খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আমি ধর্ষণ করি নাই, লাশ কাটি’— আসামির কাঠগড়ায় সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
আমি ধর্ষণ করি নাই, লাশ কাটি’— আসামির কাঠগড়ায় সোহেল

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত, যার মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো।

সোমবার (১ জুন) কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি; ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন।’

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন৷ একইসঙ্গে আগামীকাল (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

এদিন সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানে তাদের আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে বেলা ১১টার দিকে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়।

প্রথমে সোহেল রানাকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট পড়িয়ে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এরপর নেওয়া হয় স্বপ্নাকে। কাঠগড়ায় তিনি হাঁপাতে থাকেন। এরপর তার জ্যাকেট ও হেলমেট খুলে পুলিশ সদস্যরা তাকে মুখে পানি ঢালেন। এসময় বারবার তাকে জ্ঞান হারাতে দেখা যায়। বেলা ১১টা ৯ মিনিটে এজলাসে আসেন বিচারক।

শুনানিতে এ মামলা পরিচালনায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

অপরদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন।

পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। এসময় আসামি সোহেল রানা কথা বলতে চান, তবে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল (২ জুন) নির্ধারণ করেন। বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান।

এরপর কাঠগড়ায় একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল ও স্বপ্না। এসময় স্বপ্নাকে সোহেল জানায় চিন্তা না করতে। তার (স্বপ্না) কোনো দোষ নেই বলে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান সোহেল।

এরপর বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে স্বপ্নাকে কাঠগড়া থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় স্বামী সোহেল রানার দিকে তাকিয়ে থাকেন স্বপ্না। সোহেলও তাকে অভয় দিয়ে বলেন চিন্তা না করতে।

এরপর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সোহেল উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।

এসময় সোহেল আরও বলেন, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন। পরে বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে আসামি সোহেলকে কাঠগড়া থেকে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ করার জন্য আগামীকাল ধার্য করেছেন। পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে ডলার নামে কেউ নেই। আসামি যদি এমন কিছু দাবি করে থাকে সেটা সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে আসতে পারে। এটা ম্যাটার অব ট্রায়াল।

তিনি জানান, দ্রুত সময়ে এ মামলা নিষ্পত্তি হবে।

আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।

ওইদিন দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় গত বুধবার (২০ মে) গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানান এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায় , ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।

এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে।

ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন।পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি এসব সংগঠনগুলো সমাজের নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫এ৩-এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ডিস্ট্রিক্ট কনভেনশনের ব্যাংকুয়েট সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণে নিবেদিত সংগঠনগুলো সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তাদেরকে এই কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, লায়ন্স ক্লাবের মতো আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠনগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তিনি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিষয়াবলী শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে। যাতে তারা সততা এবং আদর্শ নিয়ে বড় হতে পারে।

অনুষ্ঠানে ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর মোহাম্মদ বেল্লাল হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। কনভেনশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. রিয়াজুল হক বশির স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় ডিস্ট্রিক্ট ও বিভিন্ন ক্লাবের সেবামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

লায়ন্স ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সদস্য, অতিথি এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

হামের পর এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু, ভর্তি রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
হামের পর এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু, ভর্তি রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে হামের পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রাখা হয়েছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া এটি প্রথম ডেঙ্গু রোগী।

শিশুটির নাম তাইবা। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে তাকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তার শরীরে লালচে দানার মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে হাম শনাক্ত হলে প্রায় ১২ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় সে। পরে তাকে হামের টিকাও দেওয়া হয়।

কিন্তু সুস্থ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই গত বুধবার আবার জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শুক্রবার রাতে শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

রোববার শিশুটির রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। হাসপাতালের শিশু আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, শনিবার রাউন্ডে গিয়ে তিনি দেখতে পান শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।

পরীক্ষার রিপোর্টে রক্তের শ্বেতকণিকার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং প্লাটিলেটের সংখ্যা অনেক কম ছিল। পরদিন আইসিইউর ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা ও ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলে ফলাফলে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে।

তিনি বলেন, হামের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম একজন কৃষিশ্রমিক। তিনি অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন এই বাবা বলেন, মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে যা প্রয়োজন, তা করতে তিনি প্রস্তুত।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

 

রাজশাহী রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহী রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় রাজশাহী থেকে শুরু হয়েছে কর্মস্থলমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা। তাই রাজশাহীর রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেন ও বাসে উঠছেন যাত্রীরা। ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যাত্রীদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অধিকাংশ ট্রেন ও বাস চলাচল করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার জিয়াউল আহসান জানান, এবারের ঈদে ট্রেন চলাচলে কোনো বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটেনি।

গত ২৩ মে থেকে শুরু হওয়া ঈদের বিশেষ ট্রেন পরিচালনা কর্মসূচি আগামী ৩ জুন শেষ হবে। যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এবারের ঈদযাত্রা সফল ও নিরাপদ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রেনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্ব হলেও পরে তা সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে।

ফলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছাড়াই যাত্রীরা ঈদ উদযাপন এবং যাতায়াত করতে পেরেছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ট্রেনে একটি এসি ও একটি শোভন চেয়ার কোচসহ দুটি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করেছে। এতে ট্রেনের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন সহজ হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি