খুঁজুন
                               
, ,
           

মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
মেঘের সঙ্গে দুই দিন: মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প

ভ্রমণ গল্পগুলো ছোট করে লিখে রাখা ভালো। খুব বড় কোনো কীর্তি নয়। তবুও এই ছোট ছোট লেখাগুলোই একদিন হয়ে ওঠে সময় ছুঁয়ে দেখার জানালা। কখনো নিজের জন্য, কখনো আবার অন্য কারো কাজে লাগবে- এই আশাতেই কলম ধরা।

এই যাত্রায় আমাদের গন্তব্য ছিল বান্দরবানের লামায় অবস্থিত এক অপূর্ব পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে এই ভ্যালির অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, আর চকরিয়া থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার।

বর্তমানে জায়গাটি নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মাঝে। মিরিঞ্জার আলাদা একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এই পাহাড়ের মূল আকর্ষণ হলো ‘মেঘ’। সারাদিনই এখানে মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে।

ভোরবেলায় মনে হয়, মেঘ যেন আপনার কানে কানে কিছু বলতে চায়। সকালে মনে হবে- মেঘগুলোর মন আজ দারুণ ভালো, তাই তারা দুষ্টু বাচ্চার মতো ছুটোছুটি করছে। দুপুর গড়ালে মনে হবে- মেঘগুলো যেন খুব তাড়াহুড়ায় কোথাও যাচ্ছে। আর বিকেলে? তখন মনে হবে, মেঘ আপনাকে ছেড়ে দূরে চলে গেছে, তবে যাওয়ার আগে আকাশে নিজের চিহ্ন রেখে গেছে।

এই পাহাড়ে রাত কাটানো ভ্রমণকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য মাত্রায়। পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্য আসলে লিখে বোঝানো যায় না। মাথার ওপর বিশাল আকাশ, অসংখ্য তারা আর একটা বড় চাঁদ, সব মিলিয়ে এক ধরনের নীরব মুগ্ধতা কাজ করে।

তবে স্পষ্ট করে বলি, যারা ফাইভ স্টার হোটেলের আরাম ছাড়া ভ্রমণ ভাবতেই পারেন না, এই জায়গা তাদের জন্য নয়। এখানে সবই সৌরবিদ্যুতে চলে। বিদ্যুৎ থাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ঋতু বুঝে আসতে পারলে দিনে গরম লাগবে না, বাতাস থাকবে দারুণ। আর পাহাড়ের রাত বেশিরভাগ সময়ই ঠান্ডা।

মিরিঞ্জা সাজেকের মতো কিনা—এই প্রশ্নে আমি মত দিতে অপারগ। কারণ সাজেক আমার দেখা হয়নি। তবে সাজেকে না গিয়ে মিরিঞ্জা আসার মূল কারণ ছিল একান্ত নিরিবিলি পরিবেশ আর মেঘের সঙ্গ নিরব গল্প করার সুযোগ।

যাতায়াতের গল্প
আমরা ঢাকা থেকে ইউনিকের নন-এসি বাসে চড়েছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ৯৫০ টাকা। বাসে নেমেছি চকরিয়া বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশায় ইয়াংছা- ভাড়া ২০০ টাকা। এরপর সিএনজি করে মিরিঞ্জা বাজার, জনপ্রতি ৫০ টাকা। শুনতে একটু ঝামেলার মতো লাগলেও সকালের নরম রোদ আর জ্যামহীন রাস্তায় পথটা বেশ আরামেই কেটে যায়। চাইলে চকরিয়া থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করেও আসা যায়, তবে খরচ একটু বেশি পড়বে।

চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা বাজার পৌঁছাতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। আরও সহজ পথ নিশ্চয়ই আছে, তবে জায়গাটা আমাদের জন্য নতুন হওয়ায় সে পথে যাইনি।

মিরিঞ্জা বাজার থেকে রিসোর্টে পৌঁছাতে লাগে আরও ২০ মিনিটের মতো। হালকা ট্রেকিংয়ের ফিল। আমার তিন বছরের মেয়ে অতি উৎসাহে পুরোটা পথ হেঁটে পার করেছে। তবে যারা হাঁটতে চান না, তাদের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা আছে। আপ-ডাউন ভাড়া ১০০ টাকা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে বাইকারদের দক্ষতা দেখে মাঝেমধ্যে মনে হয়—এই বুঝি জীবনের শেষ ট্যুর! ঠিক তখনই বাইকার গলা ছেড়ে গান ধরবে—“ধুম ধুম…”

থাকা-খাওয়া
আমরা ছিলাম মারাইংছা ভ্যালির পড হাউজে। ভাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা। এখানে পড হাউজ ছাড়াও প্রিমিয়াম জুমঘর, কাপল জুমঘর ও তাবুর ব্যবস্থা আছে। সবগুলোর ভাড়া আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে পড হাউজটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এটাচ বাথরুম, কমোড, সার্বক্ষণিক পানি সবই আছে।

খাবার সব রিসোর্টেই প্যাকেজ আকারে পাওয়া যায়। প্রতিদিন চার বেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ৮০০ টাকা। খাবারের মান খারাপ নয়, তবে দামটা আমার কাছে একটু বেশি মনে হয়েছে। প্রিমিয়াম জুমঘরের একটি বিশেষ আকর্ষণ, বাথরুমের এক পাশ পুরো কাচের।

আশপাশে কী দেখবেন
মিরিঞ্জা ছাড়াও আশপাশে আছে ঝর্ণা (এই সিজনে যাইনি), মাতামহুরী নদী (নৌকা ভ্রমণ ৭০০ টাকা), সুখিয়া ভ্যালি। সময় হাতে থাকলে আলীকদমের আলীর গুহাও ঘোরা যায়। বাচ্চা সঙ্গে থাকায় আমরা সে পথে যাইনি। চাইলে পরদিন কক্সবাজার থেকেও ঢু মেরে আসা যায়।

সব মিলিয়ে জায়গাটা একদিনেই ঘোরা সম্ভব। তবে রিল্যাক্সড ট্যুর চাইলে আরও একদিন থেকে মেঘের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেওয়া যায়। এখানে তেমন কোনো অ্যাক্টিভিটি নেই। বারবিকিউ, জোরে গানবাজনা সবই আছে। তবে আমরা সারারাত তারা আর নিস্তব্ধতা উপভোগ করেছি। দূরের পাহাড়চূড়ায় তরুণদের হাসি-আনন্দের শব্দ শুনে মনে হয়েছে বয়সটা সত্যিই বেড়েছে। তবু ওদের আনন্দ দেখতে ভালো লেগেছে।

এই ভ্রমণে আমার ৩ বছরের মেয়েসহ তিনজনই দারুণ উপভোগ করেছি। আমি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। আমার ভালো লাগার স্কেলে অনেক কিছুই পাস করে যায়।

আমার মতে ভ্রমণের আনন্দ নির্ভর করে সাথের সঙ্গী আর আবহাওয়ার ওপর। সৌমিক ও মাহরিন ছিল একেবারে পারফেক্ট ভ্রমণ সঙ্গী। আমরা প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছি, শুধু সঠিক আবহাওয়া ধরার জন্য।

শেষে বাচ্চা আছে এমন দম্পতিদের জন্য একটাই অনুরোধ, বাচ্চা নিয়ে বেশি বেশি ঘুরুন। মাটি, পানি, বাতাস, সাগর, পাহাড় দেখিয়ে বড় করুন। বিশ্বাস করুন, বাচ্চারা প্রকৃতিকে আমাদের চেয়েও ভালো বোঝে। এই পর্যন্তই মিরিঞ্জা ভ্যালির গল্প। আবার কথা হবে, অন্য কোনো পথে।

কালের আলো/এম/এএইচ

১১ বছর বয়সেই জাতীয় দাবায় মুগ্ধ, বাছাইয়ে নবম হয়ে চূড়ান্ত পর্বে

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
১১ বছর বয়সেই জাতীয় দাবায় মুগ্ধ, বাছাইয়ে নবম হয়ে চূড়ান্ত পর্বে

বয়স মাত্র ১১ বছর ৩ মাস। এই বয়সেই জাতীয় দাবার মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছে রায়ান রশিদ মুগ্ধ। জাতীয় দাবা বাছাই টুর্নামেন্টে নবম স্থান অর্জন করে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সে। বাংলাদেশের দাবায় নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উঠে আসা এই ক্ষুদে দাবাড়ুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

জাতীয় দাবায় এত কম বয়সে অংশ নেওয়ার ঘটনা দেশের দাবার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দাবা অঙ্গনের অভিজ্ঞ সংগঠক ও আরবিটার হারুনুর রশিদও বিষয়টিকে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন।

কম বয়সে জাতীয় দাবায় খেলার নজির
হারুনুর রশিদ জানান, বাংলাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ ১০ বছর বয়সে জাতীয় দাবায় অংশ নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ও রিফাতরাও ১৩ বছর বয়সে জাতীয় দাবা খেলেছেন। পরে মনন রেজা নীড় ১১ বছর বয়সে জাতীয় দাবায় অংশ নেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে মুগ্ধর নাম।

তাঁর ভাষ্য, ‘নিয়াজ মোর্শেদ ১০ বছর বয়সে জাতীয় দাবায় খেলেছিল। জিয়াউর রহমান, রিফাতরা ১৩ বছর বয়সে জাতীয় দাবা খেলে। নিয়াজ মোর্শেদের পর মনন রেজা নীড় ১১ বছরে জাতীয় দাবা খেলেন। এবার মুগ্ধও ১১ বছর বয়সে জাতীয় দাবা খেলতে যাচ্ছেন।’

বাছাইয়ে শীর্ষে মিনহাজ, মুগ্ধ নবম
এবারের জাতীয় দাবার চূড়ান্ত পর্বে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন। বাকি ১২ জনকে বাছাই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জায়গা করে নিতে হয়েছে।

বাছাইয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক মাস্টার মো. মিনহাজ উদ্দিন সাগর ৯ পয়েন্ট পেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হন। ৭ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছেন আন্তর্জাতিক মাস্টার মনন রেজা নীড়।

সাড়ে ৬ পয়েন্ট করে অর্জন করেন বাংলাদেশ আনসারের ফিদে মাস্টার সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ, ফিদে মাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিদে মাস্টার সুব্রত বিশ্বাস। টাইব্রেকিংয়ের ভিত্তিতে তাঁদের অবস্থান যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম।

৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ হয়েছেন ক্যান্ডিডেট মাস্টার মো. মাছুম হোসেন। একই পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম ও অষ্টম স্থান অর্জন করেন সিলেটের ক্যান্ডিডেট মাস্টার সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এবং ক্যান্ডিডেট মাস্টার চঞ্চল কুমার ঘোষ।

সাড়ে পাঁচ পয়েন্টে চূড়ান্ত পর্বে মুগ্ধ
বাছাইয়ে সাড়ে ৫ পয়েন্ট অর্জন করে টাইব্রেকিংয়ের মাধ্যমে নবম স্থান নিশ্চিত করেছে রায়ান রশিদ মুগ্ধ। একই পয়েন্ট নিয়ে দশম হয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফিদে মাস্টার মো. শরীফ হোসেন। একাদশ ও দ্বাদশ স্থান পেয়েছেন সাধারণ বীমা করপোরেশনের ক্যান্ডিডেট মাস্টার মো. আবু হানিফ এবং বাংলাদেশ পুলিশ দাবা ক্লাবের তাসরিক সায়হান শান। তাঁরাও চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

অন্যদিকে, একই পয়েন্ট নিয়ে টাইব্রেকিংয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফিদে মাস্টার খন্দকার আমিনুল ইসলাম ত্রয়োদশ এবং ফিদে মাস্টার সেখ নাসির আহমেদ চতুর্দশ হয়েছেন। ফিদে মাস্টার সৈয়দ মাহফুজুর রহমান পঞ্চদশ ও ক্যান্ডিডেট মাস্টার ইকরামুল হক সিয়াম ষোড়শ স্থান অর্জন করেন।

বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ দাবাড়ুরাও
এবারের বাছাইয়ে নিয়মিত জাতীয় দাবায় অংশ নেওয়া ফিদে মাস্টার খন্দকার আমিনুল ইসলাম ও ফিদে মাস্টার সেখ নাসির আহমেদ চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে পারেননি। অন্যদিকে, বিকেএসপিতে দাবা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে ফিদে মাস্টার নাইম বাছাই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেননি। আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিলও এবার বাছাইয়ে খেলেননি।

অভিজ্ঞ দাবাড়ুদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই বাছাইয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে নবম হয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া মুগ্ধর জন্য বড় অর্জন। এবার জাতীয় দাবার মূল প্রতিযোগিতায় তার পারফরম্যান্স কেমন হয়, সেদিকেই থাকবে দাবাপ্রেমীদের নজর।

কালের আলো/এএএন/জেএন

জুয়ার নেশায় নিঃস্ব, এজেন্টদের সম্পদের পাহাড়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
জুয়ার নেশায় নিঃস্ব, এজেন্টদের সম্পদের পাহাড়

স্মার্টফোনের পর্দায় এক ক্লিকেই বাজি, মুহূর্তেই জেতার স্বপ্ন—আর পরক্ষণেই নিঃস্ব হওয়ার ফাঁদ। এই প্রলোভনে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ নেটওয়ার্ক। জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে আর্থিক সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে; কেউ কেউ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে পরিচালিত জুয়ার সাইটের দেশীয় এজেন্টরা কমিশন, গ্রাহকের জমা অর্থ ও লেনদেন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গড়ে তুলছেন লাভজনক নেটওয়ার্ক। এর সঙ্গে বাড়ছে অবৈধ অর্থের প্রবাহ ও বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কা।

  • অনলাইন বেটিংয়ে ৮৩০ কোটি টাকার বাজার
  • কমিশনের ব্যবসায় ফুলেফেঁপে ওঠার অভিযোগ
  • জুয়াড়িদেরও ধরছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দুই কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই প্রতিবেদনে অনলাইন জুয়ার বাজারের আকার প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। বাজারটি বছরে ৪ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান শুধু আসক্ত মানুষের সংখ্যা কিংবা জুয়ার বাজারের আকারে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তা, পারিবারিক স্থিতিশীলতা, ডিজিটাল লেনদেনের অপব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একদিকে জুয়ার এজেন্ট ও সমন্বয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে নজরদারিতে রাখছে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদেরও।

বিদেশি প্ল্যাটফর্ম, দেশীয় অর্থের জোগান
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর বাংলাদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, অ্যাকাউন্ট খোলা এবং অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে স্থানীয় এজেন্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে এসব লেনদেন সম্পন্ন করা হয়। ফলে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম শুধু ইন্টারনেটে বাজি ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর পেছনে তৈরি হয়েছে গ্রাহক সংগ্রহ ও অর্থ ব্যবস্থাপনার পৃথক নেটওয়ার্ক।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এজেন্টরা নতুন গ্রাহক সংগ্রহের কমিশন, গ্রাহকের জমা করা অর্থের নির্দিষ্ট অংশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসিক বেতন পান। এই আর্থিক প্রণোদনাই জুয়ার বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভিযানে বড় এজেন্ট ও সমন্বয়কারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর শাজাহানপুর থেকে অহিদুর রহমান (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার একাধিক সাইটের প্রশাসক ও সুপার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছিল। তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে জুয়ার অর্থ দিয়ে জমি, গাড়িসহ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া সুমন রায়, স্নিগ্ধ সিকদার ও আনোয়ার নামে আরও কয়েকজনকে ঘিরে অনলাইন জুয়ার দেশীয় নেটওয়ার্কের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সিআইডির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেন চলে। এজেন্টরা অর্থ জমা ও উত্তোলন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নতুন গ্রাহকদের সহায়তা ও কাস্টমার সাপোর্টের দায়িত্বও পালন করেন।

জুয়াড়িদের বিরুদ্ধেও অভিযান
অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযানের পরিধি এখন শুধু পরিচালনাকারী ও এজেন্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর আদাবরে অনলাইন জুয়া খেলার সময় এক যুবককে আটক করা হয়। ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদেমপাড়ায় পাঁচজন এবং ২০ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আটজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পাবনার আতাইকুলায়ও অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জুয়ায় অর্থ হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই অপরাধে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আসক্তি, আর্থিক ক্ষতি এবং অপরাধের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পৃথক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

অভিযানই কি যথেষ্ট?
অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন অর্থের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করা, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, বিদেশি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জুয়ার বিজ্ঞাপন ও গ্রাহক সংগ্রহের নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। একই সঙ্গে তরুণদের সচেতন করা এবং আর্থিক ক্ষতি ও আসক্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তার ব্যবস্থাও জরুরি।

কারণ, এজেন্ট গ্রেপ্তার হলেও নতুন এজেন্ট তৈরি হলে কিংবা একটি সাইট বন্ধ হওয়ার পর অন্য সাইট চালু হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। আবার জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের আটক করাই যদি প্রধান কৌশল হয়, তাহলে এর পেছনের অর্থনৈতিক কাঠামো ও পরিচালনাকারী চক্র অক্ষত থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

অনলাইন জুয়ার বাজার ও আসক্তির যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা সত্য হলে এটি নিছক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং তরুণ সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত। কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি, আর্থিক অপরাধ দমন ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের সমন্বয়ই পারে এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

জুহি চাওলার পরিবারে দুঃসংবাদ, উদ্বিগ্ন ভক্তরা

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জুহি চাওলার পরিবারে দুঃসংবাদ, উদ্বিগ্ন ভক্তরা

বলিউড অভিনেত্রী জুহি চাওলার পরিবারে দুঃসংবাদ। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁর শাশুড়ি, শিল্পপতি জয় মেহতার মা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা বা হাসপাতালে ভর্তির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জুহির অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রিয় অভিনেত্রীর পরিবারের সদস্যের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে এখনো জুহি চাওলা কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাশুড়ির সঙ্গে জুহির সম্পর্ক
জুহি চাওলার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির সম্পর্কের একটি আবেগঘন অধ্যায় রয়েছে। বিয়ের সময় বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন জুহি। তবে নতুন জীবনে পা রাখার আগে ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। বিয়ের এক বছর আগে মাকে হারান অভিনেত্রী। একদিকে মাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে বিয়ের পর অভিনয়জীবনে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

জানা যায়, নিজের উদ্বেগের কথা হবু শাশুড়ির কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে তুলে ধরেছিলেন জুহি। তাঁর মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে বিয়ের আয়োজন ছোট পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

জাঁকজমকের বদলে ঘরোয়া আয়োজন
জুহি ও জয় মেহতার বিয়েতে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সীমিত করা হয়। প্রায় দুই হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা বাতিল করে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুহির জীবনের সেই কঠিন সময়ে শাশুড়ির সহমর্মিতা ও বোঝাপড়ার বিষয়টি তাঁদের সম্পর্কের বিশেষ দিক হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে।

এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি জুহির শাশুড়ির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় তাঁর সুস্থতা নিয়ে অনুরাগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য এলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এএএন/জেএন