খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিলেন ডা.জুবাইদা রহমান

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিলেন ডা.জুবাইদা রহমান

‘ঢাকা-১৭ আসনে স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সবাই ছিলেন অনুষ্ঠানে। স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপনকারী এই হাসপাতালটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে নিজেদের আনন্দানুভূতি প্রকাশ করেন স্থানীয় ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক থেকে শুরু করে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলার শ্রমজীবী মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত—সবখানে তাঁদের শ্রম থাকলেও তাঁরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’

নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ (প্রায় ৪২.৬ শতাংশ) প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁরা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পান না, কারণ অসুস্থতা মানেই তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া বলেও মনে করেন ডা.জুবাইদা রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যাঁরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের এই বিনা মূল্যের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করবেন। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের স্বেচ্ছাসবীরা ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।’

এদিন মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের রোগ নির্ণয় বিভাগ, গ্যাস্ট্রোলিভার কেন্দ্র এবং ৫০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন ও চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের জন্য বিশেষ টিকিট কাউন্টার এবং অতিরিক্ত শয্যা সুবিধা চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসকরা এখানে সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করেছেন। দরিদ্র, প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি) ও ডায়াগনস্টিক পরিষেবাগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্য কোনো হাসপাতাল যেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজিক্যাল সেবা দিতে পারেনি সেখানে কুর্মিটোলা হাসপাতাল নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা নিশ্চিতের উদাহরণ স্থাপন করেছে। এছাড়াও কেমোথেরাপি, ছোট-বড় অস্ত্রোপচার ও গাইনোকোলজি বিভাগেও ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজ নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৭ এর অন্তর্ভূক্ত ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বাসিন্দারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

‘ঢাকা-১৭ আসনে স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ভাষানটেকের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি জীবনের প্রথম দেখতে পাচ্ছি, দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচনের আগে আমাদের কথা শুনতে এসেছিলেন এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও তারা আমাদের কাছে আসছেন। আমাদের জন্য ফ্রিতে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন সরকারি হাসপাতালে যে ভাবে সেবা পাচ্ছি সেটা নির্বাচনি অঙ্গীকারের মত। আমরা সবাই সেবা পাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’

দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার
মতবিনিময় সভায় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত্যধিক। স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত ও বঞ্চিত। মানসম্মত চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এখনো লাখো মানুষের জন্য অসম এক চ্যালেঞ্জ।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজে বহন করতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, ‘একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী দেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলার মানুষ যেন কখনো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও যেন সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এই এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং চিকিৎসাসেবার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

অন্যান্যরা কে কী বলেছেন?
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবাও বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শুধু একটি নির্বাচনি এলাকা নয়, সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে এবং সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, ‘নতুন আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

ফেসবুক লাইভের পর হামলা, দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সাথীর

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুক লাইভের পর হামলা, দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সাথীর

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার। তাঁর ছেলে মো. জুনায়েদের দাবি, চাঁদা দাবির কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড হওয়ায় তাঁর মায়ের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতারের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) আদালত সাথী আক্তারকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ নভেম্বর।

চুরির ঘটনায় ক্ষোভ থেকে ফেসবুক লাইভ

সাথী আক্তার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেসে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠানে একাধিক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

সাথী জানান, তাঁর তিনটি শোরুমের এসির তার ও বিদ্যুতের মিটার থেকে তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৫ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে নিজের কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সাথী আক্তারের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাঁকে গালাগাল ও মারধর করেন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাথীর ছেলে মো. জুনায়েদ বলেন, তাঁর মায়ের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হচ্ছিল। একপর্যায়ে ক্ষোভ থেকে তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলেন। এরপর কয়েকজন নেতা এসে ঝামেলা করেন এবং দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

জুনায়েদের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় এবং মোবাইল ফোনে কথোপকথন রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার পর তাঁর মাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

‘দলকে ভালোবেসেছি, আজ সেই দলের লোকেরাই অপদস্থ করেছে’

সাথী আক্তার জানান, বিএনপির দুঃসময়ে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারেও ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না বলে জানান সাথী।

তিনি বলেন, “আমি এই দলকে ভালোবাসি। দলের দুঃসময়ে যখন অনেকে ভয়ে কথা বলতো না, তখন আমি নেত্রীর জন্য আন্দোলনে ছিলাম। আজ সেই দলের নেতাকর্মীদের হাতেই আমাকে অপদস্থ হতে হয়েছে। আমি শুধু আমার মনের কষ্ট প্রকাশ করেছি।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ছবিসংবলিত একটি কার্ড পোস্ট করা হয়েছিল। ওই পোস্টে স্থানীয় নেতার প্রতি তাঁর সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী

সাথী আক্তারের আইনজীবী মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাথী একজন নারী উদ্যোক্তা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাথীকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে কেন তাঁকেই গ্রেফতার করা হলো।

আইনজীবী জানান, ২৫ অক্টোবরের একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতে শুনানির সময় পুলিশের প্রতিবেদনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কার পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ভালুকা থানা পুলিশ ২৬ অক্টোবর সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবেন।

এর আগে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লাইভকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

 

গণপূর্তে বদলি-পদায়ন: লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
গণপূর্তে বদলি-পদায়ন: লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন, লটারির আগেই কর্মস্থল নির্ধারণ, জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পদায়ন ঘিরে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

গ্রেডিং শিট পরিবর্তনের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীদের এ-প্লাস, এ, বি, সি ও ডি—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হলেও ক্যাটাগরি নির্ধারণের লিখিত মানদণ্ড ও মূল্যায়নপদ্ধতি স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

একাধিক বাক্সে আলাদাভাবে কর্মকর্তাদের নাম রেখে লটারি প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ক্যাটাগরি নির্ধারণের ভিত্তি ও লটারির নিয়ম প্রকাশ করা হলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা সহজ হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার চার-পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে কোন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে, তা লটারির আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের পদায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাজহারুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, প্রশাসনিক অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়ন ঘিরে অভিযোগ

সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ পদায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রেজা তাইমুর মালিক, রাশেদ আহসান ও রাজিবুল ইসলামসহ কয়েকজনের কর্মস্থল পরিবর্তন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে কারও নাম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কারও নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেন এমন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দেড় হাজার প্রকৌশলীর বদলি

অভিযোগ অনুযায়ী, অল্প সময়ের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা, নাম অন্তর্ভুক্তি, ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও পদায়নের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।

১২০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের পাশাপাশি কথিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অভিযোগ যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ কেনার অর্থের উৎস এবং নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদের তথ্য পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মসংক্রান্ত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

লটারি পদ্ধতির পক্ষে মন্ত্রীর বক্তব্য

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছিলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত কর্মস্থলে পদায়নের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে এ পদ্ধতিতে বদলি-পদায়ন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে পদায়নের পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায় সরকার। রূপপুর প্রকল্প ঘিরে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করলে তা উদ্বেগের বিষয়। তাই গ্রেডিং শিট, লটারির নথি, কর্মকর্তাদের তালিকা, পদায়নের অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চালক ও গাড়ির ফিটনেস যাচাইয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
চালক ও গাড়ির ফিটনেস যাচাইয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: সড়কমন্ত্রী

চালকদের দক্ষতা ও যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে কথা বললে চালক ও মালিকেরা একজোট হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সব চালক অদক্ষ নন। তবে যাঁদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

পরিবহন মালিকদের উপযুক্ত চালক নিয়োগে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিকেরা যোগ্য চালক নির্বাচন করে তাঁদের নাম সুপারিশ করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চালকের যোগ্যতার বিষয়ে মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে সব ধরনের দুর্ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৮৪ জনের প্রাণহানির যে তথ্য সামনে আসে, তা কতটা সঠিক, কারা কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত তথ্য ছাড়া সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, চালকদের আচরণ, সচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং যানবাহনের ফিটনেসের সমস্যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চালকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চালকেরা নিজের জীবনের পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ও নির্দেশনা না মানলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আচরণ ও দায়িত্ববোধে পরিবর্তন আনতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এসব এলাকার ঝুঁকি কমানোর কাজও চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকা সংযোগস্থলগুলো চিহ্নিত করে যান চলাচলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যাত্রীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনুপযুক্ত যানবাহনে যাতায়াত, চলন্ত বাসে ঝুলে থাকা এবং যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। যথাযথ যাচাই ছাড়াই কোনো যানবাহন বা চালককে সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, সড়ক সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি