খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিতে ফোকাস সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিতে ফোকাস সেনাপ্রধানের

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হয়নি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর বিষয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একটি ঘোষণাই বদলে দেয় আন্দোলনের গতিপথ। ঐতিহাসিক এক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয় ছাত্র-জনতার। অনিবার্য গৃহযুদ্ধ ও রক্তবন্যার হাত থেকে রক্ষা পায় দেশ। টানা তিনদিন সরকারবিহীন দেশের দায়িত্ব নিজেদের স্কন্ধে তুলে নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে কার্যকর সহায়তার পাশাপাশি জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ১৮ মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় নির্বাচনের বন্দোবস্ত করে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী।

ক্ষমতা নয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমাণ্ড অটল-অনড় থাকায় চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে দিয়ে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই অস্থিতিশীল-অস্থির সময় জয় করে প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিতের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী প্রমাণ করেছে দেশের গণতন্ত্রের সবচেয়ে সহায়ক শক্তি তাঁরাই। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। স্বাধীনতার পর আর এতো সময় কখনও ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকেনি সামরিক বাহিনী। এবার তাঁরা ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, দেশ স্থিতিশীল থাকায় সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরতে শুরু করেছে। গত ১৮ মাস মাঠে দায়িত্ব পালন করেও সেনা সদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় নিজের নিশানাও পরখ করে নেন। এ সময় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাজিম উদ দৌলা তাঁর পাশে ছিলেন।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দায়িত্বশীলতায় দেশপ্রেমের অত্যুজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ক’দিন আগে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিও দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে জনগণের ভালোবাসায় ধন্য সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকারের বয়স তিন মাস ছুঁই ছুঁই। এই সময়টিতে পুলিশ নিজেদের গুছিয়ে তুলছে পুরোদমে। এবার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার কাণ্ডারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থায়ী ঠিকানা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাবার পালা। দীর্ঘ মেয়াদে বেসামরিক দায়িত্ব সামরিক বাহিনীর উন্নত কঠোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বহি:শত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যুদ্ধ প্রস্তুতি ও আধুনিক সমরকৌশলের মাধ্যমে দ্রুত শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য পুরোমাত্রায় মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও ফরমেশন ট্রেনিং ও সামরিক পরিবেশ বা আবহের আর কোন বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিরক্ষার এই প্রধান স্তম্ভটিকে নিজেদের স্বাভাবিক দায়িত্বে মনোযোগী হতে দিলে জাতির অস্তিত্ব ও মর্যাদাও সুসংহত হবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনও ডেপ্লয়েড আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি, এখনও আছি। এখন ১৬ থেকে ১৭ হাজার সারা বাংলাদেশের ৬২টি জেলায় আছে। আমরা অনেক সৈনিক আমরা উইথড্রো করেছি, বাট এখনো সম্পূর্ণ উইথড্রো হয়নি। ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি যে কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবো। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ করে যেতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব। যেমন এখন ফিউল ডিপোগুলোতে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট আছে। এ রকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আমাদের যে প্রধান কাজ ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে প্রশিক্ষণগুলো করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি, আমাদের নিজস্ব যে পদ্ধতি আছে, নিজস্ব ওয়ে আছে সেগুলো আস্তে আস্তে আমাদের শুরু করতে হবে। এজন্য ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি। এখন ফায়ারিং কমপ্রেশন হলো। আমি রেজাল্ট দেখলাম, দক্ষতা দেখলাম, আমি অত্যন্ত আশান্বিত যে এতদিন ফিল্ডে থাকার পরেও আমাদের ফায়ারিং সক্ষমতা কমেনি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমাদের আস্তে আস্তে ট্রেনিং ইভেন্টগুলো শুরু করতে হবে। আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি, ইনশাআল্লাহ।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আপন ঠিকানায় ফিরে গেলে পুলিশসহ অন্যরা নিজেদের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা যাচাই করতে পারবে। সামরিক বাহিনী দিনের পর দিন ব্যারাকের বাইরে থেকে এই কাজটি করবে এটি প্রত্যাশাও ভূ-রাজনৈতিক জটিল সমীকরণে আত্মঘাতী। বিভিন্ন বাহানায় জাতির আস্থা-বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতার প্রতীক এই বাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ব্যস্ত রাখলে জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকে। সশস্ত্র বাহিনী সংকটময় মুহুর্ত থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণে পথ দেখিয়ে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। এখন নিজেদের মূল পেশাগত দায়িত্বে ফোকাস করতে পারলেই সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরীরা নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে পারবে বাংলাদেশকে। পেশাগত আধুনিক প্রশিক্ষণ, কৌশলগত চিন্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের সময়োপযোগীতার মানদণ্ডে ভাবমূর্তিকেও করবে আরও উজ্জ্বল।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় সৈনিক পিয়াল মন্ডল, ১৭ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ ফায়ারার; সৈনিক তানভীর হোসেন, ১০ পদাতিক ডিভিশন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার এবং সৈনিক জবা আক্তার, ২৪ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ মহিলা ফায়ারার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, চলতি বছরের ১৬ মে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশন, লজিস্টিকস্ এরিয়া, ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে। এ সময় উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

তখন আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্টের মধ্যে দিয়ে যেন বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মে)। বাদ্যের তালে তালে আর পায়ের ছন্দে বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মেধাবী ক্যাডেটদের চোখের তারায় তখন খেলা করছে দেশমাতৃকার সেবার অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন।

বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৫জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। নবীন কর্মকর্তাদের সেই স্বপ্নকে যেন আরও স্বার্থক ও মহিমান্বিত করলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (গ্রীষ্মকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন।

বিমান বাহিনী প্রধান স্মরণ করিয়ে দিলেন ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। জানিয়ে দিলেন সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্স’এ রূপান্তরিত হতে হবে। আনন্দ বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন।

  • বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
  • আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
  • প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী ৮৮তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট আদনান হক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়াও ৮৮তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।

আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
আজকের এই রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে আজকের এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে যেসব অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে তাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন এগোচ্ছে তেমনি হুমকির ধরনও জটিল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মানুষবিহীন আকাশযান, আধুনিক যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থাপনা এবং স্পেইস বেইজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়াও সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কেবল নতুন প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রয়োজন ভিত্তিক সক্ষমতা, উন্নয়ন, সর্বোচ্চ অপারেশনাল রেডিনেস, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বিত প্রচেষ্টা।

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর দক্ষ জনবল ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মাটিতে প্রশিক্ষণ বিমান তৈরি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ধরণের ইউএভি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ফিউচার রেডি (ভবিষ্যমুখী) বিমান বাহিনী গড়ে তুলছি। বর্তমান নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর প্রশিক্ষণ দর্শন ও অবকাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল, এয়ারমেন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলছি। যাতে বিমান বাহিনীর সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও দর্শনের অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (ট্র্যাডক) প্রতিষ্ঠা বিমান বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার হিসেবে আমি মনে করি একটি ক্রেডিবল এয়ার ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি শুধুমাত্র সামরিক শক্তির প্রতীক নয়। এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছি যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বাধুনিক মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা শর্ট রেঞ্জ মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল, এন্ট্রি ড্রোন ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের তড়িৎ সহযোগিতা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও অ্যাজাইল (ক্ষিপ্র) বিমান বাহিনী গড়ে তোলা। আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান।

অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে সেবা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুন:প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের সামরিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। তোমাদের চালচলনে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে কাম্য।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা তোমরা নিজেদের দক্ষ, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সর্বদা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনী তথা দেশের স্বার্থকে স্থান দেবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

জীবন উৎসর্গের শপথ ৪৪১ নবীন নাবিকের, দেশের প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার কথা জানালেন নৌবাহিনী প্রধান

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
জীবন উৎসর্গের শপথ ৪৪১ নবীন নাবিকের, দেশের প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার কথা জানালেন নৌবাহিনী প্রধান

বাদ্যের তালে তালে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ। ২২ সপ্তাহের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষের পর গৌরবের অনন্য এক অধ্যায়ে প্রবেশ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ/২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ নবীন নাবিকের পদচারণায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) মুখর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ড। লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়ে তাঁরা যোগ দিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। সন্তানের কুচকাওয়াজ দেখে তখন অনেক অভিভাবকের চোখে জলজমা আনন্দ। বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করা নবীন নাবিকদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অবলোকন করলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

‘শান্তিতে সংগ্রামে, সমুদ্রে দুর্জয়’ এই স্লোগান নিয়ে এই তরুণ নাবিকরা শুধু সমুদ্রসীমাই নয়, আগামী দিনে এক উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে রাখবে বলিষ্ঠ ভূমিকা এমন প্রত্যাশার কথাও উচ্চারিত হয় প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও বহি:শত্রুর যেকোন আক্রমণ থেকে সমুদ্র সীমা রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর কার্যক্রম দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যেকোন ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে।’

  • বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতি
  • ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন
  • সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে
  • নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সব সময় চলমান
  • তিনটি শিপইয়ার্ডের সাফল্যজনক কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্
  • সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনীর এ-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. শাহরিয়ার টুটুল পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা অর্জন করে সেরা চৌকস নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। এছাড়াও মো. সামিউল ইসলাম শাকিল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. কাদের মিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করেন। একই সঙ্গে সেরা চৌকস মহিলা নাবিক হিসেবে মোছা. মারিয়া আক্তার ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার’ পদক অর্জন করেন।

বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতি
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মনোরম ও বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতির কথা তুলে ধরেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘সাফল্যের সঙ্গে ২২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষ করে আজকের এই প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে নবীন নাবিকরা দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ও পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এজন্য আমি তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আজকের এই বিশেষ ক্ষণে আমি প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে নৌবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনসহ শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও সকল নৌ সদস্য ও কমান্ডোদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। আমি সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক সঙ্কটময় মুহুর্তে বাঙালি নাবিক ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় নৌ কমান্ডো দল যারা অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার মাধ্যমে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনে বয়ে আনে অসামান্য সাফল্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় দু’টি টহল জাহাজ পদ্মা ও পলাশ ও সীমিত সংখ্যক নৌ সদস্যদের নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে
ইতিহাস পর্যালোচনা করে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পৃথিবীর যেসব দেশ তাদের সমুদ্র সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহারের পদক্ষেপ নিয়েছে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের জনবহুল এই দেশের সার্বিক উন্নয়নে সঙ্গত কারণেই ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা নিয়ে আজ আমাদের বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, তেল-গ্যাসের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের ব্যবহার যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নের পথে রূপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও বহি:শত্রুর যেকোন আক্রমণ থেকে সমুদ্র সীমা রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফটসহ আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বানৌজা নবযাত্রা এবং জয়যাত্রা নামে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’

নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সব সময় চলমান
এই ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সব সময় চলমান রয়েছে বলে জানান নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় দেশের শিপইয়ার্ডে লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণ এবং পর্যায়ক্রমে অফশোর পেট্রোল ভ্যাসেল, করভেট ও ফ্রিগেড নির্মাণের পরিকল্পনাকরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে দু’টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার ও দুটি আনম্যান্ড এয়ারক্রাফট সিস্টেম নেভাল এভিয়েশনে সংযোজিত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটির নিরাপত্তার লক্ষ্যে এন্টি-ড্রোন সিস্টেম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। যা খুব শিগগির স্থাপনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সম্প্রতি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয় করা হয়েছে। আগামী বছর জাহাজটি আমাদের নৌবহরে যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনটি শিপইয়ার্ডের সাফল্যজনক কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য
বর্তমানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনটি শিপইয়ার্ডের সাফল্যজনক কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ল্যান্ডিং অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি এলসিটি (ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক) নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছে। পাশাপাশি অপারেশনাল কর্মকাণ্ড নিরবচ্ছিন্ন রাখার নিমিত্তে ডিডব্লিউ নারায়ণগঞ্জের একটি ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডকে সরকার দায়িত্ব প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক এই দায়িত্ব গ্রহণের পর কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। হ্যান্ডেলিং’র হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তিনটি ডাইভিং বোট নির্মাণ করেছে, যা ইতোমধ্যে নৌবাহরে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যান্ডিং অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি এলসিটি (ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক) নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ওপর সরকার ন্যস্ত করেছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং-এর সংখ্যা এতে গতিশীলতা এসেছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো নেভি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এই মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু করা হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস হতে প্রায় দীর্ঘ দুই বছর যাবত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করে চলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর কার্যক্রম দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যেকোন ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বোনের সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পৌনে ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসাদের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এসময় রামিসার বোনের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ