খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিলেন ডা.জুবাইদা রহমান

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিলেন ডা.জুবাইদা রহমান

‘ঢাকা-১৭ আসনে স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সবাই ছিলেন অনুষ্ঠানে। স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপনকারী এই হাসপাতালটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে নিজেদের আনন্দানুভূতি প্রকাশ করেন স্থানীয় ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক থেকে শুরু করে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলার শ্রমজীবী মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত—সবখানে তাঁদের শ্রম থাকলেও তাঁরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’

নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ (প্রায় ৪২.৬ শতাংশ) প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁরা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পান না, কারণ অসুস্থতা মানেই তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া বলেও মনে করেন ডা.জুবাইদা রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যাঁরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের এই বিনা মূল্যের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করবেন। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের স্বেচ্ছাসবীরা ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।’

এদিন মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের রোগ নির্ণয় বিভাগ, গ্যাস্ট্রোলিভার কেন্দ্র এবং ৫০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন ও চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের জন্য বিশেষ টিকিট কাউন্টার এবং অতিরিক্ত শয্যা সুবিধা চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসকরা এখানে সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করেছেন। দরিদ্র, প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি) ও ডায়াগনস্টিক পরিষেবাগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্য কোনো হাসপাতাল যেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজিক্যাল সেবা দিতে পারেনি সেখানে কুর্মিটোলা হাসপাতাল নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা নিশ্চিতের উদাহরণ স্থাপন করেছে। এছাড়াও কেমোথেরাপি, ছোট-বড় অস্ত্রোপচার ও গাইনোকোলজি বিভাগেও ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজ নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৭ এর অন্তর্ভূক্ত ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বাসিন্দারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

‘ঢাকা-১৭ আসনে স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ভাষানটেকের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি জীবনের প্রথম দেখতে পাচ্ছি, দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচনের আগে আমাদের কথা শুনতে এসেছিলেন এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও তারা আমাদের কাছে আসছেন। আমাদের জন্য ফ্রিতে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন সরকারি হাসপাতালে যে ভাবে সেবা পাচ্ছি সেটা নির্বাচনি অঙ্গীকারের মত। আমরা সবাই সেবা পাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’

দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার
মতবিনিময় সভায় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত্যধিক। স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত ও বঞ্চিত। মানসম্মত চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এখনো লাখো মানুষের জন্য অসম এক চ্যালেঞ্জ।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজে বহন করতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, ‘একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী দেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলার মানুষ যেন কখনো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও যেন সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এই এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং চিকিৎসাসেবার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

অন্যান্যরা কে কী বলেছেন?
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবাও বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শুধু একটি নির্বাচনি এলাকা নয়, সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে এবং সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, ‘নতুন আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, ব্যাংক, ঈদের জামাত ও ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতির পাশাপাশি সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন রাখা হয়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাল নোট চক্র, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এসকর্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ঢাকার প্রবেশপথ যেমন গাবতলী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক নির্ধারিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও যেন জোরপূর্বক নামানো না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পশুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যানজট এড়াতে হাটের সীমানার বাইরে রাস্তা বা ফুটপাতে পশু রাখতে না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন