খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজনীতিতে উঠান বৈঠকের রেওয়াজ বহুদিনের। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রচারণার স্বার্থে সাধারণত এ ধরনের বৈঠক করে থাকেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমী একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেটে। জেলার সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে স্বত:স্ফূর্ত এই উঠান বৈঠকে প্রথমবারের মতো সরাসরি হাজির হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা। না, তিনি নিজে কোন নির্বাচনী প্রচারণা করছেন না। তিনি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মূলত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের উৎসাহিত করতে ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই কার্যক্রম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে চলমান সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ হিসেবেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন, কথা বলছেন। ত্রয়োদশ ভোটকে স্বার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করতে প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্নধর্মী অভাবনীয় এমন আয়োজনকে মূল উপজীব্য করেছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্বাচন ও গণভোটকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ফোকাস করেছেন। উপদেষ্টা বলেছেন, ‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গণভোট। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দেশের টেকসই পরিবর্তন চাইলে গণভোটে অংশগ্রহণ করা সকল সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ভোট। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। তবে গণভোটের প্রচারণা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কেউ কেউ। সরকার উদ্যোগী হয়েছে ভোট ও গণভোটের প্রচারণা জোরদারে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ছক কষে পরিকল্পনমাফিক নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার রক্ষায় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়টি।

এর আগেই গত ২২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান চালু হয়েছে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন প্রচারণা জোরদার করতে সারা দেশে যাত্রা শুরু করে ১০টি ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, তথ্য সচিব মাহাবুবা ফারজানা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় সংসদের সামনে এটি উদ্বোধন করেন। এটি লক্ষ্য সারা দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলা ভ্রমণ করে জনসচেতনতা তৈরিতে সাড়াও জাগিয়েছে।

সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উৎসবময় করতে প্রচারণার প্রশ্নে কোন রকম আপস করতে চায় না। তাঁরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি সময় ঘণ্টাকে কাজে লাগাতে চান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) তিনি সিলেটে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজেদের আন্তরিক সদিচ্ছার প্রমাণ রেখেছেন। জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধিতেও বিশেষ নজর দিয়েছেন। এজন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও বসেছেন। কর্মশালায় নির্বাচন ও গণভোট প্রশ্নে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেও মোটা দাগে উপস্থাপন করেছেন।

ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিলেট সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীমদের কথায় পরিচালিত হয়েছে। এবার সুযগ হয়েছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণ বুঝে নেওয়ার। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট, কালভার্ট নির্মাণ করা উন্নয়ন না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া, মত প্রকাশের অধিকার দেওয়াই আসল উন্নয়ন।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটে ১১ টি প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যেক প্রশ্নে আপনাদের চাওয়া, আপনাদের মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী লোকদের মাধ্যমে গঠিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো আপনাদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য। তাই গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব। এদেশে আর কোন দানব তৈরি করতে না চাইলে আগামীর বাংলাদেশের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা সকলে মিলে দেশ পরিচালনা করতে চাই। দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার এবারই মোক্ষম সময়।’ তিনি বলেন, আপনারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে। এসময় তিনি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উপস্থিত সকলকে গণভোটে অংশে নেওয়ার আহ্বান জানান।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আলতাফ উল আলম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালা
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিলেটে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হবে।’ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।

উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছে সেটিকে বাস্তবায়নের জন্যই গণভোট। জনগণ নির্ভীক চিত্তে লড়াই করেছে বলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এ সাহসী মনোভাবকে ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সিস্টেমে পরিবর্তন না হলে দেশ পরিবর্তন হবে না। দেশ গড়ার জন্য সিস্টেম পরিবর্তনের হাতিয়ারই হচ্ছে গণভোট। গণভোট সুযোগ এনে দিচ্ছে দেশে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এনে তার স্থায়ী রূপ দেয়ার। কাজেই গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে জেনে বুঝে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও অভাবনীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক নারী ভোটার, তরুণ ভোটার, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। জনগণকে দেশের হিস্যা বুঝে নিতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সব স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করাই প্রধান বিষয়। এবারের গণভোট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি, জনগণের মতামতের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে দেশ ন্যায়ের পথে পরিচালিত হবে কিনা সেটির প্রতিফলন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয়। তবে, তাদের শক্তি অভ্যুত্থানকারী শক্তির চেয়ে অনেক কম। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট(পিআইবি) আয়োজনে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে এতে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষকে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বর্তমান সরকার নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারভুক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সাংবাদিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি সাংবাদিকদের সব ধরণের গুজব ও অপতথ্য রুখে দিতে বলেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। কর্মশালায় সিলেট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান বিষয়ক এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ৩ হাজার ৮০০ সংবাদকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। নির্বাচন বিষয়ক আইন, হলফনামা, বিরোধ নিষ্পত্তি, আচরণবিধি, রিপোর্টারের প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কাভার, নির্বাচন ও রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ, উপনির্বাচন, ফ্যাক্ট চেক ও এআই, সেইফটি-সিকিউরিটি, নির্বাচন পরবর্তী হাঙ্গামা, মারামারি, নির্বাচনি আয়-ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন রিপোর্টিং এবং নির্বাচন আচরণ বিধিমালা বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে জিতবে কে, জানাল সুপার কম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে জিতবে কে, জানাল সুপার কম্পিউটার

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ (৭ জুলাই) বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে মিশরের মোহাম্মদ সালাহর দল।

এই মহারণকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন মহা তুঙ্গে। কে জিতবে এই তর্কে উত্তপ্ত মাঠের লড়াই শুরুর আগেই। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের সম্ভাব্য একটি পূর্বাভাস দিয়েছে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিখ্যাত সংস্থা অপ্টা।

অপ্টার সুপারকম্পিউটার ম্যাচটি নিয়ে প্রায় ২৫ হাজারবার কৃত্রিম বিশ্লেষণ (সিমুলেশন) চালিয়ে জানিয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টাইনদের জয়ের সম্ভাবনা ৬৮.১ শতাংশ। বিপরীতে পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে। শেষ ষোলোতে আসা মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১২.৩ শতাংশ। আর ম্যাচ ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ১৮.৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখলেও নকআউটের মঞ্চে যেকোনো অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত সালাহ-বাহিনী। তা ছাড়া দুই দলই আগের রাউন্ডে চরম পরীক্ষা দিয়ে এসেছে।

আর্জেন্টিনা যেখানে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পায়, সেখানে মিশর ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই)  সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি