খুঁজুন
                               
, ,
           

৮ বছর কোমায়, চাকরির শেষ দিনে কর্নেল হলেন তাছাওয়ার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
৮ বছর কোমায়, চাকরির শেষ দিনে কর্নেল হলেন তাছাওয়ার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে যান কোমায়। এরপর টানা ৮ বছর যাবত ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন। হাত-পা নাড়াতে পারলেও গভীর কোমায় আচ্ছন্ন তিনি।

কিন্তু ঘড়ির কাঁটা যে থেমে নেই। প্রতিটি মুহুর্তে জীবন থেকে একটি একটি করে সেকেন্ড, মিনিট আর ঘন্টা হারিয়ে গেছে।

ভাগ্যের নির্মমতায় জীবনকে সাফল্যে রাঙানোর অজুত সম্ভাবনার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি। হাসপাতালের শয্যায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে চাকরি জীবনের শেষ দিনে এসে পৌঁছলেন।

বিদায় লগ্নে বিরল এক সম্মান পেলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদ থেকে কর্নেল হিসেবে পদোন্নতির সম্মানে ভূষিত করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য এ মানবিক দৃষ্টান্তের খবর দূর থেকে কাছের মানুষের কাছেও এসেছে খুশির খবর হয়ে।

সেনাপ্রধানের মহানুভবতার এ সম্মানে আপ্লুত কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজার জীবন সঙ্গী মোসলেহা মনিরা রাজাও।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালের আলো’র সঙ্গে আলাপে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বলেছেন, ‘আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি মাননীয় সেনাপ্রধান আমার স্বামীকে এমন সম্মান দিবেন। এ সম্মানে আমরা গর্বিত। বিদায়বেলায় প্রত্যাশার চেয়ে এটি অনেক বড় এক অর্জন।’

মোসলেহা মনিরা রাজা কথা বলছিলেন আর চোখের কোণে চিকচিক করছিল অশ্রুবিন্দু। আপ্লুত কন্ঠে তাঁর উচ্চারণ-‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে এ বিদায় আমাদের জন্য সুখকর হয়েছে।

আমি আশাবাদী একদিন আমার স্বামী সুস্থ হয়ে উঠবেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তিনি নিজেও তাঁর সম্মান ও মর্যাদার কথা অনুধাবন করতে পারবেন। সেই অপেক্ষাই এখন আমাদের।’

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা মরমি কবি হাছন রাজার প্রোপুত্র। ১৯৮৯ সালের ২৩ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাজোয়া বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

দীর্ঘ চাকরি জীবনে ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীন ইরাক-কুয়েত ও ২০০৭ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় অর্ধ শতাধিক দেশ ঘুরার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

চাকরি জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও লেখালেখিতে হাত পাঁকিয়েছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা। কবি হাছন রাজার জীবন ও কর্ম নিয়ে হাছন রাজা সমগ্র, মেজর জেনারেল এম এ জি ওসমানিকে নিয়ে ‘ও জেনারেল মাই জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসসহ একাধিক বই লিখেছেন তিনি।

কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজার জীবন সঙ্গী মোসলেহা মনিরা রাজা কালের আলোকে জানান, তাঁর স্বামী সর্বশেষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হিস্ট্রি প্রজেক্টে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৩ এর ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সেদিন সন্ধ্যায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। ওই বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে মে মাসে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর যাবত তিনি কোমায় রয়েছেন।

সিএমএইচের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর স্ত্রী আরও বলেন, ‘সিএমএইচে যখন যে ধরণের সাপোর্ট চেয়েছি আল্লাহর রহমতে পেয়েছি। প্রায় ৮ বছর যাবত এক কঠিন সংগ্রাম করে চলেছি।

তিন সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেই সব রকমের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। অন্য কোথাও হলে সম্ভবত এরকমের সুযোগ সুবিধা পেতাম না।’

সিএমএইচের আইসিইউ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ মজুমদার জানান, ‘কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজার এ অসুস্থতাকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় হাইপোস্কিক স্মিমিক ইনজুরি টু ব্রেইন ইফেক্টস।

আমাদের হার্ট বন্ধ হয়ে ব্রেইন সার্কুলেশন বন্ধ হয়ে গেলে ৫ মিনিটের মধ্যে ব্রেইনের সেলগুলোতে চেঞ্জ আসতে থাকে। হার্টের মধ্যে ইফেক্ট পড়ে ৭ থেকে ১৫ মিনিটের মাথায়।

ওর (দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা) হার্ট ফিরে এসেছে, ব্রেইন ফিরে আসেনি। পুরো প্রক্রিয়ার সময় তাঁর ব্রেইনে সার্কুলেশন ৫ মিনিটের অতিরিক্ত ছিল কিন্তু ১৫ মিনিটের কম ছিল। এজন্য ওর ব্রেইনের নিচের অংশ ভালো।

কিন্তু বাইরের যে অংশগুলো আমাদের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে জড়িত সেই এরিয়ার সেলগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়নি। এজন্য জীবন চালানোর জন্য বেসিক বডির প্রটেকটিভ সিস্টেম ভালো থাকলেও হাইয়ার সাইকোলজিক্যাল ফাংশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলবে কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলবে কবে?

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনো নিশ্চিত হয়নি কোনো অর্থই। বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ অর্থায়ন কাঠামো এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আরও ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ও বাজেট সহায়তা চেয়েছে সরকার। অন্যদিকে, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে। সব মিলিয়ে অর্থায়নের আলোচনায় রয়েছে ১৮.২৭ বিলিয়ন ডলার। তবে কোনো প্রস্তাবই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের অর্থায়ন প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সহযোগিতার আশ্বাস মিললেও অর্থের পরিমাণ, ঋণের শর্ত এবং অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বড় অঙ্কের অর্থায়নের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা কবে বাস্তবে রূপ নেবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • বিশ্বব্যাংকের ১৩.৭৭ ও আইএমএফের ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদনের অপেক্ষায়
  • বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে
  • ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়

বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রস্তাব
নিয়মিত সহায়তার বাইরে আগামী তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পেতে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিশেষ কাঠামো প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামের এই উদ্যোগে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সচল রাখা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং জরুরি অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সরবরাহ ও বাণিজ্যের সহনশীলতা বাড়াতে চার বিলিয়ন ডলার, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানে দেড় বিলিয়ন ডলার, আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং সংস্কারে তিন বিলিয়ন ডলার এবং জরুরি ও যৌথ অর্থায়নের জন্য দেড় বিলিয়ন ডলার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। ব্যাংককের বার্ষিক সভাতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাঠামোটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কারিগরি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবটির অনুমোদন, অর্থায়নের শর্ত ও অর্থ ছাড়ের সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়।

চলতি অর্থবছরের ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারও অনিশ্চিত
দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ অর্থায়নের পাশাপাশি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার প্রকল্প অর্থায়ন এবং এক বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। এই অর্থায়নও এখনো অনুমোদিত হয়নি।

সরকারের পাইপলাইনে থাকা ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও খাদ্যনিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্যোগ। তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুবিধা পেতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের আইডা গ্যারান্টির প্রস্তাব রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ফিন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এর জন্য চাওয়া হয়েছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। খাদ্যনিরাপত্তায় জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডর, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড এবং রাজধানীর চারপাশের নদী ও খাল পুনরুদ্ধার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়ন পাওয়া গেলে যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা মিলতে পারে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকাভুক্তি অর্থ ছাড়ের নিশ্চয়তা দেয় না; এ জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও অনুমোদন সম্পন্ন হতে হবে।

আইএমএফের ঋণে বড় শর্ত অর্থনৈতিক সংস্কার
আইএমএফের সঙ্গে সম্ভাব্য ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। ১৬ অক্টোবর ব্যাংককে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচনায় নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলবে।

আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, রাজস্ব আহরণ জোরদার, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কর্মসূচিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এখানে মূল বিবেচ্য শুধু নতুন ঋণের পরিমাণ নয়; বরং অর্থনৈতিক নীতিতে কী পরিবর্তন আনা হবে এবং সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি দেখাতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আলোচনা এগোলেও অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারেও অর্থায়নের চেষ্টা
বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিনিধিদল ইউরোক্লিয়ার, সিটি, ফিচ রেটিংস, নিউইয়র্ক ফেড, এইচএসবিসি, ব্যাংক অব আমেরিকা ও জেপি মরগানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এসব আলোচনায় বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং, সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামষ্টিক অর্থনীতি গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের সংস্কার, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হলেও নতুন অর্থায়নের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা অর্থ ছাড়ের সময়সীমা জানানো হয়নি।

অর্থায়ন পেলেই কি কাটবে অর্থনীতির চাপ?
দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থরতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন বেড়েছে। নতুন অর্থায়ন বাজেটের চাপ সামলানো, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণ পেলেই অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের মতে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অর্থায়ন তুলনামূলক কম ব্যয়ে পাওয়া যায়। যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনীতির প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

তবে তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির তিন নেতার সঙ্গে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তবে তাঁর পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, বৈঠকটি ছিল গোপন এবং এতে রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত তৃতীয় ব্যক্তি কে ছিলেন কিংবা এ বিষয়ে তাঁর দাবির পক্ষে কী তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তা পোস্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন জামায়াত নেতাদের ভারতবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় কোনো কূটনীতিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠক এক বিষয় নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, তাঁরা কী কারণে এবং কোন স্বার্থে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে এমন বৈঠকে অংশ নেবেন।

রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বৈঠকের প্রকৃতি, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক তৈরির উদ্দেশ্যে ওই বৈঠক হয়ে থাকতে পারে। তিনি বিষয়টিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ হিসেবেও উপস্থাপন করেন।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি নৈতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে বৈঠকের বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তবে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে—রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যও তাঁর উত্থাপিত অভিযোগের অংশ। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কথিত গোপন বৈঠক নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য নথি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। এ ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ার, এ টি এম মাছুম কিংবা জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে বৈঠকে কথিত ভারতীয় কর্মকর্তার পরিচয় ও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বঙ্গভবনে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি সেরা শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
বঙ্গভবনে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি সেরা শিক্ষার্থীরা

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশ ও নতুন স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।সম্প্রতি জারি করা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য বঙ্গভবন পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি দল।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে দলটি বঙ্গভবন পরিদর্শনে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ পায়। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পায়।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাদের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশ ও নতুন স্বপ্নের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব উঠে আসে।রাষ্ট্রপতি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারলে একদিকে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, অন্যদিকে দেশ ও জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি