খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজনীতিতে উঠান বৈঠকের রেওয়াজ বহুদিনের। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রচারণার স্বার্থে সাধারণত এ ধরনের বৈঠক করে থাকেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমী একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেটে। জেলার সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে স্বত:স্ফূর্ত এই উঠান বৈঠকে প্রথমবারের মতো সরাসরি হাজির হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা। না, তিনি নিজে কোন নির্বাচনী প্রচারণা করছেন না। তিনি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মূলত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের উৎসাহিত করতে ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই কার্যক্রম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে চলমান সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ হিসেবেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন, কথা বলছেন। ত্রয়োদশ ভোটকে স্বার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করতে প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্নধর্মী অভাবনীয় এমন আয়োজনকে মূল উপজীব্য করেছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্বাচন ও গণভোটকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ফোকাস করেছেন। উপদেষ্টা বলেছেন, ‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গণভোট। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দেশের টেকসই পরিবর্তন চাইলে গণভোটে অংশগ্রহণ করা সকল সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ভোট। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। তবে গণভোটের প্রচারণা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কেউ কেউ। সরকার উদ্যোগী হয়েছে ভোট ও গণভোটের প্রচারণা জোরদারে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ছক কষে পরিকল্পনমাফিক নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার রক্ষায় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়টি।

এর আগেই গত ২২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান চালু হয়েছে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন প্রচারণা জোরদার করতে সারা দেশে যাত্রা শুরু করে ১০টি ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, তথ্য সচিব মাহাবুবা ফারজানা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় সংসদের সামনে এটি উদ্বোধন করেন। এটি লক্ষ্য সারা দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলা ভ্রমণ করে জনসচেতনতা তৈরিতে সাড়াও জাগিয়েছে।

সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উৎসবময় করতে প্রচারণার প্রশ্নে কোন রকম আপস করতে চায় না। তাঁরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি সময় ঘণ্টাকে কাজে লাগাতে চান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) তিনি সিলেটে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজেদের আন্তরিক সদিচ্ছার প্রমাণ রেখেছেন। জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধিতেও বিশেষ নজর দিয়েছেন। এজন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও বসেছেন। কর্মশালায় নির্বাচন ও গণভোট প্রশ্নে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেও মোটা দাগে উপস্থাপন করেছেন।

ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিলেট সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীমদের কথায় পরিচালিত হয়েছে। এবার সুযগ হয়েছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণ বুঝে নেওয়ার। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট, কালভার্ট নির্মাণ করা উন্নয়ন না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া, মত প্রকাশের অধিকার দেওয়াই আসল উন্নয়ন।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটে ১১ টি প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যেক প্রশ্নে আপনাদের চাওয়া, আপনাদের মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী লোকদের মাধ্যমে গঠিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো আপনাদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য। তাই গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব। এদেশে আর কোন দানব তৈরি করতে না চাইলে আগামীর বাংলাদেশের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা সকলে মিলে দেশ পরিচালনা করতে চাই। দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার এবারই মোক্ষম সময়।’ তিনি বলেন, আপনারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে। এসময় তিনি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উপস্থিত সকলকে গণভোটে অংশে নেওয়ার আহ্বান জানান।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আলতাফ উল আলম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালা
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিলেটে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হবে।’ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।

উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছে সেটিকে বাস্তবায়নের জন্যই গণভোট। জনগণ নির্ভীক চিত্তে লড়াই করেছে বলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এ সাহসী মনোভাবকে ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সিস্টেমে পরিবর্তন না হলে দেশ পরিবর্তন হবে না। দেশ গড়ার জন্য সিস্টেম পরিবর্তনের হাতিয়ারই হচ্ছে গণভোট। গণভোট সুযোগ এনে দিচ্ছে দেশে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এনে তার স্থায়ী রূপ দেয়ার। কাজেই গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে জেনে বুঝে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও অভাবনীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক নারী ভোটার, তরুণ ভোটার, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। জনগণকে দেশের হিস্যা বুঝে নিতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সব স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করাই প্রধান বিষয়। এবারের গণভোট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি, জনগণের মতামতের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে দেশ ন্যায়ের পথে পরিচালিত হবে কিনা সেটির প্রতিফলন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয়। তবে, তাদের শক্তি অভ্যুত্থানকারী শক্তির চেয়ে অনেক কম। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট(পিআইবি) আয়োজনে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে এতে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষকে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বর্তমান সরকার নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারভুক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সাংবাদিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি সাংবাদিকদের সব ধরণের গুজব ও অপতথ্য রুখে দিতে বলেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। কর্মশালায় সিলেট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান বিষয়ক এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ৩ হাজার ৮০০ সংবাদকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। নির্বাচন বিষয়ক আইন, হলফনামা, বিরোধ নিষ্পত্তি, আচরণবিধি, রিপোর্টারের প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কাভার, নির্বাচন ও রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ, উপনির্বাচন, ফ্যাক্ট চেক ও এআই, সেইফটি-সিকিউরিটি, নির্বাচন পরবর্তী হাঙ্গামা, মারামারি, নির্বাচনি আয়-ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন রিপোর্টিং এবং নির্বাচন আচরণ বিধিমালা বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

খাদ্যশস্য রাখার জায়গা বাড়াতে একের পর এক প্রকল্প। বরাদ্দ হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়, তবু বাড়ছে না কাঙ্ক্ষিত সংরক্ষণ সক্ষমতা। কোথাও তিন বছরেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, কোথাও এক যুগ পেরিয়েও শেষ হয়নি নির্মাণ। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া একটি প্রকল্পে মাটি খোঁড়ার পরই থেমে গেছে কাজ। পরে যৌক্তিকতা না পাওয়ায় সেটি অসমাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে নেওয়া চার প্রকল্পে মোট ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দফায় দফায় সংশোধন, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও স্থান পরিবর্তনের কারণে এসব বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতার ঘাটতি কাটাতে গিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য এবং পরিকল্পনা কমিশন ও বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তিন বছরেও এক-চতুর্থাংশ কাজ
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ জেলায় নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ১৪৫টি স্থাপনায় মোট ১৯৫টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ৮১৪ কোটি টাকা থাকলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫৫ কোটি টাকা। শুধু ব্যয়ই বাড়েনি, বেড়েছে সময়ও। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আইএমইডির হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ১১ শতাংশ। এরই মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আইএমইডির পর্যবেক্ষণে মাদারীপুরের কালকিনি ও বাগেরহাট প্যাকেজে ধীরগতি দেখা গেছে। গাছ ও পুরোনো অবকাঠামো সরাতেও সময় লেগেছে। শরীয়তপুরের আঙ্গারিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরল এবং মোংলা এলএসডিতে জায়গার সংকট রয়েছে। এ ছাড়া লে-আউট জটিলতা, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. সোহেলুর রহমান খান বলেন, সময়মতো পরিচালক নিয়োগ না হওয়া, নির্ধারিত স্থানে কাজ করতে না পারা, স্থান পরিবর্তন এবং রেট শিডিউলের কারণে ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন প্রকল্প পরিচালক টেন্ডারের উদ্যোগ নিলেও কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম এখন সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে।

এক যুগেও শেষ হয়নি ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার প্রকল্প
সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন ধারণক্ষমতার সাতটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনার মহেশ্বরপাশা, চট্টগ্রাম ও মধুপুরে এসব সাইলো নির্মাণের কথা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ রয়েছে ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। চার দফা সংশোধনের পর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও পুরো কাজ শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের ৯৫ দশমিক ০৫ শতাংশই খরচ হয়ে গেছে। তারপরও বাকি কাজ শেষ করতে আবারও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের মূল কার্যালয় ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রকল্প, শেষ পর্যন্ত বাতিল
খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্বাচনি এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার চালের সাইলো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি পর্যালোচনায় আসে। এরপর দেখা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি খোঁড়া ছাড়া বাস্তবে আর কোনো কাজ এগোয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ছিল শূন্য। প্রকল্প পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, নতুন ফিজিবিলিটি স্টাডিতে মহাদেবপুরে প্রকল্পটি নেওয়ার যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় রেখেই প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—যে প্রকল্পের যৌক্তিকতাই শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না, সেটির পেছনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন কেন হয়েছিল?

মেরামতের প্রকল্পেও ধীরগতি
ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো মেরামতে ২৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ করার কথা। লক্ষ্য ছিল সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, খাদ্যশস্যের অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ৩২ শতাংশ হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৩ শতাংশ। প্রকল্প পরিচালক এ টি এম কাউছার হোসেন জানান, সময়মতো বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। ঠিকাদারদের বিলও আটকে রয়েছে।

সরকারি গুদাম বনাম বেসরকারি সক্ষমতা
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য রাখা যায়। বিপরীতে বেসরকারি খাতের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ কোটি টন। অর্থাৎ বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সংরক্ষণ সক্ষমতার বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম নির্মাণ টেকসই সমাধান নয়। সহজ শর্তে ঋণ, কর অবকাশ ও ভর্তুকির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে খাদ্য সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। তার মতে, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে থাকলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র, নির্মাণকাজের মান এবং অর্থ ব্যয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি কতটা?
খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কিংবা গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা হলো, একদিকে খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ, অন্যদিকে সেই লক্ষ্যেই নেওয়া প্রকল্পের ধীরগতি। কোথাও ব্যয় বাড়ছে, কোথাও মেয়াদ; কোথাও আবার প্রকল্পের যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে। ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার এই চার প্রকল্প তাই শুধু গুদাম নির্মাণের হিসাব নয়—এটি সরকারি প্রকল্প পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিরও পরীক্ষা। খাদ্য নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর খাতে জনগণের অর্থ খরচ করে যদি সময়মতো গুদামই না হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগের সুফল শেষ পর্যন্ত যাবে কোথায়—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ থেকে ১৪ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা দল। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ত্রিশাল উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দর্শকদের করতালি ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
ঈশ্বরগঞ্জের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ১১ নম্বর জার্সিধারী রাব্বুল। তাঁর জোড়া গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ। ত্রিশাল একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে গোল্ডকাপ নিজেদের করে নেয় ঈশ্বরগঞ্জ।
ফাইনালের আগে ও ম্যাচ চলাকালে ঈশ্বরগঞ্জ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তাঁর উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জের রাব্বুল। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ত্রিশালের ১০ নম্বর জার্সিধারী ফাহাদ। ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলা দল।
৭০ মিনিটের ফাইনাল দেখতে বিকেল থেকেই ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে ভিড় করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ম্যাচ শুরুর পর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি। দুই দলের সমর্থকদের স্লোগান, উল্লাস ও করতালিতে পুরো স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
ফাইনাল শেষে বিজয়ী ঈশ্বরগঞ্জ ও রানার্সআপ ত্রিশাল দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। দুই দলের মধ্যে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান এবং ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলাসহ জেলার ১৪টি দল এতে অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ফাইনালে ত্রিশালকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে ঈশ্বরগঞ্জ। রাব্বুলের জোড়া গোল ও দলের লড়াকু পারফরম্যান্সে গোল্ডকাপ এখন ঈশ্বরগঞ্জের ঘরে। শিরোপা জয়ের পথে খেলোয়াড়দের পাশে থেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগানো এমপি মাজেদ বাবুর ভূমিকাও প্রশংসা পেয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে দৃঢ় অঙ্গীকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে দৃঢ় অঙ্গীকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনরায় উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।’ একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অগ্রাধিকারকে আরও স্পষ্ট করেছে।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

  • সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  • সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ—গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা

একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কোন বিকল্প নেই। জনগণের কথা বলা, অনিয়ম তুলে ধরা, রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই স্বাধীনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে সরকার কাজ করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এমন পরিস্কার অবস্থানকে দেশের সাংবাদিকতার বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যম অঙ্গনেও একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিক কল্যাণে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ
সাংবাদিকদের পেশাগত ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে সাংবাদিক সমাজের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশা নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও পেশাগত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কল্যাণমূলক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে অসচ্ছল ও সংকটে থাকা সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্যও তা বাস্তব সহায়তা তৈরি করতে পারে।

হলুদ সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ
প্রতিমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধের কথাও বলেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্যের দিকটি সামনে আনে। তিনি বলেছেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।’

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সংবাদ প্রকাশে তথ্যের যথার্থতা, নিরপেক্ষতা, পেশাগত নৈতিকতা ও জনস্বার্থের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনোই দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার সমার্থক নয়। বরং স্বাধীনতা যত বেশি থাকবে, সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও নৈতিকতার চর্চাও তত বেশি শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এতে করে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে পারে।

হাওর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাবনা
এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমি ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই বক্তব্য প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের বাস্তবতাভিত্তিক চিন্তার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘জাতীয় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় শিক্ষানীতির অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা মিলেছে।

শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ শিক্ষার বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে সামনে এনেছে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক না রেখে চরিত্র ও মূল্যবোধ গঠনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে করছেন অনেকেই।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চাইনিজ ও অ্যারাবিক ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

কালের আলো/এম/এএইচ