খুঁজুন
                               
, ,
           

হামে মৃত্যুর ঝুঁকিতে বড় কারণ অপুষ্টি, বুকের দুধে ঘাটতি: গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
হামে মৃত্যুর ঝুঁকিতে বড় কারণ অপুষ্টি, বুকের দুধে ঘাটতি: গবেষণা

হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত বা পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই কোনো না কোনো মাত্রার অপুষ্টির শিকার ছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছিল।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৪১ শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে।

গবেষণার মূল প্রবন্ধে বলা হয়, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়ার হার ছিল আরও বেশি। মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি।

গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। তাদের মধ্যে ১২ শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টির এবং ৫৩ শতাংশ শিশু মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার ছিল।

গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন নয় মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, টিকা নেয়ার বয়স হওয়ার পরও কোনো টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ হার ৯৭ শতাংশ।

এক ডোজ টিকা নেয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা ৯২ শতাংশ। আর সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা নেয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ হার ৭৬ শতাংশ।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুই ডোজ টিকা নেয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশ হাম আক্রান্ত হচ্ছে গবেষণার এই তথ্যের অর্থ এমন নয়। কারণ গবেষণাটি সাধারণ জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত হয়নি; হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট শিশুদের ওপরই এটি পরিচালিত হয়েছে। ফলে দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ সন্দেহভাজন শিশুর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকা নেয়ার পরও কিছু শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ সংক্রমণের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব কারণের কোনটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নির্ধারণ করা বর্তমান গবেষণার উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল না।

গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে শনাক্ত হওয়া হাম ভাইরাসের ধরনও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, শনাক্ত হওয়া সব হাম ভাইরাসই বি৩ সাবক্লেডের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শনাক্ত হওয়া বি৩ ভাইরাসের সঙ্গেও এসব ভাইরাসের মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাসের এইচ (H) প্রোটিনের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারে এমন এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই, রাজশাহীতে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই, রাজশাহীতে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজশাহী মহানগরীতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ও ছাড়পত্রবিহীন কসমেটিকস বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে নগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন থিম ওমর প্লাজায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ‘কুইন্স পার্ক’ ও ‘কেসি বাজার’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্রবিহীন বিভিন্ন কসমেটিকস পণ্য বিক্রি ও বিতরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানে শ্যাম্পু, সাবান, লিপস্টিক, স্কিন লোশন, স্কিন ক্রিম ও স্কিন পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাহাতুল করিম মিজানের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। এ সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল ও নকল পণ্য প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

গ্যাসের ঘাটতি বিদ্যুতে টান

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
গ্যাসের ঘাটতি বিদ্যুতে টান

এলএনজি সরবরাহে নতুন করে ধাক্কা লাগায় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে এলএনজি কার্গোর মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ বাড়তে থাকে এবং সন্ধ্যার পর লোডশেডিং দ্রুত বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এক্সিলারেটের এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও ভাগ করে লোডশেডিং করতে হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এক টার্মিনাল বন্ধ, চাপ পুরো গ্যাস ব্যবস্থায়

এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বিকেলে এক্সিলারেটের টার্মিনালের মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজির ওপর মূলত সামিটের টার্মিনালের সরবরাহের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

এর আগে সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকেও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। পরে ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে সামিট আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা টার্মিনালের সক্ষমতার কাছাকাছি নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফেরার পরই আবার এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট নতুন করে বাড়ল।

চাহিদা ৩৮০, সরবরাহ ২১৯ কোটি ঘনফুট

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া ১৬২ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুটসহ মোট সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। দেশীয় গ্যাসের সরবরাহও সামান্য কমে হয় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। ফলে মোট সরবরাহ নেমে আসে ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে।

সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে বুধবার সন্ধ্যায় সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে চাহিদা সামাল দেওয়া হলেও বর্তমান ঘাটতি বিদ্যুৎ, শিল্প ও অন্যান্য খাতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ পরিবর্তন

গ্যাস সরবরাহ কমার প্রভাব বুধবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ১১৭ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২০৬ মেগাওয়াটে। সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেড়ে হয় ১ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় চাহিদা আরও বেড়ে ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ নেমে আসে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে। তখন লোডশেডিং দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াটে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রাত ৭টায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াটে। রাত ৯টায়ও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৪৪৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, বুধবার সকাল ১০টায় যেখানে লোডশেডিং ছিল মাত্র ১১৭ মেগাওয়াট, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তা বেড়ে ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। প্রায় ২২ গুণের এই বৃদ্ধি একই দিনে বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতার ওপর গ্যাস সরবরাহের প্রভাব কতটা গভীর, তা স্পষ্ট করে।

গ্যাস কমলে কেন বাড়ে লোডশেডিং?

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসনির্ভর কেন্দ্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারে না। একই সময়ে সন্ধ্যায় আবাসিক ও অন্যান্য খাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। ফলে একদিকে উৎপাদন কমে, অন্যদিকে চাহিদা বাড়ে—দুইয়ের চাপ একসঙ্গে পড়লে ঘাটতি সামাল দিতে লোডশেডিং করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে চাহিদা দ্রুত বাড়ায় ঘাটতিও বেড়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৭২ জন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপতর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরও একজনের প্রাণহানি হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮২৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৮ হাজার ১৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ