খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজনীতিতে উঠান বৈঠকের রেওয়াজ বহুদিনের। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রচারণার স্বার্থে সাধারণত এ ধরনের বৈঠক করে থাকেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমী একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেটে। জেলার সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে স্বত:স্ফূর্ত এই উঠান বৈঠকে প্রথমবারের মতো সরাসরি হাজির হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা। না, তিনি নিজে কোন নির্বাচনী প্রচারণা করছেন না। তিনি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মূলত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের উৎসাহিত করতে ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই কার্যক্রম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে চলমান সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ হিসেবেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন, কথা বলছেন। ত্রয়োদশ ভোটকে স্বার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করতে প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্নধর্মী অভাবনীয় এমন আয়োজনকে মূল উপজীব্য করেছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্বাচন ও গণভোটকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ফোকাস করেছেন। উপদেষ্টা বলেছেন, ‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গণভোট। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দেশের টেকসই পরিবর্তন চাইলে গণভোটে অংশগ্রহণ করা সকল সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ভোট। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। তবে গণভোটের প্রচারণা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কেউ কেউ। সরকার উদ্যোগী হয়েছে ভোট ও গণভোটের প্রচারণা জোরদারে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ছক কষে পরিকল্পনমাফিক নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার রক্ষায় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়টি।

এর আগেই গত ২২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান চালু হয়েছে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন প্রচারণা জোরদার করতে সারা দেশে যাত্রা শুরু করে ১০টি ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, তথ্য সচিব মাহাবুবা ফারজানা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় সংসদের সামনে এটি উদ্বোধন করেন। এটি লক্ষ্য সারা দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলা ভ্রমণ করে জনসচেতনতা তৈরিতে সাড়াও জাগিয়েছে।

সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উৎসবময় করতে প্রচারণার প্রশ্নে কোন রকম আপস করতে চায় না। তাঁরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি সময় ঘণ্টাকে কাজে লাগাতে চান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) তিনি সিলেটে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজেদের আন্তরিক সদিচ্ছার প্রমাণ রেখেছেন। জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধিতেও বিশেষ নজর দিয়েছেন। এজন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও বসেছেন। কর্মশালায় নির্বাচন ও গণভোট প্রশ্নে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেও মোটা দাগে উপস্থাপন করেছেন।

ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিলেট সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীমদের কথায় পরিচালিত হয়েছে। এবার সুযগ হয়েছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণ বুঝে নেওয়ার। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট, কালভার্ট নির্মাণ করা উন্নয়ন না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া, মত প্রকাশের অধিকার দেওয়াই আসল উন্নয়ন।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটে ১১ টি প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যেক প্রশ্নে আপনাদের চাওয়া, আপনাদের মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী লোকদের মাধ্যমে গঠিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো আপনাদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য। তাই গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব। এদেশে আর কোন দানব তৈরি করতে না চাইলে আগামীর বাংলাদেশের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা সকলে মিলে দেশ পরিচালনা করতে চাই। দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার এবারই মোক্ষম সময়।’ তিনি বলেন, আপনারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে। এসময় তিনি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উপস্থিত সকলকে গণভোটে অংশে নেওয়ার আহ্বান জানান।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আলতাফ উল আলম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালা
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিলেটে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হবে।’ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।

উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছে সেটিকে বাস্তবায়নের জন্যই গণভোট। জনগণ নির্ভীক চিত্তে লড়াই করেছে বলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এ সাহসী মনোভাবকে ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সিস্টেমে পরিবর্তন না হলে দেশ পরিবর্তন হবে না। দেশ গড়ার জন্য সিস্টেম পরিবর্তনের হাতিয়ারই হচ্ছে গণভোট। গণভোট সুযোগ এনে দিচ্ছে দেশে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এনে তার স্থায়ী রূপ দেয়ার। কাজেই গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে জেনে বুঝে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও অভাবনীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক নারী ভোটার, তরুণ ভোটার, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। জনগণকে দেশের হিস্যা বুঝে নিতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সব স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করাই প্রধান বিষয়। এবারের গণভোট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি, জনগণের মতামতের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে দেশ ন্যায়ের পথে পরিচালিত হবে কিনা সেটির প্রতিফলন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয়। তবে, তাদের শক্তি অভ্যুত্থানকারী শক্তির চেয়ে অনেক কম। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট(পিআইবি) আয়োজনে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে এতে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষকে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বর্তমান সরকার নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারভুক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সাংবাদিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি সাংবাদিকদের সব ধরণের গুজব ও অপতথ্য রুখে দিতে বলেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। কর্মশালায় সিলেট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান বিষয়ক এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ৩ হাজার ৮০০ সংবাদকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। নির্বাচন বিষয়ক আইন, হলফনামা, বিরোধ নিষ্পত্তি, আচরণবিধি, রিপোর্টারের প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কাভার, নির্বাচন ও রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ, উপনির্বাচন, ফ্যাক্ট চেক ও এআই, সেইফটি-সিকিউরিটি, নির্বাচন পরবর্তী হাঙ্গামা, মারামারি, নির্বাচনি আয়-ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন রিপোর্টিং এবং নির্বাচন আচরণ বিধিমালা বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরইমধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত হবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার আভাস থাকলেও উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা কাটেনি। তাই সব সমুদ্রবন্দরে বহাল তিন নম্বর সংকেত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন