খুঁজুন
                               
, ,
           

মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

ভ্রমণ গল্পগুলো ছোট করে লিখে রাখা ভালো। খুব বড় কোনো কীর্তি নয়। তবুও এই ছোট ছোট লেখাগুলোই একদিন হয়ে ওঠে সময় ছুঁয়ে দেখার জানালা। কখনো নিজের জন্য, কখনো আবার অন্য কারো কাজে লাগবে- এই আশাতেই কলম ধরা।

এই যাত্রায় আমাদের গন্তব্য ছিল বান্দরবানের লামায় অবস্থিত এক অপূর্ব পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে এই ভ্যালির অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, আর চকরিয়া থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার।

বর্তমানে জায়গাটি নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মাঝে। মিরিঞ্জার আলাদা একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এই পাহাড়ের মূল আকর্ষণ হলো ‘মেঘ’। সারাদিনই এখানে মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে।

ভোরবেলায় মনে হয়, মেঘ যেন আপনার কানে কানে কিছু বলতে চায়। সকালে মনে হবে- মেঘগুলোর মন আজ দারুণ ভালো, তাই তারা দুষ্টু বাচ্চার মতো ছুটোছুটি করছে। দুপুর গড়ালে মনে হবে- মেঘগুলো যেন খুব তাড়াহুড়ায় কোথাও যাচ্ছে। আর বিকেলে? তখন মনে হবে, মেঘ আপনাকে ছেড়ে দূরে চলে গেছে, তবে যাওয়ার আগে আকাশে নিজের চিহ্ন রেখে গেছে।

এই পাহাড়ে রাত কাটানো ভ্রমণকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য মাত্রায়। পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্য আসলে লিখে বোঝানো যায় না। মাথার ওপর বিশাল আকাশ, অসংখ্য তারা আর একটা বড় চাঁদ, সব মিলিয়ে এক ধরনের নীরব মুগ্ধতা কাজ করে।

তবে স্পষ্ট করে বলি, যারা ফাইভ স্টার হোটেলের আরাম ছাড়া ভ্রমণ ভাবতেই পারেন না, এই জায়গা তাদের জন্য নয়। এখানে সবই সৌরবিদ্যুতে চলে। বিদ্যুৎ থাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ঋতু বুঝে আসতে পারলে দিনে গরম লাগবে না, বাতাস থাকবে দারুণ। আর পাহাড়ের রাত বেশিরভাগ সময়ই ঠান্ডা।

মিরিঞ্জা সাজেকের মতো কিনা—এই প্রশ্নে আমি মত দিতে অপারগ। কারণ সাজেক আমার দেখা হয়নি। তবে সাজেকে না গিয়ে মিরিঞ্জা আসার মূল কারণ ছিল একান্ত নিরিবিলি পরিবেশ আর মেঘের সঙ্গ নিরব গল্প করার সুযোগ।

যাতায়াতের গল্প
আমরা ঢাকা থেকে ইউনিকের নন-এসি বাসে চড়েছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ৯৫০ টাকা। বাসে নেমেছি চকরিয়া বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশায় ইয়াংছা- ভাড়া ২০০ টাকা। এরপর সিএনজি করে মিরিঞ্জা বাজার, জনপ্রতি ৫০ টাকা। শুনতে একটু ঝামেলার মতো লাগলেও সকালের নরম রোদ আর জ্যামহীন রাস্তায় পথটা বেশ আরামেই কেটে যায়। চাইলে চকরিয়া থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করেও আসা যায়, তবে খরচ একটু বেশি পড়বে।

চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা বাজার পৌঁছাতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। আরও সহজ পথ নিশ্চয়ই আছে, তবে জায়গাটা আমাদের জন্য নতুন হওয়ায় সে পথে যাইনি।

মিরিঞ্জা বাজার থেকে রিসোর্টে পৌঁছাতে লাগে আরও ২০ মিনিটের মতো। হালকা ট্রেকিংয়ের ফিল। আমার তিন বছরের মেয়ে অতি উৎসাহে পুরোটা পথ হেঁটে পার করেছে। তবে যারা হাঁটতে চান না, তাদের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা আছে। আপ-ডাউন ভাড়া ১০০ টাকা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে বাইকারদের দক্ষতা দেখে মাঝেমধ্যে মনে হয়—এই বুঝি জীবনের শেষ ট্যুর! ঠিক তখনই বাইকার গলা ছেড়ে গান ধরবে—“ধুম ধুম…”

থাকা-খাওয়া
আমরা ছিলাম মারাইংছা ভ্যালির পড হাউজে। ভাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা। এখানে পড হাউজ ছাড়াও প্রিমিয়াম জুমঘর, কাপল জুমঘর ও তাবুর ব্যবস্থা আছে। সবগুলোর ভাড়া আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে পড হাউজটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এটাচ বাথরুম, কমোড, সার্বক্ষণিক পানি সবই আছে।

খাবার সব রিসোর্টেই প্যাকেজ আকারে পাওয়া যায়। প্রতিদিন চার বেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ৮০০ টাকা। খাবারের মান খারাপ নয়, তবে দামটা আমার কাছে একটু বেশি মনে হয়েছে। প্রিমিয়াম জুমঘরের একটি বিশেষ আকর্ষণ, বাথরুমের এক পাশ পুরো কাচের।

আশপাশে কী দেখবেন
মিরিঞ্জা ছাড়াও আশপাশে আছে ঝর্ণা (এই সিজনে যাইনি), মাতামহুরী নদী (নৌকা ভ্রমণ ৭০০ টাকা), সুখিয়া ভ্যালি। সময় হাতে থাকলে আলীকদমের আলীর গুহাও ঘোরা যায়। বাচ্চা সঙ্গে থাকায় আমরা সে পথে যাইনি। চাইলে পরদিন কক্সবাজার থেকেও ঢু মেরে আসা যায়।

সব মিলিয়ে জায়গাটা একদিনেই ঘোরা সম্ভব। তবে রিল্যাক্সড ট্যুর চাইলে আরও একদিন থেকে মেঘের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেওয়া যায়। এখানে তেমন কোনো অ্যাক্টিভিটি নেই। বারবিকিউ, জোরে গানবাজনা সবই আছে। তবে আমরা সারারাত তারা আর নিস্তব্ধতা উপভোগ করেছি। দূরের পাহাড়চূড়ায় তরুণদের হাসি-আনন্দের শব্দ শুনে মনে হয়েছে বয়সটা সত্যিই বেড়েছে। তবু ওদের আনন্দ দেখতে ভালো লেগেছে।

এই ভ্রমণে আমার ৩ বছরের মেয়েসহ তিনজনই দারুণ উপভোগ করেছি। আমি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। আমার ভালো লাগার স্কেলে অনেক কিছুই পাস করে যায়।

আমার মতে ভ্রমণের আনন্দ নির্ভর করে সাথের সঙ্গী আর আবহাওয়ার ওপর। সৌমিক ও মাহরিন ছিল একেবারে পারফেক্ট ভ্রমণ সঙ্গী। আমরা প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছি, শুধু সঠিক আবহাওয়া ধরার জন্য।

শেষে বাচ্চা আছে এমন দম্পতিদের জন্য একটাই অনুরোধ, বাচ্চা নিয়ে বেশি বেশি ঘুরুন। মাটি, পানি, বাতাস, সাগর, পাহাড় দেখিয়ে বড় করুন। বিশ্বাস করুন, বাচ্চারা প্রকৃতিকে আমাদের চেয়েও ভালো বোঝে। এই পর্যন্তই মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প। আবার কথা হবে, অন্য কোনো পথে।

কালের আলো/এম/এএইচ

কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে  বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এক জেলা থেকে আরেক জেলা—একই দিনে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরব তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর বিকেলে তিনি যোগ দেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে। দুটি কর্মসূচিতেই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদ, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত রাখার বার্তা।

  • কিশোরগঞ্জে ‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’ চ্যালেঞ্জ
  • কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হালুয়াঘাটে অনলাইন হুমকির জবাব
  • নৈরাজ্য প্রতিরোধে মাঠে থাকার ঘোষণা

‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’
দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান। আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।’

‘ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। তাঁর ভাষ্য, গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পক্ষগুলো পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করে তাদের ‘ফ্যাসিবাদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পরিবার সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাসে আগুনের প্রসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা
সম্প্রতি দুটি বাসে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস পুড়িয়ে বা কোনো চক্রের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি বলেন, যারা মনে করছেন দুটি বাস পুড়িয়ে এবং একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখাতে পারবেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে গলা মেলান নেতাকর্মীরাও
এর আগে দুপুরে শহরের রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘আপা আপা করিস নারে, আপা আর আসবে নারে।’ প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও গলা মেলান।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জের পর গন্তব্য হালুয়াঘাট
কিশোরগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করেই বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর এলাকার ধান মহলে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আয়োজনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা। এখানেও বক্তব্যের সার কথা—অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা। তবে হালুয়াঘাটের বক্তব্যে অনলাইনভিত্তিক হুমকি এবং ভবিষ্যতে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

অনলাইন হুমকির বিপরীতে মাঠের বার্তা
হালুয়াঘাটে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে হুমকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ অতীতে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমনি গুম, খুনসহ সকল অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে দেশের জনগণ তারেক রহমান—এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, ‘যারা এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে থাকা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রিন্সের
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠন, জনসমস্যা সমাধান এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা চায় না। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এতে জেলা ও উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই কর্মসূচিতে অভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা
কিশোরগঞ্জ ও হালুয়াঘাট—দুই কর্মসূচিতেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল ছিল রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা এবং অপরাধের বিচার। কিশোরগঞ্জে ছিল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা এবং হালুয়াঘাটে গুরুত্ব পেয়েছে অনলাইন হুমকি, বিচার ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রশ্ন। একই দিনে দুই জেলার ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর রাজনৈতিক ব্যস্ততার একটি স্পষ্ট চিত্রও তুলে ধরে। দুপুরে কিশোরগঞ্জের রাজপথের কর্মসূচি থেকে বিকেলে হালুয়াঘাটের সমাবেশ—দিনভর এই ছুটে চলার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মাঠের রাজনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় থাকার বার্তাই দিয়েছেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীরাও আশান্বিত হয়ে উঠেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেটাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অফিস স্থাপনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মেটাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অফিস স্থাপনের আহ্বান

মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে বাংলাদেশে অফিস খোলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং স্থায়ী প্রতিনিধির উপ-প্রতিনিধি এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। সময়সীমার কারণে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশে মেটার বড় ব্যবহারকারীভিত্তির কথা তুলে ধরে দুই পক্ষের সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

এ ছাড়া মেটার প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ডিজিটাল কমার্স খাতকে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল হয়রানি

বৈঠকে অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী ছিল। বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মেটার মধ্যে ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

এইচএসসি ফল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
এইচএসসি ফল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল কবে প্রকাশ হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বলছে, ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যেকোন দিন এই ফলাফল প্রকাশ হতে পারে।

তবে কমিটি বলছে, ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারিখ চূড়ান্ত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।’

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে শেষ হয়েছে।

তবে দ্রুত ফলাফল প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২ জুলাই শুরু হয়ে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হলে চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এসব পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯৩ জন। তারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ