খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন জনবল, নতুন সক্ষমতা; পুলিশে ১৪ হাজার নিয়োগের উদ্যোগ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
নতুন জনবল, নতুন সক্ষমতা; পুলিশে ১৪ হাজার নিয়োগের উদ্যোগ

বাংলাদেশ পুলিশে জনবল বাড়াতে ১৪ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে চার হাজার এবং কনস্টেবল পদে ১০ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সরকারের লক্ষ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এসআই পদে এবার চার হাজার সদস্যই সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে নেওয়া হবে। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, এ পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। এবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য সংশোধন করা হয়েছে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি)।

  • চার হাজার এসআই সরাসরি, ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা
  • আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে নতুন পদ সৃষ্টি
  • মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারে নজর, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষের লক্ষ্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া কনস্টেবল পদে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ হবে।’ তিনি জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এসব পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের সুবিধার্থে পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে এবারই একবারের জন্য এভাবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতেও সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়ছে পুলিশের জনবল
পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, টহল, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সদস্য প্রয়োজন। এ বিবেচনায় চার হাজার এসআই ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের উদ্যোগ পুলিশের কার্যক্রমে জনবল বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।

কনস্টেবলরা মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা, টহল ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে এসআইরা অপরাধ তদন্ত, মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং আইন প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ফলে দুই পদে নতুন সদস্য যুক্ত হলে দায়িত্ব বণ্টন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নিয়োগের সুফল নিশ্চিত করতে নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদায়নও গুরুত্বপূর্ণ। জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাদারত্ব ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেওয়া গেলে নাগরিকদের পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করার সুযোগ বাড়বে।

এসআই পদে সরাসরি নিয়োগে বিশেষ ব্যবস্থা
প্রচলিত পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী, এসআই পদের অর্ধেক সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি অর্ধেক বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার নিয়ম ছিল। এবার চার হাজার পদেই সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ পরিবর্তন কার্যকর করতে পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, এবার একবারের জন্য এভাবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতেও সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এই ব্যবস্থায় নতুন প্রার্থীদের জন্য এসআই পদে যোগ দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে নতুন জনবল যুক্ত করে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা সদস্যদের পেশাগত অগ্রগতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ বজায় রাখা গেলে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কর্মপ্রেরণাও ধরে রাখা সম্ভব হবে।

অনুমোদন শেষে নতুন পদে নিয়োগের প্রস্তুতি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নতুন জনবল নিয়োগের প্রস্তাবটি কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করেছে। প্রথমে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে সেটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৪ হাজার নতুন পদের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি বুধবার প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। ১৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে গঠিত এ উচ্চপর্যায়ের কমিটি সরকারি দপ্তরে নতুন পদ সৃষ্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রস্তাব পর্যালোচনা ও অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাছাই ও নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার লক্ষ্য
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১৪ হাজার পদে নিয়োগ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আবেদন যাচাই, পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা গেলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা জোরদার করারও সুযোগ তৈরি হবে।

এএসপি পদেও ৪০০ থেকে ৫০০ কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা
এসআই ও কনস্টেবল নিয়োগের পাশাপাশি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদেও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এ জন্য একটি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে, যা ৫২তম বিসিএস হতে পারে। এর মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নিয়োগের পর তাঁদের মৌলিক প্রশিক্ষণের সময় কিছুটা কমিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশিক্ষণের সময় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হলে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা, আইন সম্পর্কে জ্ঞান এবং দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নিয়োগে যোগ্যতা ও যাচাই-বাছাইয়ে গুরুত্ব
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে কনস্টেবল, এসআই ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার সদস্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময়ে নিয়োগের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাবিত হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। মেধাভিত্তিক নির্বাচন, যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ সদস্য গড়ে তোলা গেলে বাহিনীর পেশাদারত্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে

দক্ষ নাবিক তৈরিই লক্ষ্য, প্রশিক্ষণে আপসহীন হওয়ার নির্দেশ সচিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
দক্ষ নাবিক তৈরিই লক্ষ্য, প্রশিক্ষণে আপসহীন হওয়ার নির্দেশ সচিবের

সমুদ্রের বুকে একটি ভুলের মূল্য অনেক বড়। সেখানে পেশাগত দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিধি সম্পর্কে জ্ঞান—সবকিছুরই পরীক্ষা হয় বাস্তব পরিস্থিতিতে। তাই মেরিন একাডেমিতে ভর্তি হওয়া মানেই শুধু একটি পেশায় প্রবেশ নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ নাবিক হয়ে ওঠার কঠিন প্রস্তুতি। আর সেই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি কিংবা মানের সঙ্গে আপসের সুযোগ নেই—এমন বার্তাই দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান এনডিসি।

  • আন্তর্জাতিক মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোকে
  • মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতের নির্দেশ সচিব আতাউর রহমানের
  • নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পেশাগত যোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে জোর

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোতে নাবিক ভর্তির প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি প্রশিক্ষণের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমির প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ভর্তি দিয়ে শুরু, দক্ষতার প্রমাণ প্রশিক্ষণ শেষে
মেরিন শিক্ষার সাফল্য শুধু ভর্তি কার্যক্রম কিংবা প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একজন প্রশিক্ষণার্থী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে কতটা প্রস্তুত, তাঁর কারিগরি দক্ষতা কেমন এবং পেশাগত যোগ্যতা কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত তাঁর কর্মজীবনের সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে একাডেমি প্রধানদের কঠোর প্রশিক্ষণের নির্দেশনা দেন সচিব। তিনি বলেন, ‘আপনারা যাদেরকে ভর্তি করবেন, তাদেরকে অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। প্রশিক্ষণের মান ও যোগ্যতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।’

তাঁর এই বক্তব্যটি মেরিন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রশিক্ষণার্থীদের কেবল পাঠ্যক্রম শেষ করলেই চলবে না; তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান বজায় রাখা এবং যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি।

আন্তর্জাতিক সমুদ্রে পরিচয় হবে কাজের মানে
বাংলাদেশি নাবিকদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) বিধিবিধান অনুসরণের সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচিব। তিনি বলেছেন, ‘ক্যাডেট ও ক্রুদের কোয়ালিটি বা মান এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে তারা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সকল নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিশ্ব দরবারে সাড়া ফেলতে পারে।’

তাঁর এই নির্দেশনার গুরুত্ব শুধু প্রশিক্ষণকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে চলার সক্ষমতা অপরিহার্য। তাই মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষণব্যবস্থায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রস্তুতি ও পেশাগত শৃঙ্খলাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের নাবিকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে তুলে ধরার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তরুণদের জন্য বড় সম্ভাবনা
দেশের তরুণদের জন্য আরও বেশি কারিগরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। সচিব বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের জন্য টেকনিক্যাল কাজের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। আর এর মূল চাবিকাঠি হলো আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষা।’ এই বক্তব্যে মেরিন শিক্ষার অর্থনৈতিক তাৎপর্য উঠে এসেছে। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা তরুণদের এমন পেশার জন্য প্রস্তুত করতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট কারিগরি জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের সক্ষমতা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মেরিন একাডেমিগুলো শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।

দক্ষ নাবিকের হাত ধরে অর্থনীতিতে অবদান
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ নাবিকদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অবদান রাখার সম্ভাবনা তৈরি করে। এ কারণে মেরিন খাতের উন্নয়নকে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত করে দেখছেন নৌপরিবহন সচিব। তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরকে আরও বেশি উন্নত করতে হবে। আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের নাবিক তৈরি করা, যারা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ও বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।’ সচিবের বক্তব্যের মূল সুর হলো, দক্ষ নাবিক তৈরি করা শুধু একটি প্রশিক্ষণগত দায়িত্ব নয়; এটি তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা এবং দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের সম্ভাব্য অবদান বাড়ানোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।

ভর্তি ফি নির্ধারণ, মান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ
সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মেরিন একাডেমিগুলোতে ভর্তির আবেদন ও প্রক্রিয়াকরণসহ সর্বমোট চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। ভর্তি কার্যক্রমের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করার বিষয়টিও সভার অন্যতম প্রধান আলোচ্য ছিল। কারণ ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পর প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলাই একাডেমিগুলোর মূল দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মানদণ্ড বজায় রাখা, ব্যবহারিক শিক্ষার কার্যকারিতা বাড়ানো এবং পেশাগত যোগ্যতা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সচিবের নির্দেশনাকে স্বাগত
সভায় উপস্থিত সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমির প্রধানরা সচিবের নির্দেশনাকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের মেরিন খাতকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তাঁরা। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে নির্দেশনাগুলোকে প্রশিক্ষণের বাস্তব ব্যবস্থাপনায় কার্যকরভাবে প্রতিফলিত করা। ভর্তি থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী নাবিক তৈরির লক্ষ্য আরও সুসংহত হতে পারে। সনদ একজন প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষা সমাপ্তির পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্রে তাঁর সক্ষমতার পরিচয় দেবে অর্জিত দক্ষতা। সচিবের নির্দেশনার মূল তাৎপর্যও এখানেই—বাংলাদেশের মেরিন একাডেমিগুলোকে এমন নাবিক তৈরি করতে হবে, যাঁদের যোগ্যতা ও কাজের মান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সক্ষমতাকে তুলে ধরবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

শয্যা ৫০০, রোগী আড়াই হাজার; খুলনা মেডিকেলে চরম দুর্ভোগ

খুলনা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
শয্যা ৫০০, রোগী আড়াই হাজার; খুলনা মেডিকেলে চরম দুর্ভোগ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) শয্যাসংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন দুই থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ির পাশ এমনকি চলাচলের পথেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা এ হাসপাতাল। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রয়োজনের তুলনায় অবকাঠামো, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল কম থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে শত শত রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় তোশক কিংবা পাটি বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সিঁড়ির পাশ ও মানুষের চলাচলের পথেও রোগীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে রোগীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

কলারোয়া থেকে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা আসমা বেগম বলেন, তাঁর সন্তান হাম রোগে আক্রান্ত। দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করলেও অনেক চেষ্টা করেও একটি শয্যা পাননি। বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতেই সন্তানের চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি।

দৌলতপুর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসা ফিরোজও শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে অবস্থানকালে তাঁদের দুটি মুঠোফোন চুরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল এলাকায় চোর ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই।

চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা না থাকায় অনেককে ঠান্ডা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় অপেক্ষা করতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। শয্যাসংকটের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আড়াই হাজার রোগীর সেবা দেওয়া কঠিন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ৫০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলে সীমিত সামর্থ্যে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হলেও দুই হাজারের বেশি রোগীর নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘আমরা রোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারি না। মানবিক কারণে সবাইকে ভর্তি নিতে হয়। কিন্তু ৫০০ শয্যার জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং চিকিৎসক-নার্স দিয়ে আড়াই হাজার রোগীর সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব।’

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামো ও চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

দুই হাজার শয্যার দাবি

হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ।

তাঁর মতে, হাসপাতালটিকে দুই হাজার শয্যায় উন্নীত করা এবং সে অনুযায়ী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিপুলসংখ্যক রোগীকে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর চাপ সামলাতে শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থলটিতে রোগীদের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ভবন আছে, শয্যা আছে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমেটরি এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরও স্থাপন করা হয়েছে। তবু চিকিৎসক সংকটে উদ্বোধনের আট বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ফলে এসব কেন্দ্রে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে ছুটতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালে।

২০১৮ সালে উদ্বোধন, আট বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা নেই
গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কেন্দ্রগুলো ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় এখনো সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রগুলো রয়েছে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রামে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকায় এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০টি শয্যা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এবং শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনবলসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ভবন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত, মিলছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
প্রতিটি কেন্দ্রের তিনতলা ভবনে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শয্যা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবহারের জন্য রয়েছে জেনারেটর।

কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে স্থানীয় জনগণ যে ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার ঝুঁকি ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় কাছাকাছি প্রসূতিসেবার ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই
দুধসর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল বলেন, এলাকার মা ও শিশুদের চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। ভবন ও শয্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটিতে সেবার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। mকাঁচেরকোল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে এলাকার হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ
ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার উদ্যোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব হবে।

দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি স্থানীয়দের
মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চারটি কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করে সেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের জরুরি চিকিৎসা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা গেলে দূরের হাসপাতালে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি