খুঁজুন
                               
, ,
           

ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন মৌলভীবাজারের ৮ স্পট

ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন মৌলভীবাজারের ৮ স্পট

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন জেলা হচ্ছে মৌলভীবাজারের। এ জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য চা বাগান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে একটি জেলায় একসঙ্গে এতো গুলো পর্যটন কেন্দ্র দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন মৌলভীবাজারে থেকে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এটি শুধু বাংলাদেশ নয় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি স্থান। পরিচিতর দিক থেকে সুন্দর বনের পরেই লাউয়াছড়ার অবস্থান। এ উদ্যানটি কেবল পর্যটন স্থানই নয়, এ পার্ক এখন জীবন্ত প্রাকৃতিক গবেষণাগার। যা প্রাণি ও পাখি বিজ্ঞানীদের একটি রাজ্য বলা যায়। বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার অবস্থিত ১.২৫০ হেক্টর আয়তনের বনটি জীববৈচিত্র্য ভরপুর। ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯২৫ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে তাই বেড়ে আজকের এই বনে পরিণত হয়। জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এ উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভয়চর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বিলুপ্ত প্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।

কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর লেকটি চারিদিকে সুউচ্চ সবুজ চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত। লেকের ঝকঝকে পানি, প্রকৃতির ছায়া, নিরিবিলি পরিবেশ ও শাপলা ফুলে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। সবুজ পাহাড়ের চুড়ায় ধীরে ধীরে যতই এগুতে থাকবেন ততই সবুজ পাতায় পর্যটকের মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। চারদিকে সবুজ পাহাড়ের পাশাপাশি উঁচু উঁচু টিলা রয়েছে। মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা কোনো ছবি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স

কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স। মোহাম্মদ হামিদুর রহমান সাতজন শ্রেষ্ঠ বীরদের অন্যতম একজন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত তিনি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। ১৯৭০ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে যোগ দেন। তার প্রথম ও শেষ ইউনিট ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝরনার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয়। এছাড়া এই জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে হাইল হাওর এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর একটি জলাভূমি। এই হাওরে অবস্থিত বাইক্কা বিল, পর্যটকেরা শতরঙ্গের অতিথি পাখি দেখতে ও কিচিরমিচির শব্দ শুনতে ছুটে আসেন বাইক্কা বিলে।

চা-কন্যা

শ্রীমঙ্গলের প্রবেশ পথে রয়েছে চা কন্যার ভাস্কর্য যা চা শিল্পের ঐতিহ্য বহন করছে।

বধ্যভূমি

শ্রীমঙ্গলে উপজেলায় অবস্থিত বধ্যভূমি। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত বধ্যভূমিকে ঘিরে তৈরি এ পার্কটি দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ স্থানীয়দের পদচারণায় সবসময় মুখরিত থাকে।

ডিনস্টন সিমেট্রি

শ্রীমঙ্গল ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগান। এখানেই শত বছরের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে ডিনস্টন সিমেট্রি। এই সিমেট্রিতে শুধু বিদেশিদের কবরের সংখ্যা রয়েছে ৪৬ টি। ডিনস্টন সিমেট্রি পর্যটকের আকর্ষণীয় স্থান।

এছাড়া এ জেলায় উল্লেখযোগ্য দর্শনীয়স্থান হলো হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লী, হাকালুকি হাওড়, মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু নিচু সবুজ চা বাগান, চা কণ্যা ভাষ্কর্য, নীলকন্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তি মালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, কমলা রাণীর দিঘি, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, পাথারিয়া হিলস্ রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট, খাসিয়া পুঞ্জি, হাকালুকিহাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ, পদ্মছড়া লেক, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, বাম্বোতল লেক, শমশেরনগর গল্ফ মাঠসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীবসবাস সহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

জেলায় আগত পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে একাধিক পাঁচ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজ। এরমধ্যে কয়েকটি হলো গ্র‍্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, নভেম ইকো রিসোর্ট, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, গ্র‍্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুর, সুইস ভ্যালি রিসোর্ট, বালিশিরা ইকো রিসোর্ট, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ, পত্রস্নান রিসোর্ট, শান্তি বাড়ী রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো রিসোর্ট, টি হেভেন রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, ওয়াটালিলি, মুক্তানগর রিসোর্ট, রাঙ্গাউটি রিসোর্ট, অরণ্যনিবাস ইকো রিসোর্ট, গগন টিলাসহ ছোট-বড় আরও প্রায় শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, হামের প্রভাব ও ঈদের পর ছুটি কম থাকায় আগাম বুকিং কম হয়েছে রিসোর্ট গুলোতে। ছোট রিসোর্ট শতভাগ বুকিং হলেও বড় গুলো কম হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে জেলায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে পুলিশ মোতায়ন করা হবে। এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি।’

যেভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাস যোগে মৌলভীবাজার জেলায় আসা যায়। ট্রেন যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে জেলার শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর ও কুলাউড়া রেল স্টেশনে নেমে লোকাল বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় অতি সহজেই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

পাঁচ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা

অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১১ থেকে ১২ জুলাই দেশের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এসময় কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাণিতিক মডেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী অতি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা, জরুরি বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা এবং দ্রুত জনগণের মধ্যে সতর্কবার্তা প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও বসতি থেকে দ্রুত নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পূর্বাভাসে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, মোমবাতি, ম্যাচ, অন্তত তিন দিনের কাপড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে রাখা ও পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবার, প্রতিবেশী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি নদী ও ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ঘরের আশপাশের নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা এবং গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার আগে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে এ বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’। তেহরানের দাবি, এ ঘটনার জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী দায়ী।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে, একদল ‘বিচ্যুত’ কট্টরপন্থি আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। এটি আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’

শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, না হলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’

আজ ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান ঘটানো।

সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে। এ সময় তারা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করবে বলে জানানো হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। এ ব্যবস্থায় প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির ওপর ‘হাজার হাজার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। শনিবার (১১ জুলাই) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে তাক করে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ইরান সরকার যদি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে গুপ্তহত্যা করে বা গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে তাহলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে!’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এক বছরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। ইরানের সব এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।’

এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। ওয়াশিংটন কোনো সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ালে আত্মরক্ষার জন্য ইরান সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

গালিবাফ বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করার প্রস্তুতি কখনোই বন্ধ করিনি। আমেরিকানরা যেকোনো মুহূর্তে সমঝোতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটানো বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একটি অগ্রাধিকার। কিন্তু সবার জানা উচিত, ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সংঘাতের কখনো অবসান হবে না।’

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি