খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

লাশ চুরিতে কোটি টাকার বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
লাশ চুরিতে কোটি টাকার বাণিজ্য

অন্ধকার রাত। রাজধানীর উপকণ্ঠের কোনো এক নির্জন গোরস্তান। মাটির গভীরে সবেমাত্র দাফন করা হয়েছে এক ব্যক্তির লাশ। কিন্তু চিরনিন্দ্রায় শায়িত ওই লাশ তুলতে ওতপেতে আছে একদল ‘লাশচোর’। শাবলের কোপে মাটি সরে যায়, কাফন ছিঁড়ে বের করে আনা হয় নিথর দেহ। এরপর শুরু হয় বীভৎসতা। মাংস অ্যাসিডে ঝলসে ও রাসায়নিক দিয়ে পুড়িয়ে হাড়গুলো আলাদা করা হয়। এ হাড়গুলোই কয়েক হাত বদল হয়ে যখন ধবধবে সাদা কঙ্কাল হিসেবে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে পৌঁছায়, তখন এর দাম গিয়ে ঠেকে ৩০-৪০ হাজার টাকায়।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও থ্রিডি সিমুলেশনের মাধ্যমে মানবদেহের নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করছে, তখন বাংলাদেশের ১০ হাজার নবীন চিকিৎসকের পড়াশোনার হাতেখড়ি হচ্ছে কবর থেকে চুরি হওয়া লাশের হাড় দিয়ে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, যুগের পর যুগ ধরে চলা অমানবিক ও বীভৎস এ ‘কঙ্কাল বাণিজ্য’ এখন কয়েক কোটি টাকার এক সুসংগঠিত মাফিয়া সিন্ডিকেট

সদ্য মৃত প্রিয়জনকে পরম মমতায় যখন স্বজনরা কবরে শায়িত করেন, তখন তারা কল্পনাও করতে পারেন না যে, অচিরেই নিথর দেহটি পরিণত হতে পারে পণ্য বা ব্যবসায়িক হাতিয়ারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার নতুন মেডিকেল শিক্ষার্থীর

অ্যানাটমি শিক্ষার অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল বা ‘হিউম্যান স্কেলেটন’। কিন্তু এই কঙ্কাল সংগ্রহের কোনো বৈধ বা রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া না থাকায় গড়ে উঠেছে ভয়াবহ ও অমানবিক এক ‘লাশ চুরি’ সিন্ডিকেট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও থ্রিডি প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও একটি প্রাচীন ও অমানবিক প্রথা আঁকড়ে ধরে রাখার এ জেদ কেবল লাশের অবমাননাই করছে না; বরং হবু চিকিৎসকদের শিক্ষার শুরুতেই এক অনৈতিক বাণিজ্যের অংশীদার করে তুলছে।

 

সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ আমলে মেডিকেল কলেজগুলোয় এই কঙ্কাল বাণিজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে। মেডিকেল কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতারা এ ব্যবসাকে কোটি টাকা আয়ের উৎস বানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) শিক্ষার্থী ছিলেন মুর্তজা শাহরিয়ার। তিনি আমার দেশকে বলেন, “তৎকালীন মিটফোর্ড ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হাসান আরিফ ছিলেন এই কঙ্কাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। কঙ্কাল বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় ‘মাফিয়া’ ছিলেন একই মেডিকেল কলেজের তৎকালীন শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতা মজনু মিয়া। শেরপুর নিবাসী ছাত্রলীগের ওই নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল কঙ্কাল ডিস্ট্রিবিউশনের বিশাল নেটওয়ার্ক। এ সিন্ডিকেটের তিনটি ভাগ ছিলÑএকদল কবর থেকে লাশ সরাত, একদল লাশ গলিয়ে হাড় আলাদা করত আর ছাত্রনেতারা ছিল ‘ডিস্ট্রিবিউটর’।”

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর কঙ্কাল বাণিজ্য সিন্ডিকেটে জড়িত মিটফোর্ড হাসপাতালের ওই ছাত্রলীগ নেতারাও আত্মগোপনে চলে যান। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনীতির পটপরিবর্তন হলেও অমানবিক প্রথাটি আজও থামেনি; কেবল হাতবদল হয়েছে কঙ্কাল বাণিজ্যের।

চলতি বছরের মার্চে রাজধানীর উত্তরায় একটি ডেন্টাল কলেজের হোস্টেল থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল হাড় উদ্ধার করে পুলিশ। এতে স্পষ্ট হয়, এই ব্যবসা এখন অনলাইন গ্রুপ ও বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালে কাফরুল থেকে ৩৫টি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি ২০২২ সালে কঙ্কাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জড়িত থাকার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ এ সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘদিনের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা শেষে এ হাড়গুলো অনেক সময় প্রোপার ডিসপোজাল হয় না; নর্দমা বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, যা লাশের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই হাড় কিনতে বাধ্য হন। কারণ, অ্যানাটমি ক্লাস এবং আইটেম পরীক্ষায় হাড় সামনে নিয়ে ডেমোনস্ট্রেশন না দিলে অনেক শিক্ষক ভালোভাবে নেন না।চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এই যুগে মানুষের কঙ্কাল নিয়ে পড়াশোনার ধারণাটি বিশ্বজুড়ে আমূল বদলে গেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে উন্নত দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে মানবদেহের জটিলতম স্নায়ুতন্ত্র ব্যবচ্ছেদ করছে। অথচ বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এখনো কবর থেকে চুরি হওয়া লাশের হাড়ের ওপর নির্ভরশীল।

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে ‘কমপ্লিট অ্যানাটমি’র মতো বিশ্বখ্যাত থ্রিডি অ্যাপ্লিকেশনগুলো অ্যানাটমি শিক্ষার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। একটি স্মার্টফোন বা ট্যাবের পর্দায় মানুষের হাড়ের প্রতিটি খাঁজ, সূক্ষ্ম ছিদ্র এবং লিগামেন্টের অবস্থান অনেক বেশি নিখুঁতভাবে জুম করে দেখা সম্ভব। অথচ বাংলাদেশে অ্যানাটমি বিভাগগুলো আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি অনুকরণ না করে অতীতের প্রথা মেনে চলায় এই সিন্ডিকেট আজও টিকে আছে। তাদের যুক্তি, ‘আসল হাড় স্পর্শ না করলে শিক্ষা পূর্ণ হয় না।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে হাড়ের ভেতরের গঠনও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব, সেখানে কেবল স্পর্শের দোহাই দিয়ে লাশ চুরির মতো জঘন্য অপরাধকে পরোক্ষভাবে মদত দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সামান্য পরিবর্তনই পারে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে চুরিকৃত হাড়ের বদলে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিতে।মেডিকেল শিক্ষার্থীরা জানান, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন আর ‘আসল হাড়’-নির্ভর নয়। চীন, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় এখন ৯৬% থেকে ৯৯% নির্ভুল ‘অ্যানাটমিক্যালি অ্যাকুরেট’ প্লাস্টিক কঙ্কাল মডেল ব্যবহৃত হয়, যা টেকসই এবং সম্পূর্ণ আইনসম্মত। পাশের দেশ ভারতেও প্লাস্টিক মডেল ও স্টিমুলেশন অ্যাপের ব্যবহার এখন প্রধান মাধ্যম। অথচ বাংলাদেশে চিত্রটি একেবারেই উল্টো। এখানে একজন নবীন শিক্ষার্থীকে একটি চুরিকৃত কঙ্কালের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি ডিজিটাল অ্যাপ সাবস্ক্রিপশনের বার্ষিক খরচ মাত্র ছয় থেকে আট হাজার টাকা। উন্নত বিশ্বে কেবল যারা স্বেচ্ছায় মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন, তাদের হাড়ই অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে মেডিকেল মিউজিয়ামে রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে লাশ চুরির বাজারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি যেখানে সমাধানের পথ দেখাচ্ছে, সেখানে প্রশাসনের এ ধরনের স্থবিরতা কেবল লাশের অবমাননাই নয়; বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানবিক দর্শনের সঙ্গেও চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ ইরফান আমার দেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য ১১ হাজার কঙ্কাল স্বাভাবিক উপায়ে সংগ্রহ করা অসম্ভব। আর এ সুযোগেই একটি চক্র কবর থেকে লাশ চুরির মতো অপরাধ করে।’কঙ্কাল কেনা বা রাখার অধিকার কেবল মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলোর থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বা ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাঁচটি করে কঙ্কালের সেট রাখে, তবে তা দিয়ে অনায়াসে ১০-১৫ বছর চালানো সম্ভব। এতে প্রতি বছর নতুন কঙ্কালের প্রয়োজন হবে না। শিক্ষার্থীরা বাজার থেকে প্লাস্টিকের মডেল বা সিমুলেশন মডেল কিনে ব্যক্তিগত পড়াশোনা করতে পারে। আর যখন আসল হাড় দেখার প্রয়োজন হবে, তখন তারা কলেজের ল্যাব বা লাইব্রেরিতে থাকা ‘বোনস ব্যাংক’ থেকে সেটি ব্যবহার করবে।”

চিকিৎসকদের অনেকে বলছেন, লাশ পাহারা দিয়ে এই চুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। সমাধান লুকিয়ে আছে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসি যদি ঘোষণা করেÑমেডিকেল পরীক্ষায় ‘আসল হাড়’ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এর বদলে থ্রিডি স্টিমুলেশন বা প্লাস্টিক মডেল ব্যবহার হবে, তাহলেই লাশ চুরির এই কোটি টাকার মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে পড়বে।

কালের আলো/এসআইপি

উখিয়ায় মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

কক্সবাজার (উখিয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
উখিয়ায় মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)।

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছৈয়দা খাতুন একই এলাকার সৈয়দ হোসেনের স্ত্রী।

তার ছেলে আব্দুর রহমানকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। স্বজনদের দাবি, সম্প্রতি দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি দাবি করে আব্দুর রহমানকে আটক করে মারধর শুরু করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

ছেলেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মা ছৈয়দা খাতুন।

কিন্তু হামলাকারীদের মারধরে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে कर्तव्यরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আব্দুর রহমান কোনো মামলার আসামি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।

ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বলেন, খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মুন্সিগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, সৎ মামা আটক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
মুন্সিগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, সৎ মামা আটক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির সৎ মামাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। আটককৃত সৎ মামা রাজা মিয়া (৪৫) খুলনার মোড়লগঞ্জের মৃত আকবর হাওলাদারের ছেলে। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নিজ ঘরের খাটের ওপর ওই শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ মামা রাজা মিয়াকে আটক করে।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ মামাকে ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। মৃতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন হতে পারে।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৭ মে দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাছিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।

প্রসিকিউশন জানায়, এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা। সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।

কালের আলো/এসআর/এএএন