খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

চিকিৎসকের ওপর হামলাকারী কাউকে ছাড় নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের ওপর হামলাকারী কাউকে ছাড় নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলাকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, মূল আসামিসহ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শরীয়তপুরের ঘটনায় আহত চিকিৎসাধীন ডা. নাসিরকে দেখতে গিয়ে মন্ত্রী এসব জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ছাড় না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীতে অনেক চিকিৎসককে হুমকি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মেডিকেল এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালের টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ঘিরে লুটপাট ঠেকাতে সজাগ আছে সরকার। মেডিকেল বিষয়ে কোনো সন্ত্রাসীকেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় দেশের প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র কর্মী এবং একজন পেট্রন কমান্ডার নিয়োগ করা হচ্ছে।

হাম ও নিউমোনিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলেও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উখিয়ায় মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

কক্সবাজার (উখিয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
উখিয়ায় মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)।

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছৈয়দা খাতুন একই এলাকার সৈয়দ হোসেনের স্ত্রী।

তার ছেলে আব্দুর রহমানকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। স্বজনদের দাবি, সম্প্রতি দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি দাবি করে আব্দুর রহমানকে আটক করে মারধর শুরু করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

ছেলেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মা ছৈয়দা খাতুন।

কিন্তু হামলাকারীদের মারধরে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে कर्तव्यরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আব্দুর রহমান কোনো মামলার আসামি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।

ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বলেন, খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মুন্সিগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, সৎ মামা আটক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
মুন্সিগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, সৎ মামা আটক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির সৎ মামাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। আটককৃত সৎ মামা রাজা মিয়া (৪৫) খুলনার মোড়লগঞ্জের মৃত আকবর হাওলাদারের ছেলে। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নিজ ঘরের খাটের ওপর ওই শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ মামা রাজা মিয়াকে আটক করে।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ মামাকে ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। মৃতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন হতে পারে।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৭ মে দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাছিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।

প্রসিকিউশন জানায়, এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা। সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।

কালের আলো/এসআর/এএএন