খুঁজুন
                               
, ,
           

মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

ভ্রমণ গল্পগুলো ছোট করে লিখে রাখা ভালো। খুব বড় কোনো কীর্তি নয়। তবুও এই ছোট ছোট লেখাগুলোই একদিন হয়ে ওঠে সময় ছুঁয়ে দেখার জানালা। কখনো নিজের জন্য, কখনো আবার অন্য কারো কাজে লাগবে- এই আশাতেই কলম ধরা।

এই যাত্রায় আমাদের গন্তব্য ছিল বান্দরবানের লামায় অবস্থিত এক অপূর্ব পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে এই ভ্যালির অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, আর চকরিয়া থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার।

বর্তমানে জায়গাটি নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মাঝে। মিরিঞ্জার আলাদা একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এই পাহাড়ের মূল আকর্ষণ হলো ‘মেঘ’। সারাদিনই এখানে মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে।

ভোরবেলায় মনে হয়, মেঘ যেন আপনার কানে কানে কিছু বলতে চায়। সকালে মনে হবে- মেঘগুলোর মন আজ দারুণ ভালো, তাই তারা দুষ্টু বাচ্চার মতো ছুটোছুটি করছে। দুপুর গড়ালে মনে হবে- মেঘগুলো যেন খুব তাড়াহুড়ায় কোথাও যাচ্ছে। আর বিকেলে? তখন মনে হবে, মেঘ আপনাকে ছেড়ে দূরে চলে গেছে, তবে যাওয়ার আগে আকাশে নিজের চিহ্ন রেখে গেছে।

এই পাহাড়ে রাত কাটানো ভ্রমণকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য মাত্রায়। পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্য আসলে লিখে বোঝানো যায় না। মাথার ওপর বিশাল আকাশ, অসংখ্য তারা আর একটা বড় চাঁদ, সব মিলিয়ে এক ধরনের নীরব মুগ্ধতা কাজ করে।

তবে স্পষ্ট করে বলি, যারা ফাইভ স্টার হোটেলের আরাম ছাড়া ভ্রমণ ভাবতেই পারেন না, এই জায়গা তাদের জন্য নয়। এখানে সবই সৌরবিদ্যুতে চলে। বিদ্যুৎ থাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ঋতু বুঝে আসতে পারলে দিনে গরম লাগবে না, বাতাস থাকবে দারুণ। আর পাহাড়ের রাত বেশিরভাগ সময়ই ঠান্ডা।

মিরিঞ্জা সাজেকের মতো কিনা—এই প্রশ্নে আমি মত দিতে অপারগ। কারণ সাজেক আমার দেখা হয়নি। তবে সাজেকে না গিয়ে মিরিঞ্জা আসার মূল কারণ ছিল একান্ত নিরিবিলি পরিবেশ আর মেঘের সঙ্গ নিরব গল্প করার সুযোগ।

যাতায়াতের গল্প
আমরা ঢাকা থেকে ইউনিকের নন-এসি বাসে চড়েছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ৯৫০ টাকা। বাসে নেমেছি চকরিয়া বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশায় ইয়াংছা- ভাড়া ২০০ টাকা। এরপর সিএনজি করে মিরিঞ্জা বাজার, জনপ্রতি ৫০ টাকা। শুনতে একটু ঝামেলার মতো লাগলেও সকালের নরম রোদ আর জ্যামহীন রাস্তায় পথটা বেশ আরামেই কেটে যায়। চাইলে চকরিয়া থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করেও আসা যায়, তবে খরচ একটু বেশি পড়বে।

চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা বাজার পৌঁছাতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। আরও সহজ পথ নিশ্চয়ই আছে, তবে জায়গাটা আমাদের জন্য নতুন হওয়ায় সে পথে যাইনি।

মিরিঞ্জা বাজার থেকে রিসোর্টে পৌঁছাতে লাগে আরও ২০ মিনিটের মতো। হালকা ট্রেকিংয়ের ফিল। আমার তিন বছরের মেয়ে অতি উৎসাহে পুরোটা পথ হেঁটে পার করেছে। তবে যারা হাঁটতে চান না, তাদের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা আছে। আপ-ডাউন ভাড়া ১০০ টাকা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে বাইকারদের দক্ষতা দেখে মাঝেমধ্যে মনে হয়—এই বুঝি জীবনের শেষ ট্যুর! ঠিক তখনই বাইকার গলা ছেড়ে গান ধরবে—“ধুম ধুম…”

থাকা-খাওয়া
আমরা ছিলাম মারাইংছা ভ্যালির পড হাউজে। ভাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা। এখানে পড হাউজ ছাড়াও প্রিমিয়াম জুমঘর, কাপল জুমঘর ও তাবুর ব্যবস্থা আছে। সবগুলোর ভাড়া আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে পড হাউজটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এটাচ বাথরুম, কমোড, সার্বক্ষণিক পানি সবই আছে।

খাবার সব রিসোর্টেই প্যাকেজ আকারে পাওয়া যায়। প্রতিদিন চার বেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ৮০০ টাকা। খাবারের মান খারাপ নয়, তবে দামটা আমার কাছে একটু বেশি মনে হয়েছে। প্রিমিয়াম জুমঘরের একটি বিশেষ আকর্ষণ, বাথরুমের এক পাশ পুরো কাচের।

আশপাশে কী দেখবেন
মিরিঞ্জা ছাড়াও আশপাশে আছে ঝর্ণা (এই সিজনে যাইনি), মাতামহুরী নদী (নৌকা ভ্রমণ ৭০০ টাকা), সুখিয়া ভ্যালি। সময় হাতে থাকলে আলীকদমের আলীর গুহাও ঘোরা যায়। বাচ্চা সঙ্গে থাকায় আমরা সে পথে যাইনি। চাইলে পরদিন কক্সবাজার থেকেও ঢু মেরে আসা যায়।

সব মিলিয়ে জায়গাটা একদিনেই ঘোরা সম্ভব। তবে রিল্যাক্সড ট্যুর চাইলে আরও একদিন থেকে মেঘের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেওয়া যায়। এখানে তেমন কোনো অ্যাক্টিভিটি নেই। বারবিকিউ, জোরে গানবাজনা সবই আছে। তবে আমরা সারারাত তারা আর নিস্তব্ধতা উপভোগ করেছি। দূরের পাহাড়চূড়ায় তরুণদের হাসি-আনন্দের শব্দ শুনে মনে হয়েছে বয়সটা সত্যিই বেড়েছে। তবু ওদের আনন্দ দেখতে ভালো লেগেছে।

এই ভ্রমণে আমার ৩ বছরের মেয়েসহ তিনজনই দারুণ উপভোগ করেছি। আমি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। আমার ভালো লাগার স্কেলে অনেক কিছুই পাস করে যায়।

আমার মতে ভ্রমণের আনন্দ নির্ভর করে সাথের সঙ্গী আর আবহাওয়ার ওপর। সৌমিক ও মাহরিন ছিল একেবারে পারফেক্ট ভ্রমণ সঙ্গী। আমরা প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছি, শুধু সঠিক আবহাওয়া ধরার জন্য।

শেষে বাচ্চা আছে এমন দম্পতিদের জন্য একটাই অনুরোধ, বাচ্চা নিয়ে বেশি বেশি ঘুরুন। মাটি, পানি, বাতাস, সাগর, পাহাড় দেখিয়ে বড় করুন। বিশ্বাস করুন, বাচ্চারা প্রকৃতিকে আমাদের চেয়েও ভালো বোঝে। এই পর্যন্তই মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প। আবার কথা হবে, অন্য কোনো পথে।

কালের আলো/এম/এএইচ

পল্লবীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
পল্লবীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১৭

রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় মিছিলের অভিযোগে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় একটি ব্যানার, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১২ মেট্রোরেলের পিলার নম্বর-১৪০ এর পূর্ব পাশে পাকা সড়ক থেকে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

টহলরত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ সময় অজ্ঞান আরও অনেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ভাড়া করা একটি সাদা রঙের হাই-এস মাইক্রোবাস এবং গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমের স্বার্থে সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন। তিনি বলেছেন, খুব শিগগির এ-সংক্রান্ত অ্যাকশন প্ল্যান ও গণমাধ্যম কমিশনের খসড়া অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

‎‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‎‎তথ্যমন্ত্রী বলেন, একবার যদি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে পারি, তাহলে সৎ সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সরকারের হাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার থাকবে।

একই সঙ্গে অসৎ সাংবাদিকদের জন্য এটি দুঃসংবাদে পরিণত হবে।

‎‎তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার করতে সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যেই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎‎বরিশাল টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিটিএমএর সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন।

‎বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ বালা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাফিজ, সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি কাজী মিরাজ, দৈনিক শাহানামা পত্রিকার সম্পাদক কাজী আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ টিটু, মর্তুজা জুয়েল, শাহিন হাসান, শাহিন হাফিজ, শেখ শামীম, খন্দকার রাকিব প্রমুখ এসময় বক্তব্য দেন।

‎‎সভায় সাংবাদিক নেতারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন‍্য তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

দেশ বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
দেশ বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

কালের আলো/এসএকে