খুঁজুন
                               
, ,
           

রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, আদালতে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, আদালতে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে এই দাবি করেন রামিসার বাবা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন চাঞ্চচল্যকর এই ধষর্ণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং কাশিমপুর কারাগার থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

তার আগে গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। একই দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্ত স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

বাড়ছে নারী মাদকাসক্তি, ঝুঁকিতে পরিবার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
বাড়ছে নারী মাদকাসক্তি, ঝুঁকিতে পরিবার

নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে ইয়াবা, গাঁজা ও অ্যালকোহলের পাশাপাশি ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। মাদকাসক্ত নারীদের তালিকায় শিক্ষার্থী ও বেকারের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণীরাও রয়েছেন।

নারীদের নিয়ে কাজ করা আহছানিয়া মিশনের তথ্য বলছে, তাদের মাত্র ৩টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ৩৩ নারী মাদকাসক্ত চিকিৎসাধীন। গত ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চিকিৎসাধীনদের ৭৩ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের প্রায় ৪৫ শতাংশ ইয়াবা এবং ৪৩ শতাংশ গাঁজায় আসক্ত। অ্যালকোহলে আসক্ত প্রায় ৭ শতাংশ। চিকিৎসাধীন নারীদের ৭৭ শতাংশই ঢাকার বাসিন্দা।

পরিসংখ্যানের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ—মাদকাসক্তি শুধু নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেসরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণী—বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক অবস্থানের নারীরাই এখন চিকিৎসার আওতায় আসছেন। অনেকের ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির সঙ্গে মানসিক সমস্যাও যুক্ত হচ্ছে।

অ্যালকোহল সেবনের প্রবণতার ক্ষেত্রেও রাজধানীতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মদ পানের পারমিটের জন্য চলতি বছর হাজারের বেশি তরুণী আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। জুন পর্যন্ত ৭ শতাধিক পারমিট ইস্যু হয়েছে। গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকায় নারী পারমিটধারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

তবে পারমিটের সংখ্যা সরাসরি মাদকাসক্তির সংখ্যা নির্দেশ করে না। বৈধভাবে অ্যালকোহল সেবনের অনুমতি নেওয়া এবং আসক্ত হয়ে পড়া—দুটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে নারী মাদকাসক্তদের উপস্থিতি এবং তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবহারের তথ্য সামাজিক বাস্তবতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী মাদকাসক্তির বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলা বা চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ, সামাজিক পরিবেশ ও সহজলভ্যতার মতো কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসুবিধা বাড়ানো জরুরি।

কারণ একজন নারীর মাদকাসক্তির প্রভাব শুধু তার নিজের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, সন্তান ও সামাজিক সম্পর্ক। ফলে বাড়তে থাকা নারী মাদকাসক্তি এখন ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে পরিবার ও সমাজের জন্যও একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, একদিনে ২১৪৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, একদিনে ২১৪৪ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১৪৪টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অভিযানে ৫০৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩১১টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৩৭টি, লালবাগে ১৯৭টি, মতিঝিলে ৩০২টি, ওয়ারীতে ১৭৮টি, তেজগাঁওয়ে ৩৫৭টি, মিরপুরে ৩৩৬টি, উত্তরা বিভাগে ৪৫৪টি এবং গুলশান বিভাগে ১৮৩টি মামলা করা হয়েছে।

এর মধ্যে উত্তরা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৪টি মামলা এবং রমনা বিভাগে সবচেয়ে কম ১৩৭টি মামলা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি

শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, আটক ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, আটক ৪০

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, পুলিশ বক্সের আশপাশ, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও ভিআইপি রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ ছিল। এতে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিল। এ সমস্যা নিরসনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের অভিযানে আটক ৪০ জনসহ গত কয়েক দিনে বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩২৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

আটক শিশুদের মিরপুরের শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদি জানান, বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি