খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিবাদের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার না মানা জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার না মানা জামায়াত আমির

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনীতিতে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে কখনও এই দলটি রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারেনি। রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে অবশ্য কিছু সমাবেশে করেছিল সোহরাওয়ার্দীতে। দলটির একক সমাবেশ ছিল কেবলই বায়তুল মোকাররম, পল্টন ময়দানসহ বিভিন্ন জায়গায়। এবারই প্রথম শনিবার (১৯ জুলাই) ‘সাত দফা’ দাবিতে এককভাবে জাতীয় সমাবেশ করলো দলটি। ইতিহাসে প্রথমবার এই সমাবেশের মাধ্যমে রাজনীতিতে রীতিমতো নতুন ইতিহাস তৈরি করলো তাঁরা। জানান দিলো নিজেদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। কর্মী-সমর্থকদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে বহি:প্রকাশ ঘটালো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিমত্তার। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো তো বটেই এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও জামায়াতের এই জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে একটি নতুন বার্তা পেয়েছে। জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- ‘পুরোনো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না।’ অমিত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করলেন-‘আগামীর বাংলাদেশে আরেকটা লড়াই হবে, ইনশাআল্লাহ। একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইনশাআল্লাহ। এই দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার জন্য যা দরকার, আমরা তারুণ্য এবং যৌবনের শক্তিকে একত্রিত করে সেই লড়াইয়েও জিতব ইনশাআল্লাহ।’

আমিরে জামায়াত যে লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেন তিনি যে সেই লড়াইয়ের অগ্রভাগেই থাকবেন এবং তাঁর দৃঢ় মনোবল ও অসীম সাহস রয়েছে সেই প্রমাণও মিলেছে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ এই সমাবেশে। জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়েই মঞ্চে লুটিয়ে পড়েছিলেন তিনি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি বুকে হাত দিয়ে প্রথম দফায় মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। দু:সহ গরমে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোট দুই দফায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পাশে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ফেলেন। এর মিনিট খানেক বাদে জামায়াত আমির উঠে দাঁড়ান এবং আবার বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু আবারও পড়ে যান তিনি। এ সময় দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘গরমের জন্য আমিরে জামায়াত সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার আর বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না।’ কিন্তু যার সাহস অতুলনীয়, দেশপ্রেম যার অস্থিমজ্জায় গ্রোথিত তিনি কী আর বিচলিত হতে পারেন? কারও কথা না শোনে মঞ্চে ডায়াসের পাশে পা মেলে বসে বক্তব্য দিলেন তিনি। এসময় তার পাশে চিকিৎসকদেরও দেখা গেছে। বসে বসেই প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়েই শেষ হয় দলটির ‘জাতীয় সমাবেশ’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজধানীতে জামায়াতের স্মরণকালের বিশাল এই জনসমুদ্র আদতে দেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। আমিরে জামায়াতের স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ের দৃঢ়তা দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার শক্তি-সাহসে করবে আরও দুর্বার এমনটিই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীতে বড় বড় সমাবেশ করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিভিন্ন ইস্যুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করেছে। বিএনপি নয়াপল্টনে কয়েক দফা সমাবেশ করলেও জামায়াতে ইসলামী কেবল কারাবন্দি নেতা (বর্তমানে মুক্ত) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পুরানা পল্টন মোড়ে একটি সমাবেশ করেছিল। তবে এবারই প্রথম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইসলামী দলগুলো ও অন্যান্য সমমনা দলগুলোর ঐক্যকে আরও সুসংহত করতে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার অভূতপূর্ব এক জাগরণ ঘটিয়ে ভোটের মাঠে প্রকৃত ফ্যাক্টর হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলো। পাল্টে দিলো রাজনীতির হিসাব-নিকাশ।

জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতার সময় হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর জামায়াত আমিরকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে হেঁটে বের হন তিনি। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতির জন্য মনের কথাগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় পুরো বলতে পারিনি। যারা আমার অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন হয়েছেন ও দোয়া করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি সবসময় চেয়েছি- আমার দ্বারা যেন এই দেশ কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এখন সময়ের দাবি। এটি শুধু জামায়াত নয়, সব রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন। কারণ, দেশ যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তাহলে কোনো কিছুই সঠিকভাবে এগোবে না।’

নতুন ব্যবস্থায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাক


জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘যাদের ত্যাগ এবং কুরবানির বিনিময়ে, স্বৈরাচারের কঠিন অন্ধকার যুগের যাঁতাতলে পিষ্ঠ হয়ে যারা তিলে তিলে দুনিয়া থেকে নির্যাতিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যারা লড়াই করে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন; আমরা তাদের সবার কাছে গভীরভাবে ঋণী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, আল্লাহ যেন তাদের ঋণ পরিশোধ করার শক্তিটাও ততদিন আমাদের দান করেন।’

‘শহীদ আবু সাঈদরা যদি বুক পেতে না দাঁড়াতো, এ জাতির মুক্তির জন্য যদি বুকে গুলি লুফে না নিত, হয়তো আজকের এই বাংলাদেশটা আমরা দেখতাম না। ইতোমধ্যে হয়তো আরও অনেক মানুষের জীবন ফ্যাসিবাদীদের হাতে চলে যেত। ২৪-এ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধটা যদি না হতো তাহলে আজকে যারা বিভিন্ন ধরনের কথা এবং দাবি-দাওয়া পেশ করছেন, তারা তখন কোথায় থাকতেন?’

জামায়াতের আমির বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালার এই নেয়ামত পাওয়া তাদের যেন অবজ্ঞা এবং অবহেলা না করি। শিশু বলে তাদের যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করি। অহংকারে অন্য দলকে যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করি। অরাজনৈতিক ভাষায় আমরা যেন কথা না বলি। যদি এগুলো আমরা পরিহার করতে না পারি, তাহলে বুঝতে হবে যারা পারবেন, ফ্যাসিবাদের রোগ তাদের মধ্যে নতুন করে বাসা বেঁধেছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের বীজতলাটা আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ।

ডায়াসের পাশে বসে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করবো ইনশাআল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। বলছিলাম, জামায়াতে ইসলামী যদি আল্লাহর ইচ্ছা এবং জনগণের ভালোবাসায়, বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে মালিক হবে না, সেবক হবে ইনশাআল্লাহ।’

‘লক্ষ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে কোনো এমপি, কোনো মন্ত্রী আগামীতে সরকারি প্লট গ্রহণ করবে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন কোনো গাড়ি চড়বে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী তার নিজের হাতে কোনো টাকা চালাচালি করবে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী যদি তার নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সামনে তারা তার প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য হবেন’- যোগ করেন তিনি।

আমিরে জামায়াত বলেন, ‘চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করবো না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি আমরা সহ্য করবো না। আজীবন সবার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছি, জেল-জুলুমের পরোয়া করি নাই। আমার আফসোস, ২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিতে গিয়ে যারা জীবন দিয়ে শহীদ হলো-আমি তাদের একজন হতে পারলাম না। আপনাদের কাছে দোয়া চাই, ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়ে তোলার জন্য আগামীতে যে লড়াই হবে, আমার আল্লাহ যেন সেই লড়াইয়ে আমাকে একজন শহীদ হিসেবে কবুল করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় শহীদ নেতৃবৃন্দ, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে, শাপলা গণহত্যা, সারাদেশের গণহত্যা, চব্বিশের গণহত্যা যারা করেছে, তাদের সবার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে। এদের বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত পুরানো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এতগুলা মানুষ এমনি এমনি জীবন দেয়নি। জীবন দিয়েছে জাতির মুক্তির জন্য। যদি পুরোনো সবকিছুই টিকে থাকবে, তাহলে কেন তারা জীবন দিয়েছিল? যারা ওই বস্তাপঁচা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আবার নিতে চান, তাদের আমরা বলি, জুলাইযুদ্ধ করে যারা জীবন দিয়েছে আগে তাদের জীবনটা ফেরত এনে দেন। যদি শক্তি থাকে ফেরত এনে দেন। আপনারা পারবেন না। যেহেতু পারবেন না, কাজেই নতুন ব্যবস্থায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয় সমাবেশ যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। সমাবেশে অন্যান্য দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনূস আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, গণ আন্দোলনের সময় রংপুরে নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী, নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান। জামায়াত নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহনগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

সভ্য ও উন্নত সমাজের পূর্বশর্ত নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
সভ্য ও উন্নত সমাজের পূর্বশর্ত নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, একটি সভ্য, অমানবিকতামুক্ত এবং উন্নত সমাজের প্রধান পূর্বশর্ত হলো নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। নারী ও শিশুরা কেবল একটি পরিবারের সদস্য নয়, তারা রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি রামিসার মতো শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা পুরো সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে, যা নৈতিকতার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়। এমনকি খোদ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের বিচার চাওয়ার বিষয়ে অনীহা বা শঙ্কা একটি এলার্মিং পরিস্থিতি তৈরি করছে, যদিও সরকার এক মাসেরও কম সময়ে বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন, পাচার বিরোধী আইন এবং অ্যাসিড নিক্ষেপ বিরোধী আইনের মতো অনেক আইন রয়েছে। তবে কেবল রাষ্ট্রের পক্ষে বা এককভাবে আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অ্যাসিড নিক্ষেপ প্রতিরোধের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অপরাধটি এখন সমাজ থেকে প্রায় নির্মূল হয়েছে। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের শুধু আইনের আওতায় আনলেই হবে না, তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং ঘৃণিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে গিয়ে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা একক পরিবারের আধিক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের মনিটরিং বা সঠিক নির্দেশনার অভাব দেখা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল আসক্তি এবং মাদকের বিস্তার এই সামাজিক সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে। সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক সময় নির্যাতনের ঘটনা চেপে রাখা হয়, যা অপরাধীকে পার পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

সরকার ইতোমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহ. আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন  মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর হতে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ক্যানসার আক্রান্ত জুলাই শহীদের ভাইকে চাকরির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
ক্যানসার আক্রান্ত জুলাই শহীদের ভাইকে চাকরির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী

Oplus_131072

ক্যানসারে আক্রান্ত সন্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ক্যানসারে আক্রান্ত সন্তান মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানকে নিয়ে এসে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

এ সময়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিসানের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে মা ফাতেমা তুজ জোহরাকে চাকরির আশ্বাস দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ফাতেমার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর জানতে পারেন তার এই ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসান ক্যানসারে আক্রান্ত। এর সাত মাস পর স্বামীকেও হারান তিনি।

স্বামী-সন্তান হারিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন ফাতেমা। এসময়, ক্যান্সারে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তখন থেকেই আমরা বিএনপি পরিবারের আহবায়ক, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের তত্বাবধানে জিসানের চিকিৎসা চালানো হয়। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি আমরা বিএনপি পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমানের মাধ্যমে জিসানের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তত্বাবধানেই চলছে জিসানের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা।

কালের আলো/এসএকে

কেন্দুয়ায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি  গ্রেপ্তার

কেন্দুয়া ( নেএকোনা) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
কেন্দুয়ায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি  গ্রেপ্তার

ইয়াবাসহ  কথিত মাদক কারবারি হিমেল মিয়া (২৭) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের মরিচপুর গ্রাম থেকে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দুয়া থানার পুলিশ উপজেলার মরিচপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো গোলাপি রঙের ১০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম,এএসআই বাহার উদ্দীন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মরিচপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হিমেল মিয়া পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কেন্দুয়াসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করে আসার কথা স্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি