খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিবাদের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার না মানা জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার না মানা জামায়াত আমির

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনীতিতে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে কখনও এই দলটি রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারেনি। রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে অবশ্য কিছু সমাবেশে করেছিল সোহরাওয়ার্দীতে। দলটির একক সমাবেশ ছিল কেবলই বায়তুল মোকাররম, পল্টন ময়দানসহ বিভিন্ন জায়গায়। এবারই প্রথম শনিবার (১৯ জুলাই) ‘সাত দফা’ দাবিতে এককভাবে জাতীয় সমাবেশ করলো দলটি। ইতিহাসে প্রথমবার এই সমাবেশের মাধ্যমে রাজনীতিতে রীতিমতো নতুন ইতিহাস তৈরি করলো তাঁরা। জানান দিলো নিজেদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। কর্মী-সমর্থকদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে বহি:প্রকাশ ঘটালো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিমত্তার। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো তো বটেই এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও জামায়াতের এই জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে একটি নতুন বার্তা পেয়েছে। জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- ‘পুরোনো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না।’ অমিত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করলেন-‘আগামীর বাংলাদেশে আরেকটা লড়াই হবে, ইনশাআল্লাহ। একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইনশাআল্লাহ। এই দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার জন্য যা দরকার, আমরা তারুণ্য এবং যৌবনের শক্তিকে একত্রিত করে সেই লড়াইয়েও জিতব ইনশাআল্লাহ।’

আমিরে জামায়াত যে লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেন তিনি যে সেই লড়াইয়ের অগ্রভাগেই থাকবেন এবং তাঁর দৃঢ় মনোবল ও অসীম সাহস রয়েছে সেই প্রমাণও মিলেছে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ এই সমাবেশে। জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়েই মঞ্চে লুটিয়ে পড়েছিলেন তিনি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি বুকে হাত দিয়ে প্রথম দফায় মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। দু:সহ গরমে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোট দুই দফায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পাশে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ফেলেন। এর মিনিট খানেক বাদে জামায়াত আমির উঠে দাঁড়ান এবং আবার বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু আবারও পড়ে যান তিনি। এ সময় দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘গরমের জন্য আমিরে জামায়াত সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার আর বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না।’ কিন্তু যার সাহস অতুলনীয়, দেশপ্রেম যার অস্থিমজ্জায় গ্রোথিত তিনি কী আর বিচলিত হতে পারেন? কারও কথা না শোনে মঞ্চে ডায়াসের পাশে পা মেলে বসে বক্তব্য দিলেন তিনি। এসময় তার পাশে চিকিৎসকদেরও দেখা গেছে। বসে বসেই প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়েই শেষ হয় দলটির ‘জাতীয় সমাবেশ’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজধানীতে জামায়াতের স্মরণকালের বিশাল এই জনসমুদ্র আদতে দেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। আমিরে জামায়াতের স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ের দৃঢ়তা দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার শক্তি-সাহসে করবে আরও দুর্বার এমনটিই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীতে বড় বড় সমাবেশ করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিভিন্ন ইস্যুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করেছে। বিএনপি নয়াপল্টনে কয়েক দফা সমাবেশ করলেও জামায়াতে ইসলামী কেবল কারাবন্দি নেতা (বর্তমানে মুক্ত) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পুরানা পল্টন মোড়ে একটি সমাবেশ করেছিল। তবে এবারই প্রথম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইসলামী দলগুলো ও অন্যান্য সমমনা দলগুলোর ঐক্যকে আরও সুসংহত করতে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার অভূতপূর্ব এক জাগরণ ঘটিয়ে ভোটের মাঠে প্রকৃত ফ্যাক্টর হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলো। পাল্টে দিলো রাজনীতির হিসাব-নিকাশ।

জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতার সময় হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর জামায়াত আমিরকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে হেঁটে বের হন তিনি। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতির জন্য মনের কথাগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় পুরো বলতে পারিনি। যারা আমার অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন হয়েছেন ও দোয়া করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি সবসময় চেয়েছি- আমার দ্বারা যেন এই দেশ কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এখন সময়ের দাবি। এটি শুধু জামায়াত নয়, সব রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন। কারণ, দেশ যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তাহলে কোনো কিছুই সঠিকভাবে এগোবে না।’

নতুন ব্যবস্থায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাক


জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘যাদের ত্যাগ এবং কুরবানির বিনিময়ে, স্বৈরাচারের কঠিন অন্ধকার যুগের যাঁতাতলে পিষ্ঠ হয়ে যারা তিলে তিলে দুনিয়া থেকে নির্যাতিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যারা লড়াই করে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন; আমরা তাদের সবার কাছে গভীরভাবে ঋণী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, আল্লাহ যেন তাদের ঋণ পরিশোধ করার শক্তিটাও ততদিন আমাদের দান করেন।’

‘শহীদ আবু সাঈদরা যদি বুক পেতে না দাঁড়াতো, এ জাতির মুক্তির জন্য যদি বুকে গুলি লুফে না নিত, হয়তো আজকের এই বাংলাদেশটা আমরা দেখতাম না। ইতোমধ্যে হয়তো আরও অনেক মানুষের জীবন ফ্যাসিবাদীদের হাতে চলে যেত। ২৪-এ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধটা যদি না হতো তাহলে আজকে যারা বিভিন্ন ধরনের কথা এবং দাবি-দাওয়া পেশ করছেন, তারা তখন কোথায় থাকতেন?’

জামায়াতের আমির বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালার এই নেয়ামত পাওয়া তাদের যেন অবজ্ঞা এবং অবহেলা না করি। শিশু বলে তাদের যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করি। অহংকারে অন্য দলকে যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করি। অরাজনৈতিক ভাষায় আমরা যেন কথা না বলি। যদি এগুলো আমরা পরিহার করতে না পারি, তাহলে বুঝতে হবে যারা পারবেন, ফ্যাসিবাদের রোগ তাদের মধ্যে নতুন করে বাসা বেঁধেছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের বীজতলাটা আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ।

ডায়াসের পাশে বসে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করবো ইনশাআল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। বলছিলাম, জামায়াতে ইসলামী যদি আল্লাহর ইচ্ছা এবং জনগণের ভালোবাসায়, বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে মালিক হবে না, সেবক হবে ইনশাআল্লাহ।’

‘লক্ষ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে কোনো এমপি, কোনো মন্ত্রী আগামীতে সরকারি প্লট গ্রহণ করবে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন কোনো গাড়ি চড়বে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী তার নিজের হাতে কোনো টাকা চালাচালি করবে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী যদি তার নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সামনে তারা তার প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য হবেন’- যোগ করেন তিনি।

আমিরে জামায়াত বলেন, ‘চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করবো না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি আমরা সহ্য করবো না। আজীবন সবার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছি, জেল-জুলুমের পরোয়া করি নাই। আমার আফসোস, ২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিতে গিয়ে যারা জীবন দিয়ে শহীদ হলো-আমি তাদের একজন হতে পারলাম না। আপনাদের কাছে দোয়া চাই, ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়ে তোলার জন্য আগামীতে যে লড়াই হবে, আমার আল্লাহ যেন সেই লড়াইয়ে আমাকে একজন শহীদ হিসেবে কবুল করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় শহীদ নেতৃবৃন্দ, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে, শাপলা গণহত্যা, সারাদেশের গণহত্যা, চব্বিশের গণহত্যা যারা করেছে, তাদের সবার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে। এদের বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত পুরানো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এতগুলা মানুষ এমনি এমনি জীবন দেয়নি। জীবন দিয়েছে জাতির মুক্তির জন্য। যদি পুরোনো সবকিছুই টিকে থাকবে, তাহলে কেন তারা জীবন দিয়েছিল? যারা ওই বস্তাপঁচা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আবার নিতে চান, তাদের আমরা বলি, জুলাইযুদ্ধ করে যারা জীবন দিয়েছে আগে তাদের জীবনটা ফেরত এনে দেন। যদি শক্তি থাকে ফেরত এনে দেন। আপনারা পারবেন না। যেহেতু পারবেন না, কাজেই নতুন ব্যবস্থায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয় সমাবেশ যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। সমাবেশে অন্যান্য দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনূস আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, গণ আন্দোলনের সময় রংপুরে নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী, নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান। জামায়াত নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহনগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

দেশের ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ পূর্বাহ্ণ
দেশের ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় দেশের ৯টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসেও আজ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধার প্রসার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য কর্মসূচি এবং অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। এই প্রতিপাদ্যে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

একইসঙ্গে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন।

অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

একইসঙ্গে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও এতে আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)-এই নীতিতে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সফল হব এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২০২৫ সালে ৭৫৬ নারী খুন, নিরাপদ নয় শিশু থেকে বৃদ্ধাও: মহিলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
২০২৫ সালে ৭৫৬ নারী খুন, নিরাপদ নয় শিশু থেকে বৃদ্ধাও: মহিলা পরিষদ

হত্যা, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা, যৌন হয়রানি, যৌতুক ও বাল্যবিয়ে- নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার প্রায় সব ধরনের ঘটনাই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে দেশে। ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী।

অন্যদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টার (১১৭) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কন্যাশিশুরা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচারহীনতা ও সামাজিক দায়মুক্তির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী, কেউই এখন সহিংসতার ঝুঁকির বাইরে নন।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

আরও পড়ুন

শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে আইন করছে ফ্রান্স

সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৫৬ জন, যা অন্যান্য সহিংসতার তুলনায় সর্বোচ্চ। এছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৭৬ জন এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৫ জন।

অন্যদিকে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায়। সমীক্ষায় দেখা যায়, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪২ জন, আত্মহত্যা করেছেন ২০৩ জন এবং ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ১১৭ জন কন্যাশিশু।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশ ঘটনার শিকার। অন্যদিকে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টার ৮০ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৭ শতাংশ, দলবদ্ধ ধর্ষণের ৩৯ শতাংশ এবং বাল্যবিবাহের শতভাগ ঘটনার ভুক্তভোগী।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, শুধু জনসমাগমস্থল নয়, বাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমীক্ষার ফলাফল দেশের নারী নিরাপত্তার এক গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ছয় বছরের কন্যাশিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হওয়া আমাদের সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এ তথ্যই প্রমাণ করে, ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়। দায়ী অপরাধী এবং সেই সামাজিক মানসিকতা, যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকারই হচ্ছেন না, তার জীবনও ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সমস্যা নয়; বরং সমাজের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, সহিংসতার সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে অপরাধীদের পরিচয় ও দায় সামনে আনারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ষণ, হত্যা ও এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। তাই এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার হতে হবে আদালতে। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি