খুঁজুন
                               
, ,
           

টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

মিষ্টি জলের হাওর-বাঁওড় বাংলাদেশের অন্যতম বিস্ময়। বর্ষাকালে যেন এক সমুদ্দুর, যতদূর চোখ যায় শুধু জল আর জল। আকাশ আর জলের মিলনের মাঝে মাঝে চোখে পড়ে একেকটি বাড়ি। যেন জলের ওপর ভেলার মতো বাড়িগুলো ভাসছে। দূর থেকে একেকটি বাড়িকে মনে হয় একেকটি দ্বীপ। চারপাশের জলের নাচনের মধ্যে মহিষের মতো গলা উঁচু করে আকাশ দেখে হিজল-করচ গাছ। তার পাশ দিয়ে নৌকা নিয়ে চলাচল করে হাওরের মানুষ।

নতুন কোনো পর্যটক যদি হাওরের রূপ-মাধুরী প্রথম দেখেন, তাহলে তার কাছে সমুদ্র বলে ভ্রম হতে পারে। জ্যোৎস্না রাতে হাওর তার সৌন্দর্যের সুধা ঢেলে দেয়। মানুষ অবলোকন করে হাওরের অপরূপ দৃশ্য। কখনো কখনো জ্যোৎস্না রাতে ভরা হাওরে বসে গানের আসর। হাওর যে মানুষকে এতটা মুগ্ধ করতে পারে, তা না দেখলে বোঝার উপায় নেই। ভরা হাওরের ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে শুকনো মৌসুমে। শীত ঋতুতে বসে রঙ-বেরঙের পাখির মেলা।

হাওর পাড়ে দেখা যায় বিভিন্ন ঘাস ও নলখাগড়ার ঝোপ। এই ঝোপ-ঝাড়গুলো বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আশ্রয় ও প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাওরের মাঠে-ঘাটে ফোটে বুনোফুল, ভ্রমর গান গেয়ে মধু সংগ্রহ করে। শুকনো মাঠে সোনালি ধানের হাসির ঝিলিক, বাথানে গরু-মহিষ-ছাগল, বিলে মাছ ধরার ব্যস্ততা নিয়ে দেশের অপূর্ব দর্শনীয় ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ স্থান হাওর। মিষ্টি জলের ধূ ধূ এই সাগর সহজেই ইন্দ্রজালের মতো মোহাবিষ্ট করে ভালো লাগার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কোথায় ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিস্মিত করে যে কাউকেই। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য পাহাড় ও হাওরের জলরাশি তার নিচে জলজ উদ্ভিদ দেখতে হাজারো পর্যটক ছুটে চলেন, ঘোরেন টাঙ্গুয়ার জলবুকে। জুন থেকেই শুরু হয় ‘টাঙ্গুয়ার মৌসুম’।

যা যা দেখতে পাবেন

ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে স্রষ্টা যেন অকৃপণ হাতে বিলিয়ে দিয়েছেন অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সারি সারি হিজল, করচসহ বিভিন্ন জাতের গাছপালা। হাওরের বুকে জলজ উদ্ভিদ, লতা, গুল্ম, গুচ্ছ জলরাশি, বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় নানা জাতের মৎস্য সম্পদ। পাখির এক নিরাপদ আবাসস্থল টাঙ্গুয়ার হাওর। শুধু তা-ই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মূল্যবান সম্পদের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছে।

বর্ষায় দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে হিজল ও করচ গাছের বাগান। তখন তীরের গ্রামগুলোকে মনে হয় ছোট ছোট দ্বীপ। হাওরের উত্তরে সবুজে মোড়া মেঘালয় পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশে স্বাধীনতা উপত্যকা, শহীদ সিরাজ লেক, নিলাদ্রী ডিসি পার্ক। হাওরে ঘেরা এ অঞ্চলে সারাদিনই আকাশে শুভ্র মেঘের ওড়াউড়ি চলে। বিকেলের রোদে মেঘের ছায়া পড়ে নীল হয়ে ওঠে হাওরের জল। তখন পুরো এলাকাকে স্বপ্নের মতো মনে হয়।

যাদুকাটা ও পাতলাই

টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে অনন্য সুন্দর যাদুকাটা আর পাতলাই নদী। হাওর ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এ দুই নদী। এই দুটি নদীর পানি যেমন টলটলে; তেমনই এর দুই পাশের দৃশ্যও অনন্য সুন্দর। যাদুকাটা নদী ধরে চলে যাওয়া যায় ভারত সীমান্তবর্তী বারেকের টিলায়। আর যাদুকাটা তীরের বিশাল শিমুল বাগানও ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফুলে ফুলে ভরা থাকে।

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের প্রতি মৌসুমেই হাওরের চেহারা বদলে যায়। তবে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষার মাঝামাঝি থেকে শরৎ পর্যন্ত। মাসের হিসেবে জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাওর ভ্রমণের সেরা সময়। তাছাড়া শীতের সময়ে গেলে দেখা মিলবে চেনা-অচেনা হাজারো অতিথি পাখ-পাখালির।

অপেক্ষায় নৌকা-হাউজ বোট

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে পর্যটকদের জন্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের জন্য ভাড়ায় মেলে বেশ কিছু ছোট-বড় নৌকা ও হাউজ বোট। এসব হাউজ বোটে আছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। জ্যোৎস্না রাতে নৌকায় নেচে–গেয়ে আনন্দ করেন পর্যটকেরা। তবে এসব নৌকা ভাড়া নিতে আগে যোগাযোগ করা ভালো। পাশাপাশি স্পিড বোটও আছে। স্পিড বোটের ভাড়া বেশি। যারা কম সময়ে হাওর ঘুরে দেখতে চান, তাদের জন্য স্পিড বোট ভালো।

হাউজ বোট ভাড়া করতে হলে আগে থেকেই বুকিং করতে হয়। এ জন্য ইন্টারনেট সার্চ করতে পারেন। হাউজ বোটে ভ্রমণ করতে চাইলে আপনার কাজ হবে শুধু সুনামগঞ্জ বা তাহিরপুর পৌঁছানো। এরপর ভ্রমণের সব দায়িত্ব হাউজ বোটের। তবে হাউজ বোট সুনামগঞ্জ শহরের সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে ছাড়বে, নাকি তাহিরপুর থেকে ছাড়বে, তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে হাউজ বোট ছাড়লে তখন কষ্ট করে তাহিরপুর যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

কীভাবে যাবেন

প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে একাধিক বাস ছেড়ে যায়। এসব নন-এসি বাসে জনপ্রতি টিকিট কাটতে খরচ হবে ৮২০-৮৫০ টাকা। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।

সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার লোকাল ও সিটিং বাস আছে। সিটিং বাস ভাড়া ১০০ টাকা, সুনামগঞ্জ যেতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। অথবা শাহজালাল মাজারের সামনে থেকে লাইট গাড়িতে ২০০ টাকায় সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ নেমে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত বড় ব্রিজের কাছে লেগুনা বা সিএনজি অথবা বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুরে নৌকাঘাট থেকে আকার এবং সামর্থ অনুযায়ী নৌকা বা স্পিড বোট ভাড়া করে বেড়িয়ে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে।

থাকা-খাওয়া

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গুয়ার হাওরে রাতযাপনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়। ঘর ভাড়া করতে চাইলে টেকেরঘাট এলাকায় হাওর বিলাস নামে কাঠের বাড়িতে কম মূল্যে রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবেন। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌকায় এক রাত থাকার অভিজ্ঞতা নিলে অবশ্যই ভালো লাগবে।

বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে আসার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শতাধিক হাউজ বোট আছে। এগুলোতে খাওয়া-দাওয়া, রাতে থাকাসহ ২ দিন ১ রাত ভ্রমণের সব ব্যবস্থা থাকে। খরচ হবে জনপ্রতি ৬-৮ হাজার টাকা। তবে দল যদি অনেক বড় হয়, যেমন ১৬-২০ জনের মতো হলে; তখন জনপ্রতি ভাড়া অনেকটাই কমে আসবে। তখন জনপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে।

নৌকা ভাড়া

নৌকার ভাড়া কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন নৌকার আকার, ধারণক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, মৌসুম ইত্যাদি। এ ছাড়া ছুটির দিনে ভাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে। এক রাত থাকার জন্য ছোট নৌকাগুলোর ভাড়া পড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের নৌকাগুলোর ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার এবং বড় নৌকাগুলোর ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মতো।

সতর্কতা

হাওর ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিন। হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করুন। খরচ কমাতে যে কোনো কিছুর জন্য দামাদামি করে নিবেন। একসঙ্গে গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে। ৪-৫ জন বা ৮-১০ জনের গ্রুপ হলে ভালো।

পরিবেশ রক্ষায় করণীয়

টাঙ্গুয়ার জলাবনের কোনো রূপ ক্ষতিসাধন না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। খাবারের অতিরিক্ত অংশ বা উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট ইত্যাদি হাওরের পানিতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। রাতের বেলা অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো উৎপন্ন করবেন না। উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করুন। টাঙ্গুয়ার মাছ, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি ধরা বা এদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।

কালের আলো/এমএএইচ

শুধু ক্রিকেটারদের দোষ নয়, প্রস্তুতিতেও ঘাটতি দেখছে বিসিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
শুধু ক্রিকেটারদের দোষ নয়, প্রস্তুতিতেও ঘাটতি দেখছে বিসিবি

টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করলেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী না করে, তাদের প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে চান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।

এ লক্ষ্যে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ, অধিনায়ক, নির্বাচক এবং বিসিবির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই সভায় জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ও অনুশীলনপদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ব্যর্থতার দায় শুধু ক্রিকেটারদের নয়
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডের নিজস্ব কার্যক্রমও পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তামিম। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে খেলোয়াড়দের ঘাটতি যেমন থাকতে পারে, তেমনি তাদের প্রস্তুত করার পদ্ধতিতেও সমস্যা থাকতে পারে।

বৈঠক শেষে তামিম বলেন, ‘যে কোনো ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি, আমাদের কোনো ভুলের জন্য তারা খারাপ খেলছে কি না, তাদের ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করায় প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল আছে কি না।’

বিসিবি সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার কাজ ভবিষ্যতে জাতীয় দলসহ ক্রিকেটের অন্য পর্যায়েও চালানো হবে।

৩০০-৩৫০ রান করার অভ্যাস গড়তে নতুন উদ্যোগ
ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা বড় লক্ষ্য তাড়া করার সক্ষমতা বাড়াতে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনুশীলন ও প্রস্তুতিপদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছে বিসিবি।

তামিমের মতে, জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০ থেকে ৩৫০ রান করতে চাইলে কিংবা এমন লক্ষ্য তাড়া করতে চাইলে ক্রিকেটারদের আগে থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে খেলার অভ্যাস থাকতে হবে। অথচ ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রতি মৌসুমে খুব বেশি ম্যাচে এমন বড় লক্ষ্য তাড়া করার পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০-৩৫০ করুক, ৩০০-৩৫০ রান তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কি তারা সেটা করছে? খুব বেশি হলে প্রতি মৌসুমে এ রকম দুই-তিনটা ম্যাচই হয়, যেখানে এত রান তাড়া করতে হয়। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি তাদের এই চর্চাটা না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে কীভাবে করবে!’

অনুশীলনেই থাকবে ম্যাচের চ্যালেঞ্জ
বড় লক্ষ্য তাড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অনুশীলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে ছয়-সাতজন ব্যাটসম্যানের বিপরীতে ছয়-সাতজন বোলার থাকবেন। ব্যাটসম্যানদের সামনে থাকবে ৩২০ থেকে ৩৫০ রান করার লক্ষ্য। নির্ধারিত ৫০ ওভারের মধ্যে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে তাঁদের। অন্যদিকে বোলারদের কাজ হবে ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেওয়া।

এ ধরনের অনুশীলনে ক্রিকেটাররা বাস্তব ম্যাচের চাপ, রান তোলার গতি এবং বড় লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বোলাররাও বড় সংগ্রহ আটকে দেওয়ার পরিস্থিতিতে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করতে পারবেন।

তামিমের মতে, এটি বড় রান করার অভ্যাস তৈরির একটি সম্ভাব্য উপায়। সামনে বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনুশীলনেও এ ধরনের সেশন দেখা যেতে পারে।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিসিবির পরিকল্পনা শুধু জাতীয় দলের অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির ভিত্তি শক্ত করতে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন পর্যায়েও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা ভাবছে বোর্ড।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা আনতে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ, সেই লক্ষ্য অর্জনের অনুশীলন এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চায় বিসিবি।

তবে আলোচনায় উঠে আসা পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তামিম। আপাতত ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে প্রস্তুতির ঘাটতি দূর করার দিকেই নজর দিচ্ছে বোর্ড।

কালের আলো/এএএন/জেএন

সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ শিশু, মুক্তির পরও অপরাধের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ শিশু, মুক্তির পরও অপরাধের ঝুঁকি

সংশোধনের আশায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের। লক্ষ্য থাকে, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু সংশোধনাগারের সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক তদারকির অভাব এবং অপরাধপ্রবণ সঙ্গের প্রভাবের কারণে অনেক কিশোর মুক্তির পরও পুরোনো অপরাধজগতে ফিরে যাচ্ছে। কেউ ফিরছে পরিবারের কাছে, কেউ আবার জড়িয়ে পড়ছে নতুন অপরাধে।

গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের চিত্র এই সংকটেরই প্রতিফলন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বালক কেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে ৯৮০ জন শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি বন্দিকে নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

গত ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রটির সামনে দেখা যায়, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মা-বাবা। কারও হাতে সন্তানের জন্য কেক, কলা ও চিপস, কারও চোখে সন্তানকে একনজর দেখার আকুলতা। হত্যা মামলায় বন্দি ১৬ বছরের ছেলেকে দেখতে আসা এক মা বলেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও সন্তান তো তাঁরই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে তাঁর ছেলে আজ হত্যা মামলার আসামি।

একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় বন্দি ১৬ বছরের ছেলেকে দেখতে নিয়মিত আসেন কামরাঙ্গীরচরের রিকশাচালক রিপন মিয়া। তাঁর আক্ষেপ, যে ছেলের স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সে এখন সংশোধনাগারে বন্দি।

কেন্দ্রের সাক্ষাৎকক্ষেও দেখা যায় আবেগঘন পরিবেশ। স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর কেউ সন্তানের শুকিয়ে যাওয়া চেহারা দেখে উদ্বিগ্ন হন, কেউ খাবার নিয়ে আদর করে খাইয়ে দেন। গরাদের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মা-বাবা ও সন্তানদের চোখের পানি যেন তুলে ধরে অপরাধের পরিণতিতে একটি পরিবারের ভেঙে পড়ার চিত্র।

প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার উদ্যোগ

কেন্দ্রের ভেতরে শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পড়াশোনা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। কম্পিউটার, কাঠশিল্প, ইলেকট্রনিকস ও দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বন্দিদের মধ্য থেকেই ‘ক্যাপ্টেন’ নির্বাচন করা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে পড়াশোনা, বই পড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বন্দির চাপের পাশাপাশি জনবল ও স্যানিটেশনসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রতি ৪০ শিশুর জন্য মাত্র একটি বাথরুম থাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কোন অপরাধে কতজন

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা শিশু-কিশোরদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলায় ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং হত্যা মামলায় ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ রয়েছে। এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং বিস্ফোরক ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ শিশু-কিশোর বন্দি রয়েছে। বয়সের হিসাবে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু-কিশোর সচ্ছল বা উচ্চবিত্ত পরিবারের। পারিবারিক তদারকির ঘাটতি, অবাধ স্বাধীনতা এবং বন্ধুদের নেতিবাচক প্রভাব তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ব্যয় ও ব্যবস্থাপনায় চাপ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত বাজেটে প্রতি শিশুর জন্য মাসিক বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অনুদানসহ অন্যান্য উৎস মিলিয়ে প্রতি শিশুর পেছনে বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ২৪০ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাবারের তালিকায় সকালের নাশতায় ভাত-আলুভর্তা বা খিচুড়ি, দুপুরে মাছ, মাংস, সবজি ও ডাল এবং রাতে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সপ্তাহে চারবার টেলিফোনে এবং মাসে চারবার সরাসরি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

মুক্তির পরও ফেরার ঝুঁকি

সংশোধনাগারে থাকা সব শিশু-কিশোর যে অপরাধ থেকে ফিরে আসছে, তা নয়। ফেনীর ১৫ বছরের ইসাহাকের ঘটনাটি সেই চ্যালেঞ্জের উদাহরণ। বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর বাবা নিজেই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছিলেন। পরে ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। অনুমতি পাওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে ফিরলেও ভবিষ্যতে সে আবার অপরাধে জড়াবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

সংশোধনাগারের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের আটক রাখা নয়; বরং তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সমাজে পুনর্বাসন করা। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আবাসন, জনবল, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, মানসিক সহায়তা, মানসম্মত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; মুক্তির পরও শিশু-কিশোরদের পাশে থাকতে হবে। তা না হলে সংশোধনাগার থেকে বাড়ি ফেরা অনেকেই আবার পুরোনো অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, আইজিপিকে ডিআরইউর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, আইজিপিকে ডিআরইউর হুঁশিয়ারি

সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল আইজিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এর আগে সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।’

আইজিপির এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাদারত্ব ও সততা নিয়ে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি। মাদক কারবার, অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো পুলিশ সদস্যের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ডিআরইউ নেতারা আইজিপির বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি