খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সেনাবাহিনীকে নিয়ে গুজবের ‘মাস্টার মাইন্ড’ কারা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীকে নিয়ে গুজবের ‘মাস্টার মাইন্ড’ কারা?

কালের আলো রিপোর্ট:

বাঙালি জাতির গর্ব ও আত্মমর্যাদার স্মারক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে ছড়ানো হচ্ছে একের পর এক গুজব। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার পাশাপাশি দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির ধারাবাহিক অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে একটি চক্র। মূলত দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না দাঁড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় ঐতিহাসিক সাহসী ভূমিকা পালন করায় পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভিত্তিহীন প্রচারণার মাধ্যমে বারবার আঘাত করার অপচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে ওঠেছে।

  • মনগড়া, মিথ্যা ও বানোয়াট আষাঢ়ে গল্প
  • ল্যাপটপ নিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার নিন্দনীয় অপচেষ্টা
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনাপ্রধানের ফেক অ্যাকাউন্ট, বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ

মনগড়া, মিথ্যা ও বানোয়াট আষাঢ়ে গল্প তৈরি করা হচ্ছে সেনাপ্রধানকে নিয়েও। তাঁর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরির মাধ্যমেও প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। অরাজক একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার পায়তারা হচ্ছে একদিন-প্রতিদিন। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও পেশাদার সুশৃঙ্খল একটি বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এই বাহিনীর নামে আজগুবি গল্প তৈরি করে ফায়দা তোলার চেষ্টায় লিপ্ত ‘মাস্টার মাইন্ড’দের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের বিবেকবান ও সচেতন প্রতিটি মানুষ।

জানা যায়, দেশের প্রতিটি দুর্যোগ-সঙ্কট দক্ষ হাতে সামাল দিয়ে বারবার প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সম্প্রতি দেশের ভয়াবহ বন্যা কবলিত ১১টি জেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে তাঁরা মানবিকতার অনন্য এক উদাহরণ তৈরি করেছে। বন্যার্তদের রক্ষায় বীরচিত্তেই তাদের একের পর এক কার্যকর উদ্যোগ সফলতার সঙ্গেই বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁরা আবারও প্রমাণ করেছেন দেশের মানুষের কষ্ট ও দুর্দশা লাঘবে কখনও পিছপা হতে শিখেননি। চলমান এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, বিশ্বস্ততা ও দক্ষতার সঙ্গে নিরলসভাবে সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু এরপরেও বিভ্রান্তিমূলক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও প্রোপাগাণ্ডা চালানোর হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নাম-পরিচয়হীন, আনাড়ি ও ভূইফোঁড় কতিপয় সোশ্যাল মিডিয়াকে।

মূলত প্রযুক্তির ‘আদর্শ ব্যবহার’ নিশ্চিত না হওয়ায় গুজব ভয়াবহ আকার নিয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, হিটলারের জামানায় গুজবের উদ্ভাবক তাঁর গুণধর তথ্যমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস নিজেও এখন বেঁচে থাকলে কৌশলী বা আনাড়ি-অথর্ব মার্কা গুজবের এসব প্রবণতায় রীতিমতো লজ্জা পেতেন! এ চক্রটির বিকৃত, ভন্ডামি, কপটতার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লব বিরোধী চেতনাকে ম্লান করতে অপকৌশল নেটিজেন দুনিয়াতেও ধিক্কৃত হয়েছে। কথিত কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ধূর্ত, নীচ ও মিথ্যাবাদীর যোগ্য চরিত্রায়ণে তাদের মতলববাজি ধরা পড়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একাধিকবার নিজের বক্তব্যে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘অনেক ধরনের গুজব চলছে। আমার সেনাবাহিনী নিয়ে, সেনানিবাসে বিভিন্ন কিছু হচ্ছে এ ধরনের রটনা করা হচ্ছে। এসব গুজবে আপনারা কান দেবেন না। এ ধরনের গুজব ছড়াতে সাহায্য করবেন না। প্যানিক থেকেই গুজব ছড়াচ্ছে, ইচ্ছাকৃত নয় সেটি আমি জানি। গুজব থেকে নিবৃত্ত থাকলে এটি ভালো হবে। কোনো ধরনের নিশ্চিত না হয়ে এ ধরনের সংবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। তাহলে এটি আমাদের সাহায্য করবে।’

সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে সচেতন নাগরিকেরা হারানো রাষ্ট্রীয় সম্পদের কিছু অংশ ওই দিনই উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। অথচ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও’র মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর তুলে ধরেছে প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ।

তাঁরা বলছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেপথ্য কণ্ঠ (ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস) যুক্ত করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ ভবন এলাকায় ল্যাপটপ হাতে হাসিমুখে হেঁটে যাচ্ছেন একজন সেনাসদস্য। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েসে দুটি ল্যাপটপ সেনাসদস্য অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়। এভাবে ওই সেনাসদস্য ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করা হয়। মূলত ওই দিন কিছু সচেতন নাগরিক সেনাসদস্যদের কাছে একটি ল্যাপটপ ও একটি স্ক্যানার হস্তান্তর করেন, যা ওই দিনই নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে জমা করেন সেনাসদস্য। পরে উদ্ধার করা অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে ল্যাপটপ ও স্ক্যানারটি জাতীয় সংসদ ভবনের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনী সংক্রান্ত এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

সেনাপ্রধানের নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভুয়া’ আইডি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভুয়া’ আইডি বা অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- ফেসবুক বা অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত কোন অ্যাকাউন্ট বা আইডি নেই। ফলে এসব ভুয়া আইডি বা অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর সবাইকে সতর্ক করে বলেছে, ‘সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের ব্যক্তিগত কোন অ্যাকাউন্ট নেই। এপ্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনী প্রধানের পরিচয়/ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন ফেক অ্যাকাউন্ট হতে প্রচারিত পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

খুলনায় সেই যুবকের মৃত্যু নিয়ে গুজব
খুলনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তিমূলক পোস্ট করায় স্থানীয় জনতা শ্রী উৎসব (২২) নামে এক এক যুবককে আটক করে। এরপর তার প্রকাশ্য শাস্তি দাবি করে স্থানীয় লোকজন কেএমপি’র ডিসি (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে সেখানে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ স্থানীয় জনগণ উপস্থিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ওই যুবককে প্রকাশ্যে শাস্তি প্রদান করার জন্য আন্দোলন করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা কেএমপি’র ডিসি (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে প্রবেশ করে সেই যুবকের ওপর আক্রমণ চালায়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

আইএসপিআর জানায়, ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত প্রদানের কারণে ওই যুবকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাঁর সুস্থতা সাপেক্ষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সর্বদা সচেষ্ট। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ওই ব্যক্তির মৃত্যু সংক্রান্ত গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো

কালের আলো/এমএএএমকে

কোরবানির দুয়ার থেকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন চিড়িয়াখানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
কোরবানির দুয়ার থেকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন চিড়িয়াখানায়

ভাগ্য কাকে কোথায় নিয়ে যায়, তা যেন আরও একবার মানব জাতিকে ভাবতে বসালো নারায়ণগঞ্জের খামারের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পে’র ঘটনা। কোরবানির দুয়ার থেকে পশুটির ঠিকানা এখন মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম রাখায় রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি। চেহারা এবং চুলের ঢং অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় সেটির নামই রেখে দেওয়া হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ব্যাপক আলোচনায় আসার ফলে দ্রুতই চড়া দামে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল মহিষটি। কিনেছিলেন কেরাণীগঞ্জের এক ক্রেতা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিনে কোরবানি দেওয়ার জন্যই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চড়া দামে কিনেছিলেন ওই ক্রেতা।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত দিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে মহিষটি ফিরিয়ে নিয়ে বুধবার (২৭ মে) কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর থেকে মহিষটি বিকেল সাড়ে ৫টার সময় কেরানীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। সেখানে থেকে নেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানায়।

বুধবার (২৭ মে) রাতে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ট্রাম্প নামের মহিষটাকে রাতেই চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। আমরা একটা শেডে ওটাকে রাখার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তার খাওয়ার সব ব্যবস্থা করেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।’

সূত্রে জানা যায়, মহিষটিকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে টাকা ফেরত দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে আগের মতোই লালন-পালন করা হবে।

মূলত সম্ভাব্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে ক্রেতার কাছ থেকে সেটি ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে। আপাতত মহিষটিকে আগের মতোই নিবিড় পর্যবেক্ষণে লালন-পালন করা হবে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, মহিষটিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও নাকি সেটিকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। কিন্তু পরে জানা যায়, পোস্ট দেওয়ার খবর ভুয়া।

তবে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প নয়, এবারের কোরবানির হাটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নামেও একটি মহিষ আছে। এছাড়া বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমারের নামে রয়েছে একটি গরুও।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ