খুঁজুন
                               
, ,
           

টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

মিষ্টি জলের হাওর-বাঁওড় বাংলাদেশের অন্যতম বিস্ময়। বর্ষাকালে যেন এক সমুদ্দুর, যতদূর চোখ যায় শুধু জল আর জল। আকাশ আর জলের মিলনের মাঝে মাঝে চোখে পড়ে একেকটি বাড়ি। যেন জলের ওপর ভেলার মতো বাড়িগুলো ভাসছে। দূর থেকে একেকটি বাড়িকে মনে হয় একেকটি দ্বীপ। চারপাশের জলের নাচনের মধ্যে মহিষের মতো গলা উঁচু করে আকাশ দেখে হিজল-করচ গাছ। তার পাশ দিয়ে নৌকা নিয়ে চলাচল করে হাওরের মানুষ।

নতুন কোনো পর্যটক যদি হাওরের রূপ-মাধুরী প্রথম দেখেন, তাহলে তার কাছে সমুদ্র বলে ভ্রম হতে পারে। জ্যোৎস্না রাতে হাওর তার সৌন্দর্যের সুধা ঢেলে দেয়। মানুষ অবলোকন করে হাওরের অপরূপ দৃশ্য। কখনো কখনো জ্যোৎস্না রাতে ভরা হাওরে বসে গানের আসর। হাওর যে মানুষকে এতটা মুগ্ধ করতে পারে, তা না দেখলে বোঝার উপায় নেই। ভরা হাওরের ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে শুকনো মৌসুমে। শীত ঋতুতে বসে রঙ-বেরঙের পাখির মেলা।

হাওর পাড়ে দেখা যায় বিভিন্ন ঘাস ও নলখাগড়ার ঝোপ। এই ঝোপ-ঝাড়গুলো বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আশ্রয় ও প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাওরের মাঠে-ঘাটে ফোটে বুনোফুল, ভ্রমর গান গেয়ে মধু সংগ্রহ করে। শুকনো মাঠে সোনালি ধানের হাসির ঝিলিক, বাথানে গরু-মহিষ-ছাগল, বিলে মাছ ধরার ব্যস্ততা নিয়ে দেশের অপূর্ব দর্শনীয় ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ স্থান হাওর। মিষ্টি জলের ধূ ধূ এই সাগর সহজেই ইন্দ্রজালের মতো মোহাবিষ্ট করে ভালো লাগার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কোথায় ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিস্মিত করে যে কাউকেই। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য পাহাড় ও হাওরের জলরাশি তার নিচে জলজ উদ্ভিদ দেখতে হাজারো পর্যটক ছুটে চলেন, ঘোরেন টাঙ্গুয়ার জলবুকে। জুন থেকেই শুরু হয় ‘টাঙ্গুয়ার মৌসুম’।

যা যা দেখতে পাবেন

ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে স্রষ্টা যেন অকৃপণ হাতে বিলিয়ে দিয়েছেন অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সারি সারি হিজল, করচসহ বিভিন্ন জাতের গাছপালা। হাওরের বুকে জলজ উদ্ভিদ, লতা, গুল্ম, গুচ্ছ জলরাশি, বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় নানা জাতের মৎস্য সম্পদ। পাখির এক নিরাপদ আবাসস্থল টাঙ্গুয়ার হাওর। শুধু তা-ই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মূল্যবান সম্পদের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছে।

বর্ষায় দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে হিজল ও করচ গাছের বাগান। তখন তীরের গ্রামগুলোকে মনে হয় ছোট ছোট দ্বীপ। হাওরের উত্তরে সবুজে মোড়া মেঘালয় পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশে স্বাধীনতা উপত্যকা, শহীদ সিরাজ লেক, নিলাদ্রী ডিসি পার্ক। হাওরে ঘেরা এ অঞ্চলে সারাদিনই আকাশে শুভ্র মেঘের ওড়াউড়ি চলে। বিকেলের রোদে মেঘের ছায়া পড়ে নীল হয়ে ওঠে হাওরের জল। তখন পুরো এলাকাকে স্বপ্নের মতো মনে হয়।

যাদুকাটা ও পাতলাই

টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে অনন্য সুন্দর যাদুকাটা আর পাতলাই নদী। হাওর ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এ দুই নদী। এই দুটি নদীর পানি যেমন টলটলে; তেমনই এর দুই পাশের দৃশ্যও অনন্য সুন্দর। যাদুকাটা নদী ধরে চলে যাওয়া যায় ভারত সীমান্তবর্তী বারেকের টিলায়। আর যাদুকাটা তীরের বিশাল শিমুল বাগানও ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফুলে ফুলে ভরা থাকে।

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের প্রতি মৌসুমেই হাওরের চেহারা বদলে যায়। তবে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষার মাঝামাঝি থেকে শরৎ পর্যন্ত। মাসের হিসেবে জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাওর ভ্রমণের সেরা সময়। তাছাড়া শীতের সময়ে গেলে দেখা মিলবে চেনা-অচেনা হাজারো অতিথি পাখ-পাখালির।

অপেক্ষায় নৌকা-হাউজ বোট

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে পর্যটকদের জন্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের জন্য ভাড়ায় মেলে বেশ কিছু ছোট-বড় নৌকা ও হাউজ বোট। এসব হাউজ বোটে আছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। জ্যোৎস্না রাতে নৌকায় নেচে–গেয়ে আনন্দ করেন পর্যটকেরা। তবে এসব নৌকা ভাড়া নিতে আগে যোগাযোগ করা ভালো। পাশাপাশি স্পিড বোটও আছে। স্পিড বোটের ভাড়া বেশি। যারা কম সময়ে হাওর ঘুরে দেখতে চান, তাদের জন্য স্পিড বোট ভালো।

হাউজ বোট ভাড়া করতে হলে আগে থেকেই বুকিং করতে হয়। এ জন্য ইন্টারনেট সার্চ করতে পারেন। হাউজ বোটে ভ্রমণ করতে চাইলে আপনার কাজ হবে শুধু সুনামগঞ্জ বা তাহিরপুর পৌঁছানো। এরপর ভ্রমণের সব দায়িত্ব হাউজ বোটের। তবে হাউজ বোট সুনামগঞ্জ শহরের সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে ছাড়বে, নাকি তাহিরপুর থেকে ছাড়বে, তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে হাউজ বোট ছাড়লে তখন কষ্ট করে তাহিরপুর যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

কীভাবে যাবেন

প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে একাধিক বাস ছেড়ে যায়। এসব নন-এসি বাসে জনপ্রতি টিকিট কাটতে খরচ হবে ৮২০-৮৫০ টাকা। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।

সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার লোকাল ও সিটিং বাস আছে। সিটিং বাস ভাড়া ১০০ টাকা, সুনামগঞ্জ যেতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। অথবা শাহজালাল মাজারের সামনে থেকে লাইট গাড়িতে ২০০ টাকায় সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ নেমে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত বড় ব্রিজের কাছে লেগুনা বা সিএনজি অথবা বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুরে নৌকাঘাট থেকে আকার এবং সামর্থ অনুযায়ী নৌকা বা স্পিড বোট ভাড়া করে বেড়িয়ে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে।

থাকা-খাওয়া

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গুয়ার হাওরে রাতযাপনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়। ঘর ভাড়া করতে চাইলে টেকেরঘাট এলাকায় হাওর বিলাস নামে কাঠের বাড়িতে কম মূল্যে রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবেন। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌকায় এক রাত থাকার অভিজ্ঞতা নিলে অবশ্যই ভালো লাগবে।

বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে আসার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শতাধিক হাউজ বোট আছে। এগুলোতে খাওয়া-দাওয়া, রাতে থাকাসহ ২ দিন ১ রাত ভ্রমণের সব ব্যবস্থা থাকে। খরচ হবে জনপ্রতি ৬-৮ হাজার টাকা। তবে দল যদি অনেক বড় হয়, যেমন ১৬-২০ জনের মতো হলে; তখন জনপ্রতি ভাড়া অনেকটাই কমে আসবে। তখন জনপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে।

নৌকা ভাড়া

নৌকার ভাড়া কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন নৌকার আকার, ধারণক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, মৌসুম ইত্যাদি। এ ছাড়া ছুটির দিনে ভাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে। এক রাত থাকার জন্য ছোট নৌকাগুলোর ভাড়া পড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের নৌকাগুলোর ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার এবং বড় নৌকাগুলোর ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মতো।

সতর্কতা

হাওর ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিন। হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করুন। খরচ কমাতে যে কোনো কিছুর জন্য দামাদামি করে নিবেন। একসঙ্গে গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে। ৪-৫ জন বা ৮-১০ জনের গ্রুপ হলে ভালো।

পরিবেশ রক্ষায় করণীয়

টাঙ্গুয়ার জলাবনের কোনো রূপ ক্ষতিসাধন না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। খাবারের অতিরিক্ত অংশ বা উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট ইত্যাদি হাওরের পানিতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। রাতের বেলা অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো উৎপন্ন করবেন না। উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করুন। টাঙ্গুয়ার মাছ, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি ধরা বা এদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।

কালের আলো/এমএএইচ

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪৩ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪৩ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ ‘ভারত-সমর্থিত’ আরও ১৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এর ফলে এ অভিযানে মোট নিহত সশস্ত্র ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, মাঙ্গি বাঁধ পুলিশ স্টেশনে হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।

এর আগে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র ব্যক্তিরা ওই পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়।

প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করেন। তবে এ সময় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে। জিম্মিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালায়।

চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে জিয়ারাত জেলার পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলছিল। অবরোধ আরও কঠোর হলে হামলাকারীরা ১৮ জন জিম্মি পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং ওই অভিযানে ২৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়।

এদিকে নিরাপত্তা সূত্র জানায়, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কর্পস অভিযান চালিয়ে আরও ৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন শাবান’ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

এ ছাড়া হেলিকপ্টার অভিযানেও আরও ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: জিও নিউজ

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপার কম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামীকাল সকালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হতে চলেছে। এই লড়াইয়ে কে জিততে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে অপ্টার সুপার কম্পিউটার।

এই ম্যাচ শুরুর আগে ২৫ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে অপ্টা। তারই ফলাফলে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সিমুলেশনে সুইজারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বাকি ২৪ দশমিক ২ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে।

তবে বারবার প্রত্যাশিত হিসাবনিকাশ উল্টে দেওয়ার অভ্যাস যেন গড়ে তুলেছে আর্জেন্টিনা। এরপরও সার্বিকভাবে শেষ চারে উঠে শিরোপা রক্ষার লড়াই টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড বা নরওয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা সুইজারল্যান্ডের জন্য দেখানো হয়েছে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।

এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে।

তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোকে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি