খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচন ও গণভোট প্রচারণায় তথ্য উপদেষ্টা ও ভোটার ‘ওয়ান টু ওয়ান’, প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অভাবনীয় আয়োজন

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজনীতিতে উঠান বৈঠকের রেওয়াজ বহুদিনের। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রচারণার স্বার্থে সাধারণত এ ধরনের বৈঠক করে থাকেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমী একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেটে। জেলার সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে স্বত:স্ফূর্ত এই উঠান বৈঠকে প্রথমবারের মতো সরাসরি হাজির হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা। না, তিনি নিজে কোন নির্বাচনী প্রচারণা করছেন না। তিনি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মূলত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের উৎসাহিত করতে ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই কার্যক্রম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে চলমান সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ হিসেবেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন, কথা বলছেন। ত্রয়োদশ ভোটকে স্বার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করতে প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্নধর্মী অভাবনীয় এমন আয়োজনকে মূল উপজীব্য করেছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্বাচন ও গণভোটকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ফোকাস করেছেন। উপদেষ্টা বলেছেন, ‘দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গণভোট। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দেশের টেকসই পরিবর্তন চাইলে গণভোটে অংশগ্রহণ করা সকল সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ভোট। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। তবে গণভোটের প্রচারণা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কেউ কেউ। সরকার উদ্যোগী হয়েছে ভোট ও গণভোটের প্রচারণা জোরদারে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ছক কষে পরিকল্পনমাফিক নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার রক্ষায় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়টি।

এর আগেই গত ২২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান চালু হয়েছে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন প্রচারণা জোরদার করতে সারা দেশে যাত্রা শুরু করে ১০টি ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভ্যান। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, তথ্য সচিব মাহাবুবা ফারজানা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় সংসদের সামনে এটি উদ্বোধন করেন। এটি লক্ষ্য সারা দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলা ভ্রমণ করে জনসচেতনতা তৈরিতে সাড়াও জাগিয়েছে।

সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উৎসবময় করতে প্রচারণার প্রশ্নে কোন রকম আপস করতে চায় না। তাঁরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি সময় ঘণ্টাকে কাজে লাগাতে চান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) তিনি সিলেটে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজেদের আন্তরিক সদিচ্ছার প্রমাণ রেখেছেন। জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধিতেও বিশেষ নজর দিয়েছেন। এজন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও বসেছেন। কর্মশালায় নির্বাচন ও গণভোট প্রশ্নে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেও মোটা দাগে উপস্থাপন করেছেন।

ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিলেট সদরের বুরহাননগর গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীমদের কথায় পরিচালিত হয়েছে। এবার সুযগ হয়েছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণ বুঝে নেওয়ার। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট, কালভার্ট নির্মাণ করা উন্নয়ন না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া, মত প্রকাশের অধিকার দেওয়াই আসল উন্নয়ন।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটে ১১ টি প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যেক প্রশ্নে আপনাদের চাওয়া, আপনাদের মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী লোকদের মাধ্যমে গঠিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো আপনাদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য। তাই গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব। এদেশে আর কোন দানব তৈরি করতে না চাইলে আগামীর বাংলাদেশের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা সকলে মিলে দেশ পরিচালনা করতে চাই। দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার এবারই মোক্ষম সময়।’ তিনি বলেন, আপনারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে। এসময় তিনি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উপস্থিত সকলকে গণভোটে অংশে নেওয়ার আহ্বান জানান।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আলতাফ উল আলম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালা
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিলেটে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হবে।’ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।

উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছে সেটিকে বাস্তবায়নের জন্যই গণভোট। জনগণ নির্ভীক চিত্তে লড়াই করেছে বলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এ সাহসী মনোভাবকে ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সিস্টেমে পরিবর্তন না হলে দেশ পরিবর্তন হবে না। দেশ গড়ার জন্য সিস্টেম পরিবর্তনের হাতিয়ারই হচ্ছে গণভোট। গণভোট সুযোগ এনে দিচ্ছে দেশে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এনে তার স্থায়ী রূপ দেয়ার। কাজেই গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে জেনে বুঝে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও অভাবনীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক নারী ভোটার, তরুণ ভোটার, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। জনগণকে দেশের হিস্যা বুঝে নিতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সব স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করাই প্রধান বিষয়। এবারের গণভোট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি, জনগণের মতামতের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে দেশ ন্যায়ের পথে পরিচালিত হবে কিনা সেটির প্রতিফলন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয়। তবে, তাদের শক্তি অভ্যুত্থানকারী শক্তির চেয়ে অনেক কম। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট(পিআইবি) আয়োজনে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে এতে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষকে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বর্তমান সরকার নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারভুক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সাংবাদিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি সাংবাদিকদের সব ধরণের গুজব ও অপতথ্য রুখে দিতে বলেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। কর্মশালায় সিলেট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান বিষয়ক এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ৩ হাজার ৮০০ সংবাদকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। নির্বাচন বিষয়ক আইন, হলফনামা, বিরোধ নিষ্পত্তি, আচরণবিধি, রিপোর্টারের প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কাভার, নির্বাচন ও রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ, উপনির্বাচন, ফ্যাক্ট চেক ও এআই, সেইফটি-সিকিউরিটি, নির্বাচন পরবর্তী হাঙ্গামা, মারামারি, নির্বাচনি আয়-ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন রিপোর্টিং এবং নির্বাচন আচরণ বিধিমালা বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে