খুঁজুন
                               
, ,
           

আজান-কেরাতের সুমধুর সুরশৈলী, আরও মজবুত করবে তিন বাহিনীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
আজান-কেরাতের সুমধুর সুরশৈলী, আরও মজবুত করবে তিন বাহিনীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

সুললিত কণ্ঠে কল্যাণের দিকে ধাবিত হওয়ার আহ্বান হচ্ছে আজান। সুমধুর এই আহ্বান নিয়ে মহাকবি কায়কোবাদ কবিতায় ছন্দে উচ্চারণ করেছিলেন- ‘কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি। মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী। কি মধুর আযানের ধ্বনি…।’ মনোমুগ্ধকর আজানের বাণী আর হৃদয়কাড়া ছন্দের ঝংকারে কেরাতের অসাধারণ সুরশৈলীর  মোহনীয়তায় উজ্জীবিত করে মুমিনের অন্তর। এই আজানই মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র।

ইসলামের অন্যতম এই দু’নিদর্শন বা প্রতীক নিয়েই বরাবরের মতো এবারও আয়োজন করা হয় চলতি বছরের আন্ত:বাহিনী আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতার। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদর দপ্তর লজিস্টিকস্ এরিয়া এর ব্যবস্থাপনায় ঢাকা সেনানিবাসস্থ ৯০১ সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপ, ইএমই এর মসজিদে সমাপনী অনুষ্ঠানে ঐশীপ্রেরণাজাত নিদর্শনে সবাইকে মুগ্ধ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দল আর রানারআপ হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দল।

বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সৈনিকদেরকে শুদ্ধ উচ্চারণ ও সুললিত কণ্ঠে আজান ও কেরাত চর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় নির্দেশনা প্রতিপালনই নয় বরং মুসলিম উম্মাহর হাজার বছরের অনুপম সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রতিচ্ছবিও ফুটে ওঠে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সেনাবাহিনীর লজিস্টিকস এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউছুর রহমান খান। এ সময় ধর্ম প্রতিপালনের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন তিনি। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সকল পদবীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) থেকে চলতি বছরের আন্ত:বাহিনী আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মোট ৩টি দল সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী অংশগ্রহণ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার এর এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের বিকাশ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও মজবুত হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প দক্ষভাবে পরিচালনা করায় সরকারের অপচয় কমেছে। প্রকল্পের পাইলট প্রজেক্টে ১ দশমিক ২ শতাংশ ভুল হয়েছে, যা খুবই কম। সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন না থাকলে সেখানে লস হয়।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রতিটি কাজে পার্টনারশিপ ডেভেলপ করা হয়েছে। এটা শুধু বন্যা পুর্নবাসনের কারণে নয়, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির নতুন মডেল চালু করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

একই সঙ্গে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরো সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রফতানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানান।

একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাবানই হোক, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের-তারা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন-বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ এমন এক দিন, যা আমাদের বুকফাটা হাহাকার আর তীব্র বেদনার অতল গহ্বরে নিয়ে যায়। বক্তব্যের শুরুতে আমি তীব্র কষ্ট-বেদনা নিয়ে এবং গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছ, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জোরপূর্বক গুমের শিকার সকল মানুষকে। স্মরণ করছি, সেইসব মা-বাবা, ভাই-বোনদের যারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন-এই বুঝি তাঁদের সন্তান, স্বজন ফিরে এলো। স্মরণ করছি সেই স্ত্রীকে, যিনি প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে একা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। স্মরণ করছি সেই সন্তানকে, যার শৈশব পেরিয়ে গেছে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু বাবা তাকে কোলে তুলে নিতে আর ফিরে আসেননি।

গুমের শিকার সকল ব্যক্তি, পরিবার, স্বজন ও সহযোদ্ধার প্রতি জানাই আমার গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা। গুম-খুনের শিকার সকল মানুষের পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। আমি তাদের রূহের চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করি।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকটিকেই একসঙ্গে ভুলুণ্ঠিত করা হয়।

বিগত দেড় দশকে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, গোপনে খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে। আমরা ভুলে যাইনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত মানুষকে। যাদের পরিবারের প্রতিটি রাত কাটছে বুকভরা বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষা নিয়ে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিককে বছরের পর বছর অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে, আলো-বাতাসহীন আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সৌভাগ্যক্রমে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। এ দেশে আজও এমন বহু মানুষ আছেন, যারা আজ পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘যে গণতন্ত্র, সাম্য, বাকস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বাধীন দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চূড়ান্ত অন্যায় আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে একটা ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায়।’

প্রয়াত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই সময়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, যিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আজ এখানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত আছেন। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যে সত্য বেরিয়ে এসেছে, তা শুধু বেদনাদায়কই নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১,৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া, বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক গুম ও গোপনে খুন করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এই বর্বর, পৈশাচিক ও ঘৃণ্য কাজগুলো বেশি করা হয়েছে।’

কমিশনের প্রতিবেদন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে, কিন্তু পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘Victims first, Action now’। গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আর্ন্তজাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারের কাজ স্বচ্ছ ও আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।’

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। যেসব পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে-কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে-কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে—কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে-কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ। মনে রাখতে হবে, একটি দেশের উন্নয়ন ও সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে-সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের-তা সে যতো বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন- বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ