খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বোর্ডের পরিবর্তনে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েনি: ফিল সিমন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
বোর্ডের পরিবর্তনে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েনি: ফিল সিমন্স
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হলেও তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় দলের ওপর পড়েনি বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মাঠের বাইরের পরিবর্তনে খেলোয়াড়দের মনোযোগ সরেনি।

কোচ সিমন্সের মতে, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বা মানসিকতায় কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ওপর এর প্রভাব কতটুকু তা জানতে হলে হয়তো তাদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত।

তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মানসিক প্রভাব দেখছি না। তারা আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সবটুকুই করছে।’
বোর্ডের প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনুশীলনের সূচি বা ক্যাম্পে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সিমন্স। তিনি জানান, ‘আমরা কীভাবে অনুশীলন করছি বা আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড কী হবে, তাতে এসব পরিবর্তনের কোনো প্রভাব নেই।

আমাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং অনুশীলন ঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ীই শেষ হয়েছে।’বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গেও ইতোমধ্যে আলোচনা সেরে নিয়েছেন কোচিং স্টাফরা। সিমন্স জানান, তামিম ইকবালের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোচিং স্টাফরা এ বিষয়ে তার (তামিম ইকবাল) সঙ্গে কথা বলেছি। দুই দিন আগে একটি ম্যাচ চলাকালীন তিনি ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন এবং আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এভাবে কয়েকবার আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে।’

কালের আলো/জেএন

ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

Oplus_131072

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করে।

‘ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে এই ঋণ ব্যাংক খাতের সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে।

ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশকে এমন কিছু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে, যা ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।

এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি মূলত সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

কালের আলো/এসএকে

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (EARN) প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের আওতায় আট বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৪ জুন) মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ প্যাকেজের সবগুলোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

এতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই- ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন নয় লাখ যুবকে (যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষিণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত আর্ন প্রকল্প সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা এই জনগোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে নিট (Not in Education, Employment or Training) । প্রকল্পটি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে, যা দেশের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, আর্ন প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এই ধরণের নিষ্ক্রিয় যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ এবং এই হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই নিষ্ক্রিয় যুব সমাজ একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। ক্রমবর্ধমান নিষ্ক্রিয় যুব সমাজকে কর্মমুখী করা ও এদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প হলো আর্ন।

বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক (Quality and Cost Based Selection-QCBS) দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৪০১টি প্রতিষ্ঠান (Single Entity and Joint Venture) Expression of Interest (EoI) দাখিল করেছিল। যার মধ্যে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে  সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তদের মধ্যে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব (RFP) দাখিল করে। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করে প্রতিটি প্যাকেজের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের চুড়ান্ত মুল্যায়ন করা হয় এবং সর্বাধিক সমন্বিত নম্বরপ্রাপ্ত এনজিও’র সাথে সমঝোতাপূর্বক খসড়া চুক্তি করা হয়।  ক্রয় প্রস্তাবগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো ব্র্যাক , সেভ দ্যি চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন। ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখ যুবক ও যুব নারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

EARN প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান,  এই প্রকল্প কোনো সাধারণ ‘প্রশিক্ষণ/দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্প নয় বরং বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম কার্যক্রম। এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বাংলাদেশি যুবদের জন্য সমন্বিত (Holistic) সহায়তা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতমুখী খাতসমূহ বিকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

EARN প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করা।  প্রকল্পটি সেইসব যুবক ও যুব নারীর জন্য কাজ করবে, যারা সাধারণত আনুষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কারণ অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ যুব সমাজ এই সকল প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ যুব সহায়তা প্রকল্প, যা যুবকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে। এ প্রকল্পটি শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয় বরং যুবকদের প্রকৃত প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক, জাতীয় ও বৈশ্বিক শ্রম বাজারের চাহিদা নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী সহায়তা করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অনেক যুব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা, সিড ফান্ডের অভাব, ইন্টার্নশিপ ও অন্যান্য সহায়তার অভাবে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে না। এই প্রকল্প সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে কাজ করবে।

চারটি কম্পোনেন্টে সম্পাদন হবে EARN প্রকল্পের কাজ। কম্পোনেন্ট ১: বিকল্প শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা। কম্পোনেন্ট ২: স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা প্রদান। কম্পোনেন্ট ৩: গ্রামীণ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় যুবদের বিশেষ করে যুব নারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং কম্পোনেন্ট ৪: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের মান উপযোগী করা হবে, আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যথাযথ সনদ প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

মুদি দোকান থেকে বিউটি পার্লার, বাড়ছে ভ্যাটের পরিধি 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
মুদি দোকান থেকে বিউটি পার্লার, বাড়ছে ভ্যাটের পরিধি 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ মোট ১৬টি ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় বাজেট সংসদের অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

৩৫ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেছেন, বিগত অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনবার পরিকল্পনা আছে। ব্যবসায়িক খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এগুলো হলো– মুদির দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিক্স-এর দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা: পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনেটারি ও ফিটিংস, টাইলস এর দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্ণিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্টুরেন্ট।

কালের আলো/এসআর/এএএন