খুঁজুন
                               
, ,
           

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন হতে পারে।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৭ মে দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাছিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।

প্রসিকিউশন জানায়, এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা। সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

পাচারের টাকা ফেরাতে নজিরবিহীন তৎপরতা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
পাচারের টাকা ফেরাতে নজিরবিহীন তৎপরতা

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ছয় মাসে দৃশ্যমানভাবে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। পাচারকারীদের বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদের তথ্য সংগ্রহ, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সেগুলো দেশে ফেরাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৩টি দেশে ৪৪টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর পাশাপাশি ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদ্যোগ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান এবং সেগুলো ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য আটটি আন্তর্জাতিক ল-ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আগের তুলনায় আরও সমন্বিত ও আক্রমণাত্মক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টাস্কফোর্স পুনর্গঠন, এক ছাতার নিচে একাধিক সংস্থা
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সকে পুনর্গঠন ও সক্রিয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন এই টাস্কফোর্সে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

টাস্কফোর্সের অধীনে দেশের বড় ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপ এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তে ১০টি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিএফআইইউর কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এর বাইরে আরও দুই ব্যক্তিসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে নেওয়া হয়েছে।

২৩ দেশে ৪৪টি এমএলএআর
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের পথ অনুসরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে এমএলএআর। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ, কোম্পানি কাঠামো, লেনদেনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে গত ছয় মাসে ২৩টি দেশে ৪৪টি এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। এসব অনুরোধের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের গন্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তবে এমএলএআরের জবাব পাওয়া এবং সেই তথ্যকে বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য প্রমাণে রূপান্তর করা সময়সাপেক্ষ। ফলে দ্রুত অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা।

শনাক্ত ৪২ প্রতিষ্ঠান, সামনে সম্পদ উদ্ধারের কঠিন লড়াই
সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান এবং সেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ বা দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ সামনে। এই পর্যায়েই আটটি আন্তর্জাতিক ল-ফার্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিদেশি আইনের কাঠামো, সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়া এবং সম্পদের মালিকানা কাঠামো বিশ্লেষণে স্থানীয় সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, অর্থ পাচার শনাক্ত করা থেকে অর্থ দেশে ফেরানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি এখন কয়েকটি ধাপে এগোচ্ছে—তথ্য সংগ্রহ, সম্পদ শনাক্তকরণ, আইনি ব্যবস্থা এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ প্রত্যাবাসন।

দেড় শতাধিক অনুসন্ধান আটকে তথ্য-প্রমাণে
তবে সরকারের এই তৎপরতার মাঝেও বড় বাধা হয়ে আছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের সংকট। দুদকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিদেশে অর্থ পাচারসংক্রান্ত ১৫৭টি মামলা বা অনুসন্ধান অনিষ্পন্ন ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১৪৮।

দুদক সূত্র বলছে, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও আর্থিক তথ্য না পাওয়ায় এসব অনুসন্ধানের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর ঝুলে আছে। কারণ অর্থ পাচারের অভিযোগ আদালতে প্রতিষ্ঠিত করতে শুধু সন্দেহ বা দেশীয় তথ্য যথেষ্ট নয়; বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও আইনসম্মত প্রমাণ প্রয়োজন।

এ কারণে এমএলআরের মাধ্যমে তথ্য পাওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে তদন্ত কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে সরাসরি তথ্য ও নথি সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

পাচারের প্রধান গন্তব্য ১০ দেশ
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচারের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কানাডা, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কেম্যান আইল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড। এসব দেশে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহে দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। কিন্তু প্রতিটি দেশের আইন ও প্রক্রিয়া আলাদা হওয়ায় এক দেশের তদন্ত পদ্ধতি অন্য দেশে সরাসরি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এখানেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দক্ষ আইনি প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

পুরোনো উদ্যোগ, নতুন গতি
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর আইনি উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০০৭ সালের পর থেকেই এ ধরনের অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়। গত প্রায় দেড় যুগে দুদক বিশ্বের ৭১টি দেশে শতাধিক এমএলএআর পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ২৭টির জবাব পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থাৎ, বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার প্রক্রিয়া চললেও কাঙ্ক্ষিত গতিতে অর্থ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। বর্তমান উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো—শুধু এমএলএআর পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ ও আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তাকে আরও সমন্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুদক ইতোমধ্যে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান জোরদার করে দুদক। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলা হয়েছে।

তবে এসব অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য ও মালিকানা কাঠামোর প্রমাণ সংগ্রহই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে নতুন করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগকে এসব তদন্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

টাকা ফেরানোই এখন আসল পরীক্ষা
অর্থ পাচারের অভিযোগ শনাক্ত করা এবং বিদেশে সম্পদের সন্ধান পাওয়া—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে পাচার হওয়া অর্থ কতটা দেশে ফেরানো সম্ভব হয় তার ওপর। এখানে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বিদেশি দেশ থেকে দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া, আদালতে উপস্থাপনের মতো প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পদ জব্দ ও অর্থ প্রত্যাবাসন করা।

আটটি আন্তর্জাতিক ল-ফার্ম নিয়োগ, ২৩ দেশে ৪৪টি এমএলএআর এবং আন্তসংস্থা তদন্ত দলের কার্যক্রম তাই সরকারের উদ্যোগকে আগের তুলনায় আরও কাঠামোবদ্ধ করেছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য মাপা হবে তখনই, যখন শনাক্ত সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ করে তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবে বাংলাদেশে ফেরানো যাবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের সামনে এখন মূল প্রশ্ন তাই শুধু ‘কোথায় গেল টাকা’ নয়—কত দ্রুত, কতটা এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় সেই টাকা দেশে ফেরানো সম্ভব হবে।

কালের আলো/এম/এএই

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২২৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৮ শিশু। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম–বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে এ সময়ে ৯৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৩১ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৭ জন। এ সময়ে ১ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮২৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০৪। এ সময়ে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংবিধান ও নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন ঘোষণা: মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সংবিধান ও নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন ঘোষণা: মঈন খান

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তার কিন্তু একটি সাংবিধানিক পদ্ধতি আছে। আজকে যদি বলে দেই যে অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না।

কাজেই এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তরটা কিন্তু আমার দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়, নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আপনারা বিগত নির্বাচনগুলো দেখেছেন। আট (২০০৮) এর নির্বাচন, চৌদ্দ এর নির্বাচন, আঠার এর নির্বাচন এবং চব্বিশ এর নির্বাচন।

আট (২০০৮) কিন্তু বিশেষ করে বলছি। এই চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে নাই। দীর্ঘ দিন পরে আমরা সৌভাগ্যবান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সত্যিকারে অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আজকে আজকে আপনাদের সামনে এসেছি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলছি, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা আইনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা আইনের পথে যেতে চাই।

বিচার বিভাগ নিয়ে মঈন খান বলেন, এই দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারের রায়, জজ সাহেব লিখতো না, মন্ত্রণালয়ে লেখা হতো। কাজেই আমরা কোনো উইচ হান্টিংয়ে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এই দেশে, সত্যিকারের অর্থে গণতান্ত্রিক যে সিস্টেম, সেই সিস্টেমটাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফিরিয়ে আনার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা সেই পথে হাঁটছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমার অগ্রাধিকার হলো জনগণ। আমাদের জনগণের সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এই সরকার গঠন করেছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএএন/এমডিএইচ