খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বন্দুকযুদ্ধে’ দুই শিবির নেতাকে গুলি : ৮ আসামির বিচার শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বন্দুকযুদ্ধে’ দুই শিবির নেতাকে গুলি : ৮ আসামির বিচার শুরু আজ

যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায়মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে আজ।

সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিন আসামি। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।

পলাতক আসামিরা হলেন- তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

এর আগে, ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগ গঠনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন গ্রেপ্তার আসামিরা। পরে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ।

আদালতে হাজির না করে তাদের টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয়। পরে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে দুজনের পায়ে গুলি করানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিবিরের এই দুই নেতার ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়া ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে পচন ধরে। শেষ পর্যন্ত তাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি এসব সংগঠনগুলো সমাজের নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫এ৩-এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ডিস্ট্রিক্ট কনভেনশনের ব্যাংকুয়েট সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণে নিবেদিত সংগঠনগুলো সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তাদেরকে এই কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, লায়ন্স ক্লাবের মতো আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠনগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তিনি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিষয়াবলী শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে। যাতে তারা সততা এবং আদর্শ নিয়ে বড় হতে পারে।

অনুষ্ঠানে ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর মোহাম্মদ বেল্লাল হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। কনভেনশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. রিয়াজুল হক বশির স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় ডিস্ট্রিক্ট ও বিভিন্ন ক্লাবের সেবামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

লায়ন্স ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সদস্য, অতিথি এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

হামের পর এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু, ভর্তি রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
হামের পর এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু, ভর্তি রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে হামের পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রাখা হয়েছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া এটি প্রথম ডেঙ্গু রোগী।

শিশুটির নাম তাইবা। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে তাকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তার শরীরে লালচে দানার মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে হাম শনাক্ত হলে প্রায় ১২ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় সে। পরে তাকে হামের টিকাও দেওয়া হয়।

কিন্তু সুস্থ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই গত বুধবার আবার জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শুক্রবার রাতে শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

রোববার শিশুটির রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। হাসপাতালের শিশু আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, শনিবার রাউন্ডে গিয়ে তিনি দেখতে পান শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।

পরীক্ষার রিপোর্টে রক্তের শ্বেতকণিকার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং প্লাটিলেটের সংখ্যা অনেক কম ছিল। পরদিন আইসিইউর ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা ও ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলে ফলাফলে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে।

তিনি বলেন, হামের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম একজন কৃষিশ্রমিক। তিনি অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন এই বাবা বলেন, মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে যা প্রয়োজন, তা করতে তিনি প্রস্তুত।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

 

রাজশাহী রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহী রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় রাজশাহী থেকে শুরু হয়েছে কর্মস্থলমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা। তাই রাজশাহীর রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেন ও বাসে উঠছেন যাত্রীরা। ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যাত্রীদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অধিকাংশ ট্রেন ও বাস চলাচল করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার জিয়াউল আহসান জানান, এবারের ঈদে ট্রেন চলাচলে কোনো বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটেনি।

গত ২৩ মে থেকে শুরু হওয়া ঈদের বিশেষ ট্রেন পরিচালনা কর্মসূচি আগামী ৩ জুন শেষ হবে। যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এবারের ঈদযাত্রা সফল ও নিরাপদ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রেনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্ব হলেও পরে তা সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে।

ফলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছাড়াই যাত্রীরা ঈদ উদযাপন এবং যাতায়াত করতে পেরেছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ট্রেনে একটি এসি ও একটি শোভন চেয়ার কোচসহ দুটি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করেছে। এতে ট্রেনের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন সহজ হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি