন্টেরিয়র লিমিটেড। অভিযোগপত্রে প্রতিষ্ঠানটির মোট কার্যাদেশের পরিমাণ ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শামীম আল মারুফের ঘনিষ্ঠজনদের এবং তাঁর বড় ভাইয়ের ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহ করা অনেক আসবাব নির্ধারিত বিবরণ অনুযায়ী ছিল না এবং গুণগত মানও ছিল নিম্নমানের বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি সচিবালয় টেবিল কেনা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং প্রতিটি ঘূর্ণায়মান চেয়ারের দাম ৮০ হাজার টাকা। সহযোগী অধ্যাপকদের জন্য প্রতিটি টেবিল কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ৪০টি বড় সোফা সেটের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ৩৫টি এক আসনের সোফা সেটের দাম ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, ৭০টি দুই আসনের সোফা সেটের দাম ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪০টি তিন আসনের সোফা সেটের দাম ৪৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ৮০টি কম্পিউটার টেবিল কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২৫০টি দর্শনার্থীদের চেয়ারের জন্য ৭০ লাখ টাকা এবং ২০০টি শ্রেণিকক্ষের চেয়ারের জন্য ২৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। একটি সম্মেলনকক্ষের চেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। পাশাপাশি আরও ৯০টি সম্মেলনকক্ষের চেয়ার কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে এসব আসবাব বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে কেনার কথা উল্লেখ করে এ খাতে শামীম আল মারুফের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন প্রকল্পের হিসাবরক্ষক শামীম আল মারুফ। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। কে বা কারা অভিযোগ করেছে, কেনইবা করেছে, তা বলতে পারছি না। আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই দায়িত্ব পালন করেছি। তদন্ত শেষ হলেই অভিযোগের সত্যতা কী, তা বোঝা যাবে।’

কম্পিউটার, স্ক্যানার ও অনুলিপি যন্ত্রেও অস্বাভাবিক ব্যয়
অভিযোগপত্র বলছে, একটি কম্পিউটারের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ৬০টি কম্পিউটার কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। ১০টি স্ক্যানার কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা এবং পাঁচটি ফটোকপি মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

৪০টি ভেন্টিলেটরে ১২ কোটি ৮০ লাখ, শয্যা কেনায় ১৫ কোটি ৭৫ লাখ
নিবিড় পরিচর্যা ও উচ্চনির্ভরতা পরিচর্যা কেন্দ্রের ৪০টি শয্যা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগপত্রে প্রতিটি শয্যার বাজারমূল্য দেড় লাখ টাকা উল্লেখ করে এ খাতে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। ৪০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৪০টি ইনফিউশন পাম্প ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ৪০টি ভাইটাল সাইন/পালস অক্সিমিটার কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কেয়ারস্কেপ ভি ওয়ান হান্ড্রেড অথবা জাপানে তৈরি ওএলভি ফোর টু জিরো ওয়ান মডেলের উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি যন্ত্রের বাজারমূল্য ৯০ হাজার ৫০০ টাকা ধরে প্রায় ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। হাসপাতালের সাধারণ শয্যা কেনাকাটায়ও রয়েছে বড় অঙ্কের ব্যয়। ৪৫০টি হাসপাতাল শয্যা কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

বর্জ্য শোধনযন্ত্র ও স্নায়ু রেডিওলজি সরঞ্জামেও কোটি কোটি টাকা
চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাইক্রোওয়েভ পদ্ধতির দুটি মেডিকেল ওয়েস্ট ডিসপোজাল ট্রিটমেন্ট ইউনিট কেনায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্নায়ু রেডিওলজি বিভাগের জন্য ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের দুটি ফ্ল্যাট প্যানেল ডিজিটাল মোবাইল এক্স-রে মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া দুটি ফ্ল্যাট প্যানেল মোবাইল সি-আর্ম কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রকল্পের অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম, আনুষঙ্গিক উপকরণ, রোগী পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ও আইসিইউ ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছে মহাখালীর মেসার্স এএস রায় নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শামীম আল মারুফ ও আপেল মাহমুদের নিজস্ব। বিভিন্ন লট ও প্যাকেজে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির অধিকাংশই বাজারদরের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের কার্যালয় নেই, তবু ৩৫ লাখ টাকার বিল
প্রকল্পের কার্যালয়কক্ষের আসবাব ও কম্পিউটারসামগ্রী কেনার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব সামগ্রী কেনা হয়নি; ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের নিজস্ব কোনো কার্যালয়কক্ষই ছিল না। হাসপাতালের বিদ্যমান কার্যালয়কক্ষ ও কম্পিউটার ব্যবহার করেই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ফলে কার্যালয়ের জন্য আলাদা আসবাব ও কম্পিউটার কেনার নামে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গণপূর্তের কাজে ১৫ কোটি, রাজস্ব খাতের মালামালের বিলেও ৫ কোটি টাকা
গণপূর্ত বিভাগের কাজেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, শামীম আল মারুফ বিভাগটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা—এসডি, এসও ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের মধ্যস্থতা করতেন। তাঁকে গণপূর্ত বিভাগের ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রকল্পের গণপূর্তের কাজের নামে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। প্রকল্পের স্যানিটারি, প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী গণপূর্ত বিভাগের সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের রাজস্ব খাতের অর্থে কেনা মালামাল দিয়েই এসব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপরও একই কাজের জন্য আলাদা বিল তুলে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে ব্যবহৃত পুরোনো মালামাল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু মালামাল শামীম আল মারুফের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শামীমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, প্রকল্প পরিচালকের দাবি—তিনি ক্রয় কমিটির সদস্য নন
অভিযোগকারীদের দাবি, নিউরোসায়েন্সের যুগ্ম পরিচালক চিকিৎসক বদরুল আলমের প্রভাব এবং লালমনিরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোতাহার হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে শামীম আল মারুফের উত্থান ঘটে। এর ফলে হাসপাতালের কেনাকাটা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পান তিনি। শামীমকে নিজের পছন্দে প্রকল্পের হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক চিকিৎসক বদরুল আলম। তাঁর দাবি, শামীম ক্রয় কমিটির সদস্য ছিলেন না; কেনাকাটার দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল না।

একটি গণমাধ্যমকে চিকিৎসক বদরুল আলম বলেন, ‘এগুলো আসলে ঠিক নয়। দ্বীন মোহাম্মদ স্যার থাকতে…। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকল্পের জন্য একজন ড্রাইভার নিয়েছিলাম, শামীমকেও নিয়েছিলাম। তাদের কাজ তো তেমন নেই। তারা তো ক্রয় কমিটির সঙ্গে যুক্তও নয়। তারা দুর্নীতি করবে কীভাবে?’ কেনাকাটার দায়িত্ব কার ছিল, তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কেনাকাটা করেছেন সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ছিলেন ক্রয় কমিটির প্রধান। এরপর একজন উপপরিচালকও ছিলেন। গণপূর্ত বিভাগ অর্ধেক কেনাকাটা করে, আর আমরা অর্ধেক করি। শামীম তো ক্রয় কমিটির সদস্যই নয়। তার দায়িত্ব হিসাব দেখাশোনা।’

অভিযোগের সামগ্রিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তো অভিযোগকারীকেই খুঁজে পাচ্ছে না। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’ অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরি করি, তাই সবকিছু নিয়ে মন্তব্যও করা যায় না। তবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা এসে দেখে গেছেন। আমাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। আমরা তাদেরও বলেছি, আপনারা এ তদন্ত করছেন কেন? একটি অভিযোগের তো ভিত্তি থাকতে হবে।’ অভিযোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘মানুষকে হেয় করার জন্য এসব করা হচ্ছে।’

নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল শাখার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক চিকিৎসক জহিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধেও অভিযোগে সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। তবে তিনি নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘অভিযোগে আমাকে কীভাবে জড়ানো হবে? তদন্ত কমিটি আমার সাক্ষ্য নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে যারা এসেছিলেন, তাদের সামনে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি।’ কেনাকাটার দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রকিউরমেন্টের দায়িত্বে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আমার জানা মতে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তদন্ত কমিটি বলছে, কাজ চলছে
অভিযোগের তদন্তে হাসপাতালে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তিন সদস্যের কমিটি। তবে অভিযোগকারী কমিটির সামনে উপস্থিত হননি বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ও অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) চিকিৎসক মো. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ওখানে যারা যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তবে অভিযোগকারী তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হননি। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়েছিল।’ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় এ-সংক্রান্ত আমরা এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে তদন্তের কাজ চালিয়ে যাব।’

আসবাব, কম্পিউটার, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, হাসপাতাল শয্যা, বর্জ্য শোধনযন্ত্র ও স্নায়ু রেডিওলজি সরঞ্জাম কেনাকাটার পাশাপাশি কার্যালয়ের সামগ্রী না কিনেও বিল তৈরি, হাসপাতালের রাজস্ব খাতের মালামাল দিয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে আলাদা বিল তোলা, গণপূর্তের কাজের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং পুরোনো নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগ প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অভিযোগপত্রে বিভিন্ন খাতের ব্যয় ও কথিত অনিয়মের অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের দায়িত্ব ও কেনাকাটার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তদন্তের কাজ চলমান।

কালের আলো/জেএন/এমকে

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

পোশাকের দাম কমিয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে রপ্তানি আয় ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণও কমেছে। এতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯২ কোটি ৮০ লাখ ইউরোতে। অর্থাৎ আট মাসে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১৫৭ কোটি ৬৫ লাখ ইউরো।

দাম কমিয়েও বাড়েনি রপ্তানি
রপ্তানি আয় ধরে রাখতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা পোশাকের গড় দাম কমিয়েছেন। গত বছরের প্রথম আট মাসে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ছিল ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে দাম কমানোর পরও রপ্তানির পরিমাণ বাড়েনি। বরং গত বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইউরোপে বাংলাদেশ ৯০ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি পোশাক রপ্তানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার কেজিতে। এতে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে মন্দা, বাংলাদেশের পতন বেশি
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৈরি পোশাক আমদানির মোট মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আমদানির পরিমাণ কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে সামগ্রিকভাবে পোশাকের চাহিদা ও আমদানি কমেছে। তবে বৈশ্বিক আমদানি মূল্য কমার তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পতন অনেক বেশি।

ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী চীনের রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পঞ্চম বৃহত্তম সরবরাহকারী ভিয়েতনামের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশটি পোশাকের গড় দামও বাড়িয়েছে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। অন্যদিকে তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী তুরস্কের রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতের আয় কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া কম্বোডিয়ার রপ্তানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, পাকিস্তানের ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মরক্কোর ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক সরবরাহকারী দেশ। তবে চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় বাড়লেও বাংলাদেশের আয় কমেছে। ফলে ইউরোপের বাজারে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ব্যবধান আরও বেড়েছে।

কম দামের কৌশল কেন কাজে আসছে না
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম এখনো ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ভারতের তুলনায় কম। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নে সব দেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় দামও বাংলাদেশের পোশাকের চেয়ে বেশি। এরপরও কম দাম দিয়ে বাজার ধরে রাখার কৌশল প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও নিট তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের আমদানি ও চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা দাম কমানোর সুযোগ নিচ্ছেন। অন্য দেশগুলোও কম দামে পোশাক সরবরাহ করে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনির্দিষ্টকাল দাম কমিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে চীন ইউরোপের বাজারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে এবং আক্রমণাত্মক দামে পোশাক সরবরাহ করছে। চীনের সঙ্গে এই অসম প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশের উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং সংকটে উৎপাদন ব্যাহত
দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোও তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন ফজলুল হক। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা এবং কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পোশাকের নকশা ও ধরনে বৈচিত্র্য আনা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। ফজলুল হক সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিন্যাসসহ আরও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তাই তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এখন থেকেই সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

বাজারে পুনরুদ্ধারের আভাস, তবে রয়েছে শঙ্কা
তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিএএই) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রধান নির্বাহী মো. মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, বছরের শুরুতে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি আয় কমার যে প্রবণতা ছিল, জুলাই-আগস্টে তা কিছুটা কমেছে।

বিএভির পর্যালোচনা তুলে ধরে তিনি জানান, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছিল। তবে সংস্থাটির হিসাবে, মে-আগস্ট সময়ে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় আমদানি প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। তাঁর মতে, বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র ও বিস্তৃত হলে এই পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মহিউদ্দিন রুবেলের আশঙ্কা, যুদ্ধের প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাকবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত একদিকে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় ও প্রতিযোগিতার চাপে রয়েছে। বাজার ধরে রাখতে শুধু দাম কমানো নয়, উৎপাদনশীলতা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

শিম চাষে বাম্পার ফলনের আশা, লাভের অপেক্ষায় কৃষক

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
শিম চাষে বাম্পার ফলনের আশা, লাভের অপেক্ষায় কৃষক

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় শিম চাষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের তুলনামূলক কম উপদ্রব এবং সন্তোষজনক বাজারদরে চলতি মৌসুমে ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিমক্ষেত এখন সবুজ গাছে ও সাদা ফুলে ভরে উঠেছে। গাছে গাছে শিমের উপস্থিতিতে ফলন নিয়েও আশাবাদী চাষিরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাধবপুরে প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ পরিমাণ ১০ হেক্টর বেশি। মাঠের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবুজ শিমক্ষেতে ব্যস্ত কৃষকেরা
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শিমগাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। লতানো গাছে ঝুলছে শিম, ফুটেছে সাদা ফুল। ফসল ঘরে তোলার আগে গাছের যত্ন নিতে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম থাকায় এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন চাষিরা। কৃষকদের প্রত্যাশা, মাঠের বর্তমান অবস্থা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে উৎপাদন ভালো হবে। একই সঙ্গে বাজারে বর্তমান দাম ধরে রাখা গেলে শিম বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত আয় করা সম্ভব হবে।

কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা
জগদীশপুর এলাকার শিমচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম অব্যাহত থাকলে শিম চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। সাইফুল ইসলাম বলেন, সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে ভালো ফলন হওয়ার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত ন্যায্যমূল্য পাওয়াও জরুরি।

আবাদ বেড়েছে, এখন উৎপাদনের প্রত্যাশা
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে শিম চাষ হওয়ায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ফলন ও আয় শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে আবহাওয়া, ফসলের পরিচর্যা এবং বাজারদরের ওপর।
মাধবপুরের শিমচাষিদের মধ্যে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে চলতি মৌসুম তাঁদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

কাশিমপুরে গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
কাশিমপুরে গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট

গাজীপুরের কাশিমপুরের পশ্চিম শৈলডুবি এলাকায় সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

প্রথমে পাঁচ ইউনিট, পরে আরও তিনটি
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর প্রথম দলটি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। বর্তমানে মোট আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি জানা যায়নি
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ বাংলানিউজকে আগুনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গাজীপুরের কাশিমপুরের পশ্চিম শৈলডুবি এলাকায় অবস্থিত সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি